মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের জাহাজসহ অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান। জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা প্রণালিটি বন্ধ করিনি, এটি উন্মুক্ত রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়; বরং সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অবসান চায়। আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় জড়িত, তাদের জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে তেহরান। তিনি আরও জানান, জাপানের মতো দেশগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং এর অধিকাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এ অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। তাকাইচি বলেন, সমগ্র বিশ্ব বর্তমানে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল ট্রাম্পই সারা বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ওয়াশিংটনে এসেছেন। এ সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেন এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানোর নিন্দা জানান।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ। ইরান কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনায় নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল বা 'সেফ প্যাসেজ' নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এই জোট। মিত্র দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা, মাইন স্থাপন এবং মিসাইল নিক্ষেপের মতো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবনা মেনে চলার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
জাপান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি এই উদ্যোগ গ্রহণে আইনি সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাপানসহ অন্যান্য দেশকে তাদের নিজস্ব ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালে, জাপানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন করা জাপানের জন্য একটি জটিল সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, জাপানের আইন অনুযায়ী সরাসরি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো শর্তসাপেক্ষ এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পড়ে। তাই, যদিও আইনিভাবে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ নয়, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাপানকে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক হতে হচ্ছে। সংবিধানগত শান্তিবাদী নীতি ও সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে জাপানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও আইনি কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ওয়াশিংটনের আহ্বানের পরও টোকিও এখনও কূটনৈতিকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রাখছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাপানের ওকিনাওয়া বন্দর থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনাল ইউনিটের প্রায় ২,৫০০ জন সৈন্য ইতিমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছেন। এই বাহিনী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নামের আক্রমণকারী জাহাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চল পৌঁছাবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মেরিনরা সাধারণত সমুদ্র ও স্থল—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করে, কিন্তু এবার তাদের নির্দিষ্টভাবে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বা ইরানের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে সংঘাতে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে যে ওয়াশিংটন এই সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে দিয়ে তাইওয়ানের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত ইউনাগুনি দ্বীপে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জাপানের এই পদক্ষেপে পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে ইউনাগুনি দ্বীপে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০৩০ অর্থবছর থেকেই প্রয়োজনীয় সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, ইউনাগুনি দ্বীপটি তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই পদক্ষেপ মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখে দেওয়ার একটি কৌশল। বিশেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের আগে টোকিও নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও সংহত করতে চাইছে। ইতিপূর্বে তাকাইচি তাইওয়ান সংকটে জাপানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের এই পদক্ষেপকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, জাপান মূলত “আগুন নিয়ে খেলা” করছে। প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং ইতোমধ্যে জাপানের ওপর বেশ কিছু অর্থনৈতিক খড়গ নামিয়ে এনেছে। এর মধ্যে জাপানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা, বিরল খনিজ পদার্থ রপ্তানিতে কড়াকড়ি এবং জাপানের প্রায় ২০টি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি টোকিও চিড়িয়াখানায় থাকা ‘জায়ান্ট পান্ডা’ ফেরত নিয়ে চীন তার ক্ষোভের জানান দিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই সামরিক প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে জাপানের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। চীন জাপানের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে জাপানের প্রাণ হিসেবে পরিচিত অটোমোবাইল শিল্পের ওপর বেইজিং কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যা টোকিওর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলবে।
জাপানের রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করতে চলেছেন সানায়ে তাকাইচি। ৬৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন। তাকাইচি নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের “আয়রন লেডি” চরিত্রকে গ্রহণ করেছেন। ২০১৩ সালে থ্যাচারের সঙ্গে এক সিম্পোজিয়ামে সাক্ষাৎ থেকে তিনি তাঁর কঠোর নীতি ও দৃঢ় নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। রাজনীতিতে তার পথ সহজ ছিল না। আগে তিনি এলডিপির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তখন সাফল্য পাননি। সম্প্রতি পার্টি নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তাই তাকাইচির প্রধানমন্ত্রিত্ব এখনও নিশ্চিত নয়। তবে দলের অভ্যন্তরীণ সমর্থন তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। ব্যক্তিগত জীবন এবং অবস্থান থেকেও তাকাইচি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। তিনি হেভি মেটাল প্রেমী এবং ড্রাম বাজাতে পারদর্শী। এছাড়াও তিনি শক্তভাবে জাতীয়তাবাদী। নিয়মিতভাবে তিনি ইয়াসুকুনি মন্দিরে যান, যা চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের সংবিধান সংশোধন করে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সীমিত নিরাপত্তা জোট গঠন তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাকাইচি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নীতি “আবেনমিক্স”-এর দৃঢ় সমর্থক। তিনি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিনিয়োগকারীরা তার ব্যয়বহুল নীতির কারণে জাপানের ঋণগ্রস্ত অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক। নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তাকাইচি নারী মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়াতে চান। তবে সমলিঙ্গ বিবাহ এবং বৈবাহিক পদবী আলাদা রাখার মত বিষয়ের ক্ষেত্রে তিনি রক্ষণশীল। এর ফলে নারীর মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা সীমিত, কিন্তু পুরুষ ভোটারদের সমর্থন বেশি। পারিবারিক প্রেক্ষাপটও বিশেষ। তাঁর মা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, বাবা জাপানের অটোমোবাইল খাতে কর্মরত। কোবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন পড়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। ১৯৯৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৯৬ সালে এলডিপিতে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি নারায় একটি হরিণের উপর বিদেশি পর্যটকদের আচরণের সমালোচনা করে কঠোর নীতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং থ্যাচারের মতো দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে তাকাইচি জাপানের “আয়রন লেডি” হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। তাঁর বিজয় শুধু নারীদের জন্য নয়, জাপানের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নির্দেশ করছে। তবে দলীয় বিভাজন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে তার নীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
জাপানের সাধারণ নির্বাচনে অভাবনীয় ও ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে তাকাইচির দল এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে (NHK) সংগৃহীত ফলাফল অনুযায়ী, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষ নির্বাচনে তাকাইচির এলডিপি ইতিমধ্যেই ৩৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে এই সংখ্যা অনেক বেশি। যদিও পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা এখনো বাকি, তবে এলডিপির একক আধিপত্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশাল এই জয়ের আভাস পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক দশকে জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সম্প্রতি তহবিল জালিয়াতি ও নানা ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চরম ভাবমূর্তি সংকটে ছিল। দলের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাকাইচি এই আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হার ৭০ শতাংশের বেশি হওয়ায় ভোটাররা পুরোনো কেলেঙ্কারি ভুলে তাকাইচির ওপরই আস্থা রেখেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির এই সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির তুলনায় একেবারেই বিপরীত। আগের প্রধানমন্ত্রীদের আমলে দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে এলডিপি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। কিন্তু তাকাইচি তার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দিয়ে এলডিপিকে পুনরায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। জাপানে শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এবং প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ‘ক্লিন ইমেজ’ এই ভূমিধস জয়ের পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে তাকাইচি এখন আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি
জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন সূর্যোদয়! প্রবল তুষারপাত উপেক্ষা করে জনতা রায় দিল সানায়ে তাকাইচির পক্ষেই। ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি জোটের একক আধিপত্য কি তবে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত? রেকর্ড জয়: এলডিপি এবং তার মিত্র জোট সংসদের নিম্নকক্ষে ৩০০-এর বেশি আসন পেতে যাচ্ছে, যা দলটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য। নারীর নেতৃত্ব: জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩ মাসেই জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট ছিনিয়ে নিলেন তাকাইচি। সানা-নোমিক্স ও প্রতিরক্ষা: তার নতুন অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং চীনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরক্ষা নীতির পক্ষেই সায় দিলেন ভোটাররা। বিরোধীদের বিপর্যয়: প্রধান বিরোধী জোট ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ এই নির্বাচনে বড় ধরনের ধরাশায়ী হয়েছে। ত বছরের অক্টোবর মাসে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সানায়ে তাকাইচি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় নিজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি এই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে জাপানি ভোটাররা তাকাইচির রক্ষণশীল নীতি ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। তুষারাবৃত জাপানের এই রাজনৈতিক ভূমিকম্প এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তাকাইচির এই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কি এশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কোনো মেরুকরণ ঘটাবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন: এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাপানি প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হবে। কূটনৈতিক সাফল্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দূরদর্শী কূটনীতির ফসল হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন: কেবল সরঞ্জাম ক্রয় নয়, বরং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এটি আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ: সম্পূর্ণ চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে। আজ ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০২৩ সাল থেকে চলা নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘটল এই চুক্তির মাধ্যমে।
আমেরিকা বাংলা । আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাধর নিম্নকক্ষে এলডিপি-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা অত্যন্ত সামান্য। ফলে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো এবং বিশেষ রাজস্ব ব্যয় সংক্রান্ত তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে বারবার বাধার মুখে পড়ছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচি তাঁর মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ১২২.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বিশাল বাজেট পাসের আগেই জনগনের ম্যান্ডেট নিতে চাইছেন। যদি এলডিপি এককভাবে বড় জয় পায়, তবে অন্য দলগুলোর সাহায্য ছাড়াই তিনি তাঁর নীতিগুলো দ্রুত কার্যকর করতে পারবেন। তবে প্রধান বিরোধী দল সিডিপি-র নেতা জুন আজুমি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, বাজেট পাসের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া মূলত সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। এই নির্বাচনের পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে চীনের সঙ্গে জাপানের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংঘাতকে। সম্প্রতি চীন জাপানে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পণ্য এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির অপরিহার্য বিরল ধাতুর রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকাইচি যদি ঘরোয়াভাবে শক্তিশালী সমর্থন পান, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনের সাথে দরকষাকষিতে তাঁর হাত আরও মজবুত হবে। জাপানের সাধারণ মানুষের ৬০ শতাংশই এখন চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতির ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার সময় এলডিপি যে ছন্দ হারিয়েছিল, তা ফিরে পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে তাকাইচিকে ঠেকাতে একজোট হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, ৮ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে জাপানের ভোটাররা প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ওপর পুনরায় আস্থা রাখেন কি না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস