গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সপরিবারে হত্যা এবং একই দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৬৮ জন শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথমে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের হুমকি দেওয়া হলেও, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইলে পাল্টা আঘাত শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল রাডার সিস্টেম ইরানের স্বল্প মূল্যের ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং ইরানের শর্ত মেনেই সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক বিজয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে রাখা ১৪ দফার একটি সমঝোতা প্রস্তাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তির ইলেকট্রনিক সংস্করণে সই করার মাধ্যমে তেহরানের চূড়ান্ত স্বীকৃতি নিশ্চিত করেন।
আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে এই অন্তর্বর্তী চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যেখানে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করবে। এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। এছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশও এই আলোচনায় অংশ নেবে।
অনানুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে আসা চুক্তির খসড়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করা হবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।
পাশাপাশি, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতের ওপর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর বিপরীতে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করবে না এবং পরমাণু বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী সময়ের জন্য রাখা হয়েছে। এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৩ ডলার কমে বর্তমানে ৭৮.৬৪ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে ইরানের সাথে এই চুক্তি করায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ politics বা রাজনীতিতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের ‘বোকা ও হিংসুক’ আখ্যা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন শেয়ারবাজার যখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং তেলের দাম কমছে, তখন এমন সমালোচনা স্রেফ নির্বুদ্ধিতা।
অন্যদিকে, এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো চাপ বা হুমকিতে তাঁরা নিজেদের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে বিকিয়ে দেননি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে চুক্তি ঘোষণার পর লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হামলা পুরোপুরি থামেনি এবং গতকালও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর গভীর নজরদারি চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল। সম্প্রতি ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য যাবতীয় তৎপরতা কড়া নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল। এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন রিউভেন আজার। তিনি সরাসরি জানান যে, ইসরায়েল কোনোভাবেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির চলমান কূটনৈতিক অবস্থানকে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে শুধু পাকিস্তানই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে কাতারের ভূমিকাও ইসরায়েলের কাছে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ছিল হামাসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ঘিরে। আজারের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তাদের নানামুখী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নীতি-নির্ধারকেরা। এই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের হাতে থাকা এসব তথ্যের কিছু অংশ মূলত প্রকাশ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশ দুটিতে এমন আরও কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনও জনসমক্ষে আসেনি বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে আজার আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোও ৭ অক্টোবরের হামলাকে নিজেদের অঞ্চলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি সফল মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’ আর এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যই চরম উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাজ্যে বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কোনো গণজোয়ার বা চাপ তৈরি হয়নি। ইংল্যান্ডের সর্বশেষ স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের পর এই দাবি করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। লেবার সরকার ২০২৫ সালের শুরু থেকে বেসরকারি স্কুলের ফির ওপর এই কর আরোপ করে, যা আগে করমুক্ত ছিল। এর ফলে সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী দিয়ে উপচে পড়বে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, নতুন পরিসংখ্যানে তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রকাশিত এই ডাটাটি মূলত গত বছরের অক্টোবর মাসে আগামী সেপ্টেম্বর শিক্ষাবর্ষের জন্য করা আবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (ডিএফই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের স্কুলেই মোট আবেদনের সংখ্যা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি লন্ডনের হ্যামারস্মিথ, ফুলহাম এবং কেনসিংটনের মতো ধনী এলাকাগুলোতেও, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়ে, সেখানেও সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদনের হার গত দুই বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন এই প্রসঙ্গে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে বলেন, "বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে চলে যাওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তা মোعتها ঘটেনি। সমালোচকরা বলেছিলেন সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী সামলাতে হিমশিম খাবে এবং বেসরকারি স্কুলগুলো দলে দলে বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল ছিল।" তিনি আরও জানান, সরকার এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করছে যাতে সরকারি স্কুলে পড়া ৯৪ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর মূল ফোকাস রাখা যায়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে জন্মহার কমে যাওয়া এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে এই ভ্যাট আরোপের আসল প্রভাব হয়তো পুরোপুরি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ডিএফই-এর ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমলেও স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা সংখ্যায় প্রায় ২২ হাজার। তবে ভ্যাট থেকে সরকারের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হচ্ছে এবং ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ বছরে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ করা লেবার পার্টির একটি অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি স্কুলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার ৫০০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে নামাজ পড়তে চাওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার দু’দিন পর, এবার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার (১৭ জুন) মমতার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের আইন এবং সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) হিসেবে কর্মরত স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক তাদের জায়গায় নতুন তিনজন পিএসও নিয়োগ করা হলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেন এবং সরকারি প্রটোকল প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেন। এই ঘটনার পর কলকাতার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার পিএসও বদল নিয়ে ক্ষোভের প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন তাকে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল, তখন তিনি নিজে কাউকে বেছে নেননি। তাহলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষী দাবি করছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী শাসনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও প্রতি ছয় মাস পর পর সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করতেন। অথচ তার নিজস্ব এলাকা কালীঘাট বা এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন কোনো ওসি বদল করা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে যিনি সরকারের নেতৃত্বে আছেন, আইন অনুযায়ী তারও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের এই আইনসম্মত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ভারতের সংবিধান ও সরকারকে তোয়াক্কা করছেন না। দেশের নিয়মনীতি অমান্য করে এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে তাকে সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই প্রভাবশালী বিজেপি নেতা।