যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির কড়া জবাব দিয়ে নিজেদের ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াইয়ের তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে কিউবা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই মন্তব্য করেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, কিউবা তাদের নির্ধারিত পথেই আসছে। এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দিয়াজ-কানেল ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম-চালিত বিষাক্ত কৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি আমেরিকার এই ধরনের বাগাড়ম্বরকে কিউবার জনগণের মর্যাদার ওপর চরম অবমাননা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানান, আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কাকে তাঁর সরকার কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছে না এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো আক্রমণ হয়, তবে কিউবার জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জবাব দেবে। তিনি বলেন, "আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে একে ভয়ও পাই না।" এ সময় তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সামরিক নেতা আন্তোনিও ম্যাসিও-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, যারা কিউবা দখলের চেষ্টা করবে, তারা কেবল রক্তে ভেজা মাটির ধুলোই পাবে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মার্কিন অভিযানে ৩২ জন কিউবানের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কিউবার মাটিতে এই আত্মত্যাগের সংখ্যা লাখো-কোটিতে গিয়ে ঠেকবে। মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে দিয়াজ-কানেল গত জানুয়ারিতে আরোপিত ওয়াশিংটনের নতুন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধকে মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম ব্লকেড হিসেবে আখ্যা দেন। দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ওষুধের ঘাটতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তিনি এই অবরোধকেই দায়ী করে মার্কিন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা পদ্ধতিকে অপরাধ এবং জাতিগত নিধনযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেন। এছাড়া কিউবায় চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির মার্কিন অভিযোগ তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। মানবাধিকার সংস্থা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আনা রাজনৈতিক বন্দি রাখার অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন দিয়াজ-কানেল। তিনি দাবি করেন, কিউবায় কোনো রাজনৈতিক বন্দি নেই; বরং যারা কারাগারে আছেন, তারা প্রত্যেকেই দেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাধারণ অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এত চাপ ও উত্তেজনার পরও, সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্পূর্ণ পূর্বশর্তহীন যেকোনো আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিউবা উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। সব সংকট পেরিয়ে কিউবার ভবিষ্যৎ কেবলই সমৃদ্ধি ও বিজয়ের দিকে এগোবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কিউবার বিপ্লবী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা রামিরো ভালদেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভালদেসকে দেশটিতে ‘প্রজাতন্ত্রের বীর’ ও ‘বিপ্লবের সেনাপতি’ হিসেবে সম্মান করা হতো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি যেন বাবাকে হারানোর মতোই বেদনাদায়ক।” একই সঙ্গে তিনি বিপ্লবী স্লোগান উচ্চারণ করে বলেন, “বিজয় না আসা পর্যন্ত—সবসময়, কমান্ডার!” ১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া রামিরো ভালদেস খুব অল্প বয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন শাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন। ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক মনকাডা ব্যারাক হামলায় তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, যা কিউবান বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে মেক্সিকোতে নির্বাসনে যাওয়ার পর ১৯৫৬ সালে ‘গ্রানমা’ নামের একটি ইয়টে করে ৮২ জন বিপ্লবীর সঙ্গে কিউবায় ফিরে আসেন ভালদেস। কঠিন যাত্রাপথ ও সংঘর্ষের পর যে অল্পসংখ্যক যোদ্ধা বেঁচে ফিরেছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম—ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার পাশে। সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতমালায় চে গুয়েভারার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে তিনি বাতিস্তা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কিউবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বিপ্লবী আদর্শের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার মতো আমৃত্যু তিনি তার স্বাক্ষরধর্মী জলপাই-সবুজ সামরিক পোশাক ও দাড়ির স্টাইল বজায় রেখেছিলেন। বয়স ৮০ পার হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে সক্রিয় রাখতেন। ২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রো নতুন প্রজন্মের নেতা দিয়াজ-কানেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও, ভালদেস সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সর্বশেষ তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবায় তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। প্রায়ই তাকে সামরিক পোশাকে প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যেত, যেখানে তিনি জনগণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কঠিন সময়ে বিপ্লবী চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানাতেন। তার মৃত্যুতে কিউবার বিপ্লবী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিপ্লবের প্রতি অবিচল আনুগত্য—সব মিলিয়ে রামিরো ভালদেস কিউবার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত জ্বালানি তেল নিষেধাজ্ঞা ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটে কিউবার রাজধানী হাভানা এখন কার্যত অন্ধকার ও নিস্তব্ধ এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। একসময় প্রাণচঞ্চল রাতের শহর হিসেবে পরিচিত এই নগরী আজ বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতিতে থমকে গেছে। আলোর অভাবে শহরের সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা। থিয়েটার, পানশালা ও ক্যাফেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বা দরজা-জানালায় পর্দা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পর্যটকদের বিনোদন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা রাস্তার শিল্পী ও কর্মজীবী মানুষের আয় প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে কিউবার ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সরবরাহে বাধাই এই অচলাবস্থার মূল কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য রেশন কমে যাওয়া, পানি ও ওষুধের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ ভেনেজুয়েলা। তবে গত জানুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে কিউবায় তেল সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও জাহাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রাখা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং কিউবার নেতা রাউল কাস্ত্রো–এর মধ্যে হওয়া চুক্তির পর দেশটিতে পর্যটন খাতে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেই সময় হোটেল ব্যবসা, নতুন গাড়ি আমদানি এবং বিনোদন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পর্যটন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটক এসেছে মাত্র ৭৭ হাজার ৬০০ জন, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল প্রায় দ্বিগুণ। জ্বালানি সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা যেমন এয়ার ফ্রান্স, এয়ার কানাডা ও আইবেরিয়া হাভানায় তাদের ফ্লাইট বন্ধ করেছে।
কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড শনিবার পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে, ফলে দেশের তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিল। এ পরিস্থিতি চলতি মার্চ মাসে ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে কিউবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর কারণ উল্লেখ করেনি। পরে জানা যায়, কামাগুয়ে প্রদেশের নুয়েভিতাস তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র-এর একটি উৎপাদন ইউনিট আকস্মিকভাবে বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটে। এরপর গ্রিডের অন্যান্য মেশিনেও ধাপে ধাপে গোলযোগ দেখা দেয়। সরকারি কর্তৃপক্ষ ‘মাইক্রো-আইল্যান্ড’ জেনারেটর ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল এবং পানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ-সংকট জনজীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্ম, রান্না-বান্না ও খাবারের সংরক্ষণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোও কিছু অস্ত্রোপচার বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, তিন মাস ধরে দেশটি বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোনো তেল পায়নি। কিউবা তার অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। সরকার এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ-কে দায়ী করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তনও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে, কারণ দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই বছরে কিউবার পুরোনো গ্রিড ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।