- প্রচ্ছদ
- Topic
চীন
কিশোর বয়সে স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায়, যেখানে তাঁর দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে ৫৬ বছর বয়সী ঝৌ ছুনফেই আজ চীনের শীর্ষ ধনী নারী। হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৫ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি ২০১৫ সালের পর পুনরায় শীর্ষস্থানটি পুনরুদ্ধার করেছেন। বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন পাউন্ড (দ্বিতীয় স্থানে থাকা হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের ঝং হুইজুয়ানের সম্পদ ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান)। ১৯৭০ সালে হুনান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ঝৌ মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে 'লেন্স টেকনোলজি' গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অ্যাপল ও স্যামসাংসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্মার্টফোনে টাচস্ক্রিন গ্লাস সরবরাহ করে থাকে। স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে লেন্স টেকনোলজি বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিকস খাতেও নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এআই ও রোবোটিকসের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো তালিকাভুক্ত হয়। ব্যবসায়িক এই অভূতপূর্ব সাফল্যের হাত ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ঝৌ ছুনফেইয়ের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৪ মে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আয়োজিত বিশেষ ভোজসভায় তাঁকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এবং টেসলার ইলন মাস্কের ঠিক মাঝখানে বসার সম্মান দেওয়া হয়। হুরুনের পরিসংখ্যান বলছে, চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর ৬৫ শতাংশই ঝৌয়ের মতো সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় সম্পদ গড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে চীনের ধনীদের তালিকায় ঝৌ ও তাঁর স্বামী বর্তমানে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছেন, যে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) অনুপ্রবেশ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্তে চীনের কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি এবং এ ধরনের অভিযোগ তাঁর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বসিরাম সিরাম জানান, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় চীনা সেনারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন, চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে পাহাড়ের উঁচু চূড়াগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। আসাফিলার মতো বেশ কিছু কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি অবিলম্বে প্রকৃত অবস্থা জানতে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। অরুণাচল সীমান্তে চীনা তৎপরতা নিয়ে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুনে 'নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি' নামের একটি স্থানীয় সংগঠন এবং আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টিও ভারতীয় টহল দলকে বাধা দেওয়া এবং চীনা উপস্থিতির বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেছিল। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সরকার বরাবরই এসব দাবিকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবি নাকচ করেছেন, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে বসিরাম সিরাম প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে যদি সত্যিই কোনো আগ্রাসন না ঘটে থাকে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেন বারবার একই অভিযোগ করছেন। তাই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইয়ে থাকা একটি কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন একজন চিকিৎসক। অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি দূর থেকে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম কিডনিতে কাটাছেঁড়া ও সেলাই সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষায় কোনো মানুষের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। তবে সফল পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিক্যাল সার্জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রুবান থানিগাসালাম। তিনি সিডনির ক্রিস ও’ব্রায়েন লাইফহাউস হাসপাতালের একটি বিশেষ কনসোলে বসে সাংহাইয়ে স্থাপিত টোমাই নামের সার্জিক্যাল রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন। চিকিৎসক সিডনিতে থাকলেও রোবটের যান্ত্রিক হাতগুলো চীনে রাখা কৃত্রিম কিডনির ওপর কাজ করছিল। অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকের হাতের নির্দেশ রোবটের কাছে পৌঁছে যায় এবং সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের কাজ সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক রুবান থানিগাসালাম জানান, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল দেশে অনেক শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চ প্রশিক্ষিত রোবটিক সার্জনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক রোগীকে দূরের বড় শহরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বড় শহরে বসেই দূরবর্তী হাসপাতালের রোগীদের অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ফলে রোগীদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে। পরীক্ষাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও রোবটের কার্যক্রম সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ পাঠানো এবং রোবটের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সময়ের ব্যবধান যত কম হয়, তত ভালো। এই সময়ের ব্যবধানকে প্রযুক্তিগত ভাষায় লেটেন্সি বলা হয়। চিকিৎসকের মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে এই ব্যবধান ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে থাকা ভালো। তবে সিডনি ও সাংহাইয়ের মধ্যে পরিচালিত পরীক্ষায় লেটেন্সি ছিল প্রায় ১৫০ মিলিসেকেন্ড। প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে রোবট পরিচালনার সময় কাজের গতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা অনুভূত হয়নি। অস্ত্রোপচারের আগে যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প সংযোগও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরীক্ষামূলক পরিবেশে সফল হওয়া এবং বাস্তব রোগীর ওপর নিরাপদে অস্ত্রোপচার করার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। রোবটিক সার্জারি সাধারণ অস্ত্রোপচার থেকে কিছুটা আলাদা। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসক সরাসরি হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র ব্যবহার না করে একটি বিশেষ কনসোল থেকে রোবটের যান্ত্রিক হাত নিয়ন্ত্রণ করেন। রোবটের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা অস্ত্রোপচারের স্থানটির বিস্তারিত ছবি চিকিৎসকের সামনে তুলে ধরে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী যন্ত্রগুলো নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে। দূরবর্তী রোবটিক সার্জারিতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নির্ভরযোগ্য তথ্য আদানপ্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে দূর থেকে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা ও বাস্তব চিকিৎসা পরিচালিত হয়েছে। রুবান থানিগাসালাম জানান, টোমাই রোবটিক সিস্টেম ব্যবহার করে আগে জিব্রাল্টারে থাকা একজন রোগীর প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার লন্ডন থেকে পরিচালনার নজির রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও দূরবর্তী অস্ত্রোপচারে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে সাংহাইয়ের রোবট নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি দেশটির চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন একটি অগ্রগতি। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সেবা চালুর সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অবশ্য নতুন প্রযুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা হিসেবে চালু করতে এখনো বেশ কিছু অনুমোদন প্রয়োজন। চিকিৎসক জানান, রোবট ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা, চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি অনুমোদন এবং ইন্স্যুরেন্সের বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি রোগীর পাশে আরেকটি চিকিৎসক দল উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তব রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরবর্তী রোবটিক সার্জারি সফলভাবে চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবায় ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দক্ষ সার্জনের অভাব রয়েছে, সেখানকার রোগীরা বড় শহরের বিশেষজ্ঞদের সেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্য হাসপাতালের সার্জনদের দূর থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না করে এটি ব্যাপকভাবে চালু করা সম্ভব নয়। সিডনি থেকে সাংহাইয়ে পরিচালিত পরীক্ষাটি সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
চীনে স্বামীর সাধারণ এক আলিঙ্গনে স্ত্রীর পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জিয়াংসু প্রদেশের এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্ত্রী ঠান্ডা লাগার কথা জানালে স্বামী ওয়াং তাকে উষ্ণতা দিতে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু ঠিক তখনই হাড় ভাঙার মতো মটমট শব্দ শুনতে পান ওয়াং। মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে বসে পড়েন তার স্ত্রী এবং ব্যথার কারণে তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। পরদিন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ছুটে যান ওয়াং। সেখানে বুকের সিটি স্ক্যান করার পর জানা যায়, তার স্ত্রীর পাঁজরের পাঁচটি হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং আরও একটিতে চিড় ধরেছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, ওই নারী মূলত অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছিলেন। এই রোগের কারণে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে সামান্য চাপেই এমন গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণ বয়সে সাধারণ আলিঙ্গনে হাড় ভাঙার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও কেবল হাড় দুর্বল হওয়ার কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্বামী ওয়াং জানান, তিনি একেবারেই স্বাভাবিকভাবে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং এত বড় ক্ষতি হতে পারে তা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি। তার স্ত্রীর ওজন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে। তিনি নিয়মিত কড়া ডায়েট করতেন, প্রায়ই রাতের খাবার এড়িয়ে যেতেন এবং প্রতিদিন কফি পান করতেন। এছাড়া পরিবারের দোকানে কাজ করলেও তিনি সাধারণত রোদে খুব একটা বের হতেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওই নারীকে বর্তমানে ওষুধ ও ব্যথা উপশমের প্যাচ দিয়ে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, তার কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং উপযুক্ত পরিমাণে গায়ে রোদ লাগানো সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং আরও ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম। ভূমিকম্পে নাগকু শহরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। নাগকু শহরের গণমাধ্যম কার্যালয় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার ২০টি শেড ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কাউন্টি থেকে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি উদ্ধার ও সহায়তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের স্বল্প জনবসতিপূর্ণ উচ্চভূমি এলাকায়। নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে অন্তত সাতটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এসব পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে। প্রতিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। পরাঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিকম্পে তিব্বতের কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী ট্রেন থামিয়ে দিয়েছে। পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ায় ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩১৭-এর একটি অংশও বন্ধ করা হয়েছে। ওই সড়কে আপাতত শুধু জরুরি সেবা, উদ্ধারকাজ ও সরকারি ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় এক হাজার অস্থায়ী আবাসন ইউনিট এবং প্রায় তিন হাজার তাঁবু পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভাঁজ করা বিছানা, টর্চলাইট ও শীতবস্ত্রসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। যাঁদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে, তাঁদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে এসব উপকরণ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা কাজ করছে। এদিকে আগামী তিন দিন ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় থেমে থেমে তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। তুষারপাত হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে ত্রাণসামগ্রী পরিবহন এবং দুর্গত বাসিন্দাদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে নাগকু অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকু শহরের দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। অঞ্চলটির দুর্গম অবস্থান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছংছিংয়ের লাওতু গ্রামের বাসিন্দা শিয়া ইউয়ানহাইয়ের মুখমণ্ডলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। কৈশোরে তাঁর চেহারা ছিল অন্য সাধারণ কিশোরদের মতোই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মুখমণ্ডলের টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় তাঁর চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন ঘটায় শুরুর দিকে সমস্যাটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি তিনি ও তাঁর পরিবার। চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে তাঁর অবস্থাকে হাইপারপ্লাসিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোষের সংখ্যা বেড়ে কোনো টিস্যু বা অঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ইউয়ানহাইয়ের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলের টিস্যু বৃদ্ধির সঙ্গে দাঁতের গুরুতর ক্ষতি এবং শ্রবণশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। নিজের বদলে যাওয়া চেহারা বোঝাতে তিনি ‘ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো মুখ’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ২০১৬ সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তখন ৫৩ বছর বয়সী ইউয়ানহাইয়ের বড় ভাই শিয়া ইউয়ানছাংয়ের বয়স ছিল ৬৬ বছর। ভাইয়ের চিকিৎসা ও মুখমণ্ডলে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে তাঁরা অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হওয়ায় এত দিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু মুখমণ্ডলের গঠন পরিবর্তন করা নয়, বরং রোগের কারণে তৈরি হওয়া শারীরিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে তাঁর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তবে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কতটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তিনি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন কি না কিংবা বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তা সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউয়ানহাইয়ের ঘটনা ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম উসোকলের প্রতিবেদনেও ঘটনাটি নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে। তবে পুরোনো ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তাঁর বর্তমান বয়স, চিকিৎসার অগ্রগতি বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সূত্র: উসোকল, ডেইলি মেইল।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন জাহাজটি চীনা সরকারের অনুমতি ছাড়াই তাদের দাবিকৃত জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বেইজিং। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে নৌবাহিনী পাঠানোর কথা জানিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর অংশে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছেও চীন ও তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের জাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। পরপর দুটি ঘটনা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লসটন স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলের কাছের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। চীনের দাবি, ভোরের দিকে জাহাজটি তাদের সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করে। বেইজিং এ ঘটনাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চীনা সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও ক্ষতিকর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। জাহাজটির গতিবিধি অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য চীনা নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটন সাধারণত এ ধরনের নৌ-অভিযানকে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনস’ বা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে। আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের অধিকার নিয়ে যেসব সামুদ্রিক দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এমন অভিযানের পরিচিত তথ্য এক বছরেরও বেশি সময় আগের। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন জাহাজটি ‘চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইনসম্মতভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এ বক্তব্য চীনের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে সংশ্লিষ্ট জলসীমার আইনগত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। তবে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ বিশেষভাবে তীব্র হয়েছে। সাবিনা শোলও দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকাগুলোর একটি। গত মাসে একই এলাকার কাছে জ্বালানি সংগ্রহের কাজে থাকা ফিলিপাইনের একটি নৌযানের সঙ্গে চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছিল ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড। ফিলিপাইনের অভিযোগ ছিল, চীনা জাহাজটি তাদের নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার জন্য ফিলিপাইনকেই দায়ী করে চীন। সাবিনা শোল এবং পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্বও বেশি। এদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছে সীমাবদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ানের ‘তাইচুং’ নামের একটি জাহাজ সেখানে পাঠানো হয়। জাহাজটি চীনা নৌযানকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দুই পক্ষের জাহাজ থেকে পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করা হয়। চীনা জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘তথাকথিত রিপাবলিক অব চায়না বলে কিছু নেই।’ রিপাবলিক অব চায়না হলো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম। এর জবাবে তাইওয়ানের জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘রিপাবলিক অব চায়না, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ।’ তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত ছিল। এ ঘটনা নিয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ তাইওয়ান ও হংকংয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত। দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের। গত সপ্তাহে ওই এলাকার কাছে চীনের একটি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জলকামান ব্যবহার করার পর বেইজিং সতর্ক করে বলেছিল, এর পরিণতি তাইওয়ানকে ভোগ করতে হবে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দ্বীপটির আশপাশে, এমনকি পূর্ব উপকূলেও চীনা কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে চীনা কোস্ট গার্ডের টহলকে ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী’ বলে বর্ণনা করেন। একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব উপকূলের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনগত দাবি নেই। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে চীনের নজরদারি এবং প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীন-তাইওয়ানের মুখোমুখি অবস্থান—দুটি ঘটনাই এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক বিরোধকে আবার সামনে এনেছে। ভূখণ্ডগত দাবি, সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তির কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স। সদ্য প্রকাশিত এই তালিকায় এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের ব্যাংকগুলো তাদের একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। তালিকার শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিই চীনের এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, প্রথম চারটি স্থানই দখল করে নিয়েছে চীনা ব্যাংকসমূহ। বিপুল অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, অবকাঠামো খাতে বিশাল সরকারি বিনিয়োগ এবং বন্ড ইস্যুর ওপর ভর করে এই ব্যাংকগুলো তাদের সম্পদের আকার ক্রমাগত বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭.৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে টানা ১৩তম বছরের মতো বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকের মুকুট ধরে রেখেছে চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি)। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না (৬.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশন (৬.৫২ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং ব্যাংক অব চায়না (৫.