- প্রচ্ছদ
- Topic
জাপান
জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের অ্যাথলিট ও কর্মকর্তারা। ভারতীয় দলের কয়েকজন অ্যাথলিটও নাগোয়ায় পৌঁছে নির্ধারিত কক্ষ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোয়িং ও শুটিং দলের সদস্যদের কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর গেমস সেন্টারের লবি ও অন্যান্য অস্থায়ী জায়গায় সময় কাটিয়েছেন। এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে ফুটবল, বাস্কেটবলসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এবারের আসরে প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। আগের পরিকল্পনার তুলনায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আয়োজকরা এবার আলাদা করে কোনো বড় অ্যাথলিট ভিলেজ তৈরি করেনি। খরচ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রুজ জাহাজটিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বন্দরের এলাকায় তৈরি করা অস্থায়ী কনটেইনার ধরনের কক্ষেও প্রায় ২ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা দেয় নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর কক্ষ বরাদ্দের সময়। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভারত থেকে যাত্রা করা দলের একটি অংশ বুধবার সকালে নাগোয়ায় পৌঁছায়। দীর্ঘ যাত্রার পর তারা ক্রুজ জাহাজে পৌঁছালেও নির্ধারিত আবাসন পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। রোয়িং দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তারা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষ বরাদ্দ হয়নি। ভারতের রোয়িং দল এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগা দলগুলোর একটি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন অ্যাথলিটকে কক্ষ বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে কক্ষ পাওয়া গেলেও একাধিক ব্যক্তিকে একই কক্ষে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুটিং দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্বের খবর এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছানো শুটারদের একটি অংশ নির্ধারিত কক্ষ না পেয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে কয়েকজনকে গেমস সেন্টারের লবিতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। পরে ভোরের দিকে তাদের কক্ষ বরাদ্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একজন ভারতীয় কোচের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা এক দিন আগে নাগোয়ায় পৌঁছেছিলেন, তাঁদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি ছিল। পরদিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁর দলের সদস্যদেরও কয়েক ঘণ্টা কক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোচ জানান, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা পৌঁছালেও রাত প্রায় ১০টার দিকে কক্ষ পান। পরে গেমস সেন্টার থেকে বাসে করে তাদের হোটেলে যেতে হয়। আবাসন নিয়ে শুধু ভারতীয় দলই সমস্যায় পড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও অস্থায়ী কক্ষের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। কোরিয়ার বাস্কেটবল কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কনটেইনার ধরনের কক্ষের কিছু বিছানা দুই মিটারের বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কিছু কোচ ও কর্মকর্তাকে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া করা বাসস্থানে রাখা হয়েছে। আয়োজকরা অবশ্য জানিয়েছে, আবাসন নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। আয়োজক কমিটি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে নিবন্ধন বন্ধ হওয়ার সময় তালিকাভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের অনুমানের চেয়ে বেড়ে যাওয়াই আবাসন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। এবারের এশিয়ান গেমসে নতুন কয়েকটি ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জাপান অতিরিক্ত হোটেল কক্ষও প্রস্তুত রেখেছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, আবাসন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যাতায়াত ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রুজ জাহাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সক্রিয়করণে বিলম্ব হওয়ায় অনেক অ্যাথলিটকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জাপানের দলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রেও কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে সমন্বয় করতে হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্বোধনের আগেই আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকরা বলছে, সব নিবন্ধিত অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেসব বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া
ঘুমিয়ে সময় কাটানো নয়, এবার ভালো ঘুমই হতে পারে পুরস্কার জেতার উপায়। জাপানের টোকিওতে এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে কোরালা জেপি। ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৯০ মিনিট ঘুমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য বিজয়ী পাবেন ২২২ লাখ ইয়েনের পুরস্কার। প্রতিযোগিতাটি আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি আওয়ামার শেয়ার গ্রিন মিনামি আওয়ামা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগীদের কোরালা ম্যাট্রেসে শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং বিশেষ ঘুম পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটিই এখানে মূল বিষয় নয়। ঘুম কতটা গভীর ও মানসম্মত ছিল, কত দ্রুত ঘুম এসেছে এবং ঘুম কতটা স্থিতিশীল ছিল, এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’ তৈরি করা হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই স্কোর নির্ধারণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিযোগী হবেন বিজয়ী। তবে প্রতিযোগিতায় জিততে হলে আগে থেকেই সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে আসার সুযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুম বঞ্চিত থাকা, ঘুমের ওষুধ বা ঘুম আনতে সহায়তা করে এমন ওষুধ ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সুবিধা নিতে কেউ আগের রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারবেন না। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের ‘ঘুমের ব্যায়াম’। এরপর প্রত্যেককে এলোমেলোভাবে একটি করে ঘুম-সংক্রান্ত সামগ্রী দেওয়া হবে। এসব সামগ্রী ঘুমের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে। এরপর শুরু হবে মূল ৯০ মিনিটের ঘুমের পর্ব। প্রতিযোগীরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন আয়োজকেরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিঘ্ন ঘটাবেন। এর মাধ্যমে হঠাৎ কোনো বাধা তৈরি হলেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, সেটিও যাচাই করা হবে। ফলে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, পুরো সময়জুড়ে ঘুমের মান ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। সবচেয়ে গভীর ঘুমের জন্য ‘ডিপ স্লিপ ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপ-টার্নিং অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্ব থাকবে। প্রতিটি পর্বে প্রায় ২০ জন করে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ঘুমের পর্বের সময় ৯০ মিনিট। পুরো আয়োজনটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জাপানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি আয়োজন, যেখানে শারীরিক শক্তি বা দ্রুততার বদলে প্রতিযোগিতার মূল মাপকাঠি হবে বিশ্রামের মান। কোরালা জেপি জানিয়েছে, ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ তাদের কোরালা ম্যাট্রেসকে ঘিরে আয়োজিত একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুষ্ঠান। আয়োজনটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইভেন্ট নির্মাতা আফ্রোম্যান্স। সূত্র: কোরালা জেপি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো। তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে নির্মিত একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গ্রানাইটের তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে দেখা যায়, এক সোভিয়েত সেনা তার রাইফেলের বাট দিয়ে একটি সীমান্তচিহ্ন ভেঙে ফেলছেন। ওই সীমান্তচিহ্নে জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্যান্থেমাম বা সম্রাটের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্কে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এতে যে সীমান্তচিহ্ন দেখানো হয়েছে, সেটি প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপটির দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো সাখালিন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাশিয়া স্মৃতিস্তম্ভটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দেখছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাপানের ক্রিস্যান্থেমাম প্রতীক ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে এমন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, টোকিও কূটনৈতিক চ্যানেলে রাশিয়ার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা চাপ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া অবশ্য জাপানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বিষয়টি মস্কো ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপানের উচিত এ নিয়ে ‘চিরকাল অনুতপ্ত থাকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির আরেকটি প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক পল রিচার্ডসন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় ‘আক্রমণাত্মক ও বিজয়োল্লাসের’ আবহ রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করার ক্ষেত্রে মস্কোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টোকিও মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে জাপান ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে পারে। দেশটির কিছু রক্ষণশীল মহল ইতোমধ্যে কিয়েভকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টিও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলেও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে। জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই। এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে। চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না। দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে। মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নিজের বাসভবনে তেলাপোকা দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে পরে তার কর্মীরা সেটি সরিয়ে দেওয়ার পর উল্টো কিছুটা ‘একাকী’ ও ‘মন খারাপ’ লাগার কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই শেয়ার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ২২ আগস্ট এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাকাইচি তার সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা দেখার ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি নিয়মিত যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সেগুলোর কয়েকটির উত্তর দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল, টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে প্রচলিত ভূতের গল্প সত্যি কি না এবং তিনি সেখানে কোনো ভূত দেখেছেন কি না। তাকাইচি জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ভূত দেখেননি। তবে একটি তেলাপোকার দেখা পেয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ১৯৩০-এর দশকে জাপানে সংঘটিত দুটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভবনটির ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। ওই সময় নিহত ব্যক্তিদের আত্মা সেখানে ঘোরাফেরা করে বলে দীর্ঘদিন ধরে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূত দেখার প্রশ্নটি করা হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভূতের বদলে তাকাইচির সামনে হাজির হয়েছিল বাস্তবের একটি তেলাপোকা। এক্সে তাকাইচি লেখেন, এর আগে সদস্যদের আবাসিক ভবনে থাকার সময় তিনি কখনো তেলাপোকার মুখোমুখি হননি। সরকারি বাসভবনে ওঠার পরও তিনি পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিলেন। খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত শক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন, প্লাস্টিকের পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং খাবার টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন। তারপরও একদিন হঠাৎ খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা দৌড়ে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন। তাকাইচি জানান, ছোটবেলায় ওসামু তেজুকার ‘ফিনিক্স’ মাঙ্গা তার খুব প্রিয় ছিল। পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্রের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে বড় হওয়ার পরও কোনো পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাকেও হত্যা করতে তার মন সায় দেয় না। তাই তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলার বদলে তিনি সেটিকে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে দেন। নিজের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তাকাইচি জানান, তার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনও পুনর্জন্মের দীর্ঘ চক্রেরই একটি অংশ। তবে তেলাপোকাটিকে বেশিদিন স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাকাইচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুনে তার এক কর্মী বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, এটি অস্বাস্থ্যকর এবং তিনি নিজেই ব্যবস্থা নেবেন। এরপর কর্মীদের উদ্যোগে তেলাপোকা ধরার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তাকাইচি সেটিকে মজার ছলে ‘অপারেশন কমব্যাট’ বলে উল্লেখ করেছেন। কর্মীদের সেই অভিযানের পর সরকারি বাসভবনে আর কোনো তেলাপোকা দেখেননি তাকাইচি। কিন্তু ঘটনাটির শেষটা তার নিজের কাছেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। তেলাপোকাটি চলে যাওয়ায় স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে তার কিছুটা একাকী বা বিষণ্ন লাগছিল বলে জানান তিনি। এক্স পোস্টে তাকাইচি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার পর তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন, তবে একই সঙ্গে কিছুটা একাকী বা মন খারাপও লাগছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ও হালকা মেজাজের গল্প প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কাজের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছেন। তবে তেলাপোকার গল্পটি প্রকাশের আগে আরেকটি পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, তিনি তার দপ্তরের পরিবর্তে সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি সরকারি বাসভবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হচ্ছিল। তাকাইচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাসভবন থেকে কাজ করলে একই সময়ে প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ পুলিশ বা নিরাপত্তা সদস্যদেরও কম সময়ের জন্য যুক্ত করতে হয়। এতে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন শুধু থাকার জায়গা নয়। এটি বৈঠক এবং বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তেলাপোকা নিয়ে এই গল্পটি দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাসভবনকে ঘিরে প্রচলিত ভূতের গল্পের আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূত না দেখলেও তেলাপোকার সঙ্গে তার এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ এবং সেটি চলে যাওয়ার পর তার ‘একাকী’ অনুভূতির কথা এখন মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক্স পোস্ট
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে ক্লান্ত সাত বছর বয়সী ছেলেকে একা ফেলে বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক বাবাকে কঠোর তিরস্কার করেছে স্থানীয় পুলিশ। কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার (সাড়ে ছয় হাজার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখা যায়। খাবার হিসেবে শিশুটির কাছে ছিল মাত্র একটি কোমল পানীয় ও হালকা কিছু স্ন্যাকস। জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজির ফুজিনোমিয়া রুট দিয়ে চূড়ায় ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পথিমধ্যে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা জানালে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে সামিটের দিকে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি মাউন্টেন হাটের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা দূরত্বে সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকা থেকে পুলিশ ওই বাবাকে খুঁজে বের করে। টানা প্রায় আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের পর যখন তার বাবা ফিরে আসেন, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে পর্বতারোহণ বাতিল করা উচিত ছিল, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই এমন প্রতিকূল পরিবেশে একটি শিশুকে একা ফেলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর ওই বাবা নিজের অবিবেচক সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উল্লেখ্য, ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক এখানে আরোহণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনভিজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে পর্বতটিতে দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতার সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপানের অপরাধ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি টোকিওর সেতাগায়া পরিবার হত্যা। ঘটনাস্থলে খুনি নিজের রক্ত থেকে শুরু করে পোশাক, ব্যাগ, রুমাল এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি পর্যন্ত ফেলে গিয়েছিল। এত বিপুল আলামত হাতে থাকার পরও ২৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো শনাক্ত হয়নি খুনি। ২০২৬ সালেও মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোরের মধ্যে। টোকিওর সেতাগায়া এলাকার কামি সোশিগায়ায় নিজেদের বাড়িতে খুন হন ৪৪ বছর বয়সী মিকিও মিয়াজাওয়া, তার স্ত্রী ইয়াসুকো এবং তাদের দুই সন্তান নিনা ও রেই। নতুন বছর শুরুর ঠিক আগে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি তখন পুরো জাপানকে নাড়িয়ে দেয়। শুরুতে পুলিশের ধারণা ছিল, ঘটনাস্থলে এত আলামত পাওয়া যাওয়ায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তদন্তকারীদের সবচেয়ে অবাক করেছিল খুনির রেখে যাওয়া বিপুল ব্যক্তিগত সামগ্রী। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে একটি সোয়েটশার্ট, টুপি, হিপ ব্যাগ, স্কার্ফ, গ্লাভসসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। খুনির ব্যবহৃত জুতার ছাপও পাওয়া যায়। পুলিশ দুটি কালো রুমালও উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, রুমাল ও ব্যাগে ফরাসি ব্র্যান্ড গি লারোশের ‘ড্রাকার নোয়ার’ পারফিউমের উপাদান ছিল। এই পারফিউম জাপানে আশির দশক থেকেই বিক্রি হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ছুরিটিও শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এটি ছিল ‘সেকি মাগোরোকু গিনজু’ নামে বিক্রি হওয়া একটি সাশিমি ছুরি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুনে একই ধরনের মোট ১ হাজার ৫০০টি ছুরি তৈরি হয়েছিল এবং কানতো অঞ্চলের ৪৬টি দোকানে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ আলামত আসে খুনির শরীর থেকেই। হামলার সময় তার হাত আহত হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে তার রক্ত থেকে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রক্তের গ্রুপ ‘এ’। আঙুলের ছাপসহ আরও ফরেনসিক আলামতও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। খুনির পরনে থাকা সোয়েটশার্টের উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্ত আরও সংকীর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের আগে পুরো জাপানে একই ধরনের মাত্র ১৩০টি সোয়েটশার্ট বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে টোকিওতে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১০টি। এত নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরে খুনির পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি। জুতার সূত্রটিও ছিল রহস্যজনক। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হয়, খুনির জুতাটি দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি স্ল্যাজেঞ্জার ব্র্যান্ডের ২৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার মাপের। একই মাপের জুতা জাপানের বাজারে বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এসব পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে আসছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে পোশাক বা অন্যান্য আলামত চিনতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ২৫ বছর পরও মামলাটি বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৬ সালেও এটি টোকিও পুলিশের সক্রিয় তদন্তাধীন মামলার তালিকায় রয়েছে। খুনিকে গ্রেফতার বা মামলার সমাধানে কার্যকর তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ইয়েন পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একটি পরিবারের চার সদস্যকে কারা এবং কেন হত্যা করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, নিজের এত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, রক্ত ও ফরেনসিক আলামত ফেলে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন খুনি এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শনাক্ত না হয়ে রয়ে গেল।
জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়। চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না। গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন। রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য। ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস। তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার। জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে। সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।
জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চিবা প্রিফেকচারে ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পর বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিতে চার লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর পূর্বে চিবা এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো চিবা প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করে। বন্যার পানিতে গাড়িতে আটকা পড়ে সাকুরা শহরে ৬৬ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। ইচিকাওয়া শহরে প্লাবিত সড়ক থেকে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও দুজন গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটান। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাসদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার বৃষ্টি কমে এলেও চিবা এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিবা গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন। জাপানের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।
বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল মাত্র ৩০টির মতো বেজি। উদ্দেশ্য ছিল বেজি সাপ ও ইঁদুর শিকার করবে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি কমাবে। কিন্তু পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। সাপের বদলে দ্বীপের বিরল ও স্থানীয় প্রাণীদের শিকার করতে শুরু করে বেজি। কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালে দ্বীপটিকে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে জাপান সরকার। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমামি ওশিমায় ছাড়া বেজিগুলো ছিল স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ। দ্বীপটিতে এ প্রাণী আনার পেছনে ছিল বিষধর হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। তবে হাবু মূলত রাতে সক্রিয়, আর বেজি বেশি সক্রিয় দিনের বেলায়। ফলে যে সাপ দমনের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল তুলনামূলক কম। এর পরিবর্তে বেজির সহজ শিকারে পরিণত হয় আমামি ওশিমার স্থানীয় বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে ছিল বিপন্ন আমামি খরগোশ এবং দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেয়ে বেজির বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আমামি ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বেজির সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশেরও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯১০ সালে গঙ্গা নদীর মোহনা অঞ্চল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ, সেখান থেকে বেজি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মনোনয়নের জন্য জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় ১৭টি বেজি ওকিনাওয়ায় ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর ১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি নিয়ে আমামি ওশিমায় ছাড়া হয়। শুরুতে যে সিদ্ধান্তকে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় মনে করা হয়েছিল, পরে সেটিই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। বেজির বিস্তারের সঙ্গে আমামি খরগোশসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির আবাস ও বিস্তৃতি সংকুচিত হওয়ার সম্পর্কও ধরা পড়ে সরকারি গবেষণায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিকর বন্যপ্রাণী হিসেবে বেজি ধরার কাজ শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাপানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ও কাগোশিমা প্রিফেকচার আরও বিস্তৃতভাবে বেজির সংখ্যা, বিস্তার এবং ধরার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০০ সালে শুরু হয় বড় পরিসরের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে ফাঁদ, ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আমামি ওশিমায় সর্বশেষ বেজিটি ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর আর কোনো বেজি পাওয়া যায়নি। কিন্তু শুধু বেজি ধরা না পড়ার ভিত্তিতে নির্মূল ঘোষণা করেনি জাপান। দ্বীপে কোনো প্রজননক্ষম বেজির জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়। দুটি বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বেজি নির্মূলের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়। একটি মডেলে সফলতার সম্ভাবনা আসে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়নের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ নির্মূল হয়েছে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে এত বড় একটি দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বেজির প্রজননশীল জনগোষ্ঠী নির্মূলের ঘটনা বিশ্বেও বিরল। তবে আমামি ওশিমার অভিযান শেষ হলেও ওকিনাওয়ায় বেজির সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার উত্তরাঞ্চলে এখনও বেজি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা প্রাণীটির পরিবেশগত প্রভাব জাপানের অন্য অংশে এখনও সামলাতে হচ্ছে। আমামি ওশিমার ঘটনাটি এখন বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে কোনো স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে গেলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ৩০টি বেজি সাপের উপদ্রব কমানোর আশায় দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা একসময় প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে জাপানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এই হার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ ৩১ তারিখে শেষ হওয়া অর্থবছরে খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৪৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বর্তমান হার বেশ কম। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ক্যালরি ভিত্তিক খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার বলতে দেশে মানুষ যে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে, তার কত অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, তা বোঝানো হয়। গত অর্থবছরে এই হার কমার পেছনে চালের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে খাদ্য মজুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই জাপান খাদ্য উৎপাদনে নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। আমদানিনির্ভর গম ও সয়াবিনের মতো কৃষিপণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্বনির্ভরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গত অর্থবছরে উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে দেশটির খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্যের মধ্যে চাল ও প্রাণিজ পণ্যের অভ্যন্তরীণ দাম বাড়ায় এই হার বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। অর্থাৎ ক্যালরি ভিত্তিক হিসাব এবং উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার এক নয়। ক্যালরি ভিত্তিক হিসাবে দেশটির বর্তমান হার ৩৭ শতাংশ হলেও উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে তা ৬৬ শতাংশ। জাপানের কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে শ্রমশক্তির বয়স বাড়া, নতুন প্রজন্মের উত্তরসূরি কমে যাওয়া এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি। এর পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। চালের পরিবর্তে মাংস এবং তেল দিয়ে রান্না করা খাবারের দিকে মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও দেশটির ক্যালরি ভিত্তিক খাদ্যে স্বনির্ভরতার হারে প্রভাব ফেলেছে। ফলে কৃষি খাতের কাঠামোগত সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মিলিয়ে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার দীর্ঘ সময় ধরে ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। সরকার ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৪৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল গম ও সয়াবিনের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের খাদ্য নিরাপত্তা কার্যালয়ের পরিকল্পনা পরিচালক তোশিয়াকি সাসাকি জানিয়েছেন, এ লক্ষ্য পূরণে গম ও সয়াবিন উৎপাদনের জন্য কৃষিজমির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ এসব পণ্যের ক্ষেত্রে জাপান এখনো আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শেষ দিকে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আমদানিনির্ভর দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ২০২৩ সালে ১০০ শতাংশের বেশি ছিল। একই সময়ে জার্মানির হার ছিল ৮১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ৫৬ শতাংশ এবং ইতালির ৫১ শতাংশ। এসব হিসাবের তুলনায় জাপানের ৩৭ শতাংশ ক্যালরি ভিত্তিক স্বনির্ভরতার হার দেশটির খাদ্য সরবরাহের ওপর আমদানিনির্ভরতার চিত্র তুলে ধরে। ২০৩০ সালের ৪৫ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাপানকে তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি করতে হবে। সূত্র: রয়টার্স
জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। হাজারো পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রাকৃতিক ছিল না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি নাকচ করে বলেছেন, এত বড় ভূমিকম্প কৃত্রিমভাবে ঘটানো প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাস্তবিক দিক থেকে অবাস্তব। গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটের দিকে কুমামোতো অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তির ধরন ছিল ফল্টের স্বাভাবিক নড়াচড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় কুমামোতোর উকি সিটি ও হিকাওয়া এলাকায়। ভূমিকম্পের দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী দাবি করেন, রেকর্ড করা সিসমিক ওয়েভ বিস্ফোরণের মতো, ভূমিকম্পের মতো নয়। পোস্টটি কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখবার দেখা হয়। অনলাইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মেল্টওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, জাপানি ভাষায় ‘কৃত্রিম ভূমিকম্প’ উল্লেখ করা পোস্টের সংখ্যা ভূমিকম্পের দিন প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরের দিন তা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার হয়। এসব পোস্টের অনেকটিতে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ পুরোনো ভিডিও, অসম্পূর্ণ সিসমিক গ্রাফ এবং আগের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কহীন তথ্য ব্যবহার করে দাবি ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে বহু ব্যবহারকারী এসব দাবির বিরোধিতা করে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। জাপানের সিসমোলজিক্যাল সোসাইটি এ ধরনের দাবি মোকাবিলায় তাদের ওয়েবসাইটে আলাদা ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ছোট পরিসরে ভূগর্ভস্থ কাঠামো পরীক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ বা কম্পন তৈরি করা সম্ভব হলেও, বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পকে অস্ত্র হিসেবে ঘটানো বাস্তবসম্মত নয়। জাপান ফ্যাক্ট-চেক সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণ এবং প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের সিসমিক ওয়েভ এক নয়। বিস্ফোরণে সাধারণত পি ওয়েভ বেশি শক্তিশালী হয় এবং এস ওয়েভ তুলনামূলক দুর্বল থাকে। অন্যদিকে ফল্টের নড়াচড়ায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক ভূমিকম্পে ভিন্ন ধরনের তরঙ্গ দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন সিসমিক স্টেশন এসব তথ্য রেকর্ড করায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ গোপন করাও কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বড় ভূমিকম্পের শক্তি এত বেশি যে তা কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং ভূগর্ভের অনেক গভীরে পৌঁছানোর প্রযুক্তি লাগবে। বর্তমানে মানুষের খননক্ষমতা যে গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের তুলনায় অনেক কম। ফলে নির্দিষ্ট ফল্টে গোপনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কুমামোতো ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩৮ এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানানো হয়েছে। হাজারো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু পরিবার পানি ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। তবে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলমান থাকায় এসব সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় একাধিক টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়। ২০১৬ সালেও কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুর্যোগের পর এ ধরনের ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কার্যক্রম, সরকারি নির্দেশনা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্প প্রস্তুতির ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি শেয়ার করার আগে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে একটি বড়সড় ও উদ্বেগজনক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসরত জাপানি নাগরিকদের সংখ্যা ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। ১ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, জাপানি বাসিন্দাদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ জন (০.৭৬ শতাংশ) কমে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা কমছে এবং এটিই রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় পতন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা কমলেও, জাপানে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৬ জন (৯.৬২ শতাংশ) বেড়ে ৪০ লাখ ৩১ হাজার ১৫৯-এ পৌঁছেছে, যা ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে, কোভিড-১৯ মহামারির পর ২০২৩ সাল থেকে জাপানে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল ২০২৫ সালেই রেকর্ড ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ জন মানুষ বিদেশ থেকে দেশটিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৬টিতেই জাপানি নাগরিকের সংখ্যা কমেছে। এর মধ্যে আকিটায় সর্বোচ্চ ১.৯৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে। একমাত্র টোকিওতেই টানা তৃতীয় বছরের মতো জাপানি বাসিন্দাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা হ্রাসের এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হলো জন্মহার কমা এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি। ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৭ জন শিশু, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৫। ফলে স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ৮ জনে। দেশটিতে জাপানি ও বিদেশি মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪২-এ নেমে এসেছে।
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। কম্পনের পর কুমামোতোসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাপানের কিউশু অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সমুদ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও শক্তিশালী কম্পনের পর নিয়মিতভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আফটারশকের আশঙ্কায় মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাপানে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বিরোধিতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বাড়তে থাকা উদ্বেগ, সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় সহাবস্থান ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন মসজিদ নির্মাণের ফলে স্থানীয় সমাজের ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতো আরও অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে জাপানের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যা সংকট। জন্মহার কমে যাওয়া এবং দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির কারণে দেশটি ক্রমেই বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কিন্তু অভিবাসন এখনও জাপানে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়। ফলে নতুন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনধারার মানুষের উপস্থিতি সমাজে নতুন ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিরোধীদের একটি অংশের দাবি ছিল, পাশের শিন্তো মন্দিরের চেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সরাসরি বিরোধিতার পরিবর্তে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাধ্যতামূলক ‘কমিউনিটি এগ্রিমেন্ট’ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যানজট, শব্দদূষণ বা অন্যান্য স্থানীয় উদ্বেগ নিয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে ঘিরে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে অপমানজনক ফোনকল ও ই-মেইল পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। এর জবাবে মানবাধিকার ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনগুলো ‘ঘৃণা নয়’—এই বার্তা নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি শুরু করেছে। ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফিশপ পরিচালনা করেন হিরোকি সুজুকা। তিনি বলেন, বিরোধ নয়, বরং একে অপরকে জানার মধ্যেই সমাধান রয়েছে। তার ভাষায়, “আমি মসজিদ নির্মাণের বিপক্ষে নই, আবার খুব জোরালো সমর্থকও নই। আগে আমাদের জানা দরকার ইসলাম কী, মুসলমানরা কেমন মানুষ এবং তারা কী ধরনের মূল্যবোধ ধারণ করেন। বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সহাবস্থানের পথ তৈরি হতে পারে।” জাপানে প্রায় চার দশক ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ী মোহামেদ মোহিদিন। ১৯৮৭ সালে ওসাকায় আসা এই মুসলিম ব্যবসায়ীর দাবি, আগে বিদেশিদের প্রতি স্থানীয়দের আচরণ তুলনামূলকভাবে আন্তরিক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলমানদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্টভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই “জাপান ছেড়ে চলে যাও” বা “নিজের দেশে ফিরে যাও” ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সামনে গিয়ে অপমানজনক আচরণও করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তেজনার জবাব তারা ধৈর্য ও সৌজন্যের মাধ্যমেই দিতে চান। মোহিদিনের মতে, “জাপানের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাই আমাদেরও সমাজের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং নিজেদের সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।” সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহামেদও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান থেকে জাপানে আসা এই প্রবীণ মুসলিম বলেন, জাপানে বসবাস করতে হলে দেশটির আইন, সামাজিক রীতি ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “আবর্জনা আলাদা করে ফেলা, পার্কিং আইন মেনে চলা কিংবা মানুষকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানানো, এসব ছোট ছোট বিষয়ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।” ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক তাই এখন শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাপানের পরিবর্তিত জনসংখ্যা, বিদেশি শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনের পথে দেশটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই গবেষণার স্বপ্ন দেখা তাহিয়া নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তাহিয়ার শিক্ষাজীবনের শুরুটা সন্দ্বীপেই। সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর তিনি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। স্কুলজীবনেই চাচা মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণায় একজন গবেষক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম বর্ষ থেকেই গবেষণায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাগারের অপর্যাপ্ত সুযোগ, প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের অভাব এবং গবেষণা খাতে কম বরাদ্দের কারণে তিনি বেশ হতাশ হন। তবে এই সীমাবদ্ধতাকে তিনি কেবল নিজের বিভাগের নয়, বরং পুরো দেশের গবেষণাব্যবস্থার একটি চিত্র হিসেবে উপলব্ধি করেন। আর তখনই স্নাতক শেষ করার আগেই দেশের বাইরের কোনো উন্নত গবেষণাগারে কাজের স্বপ্নটি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় নিজ বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জাপানে ইন্টার্নশিপের খবর তাহিয়াকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন। শুধু পড়াশোনায় নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড আয়োজনে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ‘নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস (এনওয়াইবি)’-এর সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। মানবদেহের জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পোস্টার উপস্থাপনের জন্য অর্জন করেন একাধিক পুরস্কার। তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮৩ সিজিপিএ ধরে রাখার পাশাপাশি ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে তিনি ওয়েবসাইট ঘেঁটে এবং সিনিয়রদের পরামর্শ নিয়ে বিদেশে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে তিনি জাপানে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে ই-মেইলের মাধ্যমে জাপানের গবেষণাগার থেকে চূড়ান্ত সুখবরটি পান তাহিয়া। দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর মাত্র দুই-তিনজন শিক্ষার্থী এই সুযোগ পান, তাই এমন খবর প্রথমে তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে তিনি এই ইন্টার্নশিপে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবে কাজ করবেন। বর্তমান বিশ্বে স্নায়বিক রোগ, বিশেষ করে আলঝেইমার, স্মৃতিভ্রম ও চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণহীনতার মতো জটিল সমস্যাগুলোর নিরাময়ে কোনো উপযুক্ত প্রতিষেধক নেই। তাহিয়া মূলত এই চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রটিতেই গবেষণা চালাবেন। ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখা তাহিয়া মনে করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বে প্রচুর সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নতুন দক্ষতা অর্জন ও সিনিয়রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রস্তুতি জোরদার করলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরম থেকে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতে জাপানে ব্যতিক্রমী এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ‘ব্যক্তিগত কুলিং বুথ’ বা মানব ফ্রিজ বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এয়ারকন্ডিশনার বা সাধারণ বৈদ্যুতিক ফ্যানের তুলনায় এই যন্ত্রটি অনেক বেশি কার্যকরভাবে শরীর ঠান্ডা করতে পারে বলে এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে। দো হিয়েমন নামের এই অভিনব ধাতব বুথটি দেখতে অনেকটা রেফ্রিজারেটরের মতো, যার উচ্চতা প্রায় ২ দশমিক ১ মিটার বা ৭ ফুট। যন্ত্রটির ভেতরে ঢোকার পর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা রাখা হয়। একই সঙ্গে মাথার পেছনের অংশ, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঠান্ডা বাতাসের তীব্র ঝাপটা দেওয়া হয়, যা দ্রুত শারীরিক তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র তাপপ্রবাহের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা গরমের পাশাপাশি এই সপ্তাহে জাপানও বছরের প্রথম ‘তীব্র গরমের’ দিনগুলোর মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি বেশ ব্যয়বহুল মনে হতে পারে, কারণ যন্ত্রটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৯০০ ব্রিটিশ পাউন্ড বা ১৫ লাখ জাপানি ইয়েন। তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, এটি চালাতে ঘণ্টায় অত্যন্ত সামান্য খরচ হয়, যা সাধারণ একটি টোস্টার চালানোর খরচের তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। বিশেষ করে যেসব শিল্প কারখানা বা গুদামে শ্রমিকরা নিয়মিত প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন, সেখানে এটি অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে। এছাড়া জনবহুল বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে, যেখানে মানুষ অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, সেখানে ভেন্ডিং মেশিনের মতো এটি স্থাপন করা গেলে তা জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অভিনব উপায় খুঁজলেও এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনটি গরমের দিনে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জাপানের নাগোয়া শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন থেকে এক যুবক নিচে পড়ে এক নারী পথচারীর ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ওপর থেকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে ওই যুবক ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—উভয় দিক থেকেই তদন্ত চলছে। জাপানি গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে নাগোয়া শহরের সাকায়ে এলাকার ইয়াবাচো স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণী হৌরা ইনাবা (২৩) এক বন্ধুর সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় শিনসেই তাগুচি (২৯) নামের এক ব্যক্তি ১২ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়েন। ঘটনার পর ইনাবার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, একজন ব্যক্তি ওপর থেকে পড়ে তাঁর বন্ধুকে গুরুতর আহত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত শকে (হেমোরেজিক শক) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনাবার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাগুচি এখনো অচেতন এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইচি প্রিফেকচার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাগুচি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তিনি ভবনের ঠিক কোন তলা থেকে পড়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি নাগোয়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন, দোকানপাট এবং বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। গভীর রাত হলেও এলাকায় পথচারীদের চলাচল ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জাপানে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইয়োকোহামায় একটি ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিচে থাকা এক নারী পথচারীর ওপর পড়লে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২০ সালে ওসাকায়ও বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরের সঙ্গে নিচে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।