জাপানের সাধারণ নির্বাচনে অভাবনীয় ও ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে তাকাইচির দল এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে (NHK) সংগৃহীত ফলাফল অনুযায়ী, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষ নির্বাচনে তাকাইচির এলডিপি ইতিমধ্যেই ৩৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে এই সংখ্যা অনেক বেশি। যদিও পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা এখনো বাকি, তবে এলডিপির একক আধিপত্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিশাল এই জয়ের আভাস পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক দশকে জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সম্প্রতি তহবিল জালিয়াতি ও নানা ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চরম ভাবমূর্তি সংকটে ছিল। দলের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাকাইচি এই আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হার ৭০ শতাংশের বেশি হওয়ায় ভোটাররা পুরোনো কেলেঙ্কারি ভুলে তাকাইচির ওপরই আস্থা রেখেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির এই সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির তুলনায় একেবারেই বিপরীত। আগের প্রধানমন্ত্রীদের আমলে দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে এলডিপি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। কিন্তু তাকাইচি তার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দিয়ে এলডিপিকে পুনরায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।
জাপানে শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এবং প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ‘ক্লিন ইমেজ’ এই ভূমিধস জয়ের পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে তাকাইচি এখন আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের টাম্বলার রিজ শহরের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুল ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই নিজের জীবন নিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরে আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, হামলার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল ও টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ এবং ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এলাকার আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা সহায়তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গাজায় চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজার আল-তাবিন স্কুলে ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি সাদ মাহানির কোনো খোঁজ পাননি। হাসপাতাল ও মর্গে দিনের পর দিন অনুসন্ধান করেও তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে মানুষের দেহ মুহূর্তে ভস্মে পরিণত হচ্ছে। রুশ সামরিক বিশ্লেষক ভাসিলি ফাতিগারভ জানিয়েছেন, থার্মোবারিক বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণে ২,৫০০–৩,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করে। এতে দেহের তরল অংশ দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি, তাই চরম তাপ ও চাপের কারণে দেহের টিস্যু মুহূর্তেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু বিশেষ বোমার ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে, যেগুলো ভবনের কাঠামো অক্ষত রেখে ভেতরের মানুষ পুরোপুরি ধ্বংস করে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু হামলাকারী ইসরায়েলের নয়, অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোরও। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্র ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধাহতদের স্বজনদের কাছে এসব আইনি ব্যাখ্যার তেমন গুরুত্ব নেই। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে চার সন্তান হারানো রফিক বদরান জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের দেহের সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওরা কোথায় চলে গেল?” এই অনুসন্ধান বিশ্বের কাছে গাজার হামলার প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরছে, যেখানে বেসামরিক মানুষদের জীবন ও মর্যাদা ধ্বংসের শিকার হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির জনগণকে জাতির প্রতি ঐক্য ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে টেলিভিশন ভাষণে খামেনি জনগণকে উদ্দীপ্ত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানি জাতির শক্তি এবং মর্যাদা প্রদর্শনের দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিনে ব্যাপক জনগণ অংশগ্রহণ করে শত্রু পক্ষকে প্রভাবিত করতে সাহায্য করে। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতির দৃঢ়সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তিই জাতীয় ক্ষমতার মূল ভিত্তি, যা মিসাইল বা যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইরান এবং রাশিয়া তাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একাধিক চুক্তি করতে চলেছে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইরান-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।