- প্রচ্ছদ
- Topic
জাতিসংঘ
নিউইয়র্কের বিংহ্যামটনের ৩৩ বছর বয়সী জেফরি স্কট হ্যাম জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অন্যকে আহত করার হুমকি অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলায় তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাম নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যা বা আহত করার হুমকি পোস্ট করেন। প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্ট শনাক্ত করে এফবিআইকে জানান। এরপর এফবিআই হুমকিগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হ্যামের সঙ্গে অনলাইন পোস্টগুলোর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে। তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে হ্যাম স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই হুমকিমূলক বার্তাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে আদালতে দোষ স্বীকার করা মানে মামলার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়। ফেডারেল আদালতের বিচারক পরবর্তী শুনানিতে আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন। হ্যামের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত তার অপরাধের ধরন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে ফেডারেল কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে হুমকির কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, প্রমাণ ও সম্ভাব্য সাজা আলাদা। হ্যামের মামলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা কর্মীদের দেওয়া তথ্য তদন্তের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এখন আগামী জানুয়ারির সাজা ঘোষণার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আহমেত ইলদিজ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সেদাত ওনাল এবং নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল মুহিত্তিন আহমেত ইয়াজালসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কূটনৈতিক কর্মকর্তারা। ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়া তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই সফরে তাঁর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, অর্থমন্ত্রী মেহমেত সিমশেক, বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এমআইটি) প্রধান ইব্রাহিম কালিনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের একটি বড় প্রতিনিধিদল। আগামী মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের এই অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে নিজের বার্ষিক ভাষণ দেবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এটি হবে তাঁর ১৬তম উপস্থিতি। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের ভাষণে তিনি গাজায় ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান চরম মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ফিলিস্তিন ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একটি সম্মিলিত, সুস্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এছাড়া আগামী বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনেও তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন 'কপ-৩১' (COP31) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার আয়োজক হিসেবে তুরস্ক এই অধিবেশনে নিজেদের প্রস্তুতি ও অঙ্গীকারের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে ভাষণ দেবেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। এই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কথা রয়েছে। এবারের ভাষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের এবারের জাতিসংঘ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ধারাবাহিকতার শুরু ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছিল। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও কয়েকবার বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারকসভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্য রয়েছে। বাসসের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণ থেকে তারেক রহমানের নির্ধারিত ২০২৬ সালের ভাষণ পর্যন্ত ব্যবধান ৪৬ বছর। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ও থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভাষণটি তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম উপস্থিতি। একই সঙ্গে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই ভাষণ চার দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট স্থান পাবে। পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট এবারও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবে বলে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের কিছু সূচি পরিবর্তন হতে পারে। এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চলার কথা, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা আন্তর্জাতিক সংকট ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে সাধারণ পরিষদের বাংলায় ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে সামনে রেখে তাঁকে স্বাগত জানাতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ‘চল চল, নিউইয়র্ক চলো’ কর্মসূচির আওতায় গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির নেতা এজেএম হোসেনের নেতৃত্বে এসব প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের কমফোর্ট ইন-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের গণসংবর্ধনা ও নিউইয়র্ক যাত্রার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডেরা রেস্টুরেন্টে আরেকটি আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি মিলন ও গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে উপস্থিত থাকার জন্যও নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এজেএম হোসেন বলেন, ওয়াশিংটন বিএনপি অতীতের মতো বর্তমানেও দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের কয়েক দিন আগে ড্যাননের এই মন্তব্য সামনে এলো। নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ড্যানন মামদানির বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর আগে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা তিনি শহরের আইন বিভাগের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন। তবে জুলাইয়ে মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে গ্রেপ্তার হবেন না। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। এদিকে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে আসবেন। নেতানিয়াহুও অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। মেয়র মামদানি বলেছেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সফর ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামদানি ও নেতানিয়াহুকে ঘিরে এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে গাজা যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তবে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে শহরের নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নেই। ফলে ড্যাননের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত দুই পক্ষের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারিতে চালানো সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন। মিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কঠোর বিধিনিষেধের মতো ঘটনা রয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তেহরানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, সেখানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল বলে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি তারা পেয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের মিশনের মতে, বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তদন্তকারীরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে হামলার সময় ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডারের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু হামলার আগে সেই তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ বা যাচাই করা হয়নি। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মনে করেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যালয়টি সামরিক স্থাপনা কি না তা নিশ্চিত না করে হামলা চালানো এবং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা সাধারণ অবহেলার চেয়ে গুরুতর বিষয়। জাতিসংঘের মিশনের মতে, এর ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মিনাবের ওই হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, মেয়েদের স্কুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে কেউ হামলা চালায়নি। অন্যদিকে রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে মিনাবের হামলায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। পেন্টাগন পরে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি। মিনাবের হামলার পাশাপাশি লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা এই হামলাকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তবে লামের্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্চে জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দিনে মার্কিন বাহিনী লামের্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালায়। এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে। মিশন এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানি সরকারের সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি এবং প্রকৃত নিহত ও আহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ইরানি কর্তৃপক্ষের দমননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সময়ের দমন-পীড়নকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দমন অভিযানের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং বিক্ষোভের জন্য বিদেশি শক্তি ও নির্বাসিত সরকারবিরোধীদের দায়ী করে আসছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন পর্যালোচনা করায় সংঘাতের দুই দিকের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিও সামনে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে। দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন। আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান। চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।
উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান। এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে। ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স
প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট দেখানোর দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসানে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটিতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব মানচিত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানচিত্রে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মানচিত্রের নকশা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকা অঞ্চলগুলোর আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে এই ধরনের আয়তনগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ তাঁর মতে, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে। আফ্রিকান দেশগুলোর বক্তব্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনায় ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে দেখানোর একটি ধারণা তৈরি করেছে। তাই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগটি শুধু মানচিত্রবিদ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে দুসে স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। টোগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি চলতি বছরের মধ্যেই নিজেদের বিদ্যালয়ের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, অন্যান্য সমর্থক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও ব্যাপকভাবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় দেশটি। তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কোনো দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনো দেশকে মার্কেটর মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে না। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহার নিয়ে এই প্রস্তাব কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। নৌ ও বিমান চলাচলের মতো নির্দিষ্ট কাজে এই প্রজেকশন এখনও কার্যকর। জাতিসংঘের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’কে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, উদ্যোগটির সমর্থকেরা মনে করছেন, বাস্তব আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা মানচিত্র শিক্ষা ও জনসাধারণের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’সহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত ডিজিটাল মানচিত্রে আরও নির্ভুল মানচিত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের মানচিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন স্বীকৃতি পেল। সামনে বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
জাতিসংঘের কাছে জমে থাকা প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বকেয়া চাঁদার মধ্যে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেশটির কংগ্রেসকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তোলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ব সংস্থাটিকে দেওয়া এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা নথির তথ্যানুযায়ী, এই ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া বাবদ এবং বাকি ১২৫ মিলিয়ন ডলার হাইতি ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে পরিচালিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের খরচের জন্য হস্তান্তর করা হবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, সদস্য ফি বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংস্থাটির এখনো প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে; যার মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাধারণ বাজেটের এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন যে, সব সদস্য রাষ্ট্র তাদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে। সেই সতর্কবার্তার পর ট্রাম্প প্রশাসন মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন গত দেড় বছর ধরে জাতিসংঘে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে, যা সংস্থাটির বহু সেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করে ফেলেছে। এমনকি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে কোনো অনুদান দেয়নি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনেস্কো থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। তবে কংগ্রেসকে পাঠানো এই নোটিশ নিয়ে খোদ ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকানদের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলটির কিছু আইনপ্রণেতা যুক্তি দিচ্ছেন যে, জাতিসংঘে অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ কমানো এবং সংস্থাটির মতাদর্শগত অবস্থান পরিবর্তনের যে দাবি ট্রাম্প প্রশাসন করেছিল, এই অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) সহায়তা বন্ধ রাখার বিষয়ে অবস্থান কতটা কঠোর থাকবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। তবে মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম অর্থসংকটে থাকা জাতিসংঘের কার্যক্রমে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন একিউআইএসের আঞ্চলিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি আরও তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসআইএলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল। জাতিসংঘের ৩৮তম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট—একিউআইএস দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশেও সংগঠনটির উপস্থিতি ও কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক হুমকি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএসের কার্যক্রম এখন আরও বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সংগঠনটি ছোট ছোট সেল এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে চাপে থাকলেও তাদের আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে আইএসআইএলসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিস্তার, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ দল আল-কায়েদা, আইএসআইএল এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী হুমকি, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে এসব বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে তথ্য ও সুপারিশ দেয়। তবে বাংলাদেশে একিউআইএসের ঘাঁটি রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে উদ্বেগ ও কার্যক্রম বিস্তারের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, সেটিকেই প্রতিবেদনের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা নিরাপদ। দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার এবং আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক স্মারক সংবর্ধনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক প্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই অভ্যুত্থান জাতির ঐক্য ও দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন নিয়ে গঠিত এ কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা। তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় জানান। স্মারক আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনের পটভূমি, আত্মত্যাগ, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর প্রভাব তুলে ধরা হয়। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনেও দিবসটি উপলক্ষে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে জানা গেছে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এতে প্রায় চার দশক পর একই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একজন সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুতি চলছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিউইয়র্কে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলটির নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাণিজ্য, জনশক্তি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে আপাতত অন্য কোনো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী কারাবাসে (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সময়ে কারাগারে তার অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে অন্য বন্দিদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্বজন ও দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতি তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা জেল সুপারিনটেনডেন্ট, কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে আদৌ একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে কি না। যদি রাখা হয়ে থাকে, তবে কোন আইনের আওতায়, কতদিন এবং কী কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ শুনানি ছাড়াই উপেক্ষা করা যায় না। আদালত কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে আইন অনুযায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে প্রচলিত বিধি অনুসারেই আচরণ করা হচ্ছে। তবে একাকী কারাবাসের অভিযোগ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তার দলও অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিকভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা ও কারাবন্দিত্ব ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বলছে, সব আইনি প্রক্রিয়া আদালতের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।
উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমানের সঙ্গে সাইপ্রাসবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মারিয়া অ্যাঞ্জেলা হোলগিন কুয়েলার বৈঠক করেছেন। সোমবার উত্তর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘের দূত মারিয়া অ্যাঞ্জেলা হোলগিন কুয়েলার। তিনি জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার বিকেলে সাইপ্রাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি বলেন, সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব পৃথকভাবে উত্তর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান এবং গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের নেতা নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে সন্ধ্যায় দুই নেতাকে নিয়ে একটি যৌথ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। মারিয়া অ্যাঞ্জেলা হোলগিন কুয়েলারের মতে, এই সফর সাইপ্রাস ইস্যুতে জাতিসংঘের মহাসচিবের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালনকালে আন্তোনিও গুতেরেস সাইপ্রাস প্রশ্নে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি আরও জানান, মহাসচিবের এই সফরের লক্ষ্য সম্ভাব্য আলোচনা বা আলোচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা।
যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে গণছাঁটাই এবং অবৈধ অভিবাসীদের তড়িঘড়ি করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিকাগোসহ দেশজুড়ে অন্তত ১০০ জনেরও বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে পদচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বহাল থাকা বিচারকদের ওপর বিচার বিভাগ থেকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপগুলো কেবল বিচার বিভাগ পুনর্গঠন বা ছোট করার বিষয় নয়, বরং নিরপেক্ষ বিচারকদের সরিয়ে তাদের জায়গায় মূলত 'বহিষ্কার কার্যকর করার বিচারক' বসানোর একটি রাজনৈতিক চেষ্টা। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যারা নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয়ে আশ্রয়ের আবেদন করছেন, তাদের মামলা অবশ্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে শুনানির অধিকার রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে। এদিকে শিকাগোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক কার্লা এস্পিনোজা জানান, বর্তমান বিচারকদের ওপর মামলা দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। অভিবাসীদের তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কিংবা মুক্তির আবেদন জানানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন বিচারককে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা নিষ্পত্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগকে কার্যত অসম্ভব করে তোলে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিক বা অনাগরিক নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেকেরই আইনি সুরক্ষার (ডিউ প্রসেস) অধিকার রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাঁর উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর পরিচিতি, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং বৃহৎ একটি বৈশ্বিক সংস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে অভিন্ন লক্ষ্যে একত্র করার বিশেষ দক্ষতা ইনফান্তিনোর রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ ও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ইনফান্তিনো আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জাম্পাওলি সম্ভাব্য এই মনোনয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে গঠিত ফিফা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোকে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো দেশের সমর্থন পেলেই জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়া যায় না। প্রার্থীকে প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হয়। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের প্রত্যেকের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে মহাসচিব নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। পরবর্তী মহাসচিব পদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তা ভার্জিনিয়া গাম্বা। ভৌগোলিক আবর্তনের অলিখিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। সর্বশেষ ওই অঞ্চল থেকে জাতিসংঘের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রার্থিতা তাই প্রচলিত আঞ্চলিক প্রত্যাশার বাইরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যেই ফিফা সভাপতির দায়িত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস ও সভাপতি নির্বাচন ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে জাতিসংঘের শীর্ষ পদ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও আপাতত তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ফিফার নেতৃত্বে আরও এক মেয়াদ থাকা।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসদমন নিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে দেশ দুটির নেতিবাচক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কড়া মন্তব্য করা হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এমন বিরোধিতাপূর্ণ আচরণের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসদমন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশ দুটির ধারাবাহিক নেতিবাচক ভোটদানের ধরন প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, “এগুলো কি তাদের আসল রূপ উন্মোচন করছে না?” পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের মতে, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।