সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

উইসকনসিন

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী অ্যামি জোনস নামের ওই নারী মিলওয়াকির রুফাস কিং হাই স্কুলে বদলি শিক্ষিকার পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ক্লাসরুমে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন স্কুলে কিছু নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বদলি শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছিলেন, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যামি। তিনি পর পর তিনটি পিরিয়ডে ক্লাস নেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ ও বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা করেন এবং আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন।   শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য ও অশালীন গালিগালাজ করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে বডি-শেম করে 'মোটা ছেলে' বলে ডাকেন এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে তারা ভবিষ্যতে 'স্ট্রিপার' বা 'পতিতা' হতে চায় কি না। এছাড়া তিনি নিজের অপরাধমূলক অতীত নিয়ে গর্ববোধ করে শিক্ষার্থীদের বলেন যে জেলে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনার ছয় দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তিনি বাচ্চাদের অপছন্দ করেন এবং স্রেফ 'মজা করার জন্য' এই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ এবং শিশুদের সামনে ক্ষতিকর বিষয় উপস্থাপনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   এদিকে, আদালতে অ্যামির আইনজীবী মাইকেল চেরনিগলিয়া দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ওষুধ সেবন করতে পারেননি, যার ফলে তার এমন গুরুতর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্কুলটির অধ্যক্ষ ডোরিন বাডিলো এই ঘটনাকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, বদলি শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদ 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি'-এর প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসৌরকে দেশত্যাগের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দিয়েছেন একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন বিচারক। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এই নাগরিক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তিনি একজন মার্কিন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট)।   শিকাগো ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারক জেইমি সালিনার্ডি গত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধকালীন 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট' অনুযায়ী সারসৌর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে, গ্রিন কার্ডের আবেদনে সারসৌরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার যে অভিযোগ সরকার এনেছিল, বিচারক তা খারিজ করে দিয়েছেন।   সালাহ সারসৌর ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে, কিশোর বয়সে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল।   সারসৌর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তাকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিচারের নামে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেখানে ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাজা দেওয়া হয় এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।   মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি' দাবি করেছে যে, সারসৌরকে তার ফিলিস্তিনি ও মুসলিম পরিচয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণেই টার্গেট করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং চরমপন্থীদের সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। তবে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ বা চরমপন্থার সমর্থন হতে পারে না।   সারসৌরকে মার্চ মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছিল, তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে এক ফেডারেল বিচারক তাঁর আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারসৌর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং আইসিই-এর হেফাজতে থাকার সময় তাঁর ওজন ৩০ পাউন্ডের বেশি কমে গেছে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। সারসৌর এই রায়কে "গভীর হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।   যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা যাবে না। সারসৌর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি সালাহ সারসুর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটির নেতা সালাহ সারসুরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন একজন অভিবাসন বিচারক। বুধবার শিকাগো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক জেমি সালিনার্দি সারসুরকে বহিষ্কারযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি পৃথক অভিযোগ, তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।   সালাহ সারসুর উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য তিনি পরিচিত। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে মিলওয়াকি থেকে আটক করেন। পরে জুনে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেমস প্যাট্রিক হ্যানলন তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত তখন বলেছিল, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সারসুরের বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কি না, সে বিষয়ে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দাবি রয়েছে।   তবে বুধবারের অভিবাসন আদালতের রায়ে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ভিত্তিতে বহিষ্কারযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সারসুর এই সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে জানিয়েছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন।   এক বিবৃতিতে সারসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে, তা রক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে দেশকে নিজের বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করেছেন, সেখানে থাকার অধিকার নিয়েও তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।   মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা সারসুরের বিরুদ্ধে মূলত ইসরায়েলে কয়েক দশক আগের কিছু দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সরকার আরও দাবি করেছিল, সারসুর গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার সময় নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বিচারক অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পান। কোনো অভিবাসন বিচারক যদি মনে করেন যে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   সারসুরের জন্ম ইসরায়েলের দখলাধীন পশ্চিম তীরের এলাকায়। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগে তিনি ইসরায়েলে কারাগারে ছিলেন এবং ওই ঘটনায় দণ্ডিত হন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, ওই সময় একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগেও তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা বলছেন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ওই অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হননি।   ১৯৯৫ সালে অস্ত্র রাখার চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায়ও সারসুর দণ্ডিত হন। তিনি এসব অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে নির্যাতন করে এবং চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। সারসুর ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং দেশটিতে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই মার্কিন সরকার তার ইসরায়েলি দণ্ডের বিষয়টি জানত।   সারসুরের আশঙ্কা, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো তার জন্য জীবনের সমাপ্তির মতো হবে। তার আইনজীবী প্যাট্রিক টরেলও দাবি করেছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে সারসুরের অতীত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত দেয়।   বহিষ্কারের আদেশে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ছাড়াও জর্ডানের নাম রয়েছে। বুধবারের শুনানিতে টরেল বিচারকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার অনুরোধ করেন। তার যুক্তি, জর্ডানের সঙ্গে সারসুরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে তার বসবাসের অধিকারও নেই। সারসুরকে একটি অভিবাসন ফরমে জর্ডানকে নিজ দেশের নাম হিসেবে লিখতে বলা হয়েছিল, কারণ ‘ফিলিস্তিন’কে পূর্ণাঙ্গ ও একীভূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় জটিল। বিচারক অবশ্য বহিষ্কারের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, বিষয়টি আপিলের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে।   সারসুরের আইনজীবী আরও বলেছেন, তাকে জর্ডানে পাঠানো হলেও সেখান থেকে দ্রুত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   এই মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া একটি বিশেষ অভিবাসন পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে রুবিও একটি তুলনামূলকভাবে বিরল অভিবাসন আইনি বিধান ব্যবহার করে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে বহিষ্কারের পথ তৈরি করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই ধরনের বিধান ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার মাহমুদ খলিল ও মোহসেন মাহদাওয়ির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, রুবিওর কাছে সারসুরের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভাগটি আরও দাবি করেছে, সারসুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অথবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করেছেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন।   সারসুরের পক্ষে আগস্টে সাক্ষ্য দেওয়া আইনজীবী জাওয়াদ বুলুস বলেন, ইসরায়েলে সারসুরকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগে সারসুরকে দণ্ডিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা সারসুরকে নির্যাতন করেছিলেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ অবশ্য এই নির্যাতনের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইসরায়েলি কারাগারে আচরণ এবং ইসরায়েলি সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময় মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকার অভিযোগের বিষয়েও সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে থাকে।   এর আগে জুনে মার্কিন জেলা বিচারক হ্যানলন সারসুরকে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর হঠাৎ তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ সরকার যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   সারসুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও মামলায় উঠে এসেছে। তার আইনজীবীদের দাবি, আটক থাকার সময় তিনি ৩০ পাউন্ডের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তিনি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার রক্তে শর্করার মাত্রা মাসে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, এতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।   কেএফএফ হেলথ নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে শত শত আটক ব্যক্তি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তবে এসব মামলার সব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।   সারসুরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের রায়ের পর এখন তার আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দেওয়ার জন্য তার হাতে ৩০ দিন এবং আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে। সব ধরনের আইনি সুযোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে পারবে না। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারক ক্রেইগ ডিফোর তত্ত্বাবধানে চলবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র‍্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়।   তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে।   কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।   সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়।   তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র‍্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইসকনসিনের তরুণী মা। ছবি: সংগৃহীত
মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে।   জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।   এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন। পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
শনিবার দুপুরে ইলিনয়ের ম্যাকহেনরি থেকে নিখোঁজ হন টড সাবাতিনি ও তাঁর শিশুপুত্র থিও। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ

শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যাকহেনরি শহরে ২২ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বাভাবিক হাঁটার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই এই বাবা ও ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ এই দুজনকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।   ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ এবং পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ ওই বাবার নাম টড সাবাতিনি (৩৬) এবং তাঁর ছেলের নাম থিও। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইলিনয়ের ম্যাকহেনরির নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন।   পরিবার জানিয়েছে, বাবা ও ছেলের এভাবে হাঁটতে বের হওয়াটা ছিল নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পিপল ম্যাগাজিনকে জানায়, টডের এমন আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক। তাছাড়া থিওকে নিয়ে লম্বা সময় বাইরে থাকার মতো কোনো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও টডের সঙ্গে ছিল না, যা পরিবার ও পুলিশকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।   তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে থিওর স্ট্রলারটি (শিশুদের গাড়ি) পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুপারমার্কেটের কাছে জিওন লুথেরান চার্চের ভেতর কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সাবাতিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁতেও তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।   এরপরের ঘটনাটি আরও রহস্যজনক। পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একটি রাইডশেয়ারিং গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গ্রিনফিল্ড পুলিশ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে সাবাতিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি থিওকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই ওই থানা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।   শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক আপডেটে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে টড ও থিও বর্তমানে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের সন্ধানে ইলিনয় ও উইসকনসিনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নিখোঁজ হওয়ার সময় শিশু থিওর পরনে ছিল নীল শার্ট ও গাঢ় রঙের শর্টস। অন্যদিকে টড সাবাতিনির পরনে ছিল নীল-কালো রঙের ফ্লানেল শার্ট, ধূসর ট্যাংক টপ, জিন্স এবং কনভার্স জুতো। আগের ছবিগুলোতে তাঁর মুখে ঘন দাড়ি দেখা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ক্লিন-শেভড।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টড এবং থিওর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের নির্দিষ্ট নম্বরে (৮১৫-৩৬৩-২১৩০) যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
উইসকনসিনে বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বাবা ও তার দুই কিশোরী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর নিহত শিশুদের মা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তার কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলইউকে (WLUK) ও এনবিসি ২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উইসকনসিনের উইনেকনি (Winneconne) শহরের একটি বাড়িতে কল্যাণ নিশ্চিত করতে (ওয়েলফেয়ার চেক) গিয়ে পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী জেফ্রি ম্যানকে (Jeffrey Manke) এবং তার দুই মেয়ে ১৬ বছর বয়সী জেইলি (Jaely) ও ১১ বছর বয়সী লেনোরা (Lenora)-র মরদেহ উদ্ধার করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেফ্রি ম্যানকে ও তার স্ত্রী লিন্ডসি লিউয়ান্ডোস্কির (Lindsey Lewandowski) মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তবে সন্তানদের হেফাজতের বিষয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই যৌথ আইনগত অভিভাবকত্বের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। যদিও লিন্ডসি একক হেফাজতের আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে জেফ্রি ম্যানকের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি হয়েছিল। সেই নথিতে উল্লেখ ছিল, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে থাকার সময় তাকে মাদক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও ছিল।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিন্ডসি অভিযোগ করেন, তার দুই মেয়ে বাবার কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করত না। তিনি লেখেন, "আমি তাদের নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের এমন জায়গায় পাঠাতে, যেখানে তারা যেতে চাইত না এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করত না।"   তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের কাউন্সেলর শিশুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। শিশু সুরক্ষা সংস্থা (CPS)-তে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সতর্কবার্তার কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।   লিন্ডসি বলেন, "গত দুই বছর ধরে যদি কেউ তাদের সাহায্যের আবেদন শুনত, তাহলে তারা আজ বেঁচে থাকত। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উইনেবাগো কাউন্টি সার্কিট কোর্ট কিংবা কাউন্টি মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। এটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু হেফাজত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর ওই নারীর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত
প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারালেন মার্কিন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক নারী প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ৩০ হাজার ডলারের ঋণের বোঝাও কাঁধে নিয়েছেন। পরিচয় চোরদের হাত থেকে নিজের অর্থ সুরক্ষিত করছেন, এমন বিশ্বাসেই তিনি প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন।   ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সবকিছুর শুরু হয় একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে, যা তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বলে মনে হয়েছিল। এরপর তার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন।   পরবর্তী তিন মাস ধরে প্রতারকরা নিজেদের কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া নথিপত্র দেখায়, একটি ভুয়া ব্যাংক হিসাব তৈরি করে এবং তার অর্থ নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বলেন।   প্রতারকদের কথামতো তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার মূল্যের স্বর্ণের মুদ্রা কিনে একটি খামে ভরে এক কুরিয়ারের হাতে তুলে দেন। পরে তাকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উত্তোলন, শত শত উপহার কার্ড কেনা এবং ডিজিটাল মুদ্রা কেনার জন্যও প্ররোচিত করা হয়। এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত প্রতারকদের কাছেই চলে যায়।   ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা তাকে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করিয়েছিল। ফলে তিনি সন্তান, বন্ধু কিংবা পুলিশ—কারও কাছে বিষয়টি জানাতে পারেননি। প্রতারকরা তাকে আরও জানায়, তার ফোন ও কম্পিউটার নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি তাকে অস্ত্র পাচার ও অর্থপাচারের একটি মামলার সন্দেহভাজন বলেও দাবি করা হয়।   ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা শেষবার যোগাযোগ করবে—এমন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সেই ফোন আর আসেনি। পরে তিনি নিজেই ফোন করলে নম্বরটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।   উইসকনসিনে বেটার বিজনেস ব্যুরো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ কেনার নামে প্রতারণার শিকার হওয়া তিনজনের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ ডলার। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি স্বর্ণ কিনতে, অর্থ স্থানান্তর করতে বা কোনো কুরিয়ারের হাতে মূল্যবান জিনিস তুলে দিতে বলে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী তার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি অনলাইন সহায়তা তহবিলও খুলেছেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণায় হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নৌকা ডুবে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিন শিশুর I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে প্রচণ্ড ঝড়ে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিন শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের একটি হ্রদে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলো ৬ বছর বয়সী কালেব অসওয়াল্ড, ৭ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল অসওয়াল্ড এবং তাদের ১০ বছর বয়সী কাজিন ক্যাথরিন "কেট" শ্মিট। পরিবার জানিয়েছে, কালেব এবং অ্যাবিগেইল আপন ভাই-বোন। গত ৩ জুলাই ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   জেনেভা লেক ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি জানায়, ৩ জুলাই প্রচণ্ড ঝড়ের সময় হ্রদে নৌকাডুবি এবং পানিতে মানুষ পড়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে একাধিক জরুরি কল আসে। সে সময় ওই এলাকায় ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে প্রলয়ংকরী ঝড় বইছিল। নৌকাটিতে চার শিশুসহ মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা সকল শিশুই লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ছিল।   উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে বাকি তিন শিশু তখনো নিখোঁজ ছিল। পরে ডুবুরিরা ৩২ ফুট পানির নিচে ডুবে যাওয়া নৌকাটির সন্ধান পান এবং এর ভেতর থেকেই ওই তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   এই ‘অকল্পনীয়’ ট্র্যাজেডিতে শোকে স্তব্ধ নিহতদের পরিবার। কেটের স্মরণে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে জানানো হয়েছে, সে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও দয়ালু স্বভাবের এক মেয়ে ছিল। খেলাধুলা, ছবি আঁকা ও প্রাণীদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে সেসব শিশুদের সাহায্য করা হবে, যারা খেলাধুলার খরচ চালাতে পারে না বা প্রাণী দত্তক নিতে চায়।   অন্যদিকে, কালেব ও অ্যাবিগেইলের জন্য খোলা আরেকটি পেজে তাদের পরিবার জানিয়েছে, তারা শুধু ভাই-বোনই ছিল না, বরং একে অপরের সেরা বন্ধু ছিল। তাদের হাসিগানে পুরো বাড়ি মুখরিত থাকত। তাদের স্মরণে সংগৃহীত অর্থ শিশুদের একটি দাতব্য সংস্থায় দান করা হবে, যাতে তাদের এই অকাল প্রস্থান অন্য শিশুদের জীবনে আশা জাগাতে পারে এবং বাবা-মা হিসেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজে পান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০