কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে কোমল পানীয়ের বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. শফিউদ্দিন (৬৫), মো. রাব্বি (২২), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শারুফ শেখ (২০) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বেড় কালোয়া মোড়ে এক ব্যক্তি কোমল পানীয় পান শেষে বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে তা আরেকজনের মাথায় লাগে। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটিয়ে দেন। তবে বিকেলে পূর্বের ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে অনেকেই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাম্পাসে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তাঁর নিজ কক্ষেই গলা কেটে হত্যা করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক কর্মচারী। ঘাতক কর্মচারীর নাম ফজলুর রহমান। শিক্ষিকাকে হত্যার পর ফজলুর নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা ও হামলাকারী কর্মচারীকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানের চিকিৎসা চলছে, তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। তবে এসব প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহ ছাড়া কেউ এ প্রস্তাবের কথা জানে না এবং একশ কোটি টাকা বা পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়বেন না। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আমির হামজা বলেন, পাঁচ বছরের দায়িত্বকালে যেন এক টাকাও অবৈধভাবে না বাড়ে, সে লক্ষ্যেই তিনি চলতে চান। এজন্য সব ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আত্মীয়তার পরিচয়, দলীয় বা বিরোধী পরিচয়ে কেউ তার নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জায়েজ পথ বাদ দিয়ে নাজায়েজ পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে বৈধ ও সঠিক পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি। অন্যায় ও হারাম কাজ পরিহার করে সহজ-সরল জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের চলার জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না। যারা অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে চলতে চান, তারা অন্য কোথাও গিয়ে তা করতে পারেন। কুষ্টিয়া ও এই আসনে সঠিক পথেই কাজ চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সভায় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কোনো অপশক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, "মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং দায় ওপরের মহলের দিকে ঠেলে দেন। আমি তাদের পরিষ্কার বলেছি, কুষ্টিয়ায় এখন ওপরওয়ালা কেউ নেই; কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা এখন আমি।" অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির হামজা আরও বলেন, "হাসপাতালের ভেতরে কিছু 'কালো হাত' সক্রিয় রয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি। যদি কেউ দুর্নীতির চেষ্টা করে বা অবৈধ সুবিধা চায়, তবে সরাসরি আমার কথা বলবেন। কুষ্টিয়ায় কার এত ক্ষমতা যে অন্যায় করবে, তা আমি দেখে নেব।" তিনি আরও জানান, সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৪-৫টি প্রতিষ্ঠানে তিনি সরজমিন পরিদর্শন করবেন। বিশেষ করে সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়ে তার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাক্তার শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র রমজান মাসের ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও নতুন বারতা দিলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, "আজকে অনেকের মাথায় টুপি দেখে মনে হচ্ছে তারা ইবাদত করছেন। আমরা চাই এই পবিত্র পরিবেশ যেন বছরের বাকি ১১ মাসও বজায় থাকে। শুধু রমজান এসেছে বলেই মাথায় টুপি তুলবেন না; আপনাদের এই সুন্দর চেহারা, সুরত এবং কর্ম আমরা সারা বছর দেখতে চাই।" শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণে মুফতি আমির হামজা বলেন, "নির্বাচনে পরিকল্পনা, ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেকানিজম যাই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।" এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। আপনারা যে তথ্যগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন, সেই কাজটাও যে এক ধরণের ইবাদত—তা আমাদের অনেকেই অনুধাবন করি না।" তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আগামীতে আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আপনারা স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে না পড়ে ন্যায়কে ন্যায় এবং অন্যায়কে অন্যায় বলার সৎ সাহস প্রদর্শন করবেন।" কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ (অব.) খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন। শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকতাকে ‘ইবাদত’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া এবং ধর্মীয় রীতিনীতি সারা বছর পালনের আহ্বান সচেতন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের বাইপাস এলাকায় কুষ্টিয়া স্টোর নামের একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সিএনজি চালকসহ চারজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সিএনজিটি বটতৈল কবুরহাট এলাকা থেকে ত্রিমোহনীর দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। পরে গুরুতর আহত আরও দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক আপসহীন ও তদারকিমূলক ভূমিকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের সংখ্যাগুরু সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম দেখা দিলে রাজপথ ও সংসদে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা সংসদের গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরে বলেন, "চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা বর্তমানে ৭৮ জন আছি, আর শেরপুরের ফলাফল বাকি আছে—সব মিলিয়ে ৭৯ জন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আছেন ২১১ জন। আমি এই পবিত্র মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা এই ৭৯ জন মিলে ১০০ ভাগ চেষ্টা করব ওই ২১১ জনকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি তাঁরা জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তবে আমরা তাঁদের শক্তভাবে চেপে ধরব—তা সে সংসদের ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক।" রাজনীতিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কাছে দল-মত বা ধর্ম-অধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। আমার নিজের দলের লোক অপরাধ করলেও যা বিচার হবে, অন্য দলের লোকের ক্ষেত্রেও তাই। চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করলে অসুবিধা নেই আর অন্য দল করলেই অপরাধ—এমন নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।" নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি কেবল আমাকে ভোট দেওয়া ১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষের এমপি নই; আমি এই আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের সবার প্রতিনিধি। আপনারা সবাই আমার আপন ভাই-বোনের মতো। আগামী পাঁচ বছর যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই।" মুফতি আমির হামজার এই জ্বালাময়ী বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই ‘ওয়াচডগ’ বা পাহারাদারের ভূমিকাকে নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের দুই নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া আনসার মিলন এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলকর্মী মো. হানিফ কবিরাজ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন–এর সিদ্ধান্তে মো. জাকারিয়া আনসার মিলনকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরদিকে মো. হানিফ কবিরাজকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় খাজানগর কবর হাট এলাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে হানিফ কবিরাজের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। নির্বাচনের মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মো. আমির হামজা তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আমির হামজা নিজ হাতে জাকির হোসেন সরকারকে মিষ্টিমুখ করান, যা উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুই নেতার এই কুশল বিনিময়ের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। সাক্ষাৎকালে দুই দলের নেতারাই কুষ্টিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। আমির হামজা বলেন, “নির্বাচন ছিল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যা এখন শেষ। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য কুষ্টিয়ার মানুষের কল্যাণ এবং আধুনিক জেলা হিসেবে একে গড়ে তোলা। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।” অন্যদিকে, বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার নবনির্বাচিত এমপিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে। কুষ্টিয়ার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা যেকোনো গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের এই ধারা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমির হামজা ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার পান ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৯ ভোট। পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজাউদ্দীন জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জামায়াত ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাউজিং ই-ব্লকের সাততলা ভবনের একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া নিঝুম, বয়স ২০ বছর। তিনি কলেজের পাশে ভাড়া থাকা একটি কক্ষে একাই থাকতেন। রোববার রাতের কোনো এক সময় পাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সামিয়ার মরদেহ দেখতে পান। বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, রাতের দিকে সামিয়ার বাবা মোবাইলে মেয়ের খোঁজ নেন। পরে পাশের কক্ষে থাকা এক সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজাখুঁজি করা হয়। দরজা খোলার চেষ্টা করা হলে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সামিয়া পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের কন্যা। পড়াশোনার কারণে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাছে থাকা ওই ভাড়া বাসায় কয়েক সপ্তাহ ধরে একাই থাকতেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম জানান, সামিয়া নিঝুম ছিলেন মেধাবী ও সতর্ক ছাত্রী। তার এমবিবিএস কোর্স এক বছর পর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে এবং পুলিশ বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।