ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে সীমান্ত পার হতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের অধিবাসী ফিলিপের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এসটিএফ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল করিম এবং আলমগীরকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে তিনি সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজেও অবৈধ পথে ভারতে ঢুকে পড়েন। বর্তমানে তাকে আদালত শেষে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ বনগাঁ এলাকা থেকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল ভারতীয় পুলিশ। ফিলিপ সাংমার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দেশত্যাগে সহায়তাকারী চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ফাতিমা তাসনিম জুমাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে হাদি হত্যার মূল আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তাকে সেলফি তুলতে দেখা যায়। রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার হওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসু নেত্রী জুমা। তিনি বলেন, যদি তার কোনো দোষ থাকে তাহলে প্রশাসনের কাছে তার অনুরোধ তাকে গ্রেফতার করা হোক। গ্রেফতারের পর তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে যদি কিছু পাওয়া যায়, তা যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী আরও বলেন, কেউ যদি তাকে দোষী বানাতে বা ফাঁসাতে চায়, তবে শেষ পর্যন্ত সত্য গোপন থাকে না। তিনি বলেন, হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হবে বা রিমান্ডে নেওয়া হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। তবে তার দাবি, এটি এখন শুরু হয়নি; ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার দিন থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাদি হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন এটাই তাদের ভয়ের জায়গা। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ মনে করে তাকে বা জাবেরকে ফাঁসিয়ে কিংবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে হাদি হত্যার বিচার ধামাচাপা দেওয়া যাবে, তবে সেই আশা পূরণ হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আট লাখ মানুষ একটি মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছিল এবং সারা দেশের মানুষ তার কবর জিয়ারত করছে ও বিচার দাবি করছে। এদিকে আলোচিত ছবিটি আসল না নকল তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমার স্ক্যানার। তাদের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমার যে ছবিটি ছড়ানো হয়েছে তা আসল নয়; এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দাবিতে ছড়ানো পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করেও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এ দাবির সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাবেরের প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। আব্দুল্লাহ আল জাবের গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই অভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের তিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। সংগঠনটি সকল প্রকার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে। আব্দুল্লাহ আল জাবেরের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে তার নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণে এসে রাজধানীসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তিন ভিন্ন দলের প্রার্থীর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সমর্থন ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। আবদুল্লাহ আল জাবেরের পোস্টে উঠে এসেছে ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা-৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনির নাম। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে এই তিনজনের অবস্থান ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় তারা অভিন্ন—আর তা হলো শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাওয়া। জাবের লিখেছেন, “১২ তারিখের নির্বাচনে এদের কেউ আদৌ জিতবেন কিনা জানি না। তবে তারা খুব স্বতঃস্ফূর্ত এবং বোল্ডলি হাদি হত্যার বিচার চেয়েছেন। এবং ক্ষমতায় গেলে হাদি হত্যার বিচার করবেন বলে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” তবে সরাসরি ভোট চাওয়ার প্রথাগত রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা তাদের জন্য ভোট চাই না। আপনি অবশ্যই আপনার দৃষ্টিতে যাকে সবথেকে সৎ এবং যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তবে যে বা যারাই হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবেন, ইনসাফের লড়াইয়ে অকুতোভয় থাকবেন, আপনাদের প্রতি আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকবে।” ইনকিলাব মঞ্চের এই শীর্ষ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, বিজয় যে দলেরই হোক না কেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো জমিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ কায়েম করা। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই বার্তাটি বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে যারা ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলছেন, তাদের প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের এই নৈতিক সমর্থন ভোটের লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে সরকারের একটি নির্দিষ্ট মহল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঐক্য’ আয়োজিত ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গতকাল রাজপথে যে অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার দায় সরাসরি এই সরকারকে নিতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী লোক সরকারের ইশারায় এই ঘটনা ঘটিয়ে মূলত নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।” তিনি অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচিতে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনি ও গণহত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় লাভ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থায় (আইসিসি) ভারতের একাধিপত্য এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “আমরা চাই শহীদ হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের (UN) মাধ্যমে হোক। ইনকিলাব মঞ্চ সরকার থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চেয়েছিল, কিন্তু তার বদলে তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।” ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধি রিয়াদুস জুবাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ জুলাই ঐক্যের শীর্ষ সংগঠকরা। বক্তারা দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ দমনে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করেছে পুলিশ। একদিকে শতাধিক আহত হওয়ার দাবি আন্দোলনকারীদের, অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রকৃত পরিস্থিতি। আসলে কী ঘটেছিল সেখানে? বিস্তারিত জেনে নিন। ঘটনার মূলবিন্দু ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন 'যমুনা'র সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও শাহবাগ এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করলে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের অনেক কর্মীকে রক্তাক্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক পুলিশ সদস্যের গায়ে নেমপ্লেট ছিল না এবং তারা মাস্ক পরে হামলা চালিয়েছে—যা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, পুলিশের গুলিতে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, 'যমুনা' ও এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। তবে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি। ঢাকা মেডিকেলের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৩ জনের কারো শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। জননিরাপত্তা ও প্রধান উপদেষ্টার সুরক্ষায় আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত ও সরকারের প্রতিশ্রুতি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। আসন্ন নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘এক বিন্দু ছাড় না দেওয়ার’ ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ ও ‘অপেশাদারিত্বের পরিচয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতিসংঘের অধীনে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় আহত নেতাকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি দ্রুত দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই দিন সকালে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের এক নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে নাহিদ সরকারকেও এক প্রকার হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “গতকাল রাত থেকে আমরা দেখেছি হাদির পরিবার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিল। এই অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা এই সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখনো সময় আছে। শহীদ হাদির পরিবারের সাথে যাতে কোনো ধরনের অসম্মান করা না হয় এবং অতিসত্বর এই বিচারের জন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদ ইসলামের এই কড়া অবস্থান আন্দোলনের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা না হলে ছাত্র-জনতা পুনরায় রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ভূমিকাকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ পুনরায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা এখনো সেই প্রেতাত্মাদের সেবাদাস হিসেবেই রয়ে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ছোড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো যৌক্তিক অগ্রগতি নেই। পাঁচবার শুনানি পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকে স্পষ্ট করে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত।” উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাত্রশিবির এই হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তোলেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। অন্যথায় সারা দেশে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ দখলের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, "শহীদ উসমান হাদি হত্যার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। আজ যমুনার সামনে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় শহীদ আবু সাইদ ও শহীদ ওয়াসিমের উত্তরসূরীরা আবারও রাজপথে নেমে আসবে এবং ছাত্র-জনতার শক্তিতে রাজপথ প্রকম্পিত হবে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভারতীয় তাবেদাররা আবারও চক্রান্তের জাল বুনছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দিল্লির তাবেদার ও ভারতীয় আগ্রাসনের পক্ষে যারা দাঁড়িয়ে আছে, এবার তাদের রুখে দেওয়ার সময় এসেছে। দেশের ছাত্র-জনতাকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।" বক্তব্য শেষে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নির্দেশদাতা ও সরাসরি জড়িতদের দ্রুততম সময়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ ও তার পরিবার। এ সময় হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে যমুনার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও শরীফ ওসমান হাদির পরিবার। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চারবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার ব্যস্ত থাকলেও, যারা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের হত্যার বিচার নিশ্চিতে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সরকারকে সতর্ক করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন তারা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ সব সময় সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে তারা বারবার অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অসহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সারাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রীসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর রুবেলকে কারাগারে পাঠানো হয়। সিআইডি সূত্র জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই দফা রিমান্ড শেষে রুবেল স্বেচ্ছায় এই জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকেই ছিল নাটকীয়তা। ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ডিবি’র দেওয়া আগের চার্জশিটে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ কয়েকজনকে মূল অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হাদির কড়া রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জানান, রুবেলের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং কারা এর নেপথ্যে মদদ জুগিয়েছিল সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। পলাতক থাকা বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্তান ও হাদির ভাইকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) রাতে শাহবাগ থানায় জিডি করেন ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি। জিডির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, হাদির ভাই নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। আমরা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর থেকে আমি ও হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছি। কারণ, যেহেতু হাদির খুনি চক্র গ্রেফতার হয়নি, সেহেতু হাদির খুনি চক্রে যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। যার কারণে আমি ও হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ ‘এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমাকে হত্যা করতে বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি ও শহীদ হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস