- প্রচ্ছদ
- Topic
খোমেনি
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের কোনো নেতা যদি ইসরায়েলকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তবে তাঁর পরিণতিও একই হবে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে কাটজ দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে খামেনিকে ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তিনি বলেন, “যে ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সে-ই ধ্বংস হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইরানের কোনো নেতা যদি একই পথে এগোন, তবে তাঁকেও একইভাবে মোকাবিলা করা হবে।” ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের কৌশলগত সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে এককভাবেও ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। অন্যদিকে, তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, দেশটির নেতৃত্ব, সামরিক স্থাপনা বা ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তেহরান দাবি করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিরা। শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে অনুষ্ঠিত বিশাল এই শোক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি আন্দোলনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও তেহরান তাদের মিত্র এই শক্তিগুলোকে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। শনিবারের এই শোক অনুষ্ঠানে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ ফনেইশ। অন্যদিকে হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হামাসের অপর শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম। এছাড়াও ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নেতা জিয়াদ আল-নাখালা এবং হুথি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ধাইফ আল্লাহ আল-শামিও খামেনির জানাজায় অংশ নেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তেহরানেই এক হামলায় নিহত হয়েছিলেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া। সেই ঘটনার পর খামেনির জানাজায় হামাস নেতাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ তেহরান থেকে প্রথমে ইরানের কুম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালা প্রদক্ষিণ শেষে তাকে ইরানের মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে। খামেনির মৃত্যুতে আগামী কয়েকদিন ধরে পুরো ইরানজুড়ে বড় ধরনের শোক মিছিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক আকস্মিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলার মাধ্যমে খামেনিকে হত্যা করা হয়। এই হাই-প্রোফাইল গুপ্তহত্যার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কড়া প্রহরার মধ্যে খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকেই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শত্রুপক্ষের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সামরিক প্রধান আমির হাতামি। শোকগ্রস্ত, ক্ষুব্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ জনতার উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই জঘন্য অপরাধের কারণে ইরানের সংকল্প আরও দৃঢ় হয়েছে এবং তারা তাদের নেতার রক্তের বদলা নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মেজর জেনারেল হাতামির এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি নিছক কোনো আবেগতাড়িত হুমকি নয়, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ইরানের সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। লাখো শোকার্ত জনতার এই বিশাল জমায়েত থেকে দেওয়া এমন কঠোর বার্তা প্রমাণ করে যে, খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের সামরিক কাঠামো এবং প্রতিশোধস্পৃহা অটুট রয়েছে, যা অচিরেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও গভীর ও ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার দিকে টেনে নিতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল আজ ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি দেশটির বিভিন্ন শোকানুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ডা. এস. এম. খালিদুজ্জামান, মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরকালে প্রতিনিধি দলটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা, দাফন এবং শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবে। পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতেও তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে। ইরানের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে। পরে কোমে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। েবৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে দুই দফায় ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে ইরানের বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) তাকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির বিভিন্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ জন বন্দির সাজা হ্রাস ও মওকুফের একটি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর সর্বোচ্চ নেতার এই যুগান্তকারী ক্ষমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সমকালীন ইরানের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির সাজা মওকুফ করে এমন সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হলো। বিচার বিভাগের মুখপাত্র এই ক্ষমার পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জানান, যেসব বন্দির সাজা মওকুফ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বাদী বা অভিযোগকারী ছিল না। একইসঙ্গে অতীতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো গুরুতর অপরাধের ইতিহাসও তাদের নেই। মূলত কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় এই আসামিদের উন্নত আচরণ, অতীত অপরাধের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ এবং নিজেদের সংশোধনের ইতিবাচক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেই তাদের এই রাজক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। ইরানের বিচারিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশ বা প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা সম্পূর্ণ মওকুফ বা হ্রাস করার বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে দেশটির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এই সাধারণ ক্ষমা নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম, সুসংগঠিত বা সশস্ত্র মাদক চোরাচালান, সশস্ত্র ডাকাতি, অস্ত্র পাচার, অপহরণ, ঘুষ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের মতো জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত আসামিরা কোনোভাবেই এই ক্ষমার আওতায় আসেন না।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার সময়সূচি পরিবর্তন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত সময়ের পরিবর্তে জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে পারে। তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) জানান, খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও শোকানুষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে ইরান সরকার ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের শুরুতেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহররমের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে আলিরেজা জাকানি বলেন, শোক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তেহরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জানাজা অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে তারা আশা করছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমের কাছে একটি বিশেষ কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা কর্তৃক প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন যে, হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বর্তমান সময়ে এই আন্দোলনের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করছে। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর নেতারা "ইসলামি বিশ্বের চরম শত্রুদের" বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি, অটল মনোবল এবং ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর এই অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে অভিহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’ (ISCI)-এর প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদির কাছে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনী। ইরানের বার্তা সংস্থা জামারান নিউজ জানিয়েছে, ইরাকে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক বিশেষ বৈঠকে শেখ হামুদির হাতে এই বার্তাটি তুলে দেন। বার্তার মূল বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা না হলেও, বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের অনড় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি হামুদির ‘অকপট ও সাহসী’ অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, গত মাসে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনী জনসমক্ষে আসছেন না। সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রথম দিকে তিনি পায়ে ফ্র্যাকচার ও মুখে আঘাতসহ সামান্য আহত হয়েছিলেন। এই বিশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
চিরশত্রু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ২৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে নীল নকশা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তৈরি করেছিল, তা আজ এক নতুন মোড় নিল। চরম উত্তেজনার এই আবহে তেহরান এবার প্রকাশ করেছে তাদের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জীবনের শেষ মুহূর্তের এক সংবেদনশীল ছবি। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন' এবং 'আল মায়াদিন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা। ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছেন তিনি। যা প্রমাণ করে, আমৃত্যু তিনি নিজ কর্তব্যে অবিচল ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপ। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে, নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল-১২' জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি উদ্ধারকারীরা প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। নেতৃত্বের এই বিশাল শূন্যতা ইরানকে দমাতে পারেনি। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।