সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেনেসিতে রাস্তায় একা ঘুরছিল ডায়াপার পরা শিশু, খোলা দরজা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন মা

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৮:৬
টেনেসিতে রাস্তায় ডায়াপার পরা শিশু, উদ্ধার করে ICE কর্মকর্তারা
টেনেসিতে রাস্তায় ডায়াপার পরা শিশু, উদ্ধার করে ICE কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মারফ্রিসবোরোতে প্রায় দুই বছরের এক শিশুকে রাস্তায় একা ঘুরতে দেখে উদ্ধার করেছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE-এর কর্মকর্তারা। শিশুটির পরনে ছিল শুধু একটি ময়লা ডায়াপার।

 

১৩ জুলাই নিয়মিত কার্যক্রমের সময় শিশুটিকে রাস্তায় দেখতে পান ICE-এর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, শিশুটি কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল।

 

একপর্যায়ে শিশুটি সড়কে চলে গেলে একটি গাড়ির ধাক্কা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন কর্মকর্তারা এবং সহায়তার জন্য মারফ্রিসবোরো পুলিশকে খবর দেন।

 

পুলিশ আসার অপেক্ষায় আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্টে শিশুটির মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। অ্যাপার্টমেন্টের দরজাও খোলা ছিল এবং ছেলে যে বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে মা অবগত ছিলেন না।

 

পরে মারফ্রিসবোরো পুলিশ শিশুটির দায়িত্ব নেয়। পুলিশ জানায়, মা বলেছেন—এটাই প্রথমবার তার সন্তান কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

 

সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি কোনো আঘাত ছাড়াই নিরাপদে ছিল এবং পরে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেনস সার্ভিসেসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

ICE-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। তবে ঘটনাটি ICE-এর নিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমের বাইরে একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘটনায় পরিণত হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।    প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার ইন্টারনাল মেডিসিনের রেসিডেন্সি সম্পন্ন হয় কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক প্রোফাইলেও তার মেডিকেল শিক্ষা ও রেসিডেন্সির তথ্য উল্লেখ রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রোফাইলে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ডিরেক্টরিতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনের তথ্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের প্রোফাইলে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হক মেডিকেল অফিসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। চিকিৎসাকেন্দ্রটির ওয়েবসাইটে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ইমার্জেন্সি রুমে অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে অভিজ্ঞতার সময়কাল ৩০ বছরের বেশি এবং ইমার্জেন্সি রুমে ২১ বছরের বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো ও বর্তমান প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকায় এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক রেজিস্ট্রি তথ্যে ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও দেখা যায়। তাই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।    ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় তাকে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং টেলিহেলথ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ একটি বাস্তব সুবিধা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাইমারি কেয়ার এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক প্রোফাইলগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ০:৫৩
বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা

বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা: আইসিই গুলিতে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় হামলাকারী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নাগরিক

অনলাইনে হুমকির ঘটনায় তদন্ত চালায় এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার

নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল বন্ধ দরজার আড়ালে এবং এর আগে এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।    মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বাহর আগে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ও মামদানি শহর এবং এর বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিউইয়র্কের আবাসন ও ফেডারেল বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের একটি প্রতীকী প্রথম পৃষ্ঠার কপি উপহার দেন, যার শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড”। এটি ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক “ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড” শিরোনামের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।    ট্রাম্প ও মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। মামদানি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসন, ফেডারেল অর্থায়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিটি ও ফেডারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিউইয়র্কবাসীর ওপর।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা তহবিলের ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। নিউইয়র্কের নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের হাতে অব্যবহৃত নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে বলে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।    গ্রেসি ম্যানশনে সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হলো। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২২:৫১
অস্টিনে আইসিইর গুলির ঘটনার পর তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

“গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছি না” আইসিইর গুলিতে আহত ডেলিভারি কর্মী

বিমানের গতিপথে ফুটে ওঠা মোনালিসার অবয়ব। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৪ ঘণ্টা বিমান চালিয়ে আকাশে মোনালিসার ছবি আঁকলেন মার্কিন পাইলট

চুল প্রতিস্থাপনের পর অ্যালেক্স ফিনকেনের মুখ ও মাথায় তীব্র ফোলা দেখা দেয়। ছবি: সংগৃহীত

চুল প্রতিস্থাপনের পর অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডিমের মতো ফুলে গেল যুবকের মাথা

গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের জেরে হোয়াইট হাউস চালু করেছে নিজস্ব চ্যানেল ট্রাম্প টিভি। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’, তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধের পর নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার সেবা চালু করেছে। ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামের এই নতুন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ভিডিও সরাসরি ও নিয়মিত প্রচার করা হবে।   সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নতুন এই ভিডিও চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রচার শুরুর পর প্রথম দিকের একটি ভিডিওতে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য দেখানো হয়।   হোয়াইট হাউসের উপসহকারী প্রেসিডেন্ট কায়লান ডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এটিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ‘নির্বাচিত সম্প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন সেবাটিতে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনের অন্যান্য ভিডিও সরাসরি ও পরবর্তীতে দেখার সুযোগ থাকবে।   হোয়াইট হাউসের এই উদ্যোগের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।   সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। সংবাদমাধ্যম তিনটির দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আদালতের কাছে দ্রুত প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।   অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসের বিশেষ অনুমতিপত্র, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে অংশ নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের ভুল বা নেতিবাচক প্রতিবেদন রয়েছে।   এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। সাধারণত প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণের দায়িত্ব কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ফুটেজ পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানগুলোর পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।   এর ফলে সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে ট্রাম্পের কার্যক্রমের নিয়মিত টেলিভিশন পুল ক্যামেরা কভারেজও ছিল না। এর পরিবর্তে হোয়াইট হাউস নিজস্ব ভিডিও ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরবরাহ করে।   সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রচলিত টেলিভিশন পুল কভারেজ না থাকায় হোয়াইট হাউস নিজস্ব ক্যামেরায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। তবে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের শব্দের কারণে ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু অংশ স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নতুন ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ফলে হোয়াইট হাউস এখন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের ভিডিও সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিজস্ব একটি মাধ্যম পেল। এর মাধ্যমে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে প্রশাসন সরাসরি দর্শকদের কাছে ভিডিও কনটেন্ট পৌঁছাতে পারবে।   তবে নতুন চ্যানেলটির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কিছু সমালোচক এটিকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এটিকে প্রশাসনের কার্যক্রম জনগণের কাছে সরাসরি তুলে ধরার একটি যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করছে।   যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলতে সাধারণত এমন সংবাদ সংস্থাকে বোঝানো হয়, যার মালিকানা, অর্থায়ন বা সম্পাদকীয় কার্যক্রম সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অধীনে থাকে। হোয়াইট হাউসের নতুন ভিডিও সেবা সেই অর্থে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংবাদ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি প্রশাসনের নিজস্ব ভিডিও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।   এদিকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা মামলার শুনানি দ্রুত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন কি না। ফলে একদিকে নতুন সরকারি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২১:২৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইনের কারণে লাখ লাখ বাড়ির মালিককে অতিরিক্ত এইচওএ ফি গুণতে হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইনে বাড়তে পারে লাখো বাড়ির মালিকের হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি

ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি। ছবি: সংগৃহীত

ইন-এন-আউট বার্গারের ম্যানেজারদের বার্ষিক আয়  ২ লাখ ডলার

অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার নামে নিউইয়র্কের স্পাতে চলছিল অবৈধ ইনজেকশন দেওয়ার কাজ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ভুয়া চিকিৎসকের অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন নিয়ে তরুণীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

0 Comments