১৭ বছর বয়সে দু’টি স্যুটকেস নিয়ে আমেরিকায় এসে প্রেস্টিজিয়াস কলেজে ভর্তি, স্বপ্ন জাতিসংঘে কাজ করার
মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা।
তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে।
প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।”
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।
বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি।
স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী।
অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। অভিযোগ, এসব তথ্য পরিবর্তনের ফলে পাঁচজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রার্থী কার্যত দাতা অঙ্গ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাইনন মেমোরিয়াল হারম্যান হেলথ সিস্টেমের টেক্সাস মেডিকেল সেন্টারে পেটের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের পরিচালক এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সার্জিক্যাল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার পর তিনি তাদের চিকিৎসা নথিতে এমন তথ্য দেন, যার কারণে সম্ভাব্য দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রোগী, তাদের পরিবার এবং চিকিৎসা দলের অন্য সদস্যরা এসব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন না। ফলে কয়েকজন রোগী কয়েক মাস পর্যন্ত দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগে পাঁচজন রোগীর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পরে মারা যান। অন্য দুজন মেমোরিয়াল হারম্যানের বাইরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পান। মামলায় বাইননের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৪ সালে মেমোরিয়াল হারম্যান তাদের ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। এদিকে বাইনন অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, রোগীরা তখন ট্রান্সপ্লান্টের জন্য অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিকিৎসার স্বার্থে নেওয়া। ২০২৬ সালের জুনে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ খারিজের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচার করা হবে। তবে বাইননের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ।
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব
আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!
ভালোবাসার মানুষটির জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। কিন্তু চার বছর পর স্ত্রী ডনেল বাতিস্তা ডিভোর্সের আবেদন করলে তাদের বিচ্ছেদের মামলা নেয় এক অস্বাভাবিক মোড়। স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি ফেরত চাওয়া, তা সম্ভব না হলে এর জন্য ১৫ লাখ ডলার দাবি করেন রিচার্ড। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের। রিচার্ড ও ডনেল ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন ডনেল এবং এর আগে তার দুটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফল হয়নি। এরপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত কিডনি ডোনার হতে পারেন রিচার্ড। ২০০১ সালের ১৮ জুন ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা মেডিকেল সেন্টারে নিজের একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করেন তিনি। সে সময় রিচার্ড জানিয়েছিলেন, তার প্রথম লক্ষ্য ছিল স্ত্রীর জীবন বাঁচানো। একই সঙ্গে তিনি আশা করেছিলেন, এই ঘটনা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের চার বছর পর, ২০০৫ সালের জুলাইয়ে ডিভোর্সের আবেদন করেন ডনেল। এরপর দীর্ঘ হতে থাকা ডিভোর্স প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০০৯ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রিচার্ড দাবি করেন, স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি তাকে ফেরত দিতে হবে। সেটি সম্ভব না হলে কিডনিটির মূল্য হিসেবে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। রিচার্ডের এই দাবি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে, একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ অন্য কাউকে দান করার পর সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই অঙ্গের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করতে পারেন কি না। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত জানায়, মানুষের অঙ্গ বা টিস্যুকে ডিভোর্সের সময় ভাগ করে নেওয়ার মতো বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কিডনিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণের দাবিও আইনি বাধার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অঙ্গ কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে স্বেচ্ছায় দান করা কিডনিকে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির মতো মূল্য নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সুযোগ নেই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও কিডনি ফেরত নেওয়ার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছিলেন। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে কার্যকরভাবে প্রতিস্থাপিত কিডনি শুধু দাতার ব্যক্তিগত দাবির কারণে অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রিচার্ডের বক্তব্য ছিল, স্ত্রী ডিভোর্সের আবেদন করলেও কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অনুশোচনা নেই। তবে বিচ্ছেদের সময় সেই কিডনির মূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশক পরও ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত ডিভোর্স বিরোধগুলোর একটি হিসেবে ফিরে আসে। ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কাউকে স্বেচ্ছায় দান করা একটি অঙ্গকে পরে সাধারণ সম্পত্তির মতো ফেরত চাওয়া বা তার দাম আদায় করা যায় না - বাতিস্তা দম্পতির আলোচিত মামলাটি সেই আইনি সীমারই একটি বিরল উদাহরণ।
নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে
গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই আইসের হাতে আটক মা
টিকটকে মামদানিকে ট্যাগ করে দেখালেন দুই গর্ত, কাজ শেষে ফিরে দেখলেন দুটিই মেরামত
যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সীমা বহাল রেখেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়ে আইসসহ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের শিথিল নীতির ভিত্তিতে অভিযান চালাতে পারবেন না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সব গির্জা, মসজিদ, মন্দির বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের অভিযান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে - বিষয়টি এমন নয়। আদালতের আদেশটি নির্দিষ্টভাবে মামলার বাদী আটটি উপাসনালয় ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের অভিযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার মতো দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা এটি নয়। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে কোয়েকার, শিখ এবং কো-অপারেটিভ ব্যাপটিস্ট ফেলোশিপ ধারার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তাদের যুক্তি ছিল, উপাসনালয়ে বা এর আশপাশে আইসের অভিযান চালানোর আশঙ্কা তৈরি হলে অভিবাসীরা ভয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আসা বন্ধ করতে পারেন। এতে শুধু অভিবাসীদের ধর্ম পালনের সুযোগ নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সেবা ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিতর্কটির সূত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একেবারে শুরুতে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলের একটি নীতি বাতিল করে। আগের নীতিতে গির্জা, স্কুলসহ বিভিন্ন ‘সুরক্ষিত এলাকা’য় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইস ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ ছিল। সেই সুরক্ষা প্রত্যাহারের পর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অভিবাসন অভিযান চালানোর সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন তখন যুক্তি দিয়েছিল, অপরাধীরা শুধু গির্জা বা স্কুলে প্রবেশ করে গ্রেপ্তার এড়াতে পারবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বলেছিলেন, মানুষ যাতে গ্রেপ্তার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ও গির্জায় লুকিয়ে থাকতে না পারে, নতুন নীতির মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হবে। আপিল আদালত এই বক্তব্যকেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা বাস্তব হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। মামলাটি প্রথমে মেরিল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে যায়। সেখানকার বিচারক থিওডোর চুয়াং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন। তার আদেশের ফলে মামলার বাদী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিবাসন অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সরকারকে আগের সুরক্ষামূলক নীতির কাছাকাছি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালতে পৌঁছায়। আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। মূল মতামত লিখেছেন সার্কিট বিচারক বারবারা মিলানো কিনান। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বিচারক পামেলা হ্যারিস এবং জি. স্টিভেন এজি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেঞ্চটিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান - উভয় দলের প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া বিচারক ছিলেন। আদালতের মূল বিবেচনায় এসেছে ১৯৯৩ সালের ‘রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট’। এই ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সরকারের কোনো পদক্ষেপ যদি ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর উল্লেখযোগ্য বোঝা তৈরি করে, তাহলে সরকারকে তার পদক্ষেপের পক্ষে কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আপিল আদালতের মতে, বাদী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই আইনের অধীনে তাদের দাবিতে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখিয়েছে। বিচারক কিনান বলেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ভবিষ্যতে উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছে। যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অভিবাসীদের স্বাগত জানায় এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করে, তাদের ক্ষেত্রে এমন অভিযানের হুমকি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে মানুষ উপাসনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, নতুন নীতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রার্থনা, উপাসনা বা অন্যান্য সেবা পরিচালনা করতে বাধা দেয় না। শুধু অভিবাসন অভিযান হওয়ার সম্ভাবনার কারণে মানুষ উপাসনালয়ে আসা বন্ধ করবে - এমন সম্পর্কও বাদীরা যথেষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেনি বলে দাবি করেছিল প্রশাসন। রায়ের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আইস উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। তবে কোনো বিপজ্জনক অপরাধী গ্রেপ্তার এড়াতে উপাসনালয়ে প্রবেশ করলে জননিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে সেখানে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি। অর্থাৎ আদালতের রায়ের পরও সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ করার অবস্থান নেয়নি। বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড রায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট স্কাই পেরিম্যানের বক্তব্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো শর্তসাপেক্ষ অধিকার নয় এবং মানুষ গির্জা, মিটিং হাউস, মন্দির বা অন্য কোনো উপাসনালয়ে একত্রিত হলেও সেই স্বাধীনতা তাদের সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কমিউনিটির জন্য এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রায়টির সীমা বুঝে নেওয়া। কোনো ব্যক্তি গির্জা, মসজিদ বা অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গেলেই তিনি আইসের গ্রেপ্তার থেকে স্বয়ংক্রিয় আইনি সুরক্ষা পাবেন - এই রায় এমন কোনো অধিকার তৈরি করেনি। বর্তমান আদেশ সরাসরি মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়কে সুরক্ষা দিচ্ছে এবং বৃহত্তর মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি। আপিল আদালত এই পর্যায়ে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে বাদীদের আলাদা দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও দেয়নি। আদালত মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আইনের ভিত্তিতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের নীতি শেষ পর্যন্ত আইনসঙ্গত কি না, সেই বৃহত্তর আইনি লড়াই এখনো চলবে। রায়টি তাই একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের জন্য একটি আইনি ধাক্কা, অন্যদিকে এর পরিধিও সীমিত। আপাতত আটটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগের সুরক্ষা বহাল থাকছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব উপাসনালয়ে আইসের অভিযান বন্ধ হয়নি। মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগোলে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতার সীমা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা
নিউইয়র্কে ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে ৫০ কোটি ডলার তুলতে চান মামদানি, ১৭ হাজার মালিককে নোটিশ