মাত্র ২০ হাজার ডলারে তৈরি সৌরচালিত ইয়ট, জ্বালানি ছাড়াই পাড়ি ৩ হাজার নটিক্যাল মাইল
কোনো ধরনের জ্বালানি ব্যবহার না করেই ৩ হাজারের বেশি নটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ অতিক্রম করে নতুন নজির গড়েছেন উদ্ভাবক লুকাস শোমান। নিজের হাতে তৈরি ১১ মিটার দীর্ঘ সৌরচালিত ইয়ট ‘হেলিওস ১১’ নিয়ে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন উপকূল ঘুরে সম্পূর্ণ সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে এই দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে শেষ করেছেন।
প্রচলিত বৈদ্যুতিক ইয়টের মতো ঘন ঘন মেরিনায় গিয়ে চার্জ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না ‘হেলিওস ১১’-এর। ইয়টটির ছাদে বসানো রয়েছে ১০টি সাধারণ আবাসিক সৌর প্যানেল, যা একটি ২৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি প্যাককে চার্জ দেয়। সর্বোচ্চ সূর্যালোকে এটি প্রায় ৪ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা ৬ কিলোওয়াটের বৈদ্যুতিক আউটবোর্ড মোটর চালানোর পাশাপাশি নোঙর অবস্থায় ব্যাটারিও পূর্ণ চার্জ করতে সক্ষম।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো ইয়টটি নির্মাণে লুকাস শোমানের খরচ হয়েছে আনুমানিক ২০ হাজার ৭২৪ মার্কিন ডলার। তার হিসাবে, ব্যাটারি প্যাকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৮১ ডলার, বৈদ্যুতিক মোটরে ৪ হাজার ৬০০ ডলার এবং সৌর প্যানেলের খরচ ৯০০ ডলারেরও কম। তুলনামূলকভাবে কম খরচে পরিবেশবান্ধব নৌযান তৈরি করা সম্ভব এটাই দেখাতে চেয়েছেন তিনি।
লুকাস শোমান জানান, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল প্রমাণ করা যে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তার আশা, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের পরিবেশসচেতন নৌভ্রমণপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে।
'হেলিওস ১১'-এর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মাত্র আধা মিটার গভীর ড্রাফট। ফলে বড় ইয়ট যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানকার অগভীর উপকূল ও নিরিবিলি নোঙরস্থলেও সহজেই চলাচল করতে পারে এই নৌযান। নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম শক্তি ব্যবহার করেও দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সমুদ্রে চলাচল সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরশক্তিনির্ভর নৌযান এখনো মূলধারার প্রযুক্তি না হলেও ‘হেলিওস ১১’-এর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক পরিবহনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাস্তব ব্যবহারে এমন প্রযুক্তির সফলতা টেকসই নৌপরিবহনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে টানা কয়েক রাত ধরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের তথ্যমতে, শতাধিক বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একজন কর্মকর্তা পাথরের আঘাতে আহত হন, একজন নারী কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেকজন কর্মকর্তার ওপর থুতু নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সহিংসতার কারণে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট এলাকায় মুখ ঢেকে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত টহলসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের এমপি টেরি জার্মি এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাইরের উসকানিদাতারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে থেটফোর্ডের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ বার্নহাম সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। কয়েক মাস ধরেই এ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ চলছিল। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মাত্র ২০ হাজার ডলারে তৈরি সৌরচালিত ইয়ট, জ্বালানি ছাড়াই পাড়ি ৩ হাজার নটিক্যাল মাইল
ইসলামিক পোশাক পরে ডিউটিতে বাধা, এনএইচএসের বিরুদ্ধে আদালতে মুসলিম কর্মী
পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে খুন করালেন বাবা
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে। পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন। পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না। তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন। চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।
রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যোগ দিলেন ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ইসরায়েল-বিষয়ক সমালোচনা নিয়ে ওয়াশিংটনে একান্ত বৈঠকে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন তিনি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে “স্পষ্ট ও খোলামেলা” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সরাসরি হলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। তার ভাষায়, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন জেডি ভ্যান্স। জুন মাসে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশটির “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন অবস্থান নিতেন না। চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স-এ ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে টেলিফোনে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভ্যান্স নাকি ইসরায়েলের সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী বলেই উল্লেখ করে আসছেন ভ্যান্স। গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো একজন ভালো অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। তবে যেখানে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।” হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
লেবাননে বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল দুই ইসরায়েলি সেনা, নতুন চাপে তেল আবিব
জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত