- প্রচ্ছদ
- Topic
#কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের দক্ষতা ও কাজের জায়গা দখল করে নেবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং। তাঁর মতে, এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে না দেখে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। বিশেষ করে জার্মানির মতো শিল্পনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এআই বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। জার্মানির গাড়ি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও ভারী শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হুয়াং। তাঁর বক্তব্য, কেবল ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি, উৎপাদনব্যবস্থা ও শিল্পকারখানার সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় ঘটাতে হবে। এতে উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে, জটিল কাজ সহজ হতে পারে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। হুয়াংয়ের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডিজিটাল প্রযুক্তি বাস্তব জগতের কাজকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইলেকট্রন কখনো পরমাণুর জায়গা নেবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কম্পিউটার ও সফটওয়্যারভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নতি হলেও বাস্তব পণ্য তৈরি, যন্ত্র পরিচালনা এবং শিল্প উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাবে না। বরং এআইয়ের সহায়তায় এসব কাজ আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রোবটিকস, স্মার্ট কারখানা, গাড়ি নির্মাণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এআইয়ের সঙ্গে বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও কাজের পরিবেশকে যুক্ত করার এই ধারণাকে প্রযুক্তি খাতে ‘ফিজিক্যাল এআই’ বলা হয়। এর মাধ্যমে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি পরিবেশ বুঝে কাজ করতে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। হুয়াংয়ের মতে, জার্মানির শিল্পখাতের বড় শক্তি হলো দেশটির দীর্ঘদিনের প্রকৌশল দক্ষতা, উৎপাদন অভিজ্ঞতা এবং শিল্পকারখানার বিপুল তথ্যভান্ডার। এসব সম্পদ এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিক করা এবং সীমিত সম্পদ আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। জার্মানি বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর রাশিয়ার তুলনামূলক সস্তা গ্যাসের সরবরাহ হারানোও দেশটির শিল্পের ব্যয় বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপের কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ডেটা সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি সার্ভারে সংরক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে হুয়াংয়ের পরামর্শ হলো, উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের প্রকৌশল জ্ঞান, স্থানীয় দক্ষতা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, এআইকে মানুষের দক্ষতার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না। বরং মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সক্ষমতাকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারলেই শিল্পের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হতে পারে। জার্মানির শিল্পখাতের জন্য এআই তাই শুধু নতুন প্রযুক্তি নয়, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতার নাম বদলে দিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগে ‘প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে পরিচিত করার জন্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পরিবর্তন এলো। ১৩ অক্টোবর প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম ঘোষণা করেন মেলানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়ন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেলানিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগের বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাটি শিশুদের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমেরিকার পরবর্তী যুগান্তকারী ধারণাটি ইতিমধ্যে কোনো না কোনো শ্রেণিকক্ষে রয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে মেলানিয়ার সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন বদলাচ্ছে এআইয়ের নাম ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত নাম পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে আইন যতটা অনুমতি দেয়, ততটা সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কৃত্রিম বা অবাস্তব বলে মনে করাতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রযুক্তির সক্ষমতা বোঝাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত। তবে নির্বাহী আদেশটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই পরিভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করতেই হবে, এমন কোনো নির্দেশ নেই। ট্রাম্প এর আগে প্রচলিত ‘এআই’ শব্দ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে, নতুন পরিভাষার পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারকারীরা তাঁর বিরোধীদের তালিকায় পড়তে পারেন—এমন হুঁশিয়ারিও ছিল। এই মন্তব্যের পর প্রযুক্তি খাতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সবাই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নাম গ্রহণ করেননি। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি প্রযুক্তির একটি আরও উন্নত বা বিশেষ পর্যায়ের ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই বর্তমানে প্রচলিত সব ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এ নাম ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচিত প্রযুক্তির নাম বদলানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে নতুন স্বীকৃতির সুযোগ ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন একটি স্বীকৃতির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিয়ে স্কুলগুলো ‘ফার্স্ট লেডি সিল অব এসআই রেডিনেস’ অর্জনের সুযোগ পাবে। এই স্বীকৃতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, তা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুল, স্থানীয় সমাজ ও বৃহত্তর পরিসরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প তৈরি করতে পারবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষায় মেলানিয়ার গুরুত্ব শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার মেলানিয়া ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি পালক পরিবারের শিশুদের সহায়তা এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গত মাসে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন মেলানিয়া। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন, তা দেখেন তিনি। এ সময় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। মেলানিয়া বলেন, শিশুদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অংশ, তাই তাদের কী কী সুযোগ রয়েছে, তা শেখানো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ফার্স্ট লেডি। এদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ট্রাম্পের নতুন পরিভাষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আর এআই নয়, এসআই। এটি আরও ভালো।’ তাঁর এক অনুসারী নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্মতিসূচক জবাব দেন। সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তন শুধু একটি কর্মসূচির নতুন পরিচয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম ও পরিচিতি বদলানোর বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গেও এটি যুক্ত। তবে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলগুলো নতুন কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য এবং নিবন্ধনের নির্দেশনা দেখতে পারবে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হ ত্যা র ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ হ ত্যা কাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে আ ক্র ম ণ ও অক্ষম করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তার ল্যাপটপের অনুসন্ধান ইতিহাস পরীক্ষা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কে আর পুরম এলাকার সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে। নি হ তরা হলেন কেনেথের লিভ ইন পার্টনার শ্বেতা সোমাসুন্দরের বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া। তিনজনই ধারালো অ স্ত্রের আঘাতে নি হ ত হন। মামলায় কেনেথ ও শ্বেতা দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বেঙ্গালুরু পুলিশ আদালতে ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনেথের ল্যাপটপে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অনুসন্ধানের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করে কাউকে প্রা ণ ঘা তীভাবে আ ক্র ম ণ করা, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন করা, একাধিক ব্যক্তিকে অক্ষম করা এবং হা ম লার পরিস্থিতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ইতিহাসে ব্যবহৃত প্রা ণ ঘা তী অ স্ত্র সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী জানিয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার সময় কেনেথের ল্যাপটপে থাকা গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রশ্নগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা তাই এখন পর্যন্ত মূলত তার করা অনুসন্ধানগুলোকে ডিজিটাল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর আগে জুলাই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কেনেথ কয়েক মাস ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ ত্যা কাণ্ড এবং পরে প্রমাণ গোপন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে র ক্তের দাগ পরিষ্কার করা যায়, ম র দে হ সরানো বা গোপন করা যায় এবং পরিকল্পিত ক্লাউড কিচেনের জন্য তৈরি একটি চুল্লি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এমন বিষয়ও তার অনুসন্ধানে ছিল বলে তখন দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা। মামলার সাম্প্রতিক চার্জশিটে আর্থিক বিরোধকেও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতা এক বছরের মধ্যে কেনেথের জন্য মোট প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসার জন্য ৩০ লাখ রুপির ঋণ, দুটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় একটি ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর পরই তার পরিবার বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়টি জানতে পারে। চার্জশিট অনুযায়ী, এ নিয়ে শ্বেতার বাবা-মা ও কেনেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সোমাসুন্দর কেনেথের কাছে অর্থের ব্যবহার এবং ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ২২ জুন রাতে সেই বিরোধের পর শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়ার ওপর হা ম লা চালান কেনেথ। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় সোমাসুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যদের কাছে ভেতরে তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হা ম লার কথা জানান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃ ত্যু হয়। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াকেও একাধিক ধারালো অ স্ত্রের আঘাতসহ পাওয়া যায় এবং তারা মা রা যান। আদালতে রেকর্ড করা শ্বেতার বক্তব্যও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে তার বাবা-মা ও বোনকে আ ক্র ম ণের অভিযোগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেনেথ ও শ্বেতাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়ার মিশ্রণ থাকা একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সাইদুলু আদাভাত জানিয়েছেন, বোতলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাপটপে পাওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের এই আলামতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে। ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জুন পুদুচেরি থেকে শ্বেতাকে গ্রে প্তা র করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যে কেনেথকেও গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ করা হয়। এই মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারীরা এখনো বলেননি যে কোনো এআই ব্যবস্থা হ ত্যা কাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বা অ প রা ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি অ প রা ধের আগে কী ধরনের তথ্য খুঁজেছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানগুলো পরিকল্পিত হ ত্যা র অভিযোগের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত। বেঙ্গালুরু পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটের ভিত্তিতে এখন আদালতেই নির্ধারিত হবে ডিজিটাল অনুসন্ধান, আর্থিক বিরোধ, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।
নিজের বুদ্ধিমত্তার মান বা আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার সময় নিজের চাচা ও এমআইটির সাবেক অধ্যাপক জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও তাঁর এই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, অল্টম্যানকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিমান মনে করেন। এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উচ্চ আইকিউয়ের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর নিজের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ।” তবে নিজের আইকিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্কোর তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর চাচা জন জি. ট্রাম্পের কথা বলেন। তাঁর দাবি, জন ট্রাম্প ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নিজেও এসব বিষয় বুঝতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি বংশগত বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন। জন ট্রাম্প অবশ্য নিজেই ছিলেন একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী। এমআইটির তথ্য অনুযায়ী, জন জি. ট্রাম্প ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক এবং তাঁর নাম ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স পাওয়া এমআইটির বিজ্ঞানীদের তালিকায় রয়েছে। ১৯৮৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের মেধা, শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য দিয়ে অন্য একজনের আইকিউ নির্ধারণ করা যায় না। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একটি জটিল বৈশিষ্ট্য, যার ওপর জেনেটিক ও পরিবেশগত—দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আইকিউ পরীক্ষাও বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একমাত্র পদ্ধতি নয়। মেডলাইনপ্লাস বলছে, বিভিন্ন আইকিউ পরীক্ষা নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এগুলো একজন মানুষের সব ধরনের প্রতিভা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পুরোপুরি তুলে ধরতে নাও পারে। ফলে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বেশি আইকিউ’ থাকার দাবি আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোর বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়া এই দাবিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই প্রযুক্তি কোনো এলাকায় গ্রাহকরা একটি খাবারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্টের জন্য দামের সুপারিশ দিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডসের এই প্রাইসিং ইঞ্জিন প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্ট ও মেনু আইটেমের জন্য একটি ‘সেরা’ বা উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ, স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বী রেস্টুরেন্টের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টেও আলাদা হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, একটি ম্যাকডোনাল্ডসের অ্যাপে বিগ ম্যাকের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬৯ ডলার। মাত্র দুই মাইল দূরের আরেকটি রেস্টুরেন্টে একই বার্গারের দাম ছিল ৬ দশমিক ৮৯ ডলার। তবে ওই নির্দিষ্ট দামের পার্থ্যকটি এআইয়ের সুপারিশের কারণেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, এআই কোনো খাবারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে না। প্রাইসিং টুল মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সুপারিশ দেয় এবং শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। তবে রয়টার্সকে পাঁচজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জানিয়েছেন, তারা এসব এআইভিত্তিক প্রাইসিং টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির চাপ অনুভব করেছেন। কোম্পানির নথিতে এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে সুপারিশ করা দামের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের প্রকৃত দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রাইসিং পোর্টালের আইনি শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে দামের বিষয়ে সমন্বয় হলে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইনের বিষয় সামনে আসতে পারে। এদিকে বিগ ম্যাকের দাম ১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠার একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কানেকটিকাটের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে প্রাইসিং টুল তার রেস্টুরেন্টে বিগ ম্যাক মিলের দাম প্রায় ১৮ ডলার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ডস ওই মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু দাম বাড়ানো নয়। বরং মূল্যস্ফীতির সময়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামের খাবার ও অফার চালুর বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা শ্রম, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক এসব দামের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এআইভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টে কেন এতটা আলাদা হবে? ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতেই রয়েছে।
ত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার ভয়াবহ বি প র্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেছেন, এআই এতটাই শক্তিশালী যে এটি এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে শতকোটি মানুষের মৃ ত্যু হয়। গেটসের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস বা প্রা ণ হা নির হিসাব নয়। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে সংখ্যাটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষ তি কর উদ্দেশ্যের মানুষের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা। আগস্টে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় গেটস এআই দিয়ে সাইবার হা ম লা, প্র তা র ণা ও জী বা ণু অ স্ত্র তৈরির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তিটি দ্রুত উন্নত হতে থাকায় এর ক্ষ তি কর ব্যবহার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে এআইয়ের সুফলের সম্ভাবনাও দেখছেন গেটস। তাঁর মতে, যথাযথ সুরক্ষা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তাকে ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগকেও তিনি আক্রমণ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ধারাবাহিক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা এআই পৃথিবী ধ্বংস করবে বলে সতর্ক করছেন এবং ডেটা সেন্টারকে নিজেদের এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলছেন, তারা অতীতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাদের বক্তব্যকে ‘হোক্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, একই ধরনের লোকজন এখন নতুন একটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই না করে এটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীন লাভবান হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো গার্ডরেল বা অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’। ট্রাম্পের এই অবস্থান এসেছে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সতর্কবার্তার পর। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুধু মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকিই নয়, চাকরি, গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও স্থানীয় প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বিপরীতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না প্রযুক্তি খাতের সবাই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার এবং দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে শিল্পখাতের ভেতর থেকেই সতর্কতা বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও এআই নীতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে এবং এতে চীন সুবিধা পেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনে এখন মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে—এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনা হবে। সোর্স: রয়টার্স ও ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়ান জেনা উইলসআউনের এআইবিরোধী নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনে। স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড Desigual-এর ‘Born to Disobey’ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মাস্কের তৈরি প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। একই সময়ে মাস্ককে নিয়ে তার সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। Desigual-এর প্রচারণায় উইলসনকে একটি হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। রোবটটিকে গলফের টি হিসেবে ব্যবহার করা, ঘাস কাটানো, পোষা প্রাণীর মতো বেঁধে রাখা এবং বিছানায় নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মেঝেতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। প্রচারণার বার্তা হিসেবে তিনি বলেন, কিছু জিনিস ঠিক করার জন্য তৈরি নয়। মাস্কের সঙ্গে উইলসনের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০২০ সালে। তখন ১৬ বছর বয়সে তিনি জেন্ডার ট্রানজিশন শুরু করেন। দুই বছর পর নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করে তিনি জানান, কোনোভাবেই আর মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে চান না। এদিকে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের সম্পর্কও উঠে এসেছে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘Musk’-এ। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এতে মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারসহ তার জীবন ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ার, যিনি মাস্কের এক সন্তানের মা এবং বর্তমানে সন্তানের কাস্টডি নিয়ে তার সঙ্গে আইনি বিরোধে রয়েছেন, দাবি করেছেন মাস্কের টিম তাকে তথ্যচিত্রে অংশ না নেওয়ার বিনিময়ে ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, মাস্ক একবার তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আগে তার ‘সন্তানদের একটি বিশাল বাহিনী’ প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাস্ক তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছেন। এসব বক্তব্য অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ ও মতামত হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে তথ্যচিত্রে অংশ নিতে মাস্ক নিজে রাজি হননি। তিনি পরিচালক গিবনির কাজকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছেন। গিবনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি মাস্কের প্রতি এক ধরনের প্রশংসাবোধ থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তথ্য অনুসরণ করতে গিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। উইলসনও এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সবকিছুর জন্য এআই ব্যবহার করলে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনেও মূলত প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে এমনই একটি বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। গিবনির ‘Musk’ তথ্যচিত্রে মাস্কের ব্যবসায়িক উত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ছবিটি অক্টোবর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
টেক্সাসের ডেন্টনে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস (UNT) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স নিয়ে নতুন একটি কলেজ চালু করেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি অনুরাধা ও বিকাশ সিনহার ২ কোটি ডলারের অনুদানের পর নতুন এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের বিষয়টি জানায়। নতুন কলেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অনুরাধা অ্যান্ড বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স’। এআই, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাইবারসিকিউরিটি, হেলথ ইনফরমেটিক্স ও লার্নিং টেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে এটি কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ২ কোটি ডলারের এই অনুদানে ছয়টি স্থায়ী এন্ডাওমেন্ট গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, অধ্যাপকদের জন্য এন্ডাওড পদ, কলেজের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও ইনকিউবেশন, অ্যাডভান্সড রিসার্চ এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য অর্থায়ন করা হবে। নতুন কলেজে দুটি একাডেমিক বিভাগ থাকবে। একটি হবে অ্যাপ্লাইড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স এবং অন্যটি ইনফরমেশন অ্যান্ড লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনস। পাশাপাশি থাকবে অ্যাপ্লাইড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স ইনস্টিটিউট, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে এআই ও ডাটা অ্যানালিটিক্স নিয়ে যৌথ গবেষণা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার বলেন, এআই কর্মক্ষেত্র, গবেষণা ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। নতুন কলেজটি পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লুক নর্থ: ইউএনটি ২০৩০’ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিকাশ সিনহা বর্তমানে ব্রডকমের মেইনফ্রেম সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৩ সালে UNT থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ও তার স্ত্রী অনুরাধা ভারতে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তারা UNT-তে ডাটা সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন এবং ২০২৫ সালে সাইনা ইনোভেশন ল্যাব ফর ডাটা সায়েন্স প্রতিষ্ঠায়ও অর্থ দেন। UNT জানিয়েছে, নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এআই ও ডাটা-নির্ভর প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উত্তর টেক্সাসের পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হয়ে একাডেমিক প্রবন্ধ ও অ্যাসাইনমেন্ট লিখে জীবিকা চালাতেন আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ। কিন্তু ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সেই শিল্প প্রায় ভেঙে পড়েছে। একসময় প্রতিটি প্রবন্ধের জন্য ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া লেখকদের অনেকেই এখন আগের মতো কাজ বা আয় খুঁজে পাচ্ছেন না। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নাইরোবির এই শিল্পের উত্থান ও পতনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পটির শীর্ষ সময়ে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ বিদেশি শিক্ষার্থীদের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট লিখতেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরাই এসব সেবার বড় গ্রাহক ছিলেন। এই শিল্পে কাজ করা লেখকদের একজন তেরেসিওস বুন্ডি। ২০১১ সালে নাইরোবিতে আসার পর তিনি অনলাইনে একাডেমিক লেখা তৈরির কাজ শুরু করেন। পরবর্তী ১২ বছরে তিনি ২ হাজার ৫০০টির বেশি প্রবন্ধ লেখেন। প্রতিটি লেখার জন্য তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত নিতেন। বুন্ডির মতো অনেক শিক্ষিত তরুণের জন্য এই কাজ ছিল স্থানীয় চাকরির তুলনায় বেশি আয়ের সুযোগ। কিন্তু ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শিক্ষার্থীরা অর্থ খরচ করে লেখক নিয়োগের পরিবর্তে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে নিজেরাই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে শুরু করেন। ফলে লেখার অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি পারিশ্রমিকও দ্রুত কমতে থাকে। শিল্পটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন অন্য ধরনের অনলাইন কাজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ এআই দিয়ে তৈরি লেখা সম্পাদনা করছেন, কেউ ডাটা লেবেলিং বা কনটেন্ট মডারেশনের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এসব কাজেও আগের মতো স্থিতিশীল আয় পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নাইরোবির এই ঘটনা এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে যেসব কাজের মূল ভিত্তি সাধারণ লেখা, গবেষণা ও অনলাইনে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট তৈরি, সেসব পেশায় এআইয়ের প্রভাব কত দ্রুত পড়তে পারে, তা এই শিল্পের পতন দেখিয়ে দিয়েছে। একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট লিখে যে শিল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল, চ্যাটজিপটির আবির্ভাবের পর সেই বাজারই এখন প্রায় অদৃশ্য। ফলে এআইয়ের কারণে শুধু প্রযুক্তিখাত নয়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও আউটসোর্সিং কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এমন পর্যায়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে - এমন আশঙ্কা জানিয়ে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কক্সন আগে অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক - দুই প্রতিষ্ঠানেই এআই মডেলের প্রশিক্ষণ বা প্রি-ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছেন। অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ২০২৩ সাল থেকে অপেনএআইয়ের প্রযুক্তিগত কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কক্সন অভিযোগ করেন, অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক কেউই যথেষ্ট দায়িত্বশীলভাবে এগোচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির প্রতিযোগিতায় এমনভাবে ছুটছে, যা শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কক্সনের মতে, এআই নিয়ে কাজ করা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন, আগামী দশকের মধ্যেই এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এই আশঙ্কা কোনো প্রচারণার কৌশল নয় - বরং এআই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিকের ভেতর থেকেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইভান হুবিঙ্গার, যিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের নেতৃত্ব দেন। কক্সনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি নিজেও মনে করেন এআই সব মানুষকে হত্যা করার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আগামী দশকে এমন ঘটনার সম্ভাবনা তাঁর হিসাবে ১০ শতাংশের বেশি। তবে হুবিঙ্গার একই সঙ্গে বলেন, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। তাঁর উদ্বেগ মূলত আরও শক্তিশালী এআই বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রযুক্তিগত সমাধান এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। কক্সনের এই পদত্যাগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলের পরীক্ষামূলক পরিবেশের বাইরে যাওয়ার এবং অনুমতি ছাড়া অন্য সিস্টেমে প্রবেশের ঘটনাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কক্সন বলেছেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিছু সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে কক্সনের বক্তব্য এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবেই - এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। এটি একজন এআই গবেষকের ব্যক্তিগত ঝুঁকি-আশঙ্কা। তাঁর পদত্যাগ এবং অ্যানথ্রপিকের আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষকের মন্তব্য মূলত অত্যন্ত শক্তিশালী ভবিষ্যৎ এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।
মাসে ২০ ডলারেরও কম খরচে তিন শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্কের কুইন্সভিত্তিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশু এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারবে। গত ৩০ আগস্ট কুইন্সের জামাইকায় আয়োজিত ‘এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টিউটরমিগো এআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সেবা তুলে ধরে। সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিশুদের সরাসরি এআই ব্যবহারের একটি লাইভ প্রদর্শনীও করা হয়। সেখানে শিশুরা টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিভিন্ন বিষয় বোঝা, কুইজ দেওয়া এবং অনুশীলনের পদ্ধতি দেখায়। এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার এই পদ্ধতি উপস্থিতদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, টিউটরমিগো এআই শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে পারে। এতে প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড রয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে। বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯ দশমিক ৯৯ ডলার। এই প্যাকেজে টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই—দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একটি সাবস্ক্রিপশনে তিনজন শিশু এক বছর পর্যন্ত শেখার সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়রাও টিউটরমিগো ব্যবহার করতে পারবেন। আইইএলটিএস, টোফেল, জিআরই ও জিম্যাটসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও এটি ব্যবহার করা যাবে। আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের আরেকটি পণ্য চ্যাটারমেট এআই। এটি একাধিক এআই মডেল একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ ও বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া সম্মেলনে এসব পণ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক পণ্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘ফোর্জ আইডিই’ নামে একটি নতুন পণ্যও রয়েছে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, শিক্ষা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে এআইকে আরও সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহারিক সম্ভাবনা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।