এআই প্রম্পটসহ সংবাদপত্র প্রকাশ, ট্রলের শিকার টাইমস অব বাংলাদেশ
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে।
ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন।
২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে।
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন শুরু হয়েছে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের আওতায় ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা ফাফসা ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ও পড়াশোনার অন্যান্য খরচ মেটাতে সরকারি অনুদান, স্টুডেন্ট লোন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষের জন্য এই আবেদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। ফাফসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ মেটাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অন্যতম প্রধান আবেদনব্যবস্থা। শুধু নতুন শিক্ষার্থীরাই নন, বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের আয় কম হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাফসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল পেল গ্র্যান্ট, ফেডারেল ওয়ার্ক স্টাডি এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন। পেল গ্র্যান্ট সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে স্টুডেন্ট লোন নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। ওয়ার্ক স্টাডি কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত চাকরির মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পেতে পারেন। নতুন শিক্ষাবর্ষের ফাফসা আবেদন করতে শিক্ষার্থী ও প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য দিতে হবে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্নের তথ্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নির্দিষ্ট সম্পদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ চাওয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আইআরএসের তথ্য সরাসরি ফাফসা আবেদনব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়। এতে তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে। যেসব শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হন, তাঁদের আবেদনে সাধারণত বাবা-মায়ের তথ্যও প্রয়োজন হয়। তবে বাবা-মায়ের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁরা স্টুডেন্টএইড অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজের ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। পরিবারের কোনো সদস্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেই শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই আবেদন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান আগামী বছর কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের এখন থেকেই আর্থিক সহায়তার বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। মার্কিন নাগরিক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন নন সিটিজেন শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী শিক্ষার্থীরাও সাধারণত যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য নন। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য সুযোগগুলো যাচাই করতে হবে। ফাফসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সময়সীমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত শেষ সময়ের পাশাপাশি প্রতিটি স্টেট এবং কলেজের নিজস্ব ডেডলাইন থাকতে পারে। অনেক কলেজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়। কিছু স্টেট গ্র্যান্ট এবং কলেজভিত্তিক সহায়তার অর্থও সীমিত থাকে। তাই আবেদন করার সুযোগ থাকলেও দেরি করলে নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ফাফসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করে একটি ফাফসা সাবমিশন সামারি তৈরি করে। অধিকাংশ আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। আবেদনকারীর নির্বাচিত কলেজগুলোতেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারে। কোনো তথ্য ভুল হলে কিংবা নতুন কলেজ যুক্ত করার প্রয়োজন হলে আবেদন সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। ফাফসা আবেদন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা যায়। আবেদন করতে শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। সেখানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি অনুযায়ী বাবা-মা অথবা স্বামী-স্ত্রীর তথ্যও লাগতে পারে। আবেদন সম্পন্ন করার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয় গত কয়েক বছরে কমেছে, চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটেছে কিংবা আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের বিষয়টি কলেজের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসকে জানানো উচিত। ফাফসায় আগের বছরের ট্যাক্স তথ্য ব্যবহার করা হলেও বর্তমান আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কলেজ আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার ব্যয় মেটাতে ফাফসা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পথ। তবে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, পরিবারের আর্থিক তথ্য, কলেজের ডেডলাইন এবং সম্ভাব্য সহায়তার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শিক্ষা বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করা উচিত, যাতে কলেজ ও স্টেটভিত্তিক আর্থিক সহায়তার সুযোগ হাতছাড়া না হয়।
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, ইলহান ওমরের পক্ষে চিঠিতে সই করেননি দলের ৪০ আইনপ্রণেতা
পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন
ফ্লোরিডায় গাঙচিলকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ হারালেন দুই সন্তানের বাবা
নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল পথ পায়ে হেঁটে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছেছিলেন চান্টজ রিভেরা। দীর্ঘ ১৪৯ দিনের এই যাত্রায় নিজের সব জিনিসপত্র একটি শপিং কার্টে করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরপরই চুরির শিকার হন তিনি। সান ফ্রান্সিসকোর একটি ম্যাকডোনাল্ডস থেকে তাঁর ব্যাগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খোয়া যায়। সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ মে ব্রঙ্কস থেকে যাত্রা শুরু করেন রিভেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে ২৬ অক্টোবর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছান। পুরো পথ পাড়ি দিতে তাঁর সময় লাগে ১৪৯ দিন। যাত্রাপথে কখনো সড়কের পাশে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটিয়েছেন, কখনো অপরিচিত মানুষের আতিথেয়তা পেয়েছেন। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে প্রকাশ করায় তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পরদিন তিনি ফিলমোর স্ট্রিট ও গোল্ডেন গেট অ্যাভিনিউয়ের কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে যান। সেখানে তাঁর একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগটিতে বহনযোগ্য চার্জারের পাশাপাশি মেমোরি কার্ড ও ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ছিল। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হননি রিভেরা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অসুস্থ ও ক্লান্ত থাকায় জিনিসপত্র হারানোর বিষয়টি তখন তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। পরে বুঝতে পারেন, মেমোরি কার্ড ও ফ্ল্যাশ ড্রাইভে পুরো যাত্রার অনেক ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, ওই ভিডিওগুলো আর নতুন করে কেনা সম্ভব নয়। যাত্রাপথের অনেক অপ্রকাশিত দৃশ্যও সেখানে ছিল। তাই চার্জারের চেয়ে স্মৃতিগুলো হারানোই তাঁকে বেশি কষ্ট দিয়েছে। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে থাকাকালে উপহার পাওয়া এক জোড়া জুতাও হারান তিনি। শপিং কার্টটি কিছু সময়ের জন্য অরক্ষিত রেখে ফিরে এসে দেখেন, জুতাসহ কার্টটি আর সেখানে নেই। এ ঘটনায় নিজের অসতর্কতাকেও দায়ী করেছেন রিভেরা। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি তাঁর জন্য হোটেল বুক করার কথা জানালেও সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, কক্ষের জন্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় সব অভিজ্ঞতাই তাঁর জন্য খারাপ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোর টিমব্রি হোটেলের একজন ব্যবস্থাপক তাঁকে বিনা মূল্যে দুই রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেন। আরেক ব্যক্তি তাঁকে পিৎজা খাওয়ানোর পাশাপাশি শহরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা টুইন পিকস ঘুরিয়ে দেখান। দীর্ঘ যাত্রার পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রিভেরা। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই পদযাত্রার সময় রিভেরা ১১টি অঙ্গরাজ্য পাড়ি দেন। যাত্রা শুরুর আগে তিনি মাত্র ২৫০ ডলার সঙ্গে নিয়েছিলেন। পরে মানুষের সহযোগিতায় তাঁর তহবিলে ১৩ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যাত্রার ভিডিওও ব্যাপক সাড়া পায়। সান ফ্রান্সিসকোতে কয়েক দিন কাটিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এরপর বিমানে করে নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে ফিরে যাওয়ার কথা। সূত্র: সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ড, এনবিসি বে এরিয়া।
১৩ হাজার ডলারের পুরোনো টেসলাও এক চার্জে চলে ২২১ মাইল, অবাক নতুন মালিক!
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশের ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তাঁর আশঙ্কা, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার ফলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, শ্রমিকদের ওপর চাপ ও শোষণ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিগ্রহণের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। মামদানি লিখেছেন, ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়ার ফলে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য দাম বাড়বে, শ্রমিকদের শোষণ আরও কঠোর হবে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগেও এসব বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।’ অন্যদিকে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী টনি শু দাবি করেছেন, ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে গ্রাহকেরা কম দামে পণ্য পাবেন এবং সরবরাহের সময়ও কমবে। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করা পণ্য সরবরাহকারীদের আয়ের সুযোগ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মামদানির আপত্তির পেছনে নিউ ইয়র্কে ডোরড্যাশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একটি আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ও রয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর শহরটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) ডেলিভারি কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে তদন্তের পর ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারের একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়। এর মধ্যে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দেওয়ার কথা রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডেলিভারি কর্মী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আওতায় রয়েছেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের পণ্য কেনার সময়ই ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিউ ইয়র্ক সিটি এর আগে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। উবার ইটস ও ডোরড্যাশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এ নিয়ম কার্যকরের বিষয়ে নজরদারি করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ফলে নতুন অধিগ্রহণ চুক্তিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে মেয়র প্রশাসনের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল এ এ লেভিনও প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, বড় করপোরেশনগুলোর একীভূত হওয়ার প্রবণতা শ্রমিক ও ভোক্তাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অধিগ্রহণ চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় শহর কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি। ডোরড্যাশ ও ইনস্টাকার্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, চুক্তিটির আওতায় ইনস্টাকার্টের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫ ডলার। অধিগ্রহণের মোট শেয়ারমূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে ইনস্টাকার্টের শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র প্রয়োজন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) এবং ডোরড্যাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা