বিশ্ব

ইরাকি শিয়া নেতাকে যে বিশেষ বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ২৯, ২০২৬ ০:১২
আইএসসিআই প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদি
আইএসসিআই প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’ (ISCI)-এর প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদির কাছে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনী।


ইরানের বার্তা সংস্থা জামারান নিউজ জানিয়েছে, ইরাকে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক বিশেষ বৈঠকে শেখ হামুদির হাতে এই বার্তাটি তুলে দেন।


বার্তার মূল বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা না হলেও, বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের অনড় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি হামুদির ‘অকপট ও সাহসী’ অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।


উল্লেখ্য যে, গত মাসে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনী জনসমক্ষে আসছেন না। সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রথম দিকে তিনি পায়ে ফ্র্যাকচার ও মুখে আঘাতসহ সামান্য আহত হয়েছিলেন। এই বিশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

Advertisement

বিশ্ব

View more
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।   শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।   অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।   সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।   এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।   দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।   বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৫৫
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩

ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি

খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি, ৪ জুলাই শুরু তেহরানে

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দিয়ে ভিডিও, গ্রেপ্তার ইউটিউবার
ভিউয়ের লোভে নারী ও নাবালিকাদের টার্গেট: ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দিয়ে ভিডিও, গ্রেপ্তার ইউটিউবার

বেশি ভিউ ও অনলাইন আয়ের আশায় রাস্তায় নারী বাইকার ও নাবালিকাদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে যানবাহনে ধাক্কা দেওয়া এবং সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   রোববার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত গুরমান সিং নিয়মিতভাবে রাস্তায় এমন কর্মকাণ্ড চালাতেন। তিনি ‘রোড সেফটি ওয়ালা’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন, যেখানে এসব ভিডিও আপলোড করা হতো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম দিল্লির সুভাষ নগর এলাকা থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় হয়রানি, অনুমতি ছাড়া নারী ও শিশুদের ভিডিও ধারণ এবং তা অনলাইনে প্রচারের অভিযোগ জমা হচ্ছিল।   ঘটনার সূত্রপাত ২ জুন। ওই দিন রাজা গার্ডেন এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার নাবালিকা দুই মেয়ের স্কুটিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এরপর তারা মেয়েদের পিছু নিয়ে অশোভন মন্তব্য করে। পরে তিনি দেখতে পান, ঘটনার ভিডিওটি অভিযুক্তের ফেসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গুরমান সিং সচেতনভাবেই নারী চালক বা যানবাহনের পেছনে বসা নারী ও নাবালিকাদের লক্ষ্য করতেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাদের যানবাহনে ধাক্কা দিয়ে স্বাভাবিক আচরণ করে ‘দুঃখিত’ বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এ সময় তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন।   পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) হারেশ্বর স্বামী জানান, ‘বাইকারঅনরোড৩৩’ নামে গুরমানের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যেখানে প্রায় ২১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি।   পুলিশের ভাষ্য, তার চ্যানেলের অধিকাংশ ভিডিওতেই নারী ও নাবালিকাদের উপস্থিতি রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরমান স্বীকার করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়ানো, ভিডিও ভাইরাল করা এবং সেখান থেকে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তিনি এসব কাজ করতেন। দর্শকের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি বিশেষভাবে নারীদের লক্ষ্য করতেন বলেও জানান।   এ ঘটনায় অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন ভিডিও, স্ক্রিনশটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতা অনেক সময় এ ধরনের অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে উৎসাহিত করছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই লঙ্ঘিত হচ্ছে না, জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৭:২৬
৩০ দিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা: ৩০ দিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার ঘোষণা ইরানের

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

দুর্নীতির অভিযোগে ইরাকে এমপিসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

ছবি: সংগৃহীত
ইরান হামলা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানের

ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তার অভিযোগ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কংগ্রেসে পাস হওয়া যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   রো খান্না বলেন, ‘ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় তাকে থামাতে প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’ এর আগে গত ৩ জুন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে একই ধরনের একটি বিল পাস হয়। পরে মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।   ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা নির্দিষ্ট অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।   ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৪:২৮
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন ও গোলাবর্ষণ, দুই পক্ষেই বেসামরিক নিহত

ছবি: সিএনএন

লেবাননের দুই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক চুক্তি

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে অসহায় এক মায়ের আশা-নিরাশার লড়াই

ধ্বংসস্তূপের নিচে সন্তানের অপেক্ষা—ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে অসহায় এক মায়ের আশা-নিরাশার লড়াই

0 Comments