- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের সাবেক শীতল যুদ্ধকালীন একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আবার চালু এবং পূর্ব উপকূলের আরেকটি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়ার কথা। পরিকল্পনার আওতায় থাকা দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। নারসারসুয়াকে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়ান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এলাকাটির জনসংখ্যা কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে। এই ইউনিটটি ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যকর রাখার কাজে নিয়োজিত। প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ текст এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর চূড়ান্ত নথি নির্ধারিত হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কার্যকর হবে। ডেনমার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যাটো জোটের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একই সঙ্গে বলেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরোনো। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দুটি স্থানে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়বে। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য এ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম, সমুদ্রপথের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সহযোগী বাহিনী গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে ‘Arctic Edge 2026’ নামে সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। মহড়াটি ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। তবে নতুন চুক্তির পেছনে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন কূটনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তার বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুকের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়ায় দুটি স্থাপনায় ঠিক কতজন মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন হবেন, কী ধরনের সরঞ্জাম থাকবে এবং স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সামরিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে বর্তমান একটি ঘাঁটির পাশাপাশি আরও দুটি স্থানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে, যার লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা এবং চীন ও রাশিয়ার মতো ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকানো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যেন দ্বীপটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা এমন বিনিয়োগ করতে না পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেট নথিতেও পিটুফিককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্কটিকে বরফ গলার সঙ্গে নতুন নৌপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চীন ও রাশিয়াও এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি সীমিত রাখতে চাইছে। তবে চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। ডেনিশ কর্মকর্তারা এটিকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন এবং ন্যাটোরও এতে ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লেকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দায়িত্ব নয়, ন্যাটোরও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তিটি বিদ্যমান ১৯৫১ সালের মার্কিন ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে রয়েছে এবং সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান চুক্তি অবশ্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না; বরং মূল বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত সহযোগিতা। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও বিতর্কের পর নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” দেবে। ফলে চুক্তির প্রকৃত পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ কত হবে, এবং বৈদেশিক নীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক উপস্থিতি বা কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা বজায় রাখবে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোও চুক্তিটিকে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বাড়বে বা ওয়াশিংটনের বাস্তব ক্ষমতার পরিধি কতটুকু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো—গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা হয়নি; বরং নতুন চুক্তিতে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। Source: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ও সামরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তবে চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছে না এবং এটি এখনো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে সামরিক প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার এবং আকাশপথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। প্রয়োজন মনে করলে নতুন সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করতে পারবে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে না, যদিও তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য ন্যাটোবহির্ভূত দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ কেবল, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ স্পর্শকাতর খাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সাফল্য এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থকে স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পাচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড এখনো ডেনমার্কের রাজ্যের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। নতুন চুক্তির আওতায় এর সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বরং মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়া। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরও গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলে এর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়সহ চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিতুফিক মহাকাশ ঘাঁটি রয়েছে। ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও প্রবেশাধিকার রয়েছে। ২০০৪ সালে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, গ্রিনল্যান্ডে বাড়তি সামরিক অবকাঠামো ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন ঘাঁটি বা স্থাপনা ঠিক কোথায় এবং কখন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিটি আসার পেছনে কয়েক মাসের গোপন আলোচনা কাজ করেছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। মার্কো রুবিও, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এর বিস্তারিত বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। চুক্তিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে ট্রাম্পের আগের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির তুলনায় নতুন চুক্তিটি ভিন্ন কাঠামোর। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান অন্যতম কারণ। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সামরিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের কার্যক্রম বাড়ায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত উদ্বেগও বেড়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে। তবে নতুন চুক্তির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত আইনি কাঠামো, পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে তার ওপর। আপাতত চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পরিবর্তনের পরিবর্তে দ্বীপটির নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকে যাচ্ছে। সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বহুল আলোচিত এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না, অথচ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে ওয়াশিংটন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ দেশ সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন, এটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যাপারে সরব ছিলেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘে হতে যাওয়া এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে একটি বড় সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৪৭ বছরে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে ১২ ট্রিলিয়ন টনেরও বেশি বরফ গলে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বরফ গলার কারণে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১.২ ইঞ্চির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 'সায়েন্টিফিক ডেটা' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গত প্রায় অর্ধশতাব্দীতে এই দুটি বরফের আস্তরণ থেকে হারিয়ে যাওয়া বরফের পরিমাণ প্রায় ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন (বা ১১.৩ ট্রিলিয়ন মেট্রিক টন)। বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এই মাত্রায় গ্রিনল্যান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি, যার কারণে পানির স্তর বেড়েছে প্রায় ০.৭ ইঞ্চি। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্যই দায়ী এই দুই মেরু অঞ্চলের বরফ গলন। যুক্তরাজ্যের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া এই বরফের ৮৪ শতাংশই ভূপৃষ্ঠে গলে যাওয়ার পরিবর্তে দ্রুতগতিতে সমুদ্রে মিশে যাওয়া হিমবাহ থেকে এসেছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ড. ইনেস ওতোসাকা জানান, মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবেই হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। নাসা (NASA) এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) সহায়তায় 'আইএমবিআইই' (IMBIE) টিমের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। তারা ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের পুরোনো আর্কাইভ থেকে শুরু করে ২৭টি স্যাটেলাইট মিশনের ৪২টি স্বাধীন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত অর্ধশতাব্দীর এই চিত্র তুলে এনেছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে বরফ গলার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ১৯৮০-এর দশকে যেখানে গ্রিনল্যান্ডে বছরে ৬৬ বিলিয়ন টন বরফ গলত, ২০১০-এর দশকে তা বেড়ে ২৯১ বিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে অ্যান্টার্কটিকায় এই হার ৫৩ বিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২২২ বিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে। যদিও ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় রেকর্ড তুষারপাত এবং গ্রিনল্যান্ডে তুলনামূলক মৃদু গ্রীষ্মের কারণে বরফ গলার হার সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছিল, তবে বিজ্ঞানীরা একে দীর্ঘমেয়াদী কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন না। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও এই গবেষণার সহ-লেখক এরিক রিগনট সতর্ক করে বলেছেন, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যা আগামী দিনগুলোতে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের বন্যা ও ভাঙনের মতো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
গ্রিনল্যান্ড থেকে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, লেখক ও উদ্যোক্তা নিল বকশি। তাঁর দাবি, গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করে দেশে ফেরার সময় এক সীমান্ত কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে বলেন, তিনি ‘র্যান্ডমলি সিলেক্টেড’ হয়েছেন। বকশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের জন্য তাকে আলাদা করে নেওয়া হলেও শুরুতে কর্মকর্তারা কেন তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি। পরে তাকে একটি অপেক্ষাকক্ষ এবং এরপর একটি ছোট কক্ষে নেওয়া হয়। তার দাবি, সেখানে কর্মকর্তারা তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন করেন। বকশি বলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে জানানো হয়, চলমান যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার ‘নিরাপত্তার জন্য’ এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বকশির দাবি, যে অপেক্ষাকক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে থাকা অন্য যাত্রীদের সবাই ছিলেন বর্ণগত সংখ্যালঘু বা ‘পিপল অব কালার’। বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করে, অতিরিক্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না। তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে থাকা এক বয়স্ক হিস্পানিক নারী ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথনও তিনি শুনেছেন। বকশির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নারীটিকে বসে থেকে পরবর্তী সময়ে কী ‘মিথ্যা’ বলবেন তা ভাবতে বলেন। তবে এই কথোপকথনের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। বকশি শেষ পর্যন্ত ছাড়া পান এবং সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণ করতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সব মার্কিন নাগরিককে সমানভাবে দেখা হচ্ছে কি না। বকশি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি লেখক, উদ্যোক্তা ও আধ্যাত্মিক জীবনবিষয়ক কোচ হিসেবে কাজ করেন। প্রায় এক দশক ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করার পর তিনি লেখালেখি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হন। তার অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে বকশির বর্ণনা তার ব্যক্তিগত দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার পর এবার ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মরিশাসের কাছ থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদিও এটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধান বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প নয়, তবুও সম্ভাব্য কয়েকটি নীতিগত বিকল্পের মধ্যে বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকার এ নিয়ে একটি চুক্তির পথে এগোলেও ২০২৬ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। ট্রাম্প ওই পরিকল্পনাকে আগে "বড় ভুল" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Diego Garcia। এখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওয়াশিংটন চায় না যে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হোক, যা ঘাঁটির কার্যকারিতা বা নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি বলে জানিয়েছে Mauritius সরকার। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে চাগোস বা ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে মরিশাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ‘আলোচনাতীত’। চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ডিয়েগো গার্সিয়ায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সময় হাজারো স্থানীয় চাগোসবাসীকে দ্বীপ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর থেকে দ্বীপটির মালিকানা, পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতও অতীতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন আলোচনা কেবল ভূখণ্ডের মালিকানার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে ভারত মহাসাগরে সামরিক প্রভাব, চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলও গভীরভাবে জড়িত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস–এ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে ইঙ্গিত দেন। পোস্টে তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে না। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ‘বড় কিন্তু খারাপভাবে পরিচালিত বরফখণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি, যা অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার তার আগের পরিকল্পনারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব ন্যাটোর বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। বিষয়টি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। বৈঠক শেষে সিএনএন–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা’। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিশ্ব পরিস্থিতি ‘আরও নিরাপদ’ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের পুনরায় এমন মন্তব্য ন্যাটোর অভ্যন্তরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন মন্তব্য করে জোটের ভেতরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি। বুধবার ওয়াশিংটনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।’ বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় বেশ কিছু ন্যাটো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি, যা নিয়ে ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই হতাশ’। তবে তিনি আলোচনাকে ‘খোলামেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোট ছাড়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে হোয়াইট হাউস–এর মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, মিত্র দেশগুলো ‘আমেরিকান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’—এই বিষয়টি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ন্যাটোর কয়েকটি দেশ সাড়া দেয়নি। কেউ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আবার কেউ সরাসরি সামরিক সহায়তা থেকেও বিরত ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও আখ্যা দেন। বিতর্ক আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বিশাল, কিন্তু দুর্বলভাবে পরিচালিত এক বরফখণ্ড।’ তাঁর এই মন্তব্য ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এদিকে ২০২৩ সালের একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যাটো ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তবুও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।