যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এর এক অভিযানে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করা হলেও পরে মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, নিহত ব্যক্তি আসলে ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
সোমবার সকালে মেইনের বিডেফোর্ড শহরে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে ধরতে নজরদারি চালাচ্ছিল আইসিই। সংস্থাটির দাবি, ওই ঠিকানা থেকে একটি গাড়ি বের হলে কর্মকর্তারা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করে এবং এক কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে আসে। জননিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান। এতে গাড়িচালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফ্রে জানান, গুলিবর্ষণকারী কর্মকর্তা আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের সদস্য। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর।
যদিও তদন্তকারীরা শুরুতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা তাকে জোয়ান সেবাস্তিয়ান গুয়েরেরো হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে কলম্বিয়ার দূতাবাসও নিশ্চিত করে যে নিহত ব্যক্তি একজন কলম্বিয়ান নাগরিক। দূতাবাস ঘটনার বিস্তারিত জানতে ডিএইচএসের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে।
মেইন ইমিগ্র্যান্টস রাইটস কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুয়েরেরোর বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে বিডেফোর্ডে বসবাস করতেন। স্থানীয় কংগ্রেসওম্যান চেলি পিংরি বলেন, “একটি তিন বছরের শিশু এখন তার বাবাকে আর কখনো দেখতে পাবে না।”
ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিইর অভিযান ও বলপ্রয়োগের কৌশলের সমালোচনা করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সাদা রঙের চিহ্নবিহীন এসইউভি থেকে আইসিই লেখা সবুজ ভেস্ট পরা কর্মকর্তারা নেমে একটি সেডান গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মেরি হেইস বলেন, তিনি নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর সামনে স্বামীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। একই সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটিকেও কাঁদতে দেখেছেন, যে আর কখনো তার বাবাকে ফিরে পাবে না।
মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল নিহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ডিএইচএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন ফোন করে জানান, নিহত ব্যক্তি আসলে সেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা ছিল না, ফলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস বলেন, সরকার যে ব্যক্তিকে খুঁজছিলই না, তার মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তার ভাষায়, এটি অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিইর আরেক অভিযানে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। পরবর্তীতে সেখানেও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, নিহত ব্যক্তি অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি গাড়ি দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান, বলপ্রয়োগ এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রচলিত নিয়ম বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় আর বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নিতে হবে না। হাউসে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি কার্যকর হতে হলে এখন সিনেটেও পাস হতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছালে তা আইনে পরিণত করার সুপারিশ করা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং শরতে আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হয়। নতুন বিল কার্যকর হলে ডে-লাইট সেভিং টাইম সারা বছর বহাল থাকবে। তবে কোনো অঙ্গরাজ্য চাইলে নিজস্ব আইনসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। বিলটির অন্যতম সমর্থক ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গাস বিলিরাকিস বলেন, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তার মতে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো থাকলে পরিবারগুলো বাইরে বেশি সময় কাটাতে পারবে এবং স্থানীয় ব্যবসাও উপকৃত হবে। পর্যটননির্ভর ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বাস্তবসম্মত একটি পরিবর্তন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিলটির বিরোধীরা বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকবে। এতে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান মেরি গে স্ক্যানলন বলেন, শীতের সকালে সূর্য ওঠার আগেই লাখো মানুষকে স্কুল ও কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন বিলটির প্রতি সমর্থন জানালেও প্রশ্ন তুলেছেন, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বড় সমস্যার মধ্যে এটি কংগ্রেসের সবচেয়ে জরুরি কাজ কি না। এদিকে ২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, বাধ্যতামূলকভাবে একটি সময়ব্যবস্থা বেছে নিতে হলে ৫৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রাখার পক্ষে। তাদের মতে, সকালে কিছুটা কম আলো হলেও সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো বেশি উপকারী। বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম বজায় রাখার পক্ষে মত দেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪২ সালে শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। এরপর থেকে এর সুফল ও কুফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। চার বছর আগে সিনেট একই ধরনের একটি বিল পাস করলেও তা প্রতিনিধি পরিষদে আটকে যায়। এবার হাউস বিলটি অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে।
কানাডার দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বড় বড় দাবানলের ধোঁয়া এবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বুধবার রাত থেকে উত্তর-পূর্ব দিকের বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দাবানলের ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বৃহস্পতিবার উত্তর ইলিনয়, বিশেষ করে শিকাগো মহানগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধোঁয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করবে এবং বিকেলের দিকে আকাশ আরও ধোঁয়াটে হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ধোঁয়ার কারণে সূর্যালোক কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম থাকতে পারে। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচের দিকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বুধবার রাত ১০টার পর থেকেই ধোঁয়া ধীরে ধীরে অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার পর শিকাগো এলাকায় এর প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা (এয়ার কোয়ালিটি অ্যালার্ট) জারি করতে পারে। যদিও ধোঁয়ার বড় অংশ বায়ুমণ্ডলের উঁচু স্তরে থাকার কথা, তবুও এর একটি অংশ নিচের স্তরে নেমে এলে সাধারণ মানুষ ধোঁয়ার গন্ধ অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে হাঁপানি, সিওপিডি বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী দাবানলের কারণে গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ধোঁয়ার প্রভাব প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাতাসের দিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়া পুরোপুরি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের আগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। স্থানীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হালনাগাদ সতর্কতা প্রকাশ করা হবে। এ সময় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরা পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ১ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই—এমন ১ হাজার ৬৪৫ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সিডিসি আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য আরও ৫ হাজার ১০০টির বেশি রোগীর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে মাত্র ২৪৯টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে এবার আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সংস্থাটির ধারণা, অনেক রোগীর পরীক্ষা না হওয়া এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তথ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করতে সিডিসি, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। রোগীরা অসুস্থ হওয়ার আগে কী ধরনের খাবার খেয়েছিলেন, বিশেষ করে কাঁচা ফল ও সবজি গ্রহণ করেছিলেন কি না—সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এফডিএ জানিয়েছে, লেটুসসহ একাধিক কাঁচা কৃষিপণ্যের সরবরাহ চেইন অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট খাবার, ব্র্যান্ড, সরবরাহকারী, রেস্তোরাঁ বা খুচরা বিক্রেতাকে সংক্রমণের নিশ্চিত উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এফডিএর ভারপ্রাপ্ত খাদ্যবিষয়ক ডেপুটি কমিশনার ডোনাল্ড প্রেটার বলেছেন, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে জনগণকে কোনো নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো মেলেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মিশিগানে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ৩ হাজার ৩০০টির বেশি সম্ভাব্য সংক্রমণের তথ্য পেয়েছে। এক হাজারের বেশি রোগীর সাক্ষাৎকারে লেটুস বা সালাদজাতীয় সবজির বিষয়টি বারবার উঠে আসায় সেগুলো সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং লেটুসকে দায়ী বলে নিশ্চিত করা হয়নি। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মিশিগান, ওহাইও, কেনটাকি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় অন্তত ৪০০ রোগীর একটি গুচ্ছে একই ধরনের সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সব রোগী এই গুচ্ছের সঙ্গে সম্পর্কিত নন। ফলে একাধিক খাদ্যসূত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কিছু সংবাদমাধ্যমে টাকো বেলের কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত লেটুস নিয়ে তদন্তের খবর প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্বাচিত কিছু শাখা থেকে সীমিত পরিমাণ উপকরণ সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো টাকো বেল বা কোনো নির্দিষ্ট সরবরাহকারীকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে নিশ্চিত করেনি। সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী থেকে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগ হয়। সাধারণত পরজীবীযুক্ত মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে রাস্পবেরি, ধনেপাতা, তুলসীপাতা, মটরজাতীয় সবজি, লেটুস ও বিভিন্ন সালাদ মিশ্রণের সঙ্গে এ ধরনের সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই রোগে আক্রান্তদের সাধারণত পানির মতো ডায়রিয়া, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমিভাব, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং তীব্র ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না নিলে উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ এমনকি এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাঁচা ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়া, খাবার তৈরির আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং রান্নাঘরের সরঞ্জাম পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। তবে শুধু ধুয়ে ফেললেই এই পরজীবী সম্পূর্ণ দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তদন্ত এখনো চলমান। নির্দিষ্ট কোনো খাদ্য বা সরবরাহকারীকে দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মিললে এফডিএ আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কতা বা পণ্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবে।