বিশ্ব

সাউথ পার্সে হামলার পর ইরানে থেকে ইরাকের গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ২২:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স-এ হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানি গ্যাস সরবরাহ আবার ইরাকে চালু হয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হামলার কারণে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। হামলাটি ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ইরানি পক্ষ দাবি করেছে।

 

এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

 

ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো যদি পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

 

ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটার হারে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: রয়টার্স
কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনাল রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পর টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।   রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় কাতার তার আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় ইরান পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার পুনরায় রপ্তানি টার্মিনাল চালুর কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রোববার রাতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বেশি হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৪ জন আহত এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বারজান প্ল্যান্টে দৈনিক প্রায় ১৪০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট বিক্রয়যোগ্য গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনায় এ গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।   প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের হাতে রয়েছে। এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান এলাকায় আঘাত হানে। এতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার কারণে এর আগেই সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কাতার। সর্বশেষ টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৪:১৪
ছবি: রয়টার্স

দুই ইস্যুতে ‘ব্যর্থ’, তাই পদত্যাগ করবেন স্টারমার: দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি

ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবমুক্ত হচ্ছে আটকে থাকা সম্পদের অংশ: আরাগচি

তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড

তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড

জ্বালানির দাম কমায় সব রুটে বিমান ভাড়া কমালো এয়ারএশিয়া এক্স
জ্বালানির দাম কমায় সব রুটে বিমান ভাড়া কমালো এয়ারএশিয়া এক্স

আন্তর্জাতিক বাজারে জেট জ্বালানির দাম কমে আসায় নিজেদের সব রুটে বিমান ভাড়া হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে ভাড়া কমানো কার্যকর করা হয়েছে।   বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনিয়ামিন ইসমাইল জানিয়েছেন, গত ১৫ জুন থেকে প্রতি টিকিটে গড়ে ৫ শতাংশ হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জেট জ্বালানির দাম আরও কমলে ভাড়া পুনর্বিন্যাস করে আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   বিমান খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক লিঙ্গম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে জ্বালানির যে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান ভাড়ার ওপর।   তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি গত কয়েক মাসে বিমান শিল্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এই খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর জেট জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অথচ গত ৩০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় থাকাকালে এই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ২৪২ ডলার পর্যন্ত। যদিও বর্তমান দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও তা এখনও সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি—যখন প্রতি ব্যারেল জ্বালানির দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার।   বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির বাজারে এই স্বস্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বিমান সংস্থা ভাড়া কমানোর পথে হাঁটতে পারে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ২:০
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

পানি ইস্যুতে ভারতকে কঠোর বার্তা পাকিস্তানের, প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

দক্ষিণ লেবাননে অনির্দিষ্টকাল সেনা রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

জেনেভায় শান্তি আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখার বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

নেতা রামিরো ভালদেস আর নেই
কিউবান বিপ্লবের কিংবদন্তি নেতা রামিরো ভালদেস আর নেই

কিউবার বিপ্লবী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা রামিরো ভালদেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।   দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভালদেসকে দেশটিতে ‘প্রজাতন্ত্রের বীর’ ও ‘বিপ্লবের সেনাপতি’ হিসেবে সম্মান করা হতো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি যেন বাবাকে হারানোর মতোই বেদনাদায়ক।” একই সঙ্গে তিনি বিপ্লবী স্লোগান উচ্চারণ করে বলেন, “বিজয় না আসা পর্যন্ত—সবসময়, কমান্ডার!”   ১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া রামিরো ভালদেস খুব অল্প বয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন শাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন। ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক মনকাডা ব্যারাক হামলায় তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, যা কিউবান বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচিত।   পরবর্তীতে মেক্সিকোতে নির্বাসনে যাওয়ার পর ১৯৫৬ সালে ‘গ্রানমা’ নামের একটি ইয়টে করে ৮২ জন বিপ্লবীর সঙ্গে কিউবায় ফিরে আসেন ভালদেস। কঠিন যাত্রাপথ ও সংঘর্ষের পর যে অল্পসংখ্যক যোদ্ধা বেঁচে ফিরেছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম—ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার পাশে।   সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতমালায় চে গুয়েভারার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে তিনি বাতিস্তা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।   পরবর্তী সময়ে কিউবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বিপ্লবী আদর্শের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার মতো আমৃত্যু তিনি তার স্বাক্ষরধর্মী জলপাই-সবুজ সামরিক পোশাক ও দাড়ির স্টাইল বজায় রেখেছিলেন। বয়স ৮০ পার হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে সক্রিয় রাখতেন।   ২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রো নতুন প্রজন্মের নেতা দিয়াজ-কানেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও, ভালদেস সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সর্বশেষ তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবায় তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। প্রায়ই তাকে সামরিক পোশাকে প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যেত, যেখানে তিনি জনগণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কঠিন সময়ে বিপ্লবী চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানাতেন।   তার মৃত্যুতে কিউবার বিপ্লবী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিপ্লবের প্রতি অবিচল আনুগত্য—সব মিলিয়ে রামিরো ভালদেস কিউবার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ০:৩৩
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে আরও কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাতার, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

0 Comments