ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা: তিন দেশে সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরকালে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্ক সফরে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।   পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভাব্য আলোচনার স্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইসলামাবাদ ও জেনেভা—এই দুটি শহরের নাম আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্প্রতি বলেছেন, নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল এই সংকটের সমাধান এক ধাপে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও খুঁজছে ইসলামাবাদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব ছাড়ার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।   পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি হতে পারে।   এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনাকারী দলের সদস্যদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান।   পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান সম্ভব।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে হলে উভয় পক্ষকেই নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শর্তে অচলাবস্থা, যুদ্ধবিরতিতে একমত নয় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র

কঠোর শর্তে অচলাবস্থার কারণে যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখোমুখি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জন বন্ধের শর্তে রাজি হয়নি ইরান।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এতটাই কঠোর যে, তা মেনে নিলে ইরান চিকিৎসা খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে তেহরানের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।   অন্যদিকে ইরান সরকার জানায়, প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা তাদের ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এক বৈঠকেই সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত নিয়েও তারা সন্তুষ্ট নয়।   তিনি আরও জানান, তেহরান তার মিত্র দেশ ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বৈঠকে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে ছিল বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননসহ মিত্র দেশগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।   তবে লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল
ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং ইরান মার্কিন প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি।   সব মিলিয়ে, ব্যর্থ আলোচনার পর দুই পক্ষই পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছে।   ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই বৈঠকটি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে কথা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিল—কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোথায় নয়। তবে ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
সমুদ্রে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের খবর ভুয়া বলছে ইরান।
হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, সরাসরি নাকচ ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—এমন দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এই তথ্য দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।   শনিবার সেন্টকম জানায়, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি—হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মার্কিন পক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট তৈরি করা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে এবং শিগগিরই নিরাপদ পথ বাণিজ্যিক খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।   তবে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো তথ্য সঠিক নয়। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই ঘটে।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালিতে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি দেখা গেলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজ ওই পথে চলাচল করে থাকে, তবে তা ইরানের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর শুরু হওয়া এই আলোচনায়ও বেশ কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযান—এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ইরানি সূত্রগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি আংশিক খোলার ইঙ্গিত দিলেও, মাইন থাকার অজুহাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দাবি মানতে নারাজ তেহরান।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
আলোচনা ব্যর্থ, ট্রাম্পের সামনে তিন কঠিন পথ

ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।   এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথে থাকা। দ্বিতীয়ত, আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানো—যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিজেই জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি।   মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের সহজভাবে নতি স্বীকার করা উচিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বারাক ওবামার সময় দুই দেশের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যেখানে ইরানকে সীমিত আকারে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডে এই কার্যক্রম চালানো তাদের অধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়। সাম্প্রতিক সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় করেছে।   সব মিলিয়ে, আলোচনার এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্ত মনে করছে। তাই আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র – নিউইয়র্ক টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন। সংগৃহীত ছবি
ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ, খালি হাতেই ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে কয়েক দফা বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনা ভেস্তে যায়।   তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না; প্রয়োজন হলে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোবে। অন্যদিকে, নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়ায় অসন্তুষ্ট ওয়াশিংটন।   ইরানের দাবি, এত দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত শূন্য হাতে ফিরছে। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, ওয়াশিংটন তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে না এলে ভবিষ্যতে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।   ঘানায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসের এক্স পোস্টেও একই সুর শোনা গেছে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে দূর পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে এসে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধে যা অর্জন করা যায়নি, তা আলোচনার টেবিলে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—যা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আলোচনা শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই, আর মার্কিন প্রতিনিধি দল ফিরছে খালি হাতে।   এদিকে, ইরানি সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই অজুহাত খুঁজছিল। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্যই মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথে আসে এবং সেখানে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এসব শর্তকে ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ইরানি প্রতিনিধি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তানকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি: শান্তির পথে বিশ্ব, নাকি যুদ্ধের নতুন দামামা?

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন এক অস্বাভাবিক নীরবতায় ঢেকে আছে। তবে এই নীরবতা স্বস্তির নয়, বরং চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়কে সশস্ত্র বাহিনীর টহল, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ- কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশের উচ্চনিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ একটাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা।   ঘটনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিহত হন বলে জানানো হয়। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।   এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়, তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়।   এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। এখন সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।   এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।   দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর দাবিও রয়েছে। অন্যদিকে ইরান চায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার বজায় রাখা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়।   এই আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ- ইসলামাবাদ একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে।   তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।   আলোচনার ধরন সরাসরি নয়। দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।   বর্তমানে সামনে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আলোচনা সফল হলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হয়ে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যর্থ হলে ২২ এপ্রিলের পর আবারও ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা বজায় রেখে আলোচনা চলতে পারে।   ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনার প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। বিশ্বের জ্বালানি বাজার, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকনির্দেশনা—সবই এখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ইরানের সম্পদ আটকে রাখার সিদ্ধান্তে অটল ওয়াশিংটন

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে জব্দকৃত সম্পদ ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।   হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এখনো পর্যন্ত তেহরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নাকি কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জমা থাকা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।   তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন কারণে স্থগিত রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল সময়ে ভিন্নমুখী তথ্য সামনে আসা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপে উভয় পক্ষই একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়তে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় ইতিবাচক ইঙ্গিত

কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান শান্তি আলোচনায় এটি ‘আন্তরিকতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে তেহরান।   শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানান, জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   এই তহবিলের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আটকে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা করা হলেও, একই বছরের অক্টোবরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ায় তা আবার স্থগিত করা হয়।   এরপর দোহায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় অর্থটি কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায়—ব্যবহার করা যাবে এবং তা ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বর্তমান আলোচনায় আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি ইস্যু।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি পেলে চুক্তিতে প্রস্তুত ইরান: কালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তরিকভাবে চুক্তির পথে এগোয়, তাহলে তেহরানও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।   পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।   কালিবাফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় বহু যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে তিনি বলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি।   একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে কেবল শক্তি প্রদর্শন বা কৌশলগত প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে। কালিবাফ আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ ও প্রত্যাশা। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়েই আলোচনায় ইরান: যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা আরাগচির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশ নিচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন।   ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, অতীতে ওয়াশিংটনের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কূটনৈতিক আচরণে অসঙ্গতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন আরাগচি।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে চলমান আলোচনায় ইরান অত্যন্ত সতর্ক ও সন্দিহান অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।   এদিকে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার আগেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসায় কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির এই বক্তব্য একদিকে যেমন বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন, তেমনি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলও হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসই শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা কতটা এগোতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
নেতানিয়াহুই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে প্ররোচিত করেছিলেন। কিন্তু সেই ইসরায়েলকেই এখন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিছক দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে । ছবি: এএফপি
যুদ্ধবিরতির টেবিলে একা নেতানিয়াহু? মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের নিয়েই চাপে ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নতুন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘প্রস্থান কৌশল’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতায় রাজি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে এবার তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তেহরান।   এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতায় সরাসরি অংশ না থাকায় কার্যত ‘দর্শক’ হয়ে পড়েছেন। যদিও তিনি শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে ছিলেন।   পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ইসলামাবাদ-এ। তবে এই আলোচনায় ইসরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশ কাটিয়ে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে?   এদিকে ইরান যুদ্ধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-এর ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তেহরান এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে সাময়িকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা পেলেও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে তাদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান।   উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করবে, আবার অন্যদিকে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সমীকরণ খুঁজবে।   সব মিলিয়ে বর্তমান যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং এটি একটি পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে চলমান যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সমবেত জনগণ স্লোগান দিচ্ছে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘিরে ভিন্ন বার্তা, বিশ্বজুড়ে স্বস্তি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন করে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। এই সাময়িক বিরতি মূলত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।   তবে এই যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে আদায় করা ফি ইরান দেশের পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকও দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তেজনা কমেনি। ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে সমবেত হয়ে মানুষ পতাকা নাড়াচ্ছে, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ [মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা, রয়টার্সের মাধ্যমে]
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শুক্রবার, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে শুরু হচ্ছে আলোচনা

দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার এই আলোচনা শুরু হবে, যেখানে তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।   বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান নিশ্চিত করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা সম্মত হয়েছে। তবে এ সংলাপে অংশ নিলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে’ খুলে দিতে হবে।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির আংশিক অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ থাকলে ইরানও তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাওয়াও এই প্রস্তাবের অংশ।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ক্রু উদ্ধার অভিযানের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির সন্দেহ, ইরানের অভিযোগ

ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের অভিযানের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই অভিযানের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা থাকতে পারে।   সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হলেও, মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের আরও দূরবর্তী এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।   ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই অভিযানটি প্রতারণামূলক হতে পারে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের প্রচেষ্টা ছিল—এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’   গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলট নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানও ক্রুদের খোঁজে তল্লাশি চালায়।   রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি ‘সাহসী অভিযানের’ মাধ্যমে দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: সামরিক বাস্তবতার বদল ও বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশ্ব একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রচলিত শক্তির আধিপত্য আর নিশ্চিত নয়।   ইসরায়েলের বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়; বরং বহুমাত্রিক ও অভিযোজিত কৌশলই হয়ে উঠছে নতুন বাস্তবতা।   যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একক অবস্থানে রয়েছে। ন্যাটো কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সমর্থনের অভাব মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে।   এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়ছে।   ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নতুন কৌশল ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকেন্দ্রীভূত ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ‘মোজাইক ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। ছোট ইউনিট, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে এই কৌশল প্রচলিত যুদ্ধনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।   সংঘাতের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততায় সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মাত্রা পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা সাবমেরিন কেবল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   দিয়েগো গার্সিয়া: নিরাপত্তার নতুন প্রশ্ন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই ঘাঁটিকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ বিস্তৃত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।   ‘এসকালেশন ট্র্যাপ’-এ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি জটিল কৌশলগত ফাঁদে পড়েছে। পিছু হটলে কৌশলগত পরাজয়ের আশঙ্কা, আর এগোলে বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। এই বাস্তবতা আঞ্চলিক যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   কূটনৈতিক পথ ও পাকিস্তানের উদ্যোগ এই সংকটে পাকিস্তানের উদ্যোগকে একটি প্রাথমিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের সক্ষমতা সংলাপের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা হলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাবে।   অনিশ্চয়তার নতুন বিশ্ব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের সূচনা। সামরিক কৌশলের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার উত্থান—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ঐক্য ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় বিশ্ব আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন । ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে ভাবনায় ইরান: শর্ত পূরণে মিলতে পারে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।   বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে ইরান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।   আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে।   এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে হোয়াইট হাউস এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করে উল্টো হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসরায়েলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে আগাম হামলার সুযোগ বজায় রাখতে চায় ইসরায়েল।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তবে পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইরানের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পাল্টা হিসেবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে।   বুধবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর বিশ্ব শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে নতুন করে হাজারো সেনা পাঠানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
আলী খামেনি।
মার্কিন হামলায় ভয়ঙ্কর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও মাত্রার হামলার জবাবে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতিক্রিয়া জানাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর সোমবার এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সীমিত হামলাসহ যেকোনও আঘাতই স্পষ্টভাবে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকারের অংশ হিসেবেই ইরান ভয়ঙ্করভাবে এর জবাব দেবে।   এদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরান ও ওমান বৃহস্পতিবার পরবর্তী দফার আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে পারমাণবিক আলোচনায় ইরানকে চুক্তিতে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় সমঝোতা না হলে সীমিত হামলার কথাও জানান ট্রাম্প।   ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনায় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কথা হবে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, যদিও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।   অন্যদিকে, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, অঞ্চলে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। এই সময়কে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।   ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরানে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতও নিজ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।   সূত্র: এএফপি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (বিমানবাহী রণতরী) ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। ফাইল ছবি
ইরানে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে এই সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়।   গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর ঘোষণা দেন। তারই অংশ হিসেবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই নৌবহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ উদ্বেগের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে দিয়ে গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হতে পারে।    যদিও বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য আছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। এছাড়া এই সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মাঝে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় রক্ষায় ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।   ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার হলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইরানের জলসীমায় ঢুকলে তা লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই বাহিনী।   একইসঙ্গে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে নীরব না থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকিকে হিজবুল্লাহ নিজেদের বিরুদ্ধেই হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।    অন্যদিকে ইরানে যদি সরকার পতন হয়ে যায় তাহলে নিজেদের সীমান্তে বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মিডেল ইস্ট আই-এর আরেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে 'যেকোনো কিছু' হতে পারে এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে আঙ্কারা। বৈঠকে থাকা এক সাংসদ বলেছেন, 'ইরানে সরকার পতন হলে সেখান থেকে কোনো শরণার্থী যেন তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে।'

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0