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার)। তালিকার দশম স্থানে থাকা পোস্টাল সেভিংস ব্যাংক অব চায়না মিলিয়ে মোট পাঁচটি চীনা ব্যাংক এই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে ৪.৪৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোং। তবে মোট সম্পদের দিক থেকে পঞ্চম হলেও শেয়ারবাজারের মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের বিচারে জেপি মরগান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাংক হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষ এই তালিকায় ইউরোপীয় ব্যাংকিং খাতেও বড় ধরনের রদবদল লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এইচএসবিসি হোল্ডিংসকে পেছনে ফেলে ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ফ্রান্সের বিএনপি পরিবা, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনা ব্যাংকগুলো যেখানে সম্পদের বিশাল আকারের ওপর ভিত্তি করে দাপট দেখাচ্ছে, সেখানে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ মুনাফা, ক্যাপিটাল মার্কেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার (ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট) মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের শক্তিশালী প্রভাব ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা এবং ফ্রান্সের ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল যথাক্রমে ষষ্ঠ ও নবম স্থান নিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
চীনে পড়াশোনায় আগ্রহ হারানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবনের বাস্তবতা বোঝাতে খাবার বিক্রির কাজে যুক্ত করেছিলেন তার মা। উদ্দেশ্য ছিল, কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনের অভিজ্ঞতা থেকে ছেলে পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারবে। কিন্তু ঘটল উল্টোটা। মাত্র ১০ দিনে ১০ হাজার ইউয়ান, অর্থাৎ তৎকালীন হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের বিক্রি করার পর কিশোরটি পড়াশোনা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। শেন নামের ওই কিশোর চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রন্ধনশিল্প বিষয়ে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে। এ নিয়ে মা ডেংয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সে জানায়, পড়াশোনা তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে এবং সে আর স্কুলে যেতে চায় না। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে রাস্তার পাশে ভাজা মুরগি বিক্রি করছিলেন ডেং। ছেলেকে কাজের বাস্তবতা বোঝাতে তিনি তাকে খাবার বিক্রির অভিজ্ঞতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে ডেং বলেন, ছেলে পড়াশোনার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইছিল না। তাই তিনি চেয়েছিলেন, সে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুক এবং বুঝতে পারুক অর্থ উপার্জন সহজ নয়। মায়ের সহায়তায় শেন একটি বৈদ্যুতিক সাইকেল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান তৈরি করে। এরপর দ্রুতই কাজে নেমে পড়ে সে। মায়ের ধারণা ছিল, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে ছেলে হয়তো পড়াশোনায় ফিরে আসার কথা ভাববে। শেনের প্রতিদিনের কর্মসূচি ছিল বেশ পরিশ্রমের। সকাল ৯টা থেকেই খাবার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত সে। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্রির জায়গায় পৌঁছে রাতভর খাবার বিক্রি করত। অনেক দিন রাত ৩টার দিকে বাড়ি ফিরত সে। এই পরিশ্রমের মধ্যেই মাত্র ১০ দিনে তার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের সমান। ডেং ছেলের এই সাফল্যের পেছনে তার পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এই অঙ্কটি বিক্রির পরিমাণ, নিট মুনাফা নয়। এত দ্রুত সাফল্য পাওয়ার পর শেনের লক্ষ্য এখন ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত অর্থ জমিয়ে একটি বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান কেনা। ডেং বলেন, ছেলে অত্যন্ত পরিশ্রমী। কাজের প্রতি তার এতটা আগ্রহ তৈরি হবে, তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে ছেলের এই সাফল্যই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে তোলে। ডেং বারবার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেং জানান, ১৭ বছর বয়সী একজন কিশোরের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থাকে। অভিভাবক হিসেবে তাঁরা কেবল তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। তাঁর কাছে ছেলের সুস্থতা ও সুখী জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে যেন নিজের পছন্দের জীবন গড়তে পারে, সেই সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে তাকে বেআইনি কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে পথনির্দেশনা দেওয়াও নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন ডেং। ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়; পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলে কোনো দক্ষতা অর্জন করে জীবিকা গড়াও একটি বিকল্প হতে পারে। অন্যরা ডেংয়ের ছেলের মতামতকে সম্মান করার প্রশংসা করেন। চীনে পড়াশোনায় ভালো ফলের জন্য সন্তানদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগকারী অভিভাবকদের বোঝাতে ‘টাইগার মাদার’ ও ‘উলফ ফাদার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ডেংয়ের অবস্থানও আলোচনায় আসে। তবে অল্প সময়ে ব্যবসায় ভালো বিক্রি হওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে পড়াশোনা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন পরস্পরের বিকল্প না হয়ে একে অন্যের পরিপূরকও হতে পারে। শেনের ঘটনা একদিকে কিশোরটির ব্যবসায়িক আগ্রহ তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য স্টার।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পণ্য ও সেবার জন্য চীনা সরবরাহকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে তাইওয়ান। পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। ফলে বেইজিংয়ের ওপর এ ধরনের নির্ভরতা কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি বড় আঘাত। লিন চিয়া-লুংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক দুই দিন পরেই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনের কার্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেইজিংয়ের ওপর অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস করা। নিরাপত্তা ফোরামে তিনি মন্তব্য করেন, সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউরোপ প্রকারান্তরে নিজের স্বাধীনতারই একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও পোল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের বিদেশ সফরের কড়া বিরোধিতা করে থাকে বেইজিং। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। তবে প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাইওয়ানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি তাইওয়ানের সফল প্রযুক্তি মডেল যেমন সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি তা ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ইইউর উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে। যদিও পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে, তবুও তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (CAR)-এর একটি নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজেদের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে আঘাত হানতে পুরোপুরি সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এমন কিছু যন্ত্রাংশের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দিয়ে তারা ইরানের বিখ্যাত 'খাইবার শেকান' প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইলের আদলে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। এই অস্ত্রগুলোর রেঞ্জ প্রায় ১,২০০ মাইল বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ সাধারণ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুটি জাহাজ আটক করার পর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সিএআর-এর তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কাস্টম মেটাল উপাদান, মোটর, এয়ারফ্রেম এবং রকেট স্থিতিশীল করার ফিনস বা ডানা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সাথে খাইবার শেকান সিরিজের কঠিন-জ্বালানির রকেট মোটরের যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উপাদানগুলো চীনের একটি প্রিসিশন-মেটাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং হুথিরা সম্ভবত এরই মধ্যে এসব মাঝারি পাল্লার অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সিএআর-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফাবিয়ান হিঞ্জ জানিয়েছেন, এ ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানির অর্থ হলো তারা হয় এগুলো উৎপাদন করছে অথবা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের জন্য ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হুথিরা এখন অস্ত্র তৈরিতে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সরবরাহকারীদের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সম্পর্ক যে কতটা প্রসারিত হয়েছে, এটি তারই প্রমাণ। জাতিসংঘের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের অঞ্চলে জব্দ করা বেশিরভাগ ড্রোন ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশই চীন থেকে আসছে। লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত বছর চীনা কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেও, বেইজিং বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলছে।
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও ভূমিকা রাখছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের হিসাবে চিনির ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমার চিত্র রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার কমাকে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। অন্য প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য তা ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টনে নামার প্রাক্কলন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই অঙ্কের ব্যবধান প্রায় ৩৩ শতাংশ। শেষের অঙ্কটি পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় একে চূড়ান্ত ভোগের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। চিনির উচ্চমূল্য এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবহার কমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং কম চিনিযুক্ত পণ্যের প্রতি আগ্রহও পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার পৃথক পরিমাপ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বোঝা বড়ই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের এই হিসাব নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষের জন্য প্রাক্কলন, সব বয়সের রোগীর সরাসরি গণনা নয়। জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুটি আলাদা সূচক। চিনির ব্যবহার কমলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা রোগীর সংখ্যা একই হারে কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং তামাক পরিহার টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা এর শুরু বিলম্বিত করতে সহায়তা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা মুক্ত শর্করা দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। অতিরিক্ত উপকারের জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু চায়ের চিনি কমানো নয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও চিনিযুক্ত পানীয়সহ পুরো খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: sciencebee
চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরে ইউনগাং গ্রোটোস পর্যটনকেন্দ্রের নারীদের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার বসানো নিয়ে ২০২৪ সালে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিটি কিউবিকলের দরজার ওপরে থাকা ডিসপ্লেতে কতক্ষণ ধরে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের দাবি, দর্শনার্থীদের চাপ সামলানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু দর্শনার্থী এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। সিএনএনের ২০২৪ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি কিউবিকল খালি থাকলে ডিসপ্লেতে সবুজ রঙে খালি থাকার বার্তা দেখা যায়। কেউ ভেতরে গিয়ে দরজা লক করলে লাল রঙে ব্যবহারের সময় গণনা শুরু হয়। সেখানে মিনিট ও সেকেন্ড দেখানো হয়। এটি নির্দিষ্ট সময় থেকে উল্টো গণনা করা কাউন্টডাউন নয়; দরজা কতক্ষণ ধরে বন্ধ রয়েছে, সেই সময় বাড়তে থাকে। এক দর্শনার্থীর ধারণ করা ভিডিও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানোর পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই দর্শনার্থী জানান, প্রযুক্তিটি দেখে প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এতে কোন টয়লেট খালি আছে তা বুঝতে সুবিধা হবে এবং দরজায় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। কিন্তু ব্যবহারের সময় অন্যদের সামনে দেখা যাওয়ায় তাঁর অস্বস্তিও হয়েছিল। পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মী স্থানীয় সংবাদপত্র শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ডকে জানিয়েছিলেন, টয়লেট ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং কাউকে ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হবে না। নানচাং ইভনিং নিউজকে আরেক কর্মী জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১ মে থেকে টাইমারগুলো চালু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ ভেতরে থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নজরে আনতে এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত ইউনগাং গ্রোটোস প্রাচীন বৌদ্ধ গুহাশিল্পের জন্য পরিচিত। সেখানে টয়লেটের টাইমার নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ ব্যবহার ব্যবস্থাপনায় এর সুবিধা দেখেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ব্যক্তিগত পরিসরে সময় প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তবে দর্শনার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সময়সীমা আরোপের কথা সে সময় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছিল।
সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টনে পৌঁছেছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নিয়েছে। উপকূলীয় শহর, দ্বীপাঞ্চল ও শিল্পকারখানায় পানির সরবরাহ বাড়াতে লবণমুক্তকরণ প্রকল্প সম্প্রসারণ করছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন মিঠাপানি তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এই পরিমাণ পানি প্রায় দেড় কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে এটি সরাসরি দেড় কোটি মানুষকে পানি সরবরাহ করার হিসাব নয়, উৎপাদনের পরিমাণ বোঝাতে দেওয়া একটি তুলনা। সিজিটিএন আরও জানিয়েছে, দৈনিক ১০ লাখ টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার নতুন প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব কেন্দ্র চালু হলে সমুদ্রের পানি থেকে মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা আরও বাড়বে। এই পরিসংখ্যানে উৎপাদন ও উৎপাদন সক্ষমতার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। সিজিটিএনের জুনের একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিয়াং ওয়েনসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, চীনে ১৬৭টি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের মোট সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন। অর্থাৎ সংখ্যাটি কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা নির্দেশ করে। প্রতিদিন বাস্তবে কত পানি উৎপাদিত হচ্ছে, তার পৃথক হিসাব ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে লবণমুক্তকরণ শিল্পের উন্নয়নে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্ষমতা দৈনিক ১৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় শহরের পানির নিরাপত্তা, দ্বীপ ও জাহাজে পানি সরবরাহ, শিল্পখাতে ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করা, জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার মাধ্যমে চীন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত পানির উৎসের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা বাড়াতে চাইছে। এই উদ্যোগে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে পরিশোধিত পানি ব্যবহারের পরিসর বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্র: CGTN
চীনের শানসি প্রদেশের ইউনগাং গুহামন্দিরে শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের বাইরে ডিজিটাল টাইমার বসানো হয়েছে। কেউ ভেতরে ঢুকলে টাইমার চালু হয় এবং তিনি কতক্ষণ ধরে কক্ষটি ব্যবহার করছেন, তা বাইরে থাকা অন্যরাও দেখতে পান। ২০২৪ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। কক্ষ খালি থাকলে ডিসপ্লেতে সবুজ সংকেত দেখা যায়। ব্যবহার শুরু হলে সেটি লাল হয়ে যায় এবং সময় গণনা শুরু হয়। এতে অপেক্ষায় থাকা দর্শনার্থীরা কোন কক্ষ খালি, তা সহজে বুঝতে পারেন। পর্যটনকেন্দ্রটির কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং কেউ অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ভেতরে থাকলে তাঁর সহায়তা প্রয়োজন কি না, তা বোঝার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে শৌচাগার ব্যবহারের কোনো সময়সীমা নেই; নির্দিষ্ট সময় পার হলে কাউকে বের করে দেওয়াও হয় না। টাইমার নিয়ে দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ খালি কক্ষ শনাক্ত করার সুবিধার কথা বলছেন। আবার ব্যক্তিগত একটি কাজের সময় সবার সামনে প্রদর্শিত হওয়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ‘গ্রে-জোন’ চাপের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কড়া ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ান। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাইপেতে আয়োজিত তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের এই বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য কোনোভাবেই যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়, বরং যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করা। পাশাপাশি আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে তারা সংলাপের পথ বন্ধ করে দিচ্ছেন; বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যেন সম্মানজনক সংলাপ নিশ্চিত করা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই তাইওয়ান তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে লাই চিং-তে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লাইয়ের সরকার বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে চীন ধারাবাহিকভাবে যে চাপ প্রয়োগ করছে, তা কেবল তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয় নয়। বরং এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা যে, বলপ্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে আসলেই উপেক্ষা করা যায় কি না। ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, তাইওয়ান সবসময় শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে তারা কখনোই নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তারা আগ্রহী হলেও, কোনোভাবেই তাদের অধীনতা মেনে নেওয়া হবে না। দায়িত্বশীল ও সুদৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালি এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট লাই।
চীনের অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া, ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি এবং টোকিও–বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনে নিজেদের কার্যক্রম সংকুচিত করছে জাপানি কোম্পানিগুলো। জাপানের করপোরেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেইকোকু ডেটাব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে চীনে ব্যবসায়িক উপস্থিতি থাকা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নেমেছে ১০ হাজার ১১৮টিতে। ২০১০ সালে এ তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনের আগের জরিপের তুলনায় চীনে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা কমেছে ২২ শতাংশ। আর ২০১২ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তা প্রায় ৩০ শতাংশ কম। একসময় উৎপাদন ও বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত চীনের বাজারে এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নতুন করে মূল্যায়ন করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক জেরেমি চ্যানের মতে, যেসব জাপানি কোম্পানি আগে থেকেই চীনে ব্যবসার পরিসর কমানোর পরিকল্পনা করছিল, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির পর তারা বাজার ছাড়ার বিষয়টি আরও জরুরিভাবে বিবেচনা করছে। তাঁর ভাষ্য, জাপানি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের মধ্যে চীনে স্বাগত না পাওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। টেইকোকু ডেটাব্যাংকের মূল্যায়নে, এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে। শুল্কসংক্রান্ত ঝুঁকি, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা জাপানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম ছোট করছে কিংবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে কিছু কোম্পানি পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন না করেও চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। গত দুই বছরে নতুন করে ১ হাজার ২২১টি জাপানি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সহযোগী কোম্পানি, কারখানা বা প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে ৪ হাজার ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়েছে অথবা তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে টেইকোকুর জরিপে উল্লেখ রয়েছে। নতুন প্রবেশের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চীনে জাপানি ব্যবসার সামগ্রিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাপান ও চীনের সম্পর্কের অবনতির পেছনে তাইওয়ান ইস্যুও রয়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছিলেন, চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে জাপান সামরিকভাবে জড়িত হতে পারে। এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বেড়েছে। বেইজিং জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফুজিৎসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নীতি অর্থনীতিবিদ মার্টিন শুলজ বলেন, মার্কিন শুল্ক, চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে জনমত এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর মতে, চীনে বিনিয়োগ একসঙ্গে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জাপানি কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মোনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ পরিচালক জেসপার কল। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, টোপিক্স সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চীনের অবদান ২০২০ সালের ২৩ শতাংশ থেকে চলতি বছরে ১৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। কলের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্প উৎপাদন বাড়াতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে চীন এমন একটি উৎপাদনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পণ্য চীনে তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও চীনা হবে। এই পরিবর্তন জাপানি কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার কৌশলকে প্রভাবিত করছে। চীনে কর্মী পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে গত আগস্টে কয়েকজন জাপানি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ব্যবসায়িক ঝুঁকির পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনেও চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহ বাড়ার কথা উঠে এসেছে। তবে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং বলেছেন, তাঁর দেশ জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা বিকাশ এবং বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে স্বাগত জানায়। জাপানি একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সব ধরনের জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি এক নয়। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেই কোগার মতে, গাড়ি নির্মাতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং রপ্তানিনির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনে কার্যক্রম কমানোর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম কোম্পানিগুলো সেখানে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: সিএনবিসি ও টেইকোকু ডেটাব্যাংক।
চীনের আধুনিক নগরজীবনের পরিচিত ছবির বাইরে এক ভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতীয় পর্যটক প্রণব কারাড। দেশটির গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকার একটি সরু গলিতে ঘুরতে গিয়ে তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা, পুরোনো ভবন, ঝুলন্ত তার এবং নির্মাণকাজের জন্য বসানো ব্যারিকেড। এসব দৃশ্য ভিডিও করে প্রকাশের পর তাঁর প্রশ্ন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এমন অপরিচ্ছন্ন এলাকা থাকতে পারে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু ভারতকেই কেন নোংরা দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ভ্রমণের সময় গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকায় যান প্রণব। সেখানে হাঁটার সময় আশপাশের পরিবেশ দেখে তাঁর নিজের দেশের বিভিন্ন এলাকার কথা মনে পড়ে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো ভবন, কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও ধাতব বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে জায়গা ঘিরে রাখা হয়েছে। ওপরের দিকে জট পাকানো তার ঝুলছে। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এসব দৃশ্য দেখিয়ে প্রণব বলেন, তাঁর কাছে জায়গাটি ভারতের কোনো সাধারণ এলাকার মতোই মনে হচ্ছে। ভবনের অবস্থা, রাস্তার পরিবেশ এবং নির্মাণকাজের দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন এলাকার মিল খুঁজে পান তিনি। ভিডিওতে তিনি আরও জানান, চীনের মতো একটি দেশের বড় শহরে এমন পরিবেশ দেখবেন, তা আগে ভাবেননি। বিশেষ করে দোকানের বাইরে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ ও ময়লা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। প্রণবের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের আধুনিক শহর সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ছবি ও ভিডিও দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে এই এলাকার পরিবেশের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতেও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে। আবার অন্য অনেক দেশের মতো সেখানেও কিছু অপরিচ্ছন্ন এলাকা আছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে কেন এত বেশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়? নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে প্রণব লেখেন, এটি গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার রাস্তার দৃশ্য। এখানে সরু গলি, জমে থাকা আবর্জনা এবং এমন পরিবেশ রয়েছে, যা শহরের প্রচারণামূলক ছবিতে সাধারণত দেখা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশেরই এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যা বাইরে থেকে দেখা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় কেন বারবার ভারতের উদাহরণ সামনে আনা হয়, অথচ অন্য দেশের একই ধরনের সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়। প্রণবের ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় একপেশে চিত্র তুলে ধরা হয়। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, চীনের আধুনিক ভবন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিষ্কার রাস্তার দৃশ্য বেশি প্রচারিত হলেও দেশটির সব এলাকার পরিবেশ যে একই রকম নয়, সেটি এ ধরনের ভিডিও থেকে বোঝা যায়। একজন ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের এমন দৃশ্য খুব কমই সামনে আসে। আরেকজন মন্তব্য করেন, পৃথিবীর কোনো দেশই সব জায়গায় সমান পরিচ্ছন্ন নয়। প্রতিটি দেশেরই কিছু উন্নত ও পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে, আবার কিছু জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে সবাই প্রণবের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, একটি দেশের নির্দিষ্ট এলাকার ভিডিও দিয়ে অন্য দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার তুলনা করা যথাযথ নয়। তাঁদের যুক্তি, কোনো শহরের একটি রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হলেই পুরো শহর বা দেশের পরিবেশ একই রকম, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে কয়েকটি পরিষ্কার রাস্তা দেখিয়েও একটি দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই আলোচনায় ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ধারণার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে বিভিন্ন সময় রাস্তার ময়লা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট ও জনবহুল এলাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে প্রায়ই আধুনিক অবকাঠামো, উঁচু ভবন এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার ছবি বেশি দেখা যায় বলে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। প্রণবের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের অনলাইন উপস্থাপনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে দেখানো গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার নির্দিষ্ট রাস্তাটি চীনের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারতের সঙ্গে চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নগর পরিচ্ছন্নতার তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যানও ভিডিওটিতে নেই। ফলে ঘটনাটিকে দুই দেশের পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রণবের ভিডিওটি মূলত পর্যটক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন দেশকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালাও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুয়াংজুর ওই এলাকার ভিডিও নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। কেউ ভারতের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির অভিযোগ করেছেন, আবার কেউ একটি এলাকার দৃশ্য দিয়ে পুরো দেশকে বিচার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ভিডিও ও ছবি থেকে কোনো দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে। একটি শহরের পর্যটন এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশে পার্থক্য থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন রাস্তা ও নিয়মিত ব্যবহার হওয়া পরিচ্ছন্ন রাস্তার অবস্থাও এক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বারবার প্রচারিত হলে সেটিই অনেকের কাছে দেশটির সামগ্রিক পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। অথচ বাস্তবে একই দেশের বিভিন্ন শহর ও এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। প্রণবের প্রকাশিত ভিডিওতেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি চীনের একটি নির্দিষ্ট এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখিয়ে ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভিডিওটি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো দেশের পরিচ্ছন্নতা বা জীবনযাত্রার মান বিচার করতে হলে বিচ্ছিন্ন ছবি কিংবা কয়েক মিনিটের ভিডিওর পরিবর্তে বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। চীনের গুয়াংজু শহরের একটি সরু গলিতে ধারণ করা ভিডিও এভাবেই ভারত ও চীনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশগুলোর ভাবমূর্তি তৈরির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
রাস্তার ধারের বিশাল বিলবোর্ডে সাধারণত চলচ্চিত্র তারকা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের কিছু শহর এই পরিচিত দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারকার বদলে সেখানে এখন জায়গা পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা, মেট্রো স্টেশন ও ব্যস্ত সড়কের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের যুগান্তকারী সব অবদানের কথা। এই তালিকায় রয়েছেন চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কিয়ান শুয়েসেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানী দেং জিয়াশিয়ান এবং কিংবদন্তি কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। তাঁদের এই কাজগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জনসমাগমের স্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের পরিচিতি বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চীনের এই উদ্যোগ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা আগামী প্রজন্মের সামনে কাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছি? কেবল বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারিগরদের কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? বিজ্ঞানীদের এই ধরনের জনস্বীকৃতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও যদি বিজ্ঞানীদের অবদানকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করা যায়, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়ানিং ঝাং নামের এক কথিত চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার সম্ভাব্য সহযোগীকে খুঁজছে এফবিআই। ফাটাই মিয়াও নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক চীনা বংশোদ্ভূত নির্মাণ ব্যবসায়ী এই গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তিনি দুই সপ্তাহ আগেই একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ফ্লাইটে চীনে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনও মিয়াওয়ের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি, তবে আদালতের নথিতে তাকে 'ব্যক্তি ১' বা 'ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে মিয়াওয়ের ফাঁকা বাড়িতে প্রায় ১০ জন এফবিআই এজেন্ট দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি মিয়াও সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনে অবস্থান করছেন, যেখানে তার মা পিঠের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই ছিলেন। এফবিআইয়ের অভিযান সম্পর্কে জিয়াকি বলেন, শুরুতে ফোন পেয়ে তিনি বিষয়টিকে স্ক্যাম বা প্রতারণা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় সশস্ত্র সরকারি এজেন্টদের দেখতে পেয়ে রিমোট অ্যাপ দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই এজেন্টরা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতিবেশীদের বর্ণনার সাথেও এই ঝটিকা অভিযানের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিয়াটলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি চালাতে ঝাংকে সহায়তা করেছিলেন মিয়াও। তারা একত্রে একটি এসইউভি ভাড়া করে ওই নেতার ছেলে ও তার পরিবারের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্টের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, গাড়ি ভাড়ার কাগজে মিয়াওয়ের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তিনি ওই মাসেই বিক্রি করে দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং এই নজরদারি চালাচ্ছিলেন এবং এর আগে চীনে গিয়ে এই মিশনের বিশদ পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি অবশ্য তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তার বাবা ইংরেজি বলতে পারেন না এবং এ ধরনের জটিল কাজ করার মতো চতুরও নন। তিনি বলেন, তার বাবা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন এবং হয়তো দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই অন্য কোনো শহর ঘোরার উদ্দেশ্যে না বুঝে ঝাংয়ের সাথে সিয়াটলে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়াও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিইও হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং একমাত্র তিনিই পরিবারের মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিকে, গত বুধবার আদালত ওয়ানিং ঝাংয়ের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, চীনের একটি অনিবন্ধিত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার জমা করেছেন এবং তার ভাই চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন, তাই তাকে জামিন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সান ফ্রান্সিসকো সফরের সময় সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের হয়ে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।