ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটির নেতা সালাহ সারসুরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন একজন অভিবাসন বিচারক। বুধবার শিকাগো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক জেমি সালিনার্দি সারসুরকে বহিষ্কারযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি পৃথক অভিযোগ, তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।
সালাহ সারসুর উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য তিনি পরিচিত। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে মিলওয়াকি থেকে আটক করেন। পরে জুনে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেমস প্যাট্রিক হ্যানলন তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত তখন বলেছিল, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সারসুরের বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কি না, সে বিষয়ে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দাবি রয়েছে।
তবে বুধবারের অভিবাসন আদালতের রায়ে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ভিত্তিতে বহিষ্কারযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সারসুর এই সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে জানিয়েছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন।
এক বিবৃতিতে সারসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে, তা রক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে দেশকে নিজের বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করেছেন, সেখানে থাকার অধিকার নিয়েও তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা সারসুরের বিরুদ্ধে মূলত ইসরায়েলে কয়েক দশক আগের কিছু দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সরকার আরও দাবি করেছিল, সারসুর গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার সময় নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বিচারক অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পান। কোনো অভিবাসন বিচারক যদি মনে করেন যে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।
সারসুরের জন্ম ইসরায়েলের দখলাধীন পশ্চিম তীরের এলাকায়। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগে তিনি ইসরায়েলে কারাগারে ছিলেন এবং ওই ঘটনায় দণ্ডিত হন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, ওই সময় একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগেও তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা বলছেন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ওই অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হননি।
১৯৯৫ সালে অস্ত্র রাখার চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায়ও সারসুর দণ্ডিত হন। তিনি এসব অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে নির্যাতন করে এবং চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। সারসুর ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং দেশটিতে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই মার্কিন সরকার তার ইসরায়েলি দণ্ডের বিষয়টি জানত।
সারসুরের আশঙ্কা, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো তার জন্য জীবনের সমাপ্তির মতো হবে। তার আইনজীবী প্যাট্রিক টরেলও দাবি করেছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে সারসুরের অতীত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত দেয়।
বহিষ্কারের আদেশে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ছাড়াও জর্ডানের নাম রয়েছে। বুধবারের শুনানিতে টরেল বিচারকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার অনুরোধ করেন। তার যুক্তি, জর্ডানের সঙ্গে সারসুরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে তার বসবাসের অধিকারও নেই। সারসুরকে একটি অভিবাসন ফরমে জর্ডানকে নিজ দেশের নাম হিসেবে লিখতে বলা হয়েছিল, কারণ ‘ফিলিস্তিন’কে পূর্ণাঙ্গ ও একীভূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় জটিল। বিচারক অবশ্য বহিষ্কারের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, বিষয়টি আপিলের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে।
সারসুরের আইনজীবী আরও বলেছেন, তাকে জর্ডানে পাঠানো হলেও সেখান থেকে দ্রুত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
এই মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া একটি বিশেষ অভিবাসন পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে রুবিও একটি তুলনামূলকভাবে বিরল অভিবাসন আইনি বিধান ব্যবহার করে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে বহিষ্কারের পথ তৈরি করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই ধরনের বিধান ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার মাহমুদ খলিল ও মোহসেন মাহদাওয়ির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, রুবিওর কাছে সারসুরের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভাগটি আরও দাবি করেছে, সারসুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অথবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করেছেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন।
সারসুরের পক্ষে আগস্টে সাক্ষ্য দেওয়া আইনজীবী জাওয়াদ বুলুস বলেন, ইসরায়েলে সারসুরকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগে সারসুরকে দণ্ডিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা সারসুরকে নির্যাতন করেছিলেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ অবশ্য এই নির্যাতনের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইসরায়েলি কারাগারে আচরণ এবং ইসরায়েলি সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময় মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকার অভিযোগের বিষয়েও সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে থাকে।
এর আগে জুনে মার্কিন জেলা বিচারক হ্যানলন সারসুরকে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর হঠাৎ তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ সরকার যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
সারসুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও মামলায় উঠে এসেছে। তার আইনজীবীদের দাবি, আটক থাকার সময় তিনি ৩০ পাউন্ডের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তিনি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার রক্তে শর্করার মাত্রা মাসে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, এতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
কেএফএফ হেলথ নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে শত শত আটক ব্যক্তি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তবে এসব মামলার সব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।
সারসুরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের রায়ের পর এখন তার আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দেওয়ার জন্য তার হাতে ৩০ দিন এবং আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে। সব ধরনের আইনি সুযোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে পারবে না। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারক ক্রেইগ ডিফোর তত্ত্বাবধানে চলবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি সম্পন্ন করে একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নতুন একটি গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করে এই অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত ২০২৩ সালে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস বিভাগে পিএইচডি শুরু করেন। পরের বছর ২০২৪ সালে তিনি ক্রপ অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সেস বিভাগে গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহ ছিল রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উপায় খুঁজে বের করা। বাংলাদেশে নুসরাতের একাডেমিক ভিত্তিও কৃষিবিষয়ক। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে স্নাতক এবং ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন। পিএইচডি গবেষণায় নুসরাত বাণিজ্যিক চিনাবাদাম ক্ষেতে উচ্চ রেজোলিউশনের হাইপারস্পেকট্রাল ও লাইডার ডেটা ব্যবহার করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল চিনাবাদামে অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা। পাশাপাশি রিমোট সেন্সিং, আবহাওয়ার তথ্য ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে চিনাবাদামের বৃদ্ধি ও ফলন নির্ধারণের পদ্ধতিও নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে নুসরাতের গবেষণার একটি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনেও উপস্থাপিত হয়। সেখানে তাঁর গবেষণায় ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে চিনাবাদামের ফলন আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ধারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখায়। নুসরাতের এই একাডেমিক যাত্রায় একটি প্রিয় উদ্ধৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। হেনরি ডেভিড থোরোর সেই উদ্ধৃতির মূল বক্তব্য হলো, শুধু ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, মানুষ কী কাজে ব্যস্ত রয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। নুসরাতের গবেষণা ও একাডেমিক পথচলার সঙ্গে এই ভাবনাটিকেই যুক্ত করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ নুসরাত জাহান নিভাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই পথচলা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।
ডেটিং সাইটে চীনা গুপ্তচরের ফাঁদে মার্কিন ফেড কর্মকর্তা, গোপন তথ্য শেয়ারে ৩৮ মাসের জেল
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভবিষ্যৎ কলেজ ও শিক্ষার খরচের জন্য আগেভাগে টাকা জমাতে চান অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার। তাদের জন্য ৫২৯ প্ল্যান হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা। এই প্ল্যানে নিয়মিত টাকা জমিয়ে তা বিনিয়োগ করা যায়। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত অর্থ সাধারণত কর ছাড়ের সুবিধায় বাড়তে থাকে এবং লেখাপড়ার খরচ মেটাতে অর্থ তোলা হলে সেই আয়ের ওপর ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। ৫২৯ প্ল্যান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত একটি শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সন্তানের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা বা অন্যান্য এলিজিবল উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য অর্থ জমা রাখা যায়। বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার খরচ, নিবন্ধিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এই প্ল্যানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ। সন্তান ছোট থাকা অবস্থায় নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমালে বিনিয়োগের অর্থ সময়ের সঙ্গে বাড়ার সুযোগ পায়। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় আবার বিনিয়োগ হয়ে ভবিষ্যতে আরও আয় তৈরি করতে পারে। তবে ৫২৯ একটি বিনিয়োগভিত্তিক অ্যাকাউন্ট হওয়ায় বাজারের ওঠানামার কারণে এর মূল্য কমতেও পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর অতিরিক্ত কর সুবিধা নির্ভর করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে যোগ্যভাবে টাকা জমালে রাজ্যের আয়কর থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সুবিধাভোগীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার সিঙ্গেল কর জমা দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং ৮ হাজার ডলার যৌথভাবে কর জমা দেওয়া দম্পতির ক্ষেত্রে রাজ্যের আয়কর ছাড়ের আওতায় আসতে পারে। অর্থাৎ জর্জিয়ায় কোনো পরিবার সন্তানের ৫২৯ অ্যাকাউন্টে টাকা জমালে সেই টাকা ফেডারেল করযোগ্য আয় থেকে সরাসরি বাদ যাবে না। তবে সঠিক ভাবে জমা দেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার রাজ্য আয়করে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। তাই ৫২৯ প্ল্যানকে সরাসরি ফেডারেল কর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে সন্তানের শিক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং কর সুবিধার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি সঠিক। ৫২৯-এর অর্থ সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন, প্রয়োজনীয় ফি, বই, শিক্ষা উপকরণ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য শিক্ষাগত খরচে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে শিক্ষার্থীর থাকা ও খাওয়ার খরচেও এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একই শিক্ষাগত খরচের জন্য ৫২৯-এর কর সুবিধা এবং অন্য কোনো শিক্ষা-সংক্রান্ত কর সুবিধা একসঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সন্তান শেষ পর্যন্ত যে কলেজে পড়বে, সেটি নিজের রাজ্যেই হতে হবে এমন নয়। যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহার করা যায়। সন্তান কলেজে না গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবারের অন্য সদস্যকে সুবিধাভোগী করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ৫২৯ অ্যাকাউন্ট থেকে সুবিধাভোগীর রথ আইআরএ অ্যাকাউন্টে সীমিত পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের সুযোগও রয়েছে। জর্জিয়ার পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে মাত্র ২৫ ডলার দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। ফলে সন্তান ছোট থাকতেই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে নিয়মিতভাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তবে ৫২৯ খোলার আগে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগের ঝুঁকি, অ্যাকাউন্টের খরচ এবং নিজের রাজ্যের করের নিয়ম ভালোভাবে বোঝা জরুরি। সন্তানের শিক্ষার জন্য ৫২৯ প্ল্যান তাই শুধু টাকা জমিয়ে রাখার একটি অ্যাকাউন্ট নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ থেকে অর্থ বৃদ্ধির সুযোগ এবং যোগ্য শিক্ষাগত খরচে কর সুবিধা, এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই এর মূল সুবিধা বোঝা যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সন্তানের কলেজের খরচের পরিকল্পনা করতে গিয়ে এই ধরনের শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থার নিয়ম ও সুবিধাগুলো আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
এবার মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, দিলেন কড়া নির্দেশ
তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ
বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালির পরিচয় উদযাপনে আগামী শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’। ‘গৌরবের ৩৪তম বছর’ উপলক্ষে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টির এ. জে. ফেরলাজ্জো বিল্ডিংয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাংলা স্কুলের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা। ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ও সেই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ। বিসিসিডিআইয়ের ওয়েবসাইটে আগের বছরগুলোর ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’র বিভিন্ন আয়োজনের তথ্য ও ভিডিওও রয়েছে। এবারের মেলার বিশেষ প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কাছে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই ধরনের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মেলায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ফ্রি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। এদিকে ২০২৬ থেকে ২০২৭ মেয়াদের জন্য বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের নতুন নির্বাহী কমিটিও নির্বাচিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিয়া মাহজাবীন, সহসভাপতি হিসেবে নূর মোহাম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিভা বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রুনা আফরোজ এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন মৌসুমী মিত্র। শিক্ষা পরিচালক হিসেবে রাজিয়া সুলতানা, প্রেস ও প্রকাশনা পরিচালক হিসেবে রুমানা শুমি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে আইরিন ফৌজিয়া এবং প্রোগ্রাম পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ জেড আবদিন দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নির্বাহী কমিটিকে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলা ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ৩৪ বছরের পথচলা এবং নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে এবারের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে। ‘স্বর্ণালী অতীত’কে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার বার্তাই থাকবে এবারের আয়োজনের কেন্দ্রে।
জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা
নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ৩৫ শতাংশ ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার, নতুন করে শুরু তদন্ত