মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে যুদ্ধের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান। ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে আমিরাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে উল্লেখ করেন, এই হামলাগুলো নিছক কোনো ঘটনা নয় বরং এগুলো ‘আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ’ এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমিরাতকেই বহন করতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল অবকাঠামোগত বা ‘বস্তুগত’ ক্ষয়ক্ষতিই নয়, বরং এই হামলার ফলে সৃষ্ট ‘নৈতিক ক্ষতি’র জন্যও যথাযথ প্রতিদান চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাতে পারে।
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট' বা 'বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬'-এ টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের অবস্থানের কিছুটা উন্নতি ঘটালেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সুখের সূচকে বেশ নিচের দিকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই বছরের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। শীর্ষ দশে যারা: প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের পর তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড এবং ডেনমার্ক। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কোস্টারিকা, যা গত বছর ২৩তম অবস্থানে ছিল। তালিকার শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হলো যথাক্রমে সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ এবং সুইজারল্যান্ড। বরাবরের মতোই সুখী দেশের তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (৯২তম) সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে পাকিস্তান (১০৯তম)। গত বছরের ১১৮তম অবস্থান থেকে সামান্য উন্নতি করে ভারত এবার ১১৬তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিবেদন সুখবর বয়ে আনেনি। এবারের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১২৯তম। অর্থাৎ, সুখের সূচকে বাংলাদেশ আরও পাঁচ ধাপ নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান (১৪৭তম) বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে। সুখ পরিমাপের মাপকাঠি: জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। মূলত মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক নিরাপত্তা, গড় আয়ু, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরোপকার এবং দুর্নীতির হারের মতো ছয়টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। ১৪০টিরও বেশি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার সন্তুষ্টির ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া: এবারের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা তাদের জীবন সম্পর্কে অতৃপ্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অসুখী দেশের তালিকায় তলানিতে যারা: তালিকার বিপরীত দিকে অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে কম সুখী বা ‘অসুখী’ দেশের তকমা পেয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। তালিকার একেবারে তলানিতে থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিয়েরা লিওন ও মালাউই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ড বা নর্ডিক দেশগুলোর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে সেখানকার শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, নাগরিকদের একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা। অন্যদিকে, কোস্টারিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসা প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা একটি জাতির সামগ্রিক সুখে বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে।
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। নারী অধিকার, সমতা এবং নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছে। এ বছর প্রচারাভিযানের মূল বিষয় হলো গিভ টু গেইন, যা নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়। এ বছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–কে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin এবং প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বিশ্বের সব নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে Shama Obaed–এর। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক Momtaz Banu–কে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। Dhaka Reporters Unity–এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। রমজান মাসের কারণে অবশিষ্ট অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজন করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস নারী শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন। পরে ১৯০৯ সালে নারী অধিকার নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে United Nations ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে থেকেই ৮ মার্চ পালিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উত্তপ্ত সীমান্ত এলাকায় চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে চলা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে কয়েক হাজার পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইউএনএইচসিআর (UNHCR) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, চলমান এই সংকটে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ এবং পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আরও ৩ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের জেরে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার প্রমোদতরীর (ক্রুজ শিপ) যাত্রী আটকা পড়ে আছেন। ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আইএমও-র মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আইএমও বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্দোষ নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং একটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে জাহাজে অন্তত সাতটি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে আইএমও। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। বিশ্ববাজারে মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডমিঙ্গুয়েজ সকল শিপিং কোম্পানিকে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশন তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সংঘাতের প্রতিটি পর্যায় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। সংস্থাটির মতে, এই হামলাগুলো ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্তকারী দল বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তায়্যেবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী অসংখ্য নিষ্পাপ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ‘মর্মান্তিক উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের অন্য একটি প্যানেলের তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১৬০ জনেরও বেশি শিশু। খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু ও বিচারিক প্রশ্ন প্রতিবেদনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিহতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘ স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা বা ‘টার্গেটেড কিলিং’ কখনোই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে না। কারাগারে বন্দি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি সামরিক অভিযানের এই ডামাডোলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ ইরানি জনগণ। বিশেষ করে তেহরানের এভিন কারাগারে আটক বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারাগারে আটক এক ব্রিটিশ দম্পতি জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কারাগারের ভেতরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে আটক থাকা হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর জীবন এখন আরও অনিশ্চয়তার মুখে। জাতিসংঘের তদন্ত মিশন সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামরিক শক্তির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সাধারণ মানুষের চরম মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এর নিষ্ঠুর প্রভাব দেখে ব্যক্তিগতভাবে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক। তিনি অবিলম্বে লিপ্ত পক্ষগুলোকে সহিংসতা বন্ধ করে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলকার টুর্কের অবস্থান তুলে ধরেন তার মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের লাখো মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি চাইলেই এড়ানো সম্ভব ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের পরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই সংকটের সমাধান খুঁজতে ইরানের পক্ষ থেকেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা পরিষদের বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই ‘হুঁশে ফেরার’ কড়া বার্তা এল।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জেদ্দায় ওআইসি বৈঠক শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেবে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিপুল সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি দেশের কূটনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে এবং এই অস্থিরতা নিরসনে আলাপ-আলোচনাকেই একমাত্র পথ মনে করে। সফরকালে তিনি মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আসন্ন জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় দেশগুলো পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন থেকে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোর পর আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বছর পর এই পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; শেষবার ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কক্ষপথে বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল চার বছর আগে। ফিলিস্তিন প্রথমে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও পরে তা প্রত্যাহার করেছে। গত বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশ নির্বাচনে থাকছে কি না, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশের প্রতি আবেদন জানায় যাতে তারা নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ায়। ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোর পর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের সঙ্গে সাইপ্রাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ বৈশ্বিক কূটনীতিতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সভাপতির দায়িত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। চার দশক পর এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদে পাল্টা আঘাত হানানো হবে বলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রমণের শিকার হলে এসব ঘাঁটি ও সম্পদ ইরানের কাছে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। চিঠিতে গত বুধবার ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে। ইরাভানি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। শক্তি ব্যবহারের বেআইনি হুমকি বন্ধ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। গত মাসে তিনি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলেন এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ সামনে আনেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় আছে, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিতও দেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বার্তায় এই অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তায় সকল রাজনৈতিক অংশীজনকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের এই ইতিবাচক গতি ধরে রেখে জাতীয় সংহতি আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতিসংঘের এই বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সকল রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জাতিসংঘের এমন সমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন ও গণভোটের সফল আয়োজনে বাংলাদেশের জনগণকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন! বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের এই অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: জাতীয় ঐক্যের ডাক: জাতিসংঘের মহাসচিব সকল রাজনৈতিক পক্ষকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার ও সুরক্ষা: আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন ও সংস্কার: এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কারের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিশ্বসংস্থা। এটি কেবল একটি অভিনন্দন বার্তা নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আগামীর পথপ্রদর্শক। জনগণের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন—দুইয়ে মিলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নৃশংস আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গাজার মোট স্কুল ভবনের ৯০ শতাংশই হয় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, গাজার যে কয়টি স্কুল ভবন এখনো টিকে আছে, সেগুলোতে বর্তমানে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজার শিশুরা অস্থায়ী তাবু কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে যৎসামান্য শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও তারা গাজার শিশুদের জন্য শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার কারণে এই কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের দুই বছরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ (১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের এই পদ্ধতিগত হামলাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই বার্তায় নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সব অংশীজনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের এই বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচনে নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারী, মেয়ে, প্রতিবন্ধী নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সফল গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী এবং ভোটারদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে— রাজনৈতিক নেত্রী, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং, ডিপফেক, ছবি বিকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। নারী ভোটাররা যেন কোনো প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, তারা নারীদের নির্বাচনি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ কার্যালয় বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বৈষম্য ছাড়াই নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ এবং সমাজে যারা বেশি বাধা, বৈষম্য বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের আগে, বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা, নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘ সচেতন। জাতিসংঘ বলছে, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার রক্ষাকারী সহ জনজীবনে কর্মরত নারীরা সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি এবং ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে। জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে এবং নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছে যেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। আমরা বিশ্বাস করি, কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সবসময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাওনা অর্থের একটি বড় অংশ পরিশোধ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বকেয়া অর্থের প্রথম কিস্তি বা 'ট্রাঞ্চ' দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: বকেয়ার পরিমাণ: ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত জাতিসংঘের মূল বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ছিল প্রায় ২.১৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট অনাদায়ী অর্থের ৯৫ শতাংশের বেশি। আর্থিক সংকট: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, বকেয়া না পাওয়ায় ১৯৩টি দেশের এই সংস্থাটি "অনিবার্য আর্থিক পতনের" মুখে রয়েছে। সংস্কারের শর্ত: অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি জাতিসংঘে ব্যাপক প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার আনার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। বাজেট বরাদ্দ: গত মঙ্গলবার ট্রাম্প একটি ব্যয় বিলে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে জাতিসংঘের পাওনা মেটানোর জন্য ৩.১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ায় এই বিশাল ঋণের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অর্থ পরিশোধের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের দপ্তর পরিচালনা, শান্তিরক্ষা মিশন এবং মানবাধিকার রক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং জাতিসংঘের কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ' হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর সন্ত্রাসবাদীদের মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী বা তাদের মিত্রদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখনই ট্রাম্প প্রশাসন এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিল। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসি-র প্রসিকিউটর, বিচারক এবং এমনকি জাতিসংঘের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব: ১. আর্থিক লেনদেন বন্ধ: তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ২. ভিসা ও যাতায়াত: অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে। ৩. সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন: এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে যা সাধারণত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। সমালোচকদের মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো বিদেশি আদালত বা সংস্থা যাতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর অন্যায়ভাবে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন মিত্র দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। হাদির হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও নিহতের পরিবারের আন্দোলনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” এর আগে একই দিনে বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির পরিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তবে ইনকিলাব মঞ্চকে সহযোগিতায় বারবার সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তাই আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা এবং ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাংলাদেশে এখন থেকে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা তাদের পরিবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দাবি করতে পারবেন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঝুলে থাকা জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের সেই বিতর্কিত ‘আপত্তি’ বা রিজার্ভেশন অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, যা জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয় যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ গত ২৯ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছিল। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ এই কনভেনশনে যোগ দিলেও ১৪ (১) অনুচ্ছেদে আপত্তি জানিয়ে রেখেছিল, যার ফলে ভুক্তভোগীরা আইনিভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো। এখন থেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা তো বটেই, ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তার পরিবারও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে। মানবাধিকারকর্মীরা এই পদক্ষেপকে ‘যুগান্তকারী’ এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিতের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে আবারও নেতৃত্বের সারিতে উঠে এলো বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থা ‘শান্তি বিনির্মাণ কমিশন’ বা পিসবিল্ডিং কমিশন (পিবিসি)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে লাল-সবুজের এই দেশ। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশ্ববাসীর এই আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী ‘ব্যুরো’ গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মরক্কো এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা দেশগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘকে সরাসরি পরামর্শ দেওয়াই এই কমিশনের প্রধান কাজ। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর অন্যতম একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের ‘সভাপতি’ হিসেবে সফলভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘সহ-সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছে। ৩১টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিশনে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে কাজ করেন। সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বরাবরই বিশ্বশান্তি ও মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পিবিসির এই নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংঘাতময় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই বিজয় প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। এটি কেবল একটি পদ নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অসামান্য ত্যাগের এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস