- প্রচ্ছদ
- Topic
আলী খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পবিত্র নগরী কোমে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শোকার্ত জনতার মাঝে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করে প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশের এই তরুণ রাজনীতিক। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের দৃশ্য উঠে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সড়কের পাশে বড় বাকেট হাতে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ছোট ছোট খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। মূলত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফল, কেক ও নাশতা বিতরণের যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হন তিনি। বিদেশের মাটিতে এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনয়ের নিদর্শন দেখে নেটিজেনরা তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, মানবতার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই উদ্যোগ দূরদর্শিতা ও পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। কেউ কেউ তাকে ‘বাংলার নক্ষত্র’ আখ্যা দিয়ে এমন তরুণ নেতাদের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেটিজেনদের মতে, সমালোচনা করা সহজ হলেও এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সত্যিই কঠিন। খাবার বিতরণের পাশাপাশি এই সফরে তিনি সেখানকার শিশু ও যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং আলী লারিজানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ইরান যেভাবে তাদের দেশরক্ষায় আত্মত্যাগকারী বীরদের সম্মান ও মর্যাদায় আগলে রাখে, তা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় লাখো মানুষের ঢল নামে। তবে শোকাহত এই বিশাল আয়োজনে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আটকে যায় খামেনির কফিনের ঠিক পাশেই রাখা একটি ছোট কফিনের দিকে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ওই ছোট কফিনটিতে রয়েছে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির নিথর দেহ। ভয়াবহ সেই হামলায় আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। শুক্রবার খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তাঁদের কফিনগুলোও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি এবং তাঁর ছেলের বউ (বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেল। তবে সকলের মাঝে সবচেয়ে বেশি শোকের ছায়া ফেলেছে ছোট্ট শিশু জাহরার কফিনটি। কফিনটির পাশে শিশুটির একটি ছবিও রাখা ছিল, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানটি কেবল একজন শীর্ষ নেতার প্রয়াণের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের ওপর নেমে আসা মর্মান্তিক পরিণতির এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা চলবে আগামী কয়েকদিন ধরে, এবং এরপর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। হাজারো মানুষের ভিড়ে ছোট্ট জাহরার কফিনটি যেন এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যুদ্ধের নির্মমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে পুরো বিশ্বের সামনে এক নীরব বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে ঐতিহাসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান কাভার করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এই শোক ও দাফন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার (১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিপুল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিটি দিক বিশ্ববাসীর কাছে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা যায়। সালেহির মতে, খামেনির এই জানাজা কেবল একজন নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন নয়; বরং এটি ইরানের জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির অটুট প্রতিরোধক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সংরক্ষণের জন্য গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের খ্যাতিমান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের একটি বিশেষ দল জানাজা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্মাণ করছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন আলোকচিত্র কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী সপ্তাহটি ইরানি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্যও স্মরণীয় সৃষ্টিকর্ম তৈরির এক বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, আগামী সোমবার পর্যন্ত এই জানাজার কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে একটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র শহর কুমে, ৮ জুলাই ইরাকে এবং ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এছাড়া ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফেও সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সপরিবারে হত্যা এবং একই দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৬৮ জন শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথমে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের হুমকি দেওয়া হলেও, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইলে পাল্টা আঘাত শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল রাডার সিস্টেম ইরানের স্বল্প মূল্যের ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং ইরানের শর্ত মেনেই সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক বিজয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে রাখা ১৪ দফার একটি সমঝোতা প্রস্তাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তির ইলেকট্রনিক সংস্করণে সই করার মাধ্যমে তেহরানের চূড়ান্ত স্বীকৃতি নিশ্চিত করেন। আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে এই অন্তর্বর্তী চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যেখানে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করবে। এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। এছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশও এই আলোচনায় অংশ নেবে। অনানুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে আসা চুক্তির খসড়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করা হবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতের ওপর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর বিপরীতে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করবে না এবং পরমাণু বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী সময়ের জন্য রাখা হয়েছে। এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৩ ডলার কমে বর্তমানে ৭৮.৬৪ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে ইরানের সাথে এই চুক্তি করায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ politics বা রাজনীতিতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের ‘বোকা ও হিংসুক’ আখ্যা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন শেয়ারবাজার যখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং তেলের দাম কমছে, তখন এমন সমালোচনা স্রেফ নির্বুদ্ধিতা। অন্যদিকে, এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো চাপ বা হুমকিতে তাঁরা নিজেদের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে বিকিয়ে দেননি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে চুক্তি ঘোষণার পর লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হামলা পুরোপুরি থামেনি এবং গতকালও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাসের পর মাস বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অচল করে দেওয়া নৌ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকছে। চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ইরানে সরকার পরিবর্তন বা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্তও তেহরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করে আসছিলেন। উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি এবং ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। যুদ্ধ ও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থকে ‘ক্ষতিপূরণ’ বলতে রাজি নয়। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল’ হিসেবে উল্লেখ করছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অধিকার ফিরে পাবে তেহরান। অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ লুকাচ্ছে না ইসরায়েল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা দেশটি চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ব্যক্তিগত আলোচনায় এই সমঝোতাকে ‘গভীর হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।
ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এর পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান। এর আগে গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান, যদিও ওয়াশিংটন তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে শুক্রবারের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছিল ইরান। যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের প্রলেপ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।