ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নতুন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘প্রস্থান কৌশল’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতায় রাজি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে এবার তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতায় সরাসরি অংশ না থাকায় কার্যত ‘দর্শক’ হয়ে পড়েছেন। যদিও তিনি শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে ছিলেন।
পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ইসলামাবাদ-এ। তবে এই আলোচনায় ইসরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশ কাটিয়ে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে?
এদিকে ইরান যুদ্ধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-এর ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তেহরান এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে সাময়িকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা পেলেও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে তাদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান।
উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করবে, আবার অন্যদিকে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সমীকরণ খুঁজবে।
সব মিলিয়ে বর্তমান যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং এটি একটি পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ থেকে ইরানের মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার নাজাফ ও কারবালায় তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা অঞ্চলে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদেই খামেনির দাফন সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে ব্যাপক শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে জানাজা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নাজাফ থেকে মাশহাদে মরদেহ স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে শেষপর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় তিনি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে দাফন করা হয়। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে মাশহাদেই তার দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটালেও তার দাফনকে ঘিরে যে জনসমাগম ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির ভেতরে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে। এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ভারতীয় রুপির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) অব্যাহত থাকায় রুপির বড় ধরনের দরপতন আপাতত এড়ানো গেছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় ভারত সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করছে। তেলের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে, যা রুপির বিনিময় হারকে দুর্বল করে। বুধবারের লেনদেনে রুপি ডলারের বিপরীতে কিছুটা দুর্বল হলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও ঋণবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় বাজারে ডলারের চাহিদা আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ না থাকলে রুপির পতন আরও বেশি হতে পারত। এদিকে বাজারের নজর এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত ইঙ্গিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে। কারণ, তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা রুপির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ফলে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এশিয়ার বেশ কয়েকটি মুদ্রার মতো ভারতীয় রুপিও চাপের মুখে পড়েছে।