আন্তর্জাতিক

সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় মার্কিন দূতকে তলব করল ইরাক

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান। ছবি: সংগৃহীত
ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের একটি সামরিক ক্লিনিকে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজ সকালে আনবার প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। ইরাক এই অঞ্চলকে সংঘাতমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের সামরিক ইউনিটগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আনবার প্রদেশে এক বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন ইরাকি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।


সহিংসতার মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। গতকাল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সদর দপ্তরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুর্দিস্তানের এরবিল শহরের উত্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন।


মুখপাত্র আল-নুমান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী এক জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের কর্মকাণ্ড ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন দূতের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হামলার বিষয়ে ইরাকের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বহীন ইরানে এখনো যেভাবে টিকে আছে শাসনব্যবস্থা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং একের পর এক শীর্ষ কমান্ডারের বিদায়—তাত্ত্বিকভাবে যেকোনো দেশের শাসনব্যবস্থা ধসে পড়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানের প্রশাসনিক কাঠামো এখনো অবিশ্বাস্যভাবে টিকে আছে। কেন পতন ঘটছে না তেহরানের? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির বিশেষ 'সমান্তরাল রাষ্ট্র' কাঠামো। আইআরজিসি: পতন ঠেকানোর মূল শক্তি ইরানের মূল শক্তি কেবল তাদের প্রথাগত সেনাবাহিনী নয়, বরং 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর' বা আইআরজিসি। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সমান্তরাল রাষ্ট্র কাঠামো। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হলেও তাদের চেইন অফ কমান্ডে কোনো ছেদ পড়েনি। সংস্থাটির নীতিই হলো—একজন নিহত হলে তাৎক্ষণিকভাবে শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পরবর্তী নেতৃত্ব সর্বদা প্রস্তুত থাকে। বাসিজ মিলিশিয়া ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আইআরজিসির অধীনে থাকা প্রায় ১০ লাখ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী 'বাসিজ' এখনো রাজপথে সক্রিয়। ইসরায়েলি বাহিনী বাসিজ চেকপোস্টগুলোতে হামলা চালালেও, তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে তাদের টহল কমেনি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ দমনে এই বাহিনী কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। ৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রশাসন। রহস্যময় নতুন নেতৃত্ব ও রণকৌশল নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে তার নামে নিয়মিত লিখিত বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের কমান্ড কাঠামো পঙ্গু হওয়ার দাবি করলেও, বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রমাণ করে যে, শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর পরও তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
এই ছবিতে ইরানের একটি খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখা যাচ্ছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, ‘সীমাহীন’ লড়াইয়ের ঘোষণা

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাঙ্কার।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুফল: ৬ বছর পর প্রথম ইরানি এলপিজি কার্গো কিনল ভারত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ট্রাম্পের ‘শান্তি মিশন’ নিয়ে আতঙ্কে ইসরায়েল: ১৫ দফার প্রস্তাবে কি স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে ওয়াশিংটন?

ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জনসমক্ষে ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখার কথা বলছেন, তবে পর্দার আড়ালে সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কতটা ‘আপস’ করবেন, সেটিই এখন ইসরায়েলের প্রধান ভয়ের কারণ।   ইসরায়েলের মূল দুশ্চিন্তা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে তেহরানের হাতে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে—সেটি কি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কাছে যাবে নাকি কোনো তৃতীয় দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান ইসরায়েল। তাদের আশঙ্কা, ১৫ দফার এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ইরান পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।   নিদা ইব্রাহিমের মতে, ইসরায়েল এখন চাইছে যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরও কিছু বড় ধরনের আঘাত হানতে। এর মাধ্যমে তারা আলোচনার টেবিলে তেহরানকে আরও দুর্বল অবস্থায় দেখতে চায়। তবে ট্রাম্পের মাসব্যাপী সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর হলে ইসরায়েলের সেই সামরিক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে, বন্ধুর পাঠানো শান্তি প্রস্তাব এখন তেল আবিবের জন্য ‘উভয় সংকট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-কুয়েতসহ আরব দেশগুলোতে ইরানের ড্রোন হামলা, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান। ছবি: সংগৃহীত

সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় মার্কিন দূতকে তলব করল ইরাক

ছবি: সংগৃহীত।

গাজায় 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীনও থামেনি রক্তপাত: নিহত প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইরানে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠাতে ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের প্রবল চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসাহিত করছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপে সালমান বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সৌদি যুবরাজের আশঙ্কা, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। এমনকি বর্তমান সংঘাত থেমে গেলেও ইরান ভবিষ্যতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হুমকি অব্যাহত রাখতে পারে। জনসম্মুখে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও পর্দার আড়ালে সালমানের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি চান, মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো দখল করে এবং সরাসরি স্থল অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের শক্তি চিরতরে নিঃশেষ করে দিক।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই চাপ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা নিরসনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সালমানের পরিকল্পনায় সাড়া দেন কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচনের আগেই বড় পদক্ষেপ: একযোগে ২৩টি পদ ছাড়লেন মমতা

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট।

লেবাননে স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকতে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ, যে বার্তা দিল চীন

0 Comments