ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সাথে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের জেরে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো, প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিতর্কিত 'বোর্ড অফ পিস' (Board of Peace) উদ্যোগে যোগ দিয়ে এবং ওয়াশিংটনের সাথে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে মূলত মার্কিন স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই মুসলিম প্রধান দেশটি ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিন ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের মার্কিনপন্থী নীতি ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের এই নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে "জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী" বলে অভিহিত করছেন। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে তেহরান সফরের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে দেশের প্রভাবশালী আলেম সমাজ এবং সাধারণ জনগণ মনে করছেন, আক্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়া কোনোভাবেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। জনরোষের মুখে ইতিমধ্যে ইন্দোনেশীয় সরকার 'বোর্ড অফ পিস' থেকে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবোর জন্য জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। আল জাজিরার প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে না, বরং জাকার্তার মতো সুদূরপ্রসারী অঞ্চলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং নেতৃত্বের বৈধতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এখন থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক ভিডিও বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ এই নতুন সরকারি প্রবিধান স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), থ্রেডস, বিগোর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘রোবলক্স’-এ কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। আগামী ২৮ মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে কার্যকর করা শুরু হবে। মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ জানান, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই ‘ডিজিটাল জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের শিশুরা পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং বিশেষ করে অ্যালগরিদম-নির্ভর আসক্তির মতো বাস্তব হুমকির সম্মুখীন। অভিভাবকদের এই অসম লড়াইয়ে সরকার এখন পাশে দাঁড়িয়েছে।” সরকার জানিয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে থাকা ১৬ বছরের কম বয়সীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় (Deactivate) করা হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিস্টেমে কঠোরভাবে বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনের পর ইন্দোনেশিয়া তৃতীয় দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের কঠোর আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে অনেক অভিভাবক স্বাগত জানালেও অনেকে বাস্তবসম্মত উপায়ে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক সাহসী পদক্ষেপ, তবে এটি সফলভাবে বাস্তবায়নে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ এবং অধিকার রক্ষায় কোনো অগ্রগতি না হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (শান্তি বোর্ড) থেকে ইন্দোনেশিয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) সরকারের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই বোর্ডে অংশগ্রহণ এবং গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রাবোও। স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামি দল ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে শামিল হওয়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘকালীন নীতি ও সমর্থনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও। বৈঠকে তিনি তার এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, দেশের ও ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা দেখা দিলেও তিনি এই জোট ত্যাগ করবেন। বৈঠক শেষে ইসলামিক ব্রাদারহুড ফ্রন্টের নেতা হানিফ আলাতাস বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যদি তিনি দেখেন যে ফিলিস্তিনের জন্য এই বোর্ড আর কোনো উপকারে আসছে না এবং এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হচ্ছে, তবে তিনি অবিলম্বে এটি থেকে সরে আসবেন।” ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী ওলামা কাউন্সিল (MUI) ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এই বোর্ড থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন ‘নাহদলাতুল উলামা’ মনে করে, ইন্দোনেশিয়া এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো এর আগে জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বোর্ড অফ পিস-এর সকল আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে প্রাবোও প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়া কোনো আপস করতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগটি শুরু থেকেই বিতর্কিত এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সংশয় রয়েছে।
গাজা উপত্যকায় প্রায় ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি কাঠামো গৃহীত হয়, তার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গাজায় ইন্দোনেশীয় সেনারা সরাসরি যুদ্ধ কার্যক্রমে নয়, বরং চিকিৎসা সহায়তা, অবকাঠামো মেরামত এবং প্রকৌশল সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে এই উদ্যোগের আওতায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) নামে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী গাজার সীমান্ত নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অঞ্চলটিকে সামরিক কার্যক্রমমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে শান্তি উদ্যোগের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন কাঠামো, একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও দায়িত্ব এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এ বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ইসলামি সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায় রয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে সহায়ক হবে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী একটি এলাকায় ইন্দোনেশীয় সেনাদের জন্য আবাসন ও ব্যারাক নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার সেনা অবস্থানের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি মুসলিম দেশ গাজায় সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। তবে এসব দেশ জানিয়েছে, তারা কেবল শান্তিরক্ষী ভূমিকা পালন করবে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বা সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
ফিলিস্তিনের গাজার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ২০ হাজার সেনা নিয়ে গঠিত হতে পারে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একাই ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর মুখপাত্র প্রাসেত্যো হাদি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। গত বছর ইন্দোনেশিয়া গাজার শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে দেশটি জানিয়েছে, বাহিনীর ম্যান্ডেট বিস্তারিত জানার পরই চূড়ান্তভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে। হাদি জানান, আমরা শুধু প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে কোনো চুক্তি হলে আমরা শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠাতে পারি। এর আগে জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠক করেন দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক। বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, একটি ব্রিগেড সম্ভাব্যভাবে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সেনাকে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গত নভেম্বর প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং চলমান সহিংসতায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস