সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) মারা গেছেন। তিনি গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ক্যাম্পটি আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির অধীনে ছিল। বিস্ফোরণে মামুন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা জানান, বিস্ফোরণে তার শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মামুনের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি—কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন—নিহত হন। এছাড়া মামুনসহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। বাকিদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যেই আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (১৬ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিনস জানান, আহতদের মধ্যে পোড়া, ভয়জনিত মস্তিষ্কের আঘাত এবং শার্পনেলের আঘাতের ঘটনা রয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। চলতি সংঘর্ষের শুরুতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে, এবং যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬৯ জন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ১৪২ জন। সোমবার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ নিহতের সংখ্যা উল্লেখ না করলেও এর আগে জানানো হয়েছিল, হামলায় অন্তত ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এদিকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। সূত্র: আল–জাজিরা।
সৌদি আরবের আল-খারজ গভর্নরেটে এক বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। সরকার সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাহরাইনের রাজধানীর নিকটবর্তী একটি এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি। হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের সবাই দেশটির নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে, যার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী একজন শিশুর বয়স মাত্র দুই মাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। আহতদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নিতে রোববার (১ মার্চ) কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ নেন। আহত চারজন হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামের রকিবুল ইসলাম, নোয়াখালির বেগমগঞ্জ উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার হোমনা থানার পাথালিয়া কান্দি গ্রামের দুলাল মিয়া। হামলার সময় এক প্রবাসীর হাঁটুর গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। বাকি তিনজন বিস্ফোরণের ফলে ভেঙে পড়া কাঁচের ধ্বংসাবশেষে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছেন। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ড্রোন হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের উপস্থিতিতেই দলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। উত্তেজনার একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা কালীগঞ্জ থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালালে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয় সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। বৈঠক চলাকালে মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আলতাফ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাশেদ খান থানার ভেতরে অবস্থান নিলেও উত্তেজিত কর্মীরা সেখানে ঢুকে পড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে এএসআই জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম গুরুতর আহত হন, যাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বিষয়টিকে তুচ্ছ 'ঝামেলা' বলে দাবি করলেও থানার ভেতরে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা এবং হামলার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের অভয়নগর উপজেলা-এর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিএনপির সমর্থক আশিক ও জামায়াত সমর্থক সাত্তারের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় মারামারি হয়, এতে সাত্তার আহত হন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শের আলীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হলে, আসরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জামায়াতের মাসুদ কামাল, বুখারী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহাদ মোল্লাসহ চারজন আহত হন। বিএনপির ইকবাল, খালিদ শেখ, ইউসুফ হোসেন ও ফোরকানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের টহল দল ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে বালিয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে সংঘর্ষ চালায়। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়া গ্রামের নাসির হাওলাদার ও আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে দুই পরিবারের নারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে আইয়ুব আলীর মেয়ে সুমাইয়াকে মারধর করেন নাসিরের স্ত্রী ও মেয়ে। ঘটনার সূত্র ধরে রাতে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষ হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সংঘর্ষের প্রবণতা মাদারীপুরে সাম্প্রতিক দিনে বেড়েছে। গত শনিবার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় চার ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সোমবার রাতেও শহরের বলরাম মন্দির এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
খুলনায় আবারও দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণে এক যুবক আহত হয়েছেন। আহতের নাম আইনুল হোসেন ওরফে আয়নাল (৩২)। ঘটনা ঘটে বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরের লবণচরা থানাধীন হঠাৎ বাজার সংলগ্ন রহমানিয়া প্রথম গলিতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪-৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল আইনুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলিটি তার ডান পায়ে লাগলে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আইনুল ঘটনার দিনই লবণচরা থানায় দায়ের করা একটি মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা বা মামলার জের থেকেই এই হামলা হতে পারে। লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য সংগ্রহে তৎপর। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরের টুটপাড়া এলাকায় এক যুবক সোহেল ওরফে চেগা সোহেলও প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হন।
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেত্রী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক সমর্থক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাইলট মোড় এলাকায় ভোটের প্রচারণায় গেলে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যুবদল নেতা সবুজ মাদবরের বাকবিতণ্ডা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আহত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে জামায়াতের ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কথা বলার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। আহত জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর বলেন, তারা লিফলেট বিতরণ করে পাইলট মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন এসে তাদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে আহত জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারণা শেষে তারা জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে হুমকি দেয়। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাহার মিয়া বলেন, ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস