সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ওবামাকেয়ার

ওবামাকেয়ারের আওতায় স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ের যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে দেওয়া করছাড়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে বাড়তি শর্ত যুক্ত হবে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের একটি অংশসহ বর্তমানে করছাড় পাওয়া কিছু পরিবারের সুবিধা কমতে পারে বা তারা এই সুবিধার অযোগ্য হতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে দেওয়া করছাড় কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানো। ‘প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত এই সুবিধা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন, যা সাধারণভাবে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, তার আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করে। করছাড়ের অর্থ সরাসরি বিমার মাসিক খরচ কমাতে ব্যবহার করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস’ নামে পরিচিত কর ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।   প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, দেশটির জাতীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য কিছু অ-নাগরিক করছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশের নিচে থাকলেও, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইড সুবিধা না পেলে তারা প্রিমিয়াম করছাড়ের যোগ্য হতে পারতেন। নতুন প্রস্তাবে এই বিশেষ সুযোগ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কম আয়ের এমন কিছু পরিবার স্বাস্থ্যবিমার জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পেতে পারে। তবে পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত বিধিমালার অংশ, তাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।   একই পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান না করলে কিংবা করছাড় পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অভিবাসনগত যোগ্যতা পূরণ না করলে, তাঁর জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়ামের অংশটি পরিবারের করছাড়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ্য হলেও, অযোগ্য সদস্যের বিমা খরচের অংশের জন্য করছাড় দাবি করা যাবে না। এতে একই বিমা পরিকল্পনার আওতায় থাকা পরিবারের করছাড়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নিয়মটির লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকি যেন কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমার খরচে ব্যবহৃত হয়।   ২০২৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে নিবন্ধনের সময় যোগ্যতা যাচাই আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর বসবাসের তথ্য, স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর যোগ্যতা, নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী মেডিকেইড বা অন্য কোনো যোগ্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পড়েন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য, অননুমোদিত নিবন্ধন এবং অযোগ্য ব্যক্তির নামে ভর্তুকি দেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।   করছাড়ের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে আগাম করছাড় হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিমাণে সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বছরের শুরুতে যতটা করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, আয় বা অন্যান্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বছরের শেষে প্রকৃত যোগ্যতা কম হলে অতিরিক্ত পাওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হতে পারে। এতে করদাতাদের জন্য বছরের শেষে কর হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   করছাড়ের যোগ্যতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল আইনে যারা যোগ্য নন, তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, প্রস্তাবিত যাচাইব্যবস্থা অনুপযুক্ত দাবি কমাতে এবং যোগ্য করদাতাদের সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য প্রশাসনের অবস্থান; প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও তার প্রয়োগের ওপর।   স্বাস্থ্যবিমায় অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যার আওতায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের নাম ছিল। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব বাতিলের ফলে আগাম প্রিমিয়াম করছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের অস্তিত্ব বা নিবন্ধন যাচাই করা যায়নি, আবার এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা বাস্তব হলেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা বাজারের পরিকল্পনায় নিবন্ধিত। বিভাগটি ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কর্মসূচিতে নজিরবিহীন হারে নিবন্ধন বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি বা জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশাসন যাচাইব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক নিবন্ধনের সংখ্যা এবং নিশ্চিত জালিয়াতির সংখ্যা এক নয়, তাই এ ধরনের তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি।   প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের কাছে লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি জনশুনানি টেলিফোনের মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়ম নির্ধারণ করবে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধ করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব নিবন্ধনের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা নিবন্ধনও এই পদক্ষেপের আওতায় এসেছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আগামী এক বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে একই ব্যক্তির জন্য একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা। ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিকল্পনা কেনার সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পান। এই সহায়তা তাঁদের মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কমাতে সাহায্য করে। তবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই সময়ে মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, দ্বৈত নিবন্ধন এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে ভর্তুকি দেওয়ার মতো ঘটনা শনাক্ত করে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   তবে এই ঘোষণার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে সব ওবামাকেয়ার গ্রাহকের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। একইভাবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডে থাকা সব ব্যক্তির স্বাস্থ্যবিমাও বাতিল করা হচ্ছে না। পদক্ষেপটি মূলত ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পাওয়া ওবামাকেয়ার ভর্তুকিকে কেন্দ্র করে। যাঁদের নথিতে দ্বৈত স্বাস্থ্যবিমার তথ্য পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি যাচাই করার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আপত্তি জানানো বা তথ্য সংশোধন না হলে তাঁদের মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি বন্ধ করা হতে পারে।   সরকারি নথিতে কাউকে মৃত হিসেবে দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্যটি ভুল প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কারও মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার কভারেজ শেষ হয়ে আসছে কিংবা দ্বৈত নিবন্ধনের তথ্য ভুল হলে, প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমা গ্রাহকদের কাছে সরকারি নোটিশ এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও অনেকেই আয়ের ভিত্তিতে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি নিয়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকির যোগ্যতা নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার আওতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর। তাই মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নোটিশ পেলে নিজের স্বাস্থ্যবিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে নোটিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শনাক্ত করা এই ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধের ফলে চলতি বছরে প্রায় ৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের হিসাবে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। তবে এই অঙ্কগুলো সরকারের হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য সাশ্রয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওবামাকেয়ারের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে
৩০ রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পাচ্ছেন ওবামাকেয়ারের ৫০০ ডলারের রিফান্ড, চেক পাঠানো শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০টি রাজ্যের যোগ্য গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ওবামাকেয়ার রিফান্ডস’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ সেপ্টেম্বর করেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ‘ইউজার ফি’-এর একটি অতিরিক্ত অংশ গ্রাহকদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ফি শেষ পর্যন্ত বেশি প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল।   এই রিফান্ডের আওতায় মূলত সেইসব মানুষ রয়েছেন, যারা ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের কভারেজের জন্য প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি এবং নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার পুরো খরচ বহন করেছেন। প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তি ৫০০ ডলার করে পাওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।   হোয়াইট হাউসের তালিকা অনুযায়ী, আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ের বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন।   ট্রেজারি বিভাগ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকেই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যোগ্য ব্যক্তিরা কাগজের চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পেতে পারেন। চেকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠিও পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   রাজ্যভেদে প্রাপকের সংখ্যাও ভিন্ন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ এই অর্থ পাওয়ার কথা, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ জন পাবেন, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।   এই রিফান্ড এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সহায়তার যোগ্য অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়াম বেড়েছে।   তবে ৫০০ ডলারের এই রিফান্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে আগের প্রশাসনের অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এবং কর্মসূচিটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন কি না এবং তাদের চেক বা সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি বিভাগ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যোগ্য গ্রাহকের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। অর্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    তবে এটি সবার জন্য দেওয়া কোনো সরকারি প্রণোদনা বা সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড নয়। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রিমিয়াম সহায়তা বা সরকারি ভর্তুকি পাননি, মূলত তাদেরই এই ফেরতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা নিজেদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পুরো প্রিমিয়াম নিজেরাই পরিশোধ করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ পেতে পারেন।    এই ফেরতের পেছনে প্রশাসনের ব্যাখ্যা হলো, ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যবহার ফি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই অতিরিক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং একটি বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই উদ্বৃত্তের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। তবে আগের প্রশাসন সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি; ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের ঘোষণা।    প্রতিজন যোগ্য গ্রাহক ৫০০ ডলার করে পাবেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি যোগ্য হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ৫০০ ডলারের ফেরত আসতে পারে। ফলে একটি পরিবারের মোট ফেরতের পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থ পাঠানোর দায়িত্ব ট্রেজারি বিভাগের এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান নাগরিক হওয়া বা না হওয়াই মূল বিষয় নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়েছে এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যোগ্য ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তিনি এই ফেরতের আওতায় পড়তে পারেন।    এই কর্মসূচি ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। এসব রাজ্য ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল হেলথকেয়ার ডট গভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি নিজস্ব স্টেট-বেসড হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করছে। ফলে এসব রাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনা এই নির্দিষ্ট ৫০০ ডলারের ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই।    যোগ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের ঘোষণায় নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি; বরং ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ফেরতের অর্থ পাঠাচ্ছে। তাই কেউ ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা বলে ফোন, ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক তথ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা কোনো ফি চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। এই অর্থকে সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড বা সবার জন্য দেওয়া নতুন সরকারি অর্থ হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ফেরত অর্থ হিসেবে দেখা উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ারের ফেডারেল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় বাইডেন প্রশাসন এসব নাগরিকের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করেছিল।   এই অর্থ ফেরতের অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের চেক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি নাগরিক এই অর্থ পাবেন।   চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, হেলথকেয়ার ডট গভ (HealthCare.gov)-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাইডেন প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছে। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, "এই অর্থ কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদের, সরকারের নয়; আর তাই আমি এটি আপনাদের ফেরত দিচ্ছি!"।   এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই 'ওবামাকেয়ার রিফান্ড'-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে সব নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছেন, এই রিফান্ড তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।   হোয়াইট হাউসের দাবি, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে যে ফি সংগ্রহ করেছিল, তা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহকদের থেকেই নেওয়া হয় এবং এই অর্থের পরিমাণ এক্সচেঞ্জ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় খরচের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে এ ধরনের চেক বিতরণের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে যখন সাধারণ আমেরিকানরা উদ্বিগ্ন, তখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকরা এই রিফান্ড পাবেন, তারা মূলত নিজেদের কোনো পূর্ণাঙ্গ এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে না এবং আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ফেডারেল এক্সচেঞ্জের ওপর নির্ভরশীল। তবে যেসব রাজ্য নিজেদের এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে এবং যাদের কাছ থেকে ফেডারেল সরকার কোনো ফি সংগ্রহ করেনি, সেসব রাজ্যের নাগরিকরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না।   সুবিধাভোগীদের বেশিরভাগই এমন ব্যক্তি যাদের আয় ফেডারেল দারিদ্র্য সীমার ৪০০ শতাংশের ওপরে বা আশপাশে। চিঠির শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকানদের সবকিছুর আগে রাখতে, স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাতে এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষায় তার লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)।   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।   সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান।   সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৬০ হাজার ওবামাকেয়ার গ্রাহকের সুবিধা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৬০ হাজার ওবামাকেয়ার গ্রাহকের সুবিধা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (এসিএ) বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়া কিংবা বাস্তবে অস্তিত্ব নেই—এমন গ্রাহকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।   সরকারি জালিয়াতি দমন টাস্কফোর্সের প্রধান জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই গ্রাহকদের ভর্তুকি বাতিল করার মাধ্যমে ২২০ কোটি (২.২ বিলিয়ন) ডলার সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেট ওজসহ প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।   ভ্যান্স জানান, প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধনের আওতায় থাকা এই ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের যোগ্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলেই তাদের সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ৪ লাখ ১৯ হাজার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তারা এই সরকারি সুবিধার যোগ্য কি না, তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হবে।   পাশাপাশি যেসব এজেন্ট বা ব্রোকার স্বাস্থ্যবিমার জন্য গ্রাহকদের নিবন্ধন করান, নতুনদের ক্ষেত্রে তাদের ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ব্রোকারই স্বাস্থ্যবিমা খাতের বেশিরভাগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত।   ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন নাগরিক এসিএ মার্কেটপ্লেস স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন। বাইডেন আমলে এই কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যসেবা নীতি বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনথিয়া কক্স বলেন, যারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন তাদের বিমা বাতিল হওয়া উচিত ঠিকই, কিন্তু গ্রাহকদের শনাক্ত করার এই প্রক্রিয়াটি সঠিক কি না এবং বাতিল হওয়া সবাই আসলেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।   বাইডেন আমলের সিএমএস কর্মকর্তা এলেন মন্টজও প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাবের সমালোচনা করে বলেছেন, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এই গ্রাহকদের বাতিল করা হলো, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচার্ড ই. নিল বলেন, রিপাবলিকানরা এমনিতেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম সংকট তৈরি করেছে, আর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
৫০০ ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, অক্টোবর থেকে পেতে পারেন যোগ্য আমেরিকানরা
১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দিচ্ছেন ট্রাম্প! যারা পাবেন এই টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এই অর্থ পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এই ‘রিবেট চেক’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ পরিশ্রমী আমেরিকানকে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় ভুলভাবে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছিল। এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এমন বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে কোনো সরকারি ভর্তুকি পাননি এবং ফেডারেল ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করেছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেগুলো হলো—আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব মানুষকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, আগের প্রশাসন বিষয়টি জানত এবং এ নিয়ে পর্যালোচনাও করেছিল, কিন্তু অর্থ ফেরত দেয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পুরোটা বা বড় একটি অংশ পূরণ করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এমআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক ও ওবামাকেয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত জনাথন গ্রুবার। তিনি এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক খরচ থাকা স্বাভাবিক এবং ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ফিগুলো তুলনামূলকভাবে যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট আওয়ার কেয়ার এই ৫০০ ডলারের অর্থকে ‘লোক দেখানো উদ্যোগ’ বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচের তুলনায় ৫০০ ডলার খুবই কম। সংগঠনটি আরও বলেছে, আরবান ইনস্টিটিউটের হিসাবে একজন আমেরিকানের স্বাস্থ্যবিমার গড় মাসিক খরচ প্রায় ৬১১ ডলার। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেকের এক মাসের স্বাস্থ্যবিমার খরচও পুরোপুরি মেটাতে পারবে না। ট্রাম্পের ৫০০ ডলারের এই ঘোষণা এসেছে এর ঠিক একদিন পর, যখন তিনি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সঙ্গে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আইনগত বৈধতা, এত বড় অর্থ ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতা এবং এই অর্থের উৎস নিয়ে আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক গোল্ডওয়েইন হিসাব করে বলেছেন, ৫ হাজার ডলারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এত বিপুল অর্থ অর্থনীতিতে ঢোকানো হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগের প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার অতিরিক্ত ফি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ এখন ফেরত দেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের কাছে ৫০০ ডলারের ফেরত অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর থেকে। তবে এই অর্থ সব ওবামাকেয়ার গ্রাহক পাবেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্যই ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার, অর্থাৎ Healthcare.gov ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম পরিশোধে সরকারি ভর্তুকি পান না। এই সুবিধা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।   হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘ইউজার ফি’ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছিল। এসব ফি শেষ পর্যন্ত বিমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর পড়েছিল। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বড় একটি তহবিল উদ্বৃত্ত থেকে যায়, যা গ্রাহকদের সুবিধায় ব্যবহার করা হয়নি।   ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়াই তার প্রশাসনের লক্ষ্য এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হোয়াইট হাউস এই অর্থকে আগের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।   যেসব অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক এই ফেরত পাওয়ার আওতায় থাকবেন, সেগুলো হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং।   এই ৩০টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার ব্যবহার করে তাদের ওবামাকেয়ার বাজার পরিচালনা করে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো যেসব অঙ্গরাজ্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা করে, সেগুলো এই তালিকায় নেই। তবে এই ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার অর্থ ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিষ্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।   স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ফেরতের অর্থের সঙ্গে আগের সময়ে সংগৃহীত অব্যবহৃত ইউজার ফি তহবিলের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পুরো দায় কেবল বাইডেন প্রশাসনের ওপর দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা শেষ হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার আরেকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে। এর একদিন আগে তিনি রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে সেই প্রস্তাব আলাদা এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত।   অন্যদিকে ৫০০ ডলারের ওবামাকেয়ার ফেরতকে প্রশাসন অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ওবামাকেয়ারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১০ লাখ নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছেন ট্রাম্প
ওবামাকেয়ারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১০ লাখ নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের আওতায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, কেন্দ্রীয় হেলথকেয়ার এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আগামী অক্টোবর মাসে ৫০০ ডলারের এই চেক ডাকযোগে পাঠানো হবে। যাদের অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত খরচের মুখে ফেলা হয়েছিল, তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিয়ে প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ইউজার ফি আদায় করেছিল, যা পরবর্তীতে বর্ধিত প্রিমিয়াম আকারে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়। ট্রাম্পের যুক্তি, এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ তহবিলের প্রয়োজন ছিল, আদায়কৃত অর্থ তার চেয়ে অনেক বেশি।   ফলে কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের যেসব গ্রাহক ওবামাকেয়ারের অধীনে কোনো প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি, তাদের এই বাড়তি অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বর্ধিত এসিএ ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহকের জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।   এই অর্থ ফেরত পাওয়ার তালিকায় থাকা ৩০টি অঙ্গরাজ্য হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং।   স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ চিকিৎসা সেবায় ব্যয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার আওতায়ও গ্রাহকদের জন্য পৃথক রিবেটের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই ৫০০ ডলারের স্বাস্থ্যবীমা রিফান্ড তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ এপি
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচে বিপাকে সাধারণ নাগরিক, কমছে ওবামাকেয়ারের গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা হারিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ২ কোটি ২১ লাখ মানুষের সংখ্যা এ বছর ১৩ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯২ লাখে দাঁড়িয়েছে। সরকারের দাবি, ভুয়া বা প্রতারণামূলক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই এই পতন ঘটেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বীমার খরচ হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশোধ করা আর সম্ভব হচ্ছে না।   স্বাস্থ্য গবেষণাকারী অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এসিএ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনথিয়া কক্স জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অসংখ্য প্রকৃত গ্রাহক তাদের স্বাস্থ্যবীমার সুরক্ষা হারিয়েছেন। বীমা পরিকল্পনা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের ওপর চালানো জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যখন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তিনগুণ খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তখনই তারা এই অপরিহার্য বীমা সুবিধা হারিয়েছেন। এপ্রিলে সংকলিত এই নতুন তথ্যে মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ব্যর্থতা এবং এর প্রভাবে মোট নিবন্ধনের নিম্নমুখী প্রবণতার প্রথম সরকারি প্রমাণ পাওয়া গেছে।   এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল যে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় আট লাখ মানুষ কম ওবামাকেয়ারের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। কেএফএফ আশঙ্কা করছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে এবং তা ১ কোটি ৭৫ লাখে নেমে আসতে পারে। মেডিক্যালের জন্য যোগ্য নন অথচ কর্মক্ষম এমন মানুষদের জন্য সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, কৃষক, খামারি এবং অন্যান্য পেশাজীবী, যাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিকল্প হয়ে উঠেছিল।   গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এই ভর্তুকি নবায়নের জোর দাবি জানালেও তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০