ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পর এবার তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লি নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে। বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করেন লি। তার মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সামান্য সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তাও বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনছে। এদিকে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটির সঙ্গে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যুক্ত না করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার দিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির বদলে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলের (ডিএমজেড) মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়। একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না। এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য “ভিক্ষা” করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শুরুতে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মেলোনির অনুরোধে তিনি সম্মত হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ভিক্ষা চায় না। মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এক বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি জানেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় মিত্রদের ক্ষেত্রে এমন আচরণ হতাশাজনক। এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য পুরো ইতালির প্রতি অপমান। এই পরিস্থিতিতে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে নিজেকে ‘বস’ বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে সাংবাদিক ও বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কী প্রেক্ষাপটে তিনি এমন দাবি করেছেন, তা খোলসা করেননি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ কোনো রাষ্ট্রনেতাই ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কোনো প্রতিবাদ জানাননি। বরং, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে এতদিন ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে আসা ইউরোপীয় নেতারাও এবার বেশ নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন। গত ১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলন চলবে ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। বুধবারের অধিবেশনে মূলত দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ, বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে ‘বস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের এমন সুর বদলের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এক বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির তখন তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প ইউরোপের সাহায্য চাইলেও বেশির ভাগ শক্তিধর দেশ সে সময় পিছিয়ে যায়, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বারবার ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের জি৭ বৈঠকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ৪৭ নম্বর লেখা একটি ফুটবল জার্সিও উপহার দেন, যা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের এই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই নাটকীয় সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি। গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তবে দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে চরম ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি ওয়াশিংটনের এযাবৎকালের অন্যতম কঠোর সতর্কবার্তা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে তারা যদি এই অবস্থান থেকে এক চুল পরিমাণও সরে আসে, তবে তাদের এমন ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে যা অতীতে কখনো ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় জানান, তেহরান যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সামান্যতম চেষ্টাও চালায়, তবে তাদের ‘অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য কঠিন ফলাফল’ ভোগ করতে হবে। "ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে তারা এই অবস্থান থেকে সরে এলে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।" কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের উপস্থিতিতে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও মার্কিন প্রশাসন তাদের এই মৌখিক আশ্বাসে সম্পূর্ণ নির্ভর করছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭-এর মঞ্চ থেকে দেওয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে একটুও দ্বিধা করবে না। এছাড়া, কাতারের আমিরের সাথে এদিনের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭। ফ্রান্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠক থেকে অবিলম্বে বেসামরিক জানমালের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের সদস্য দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিরপরাধ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দেশগুলো একমত হয়েছে। বিবৃতিতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাজারে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ এবং শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রভাবশালী জোট মনে করে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপরও মারাত্মকভাবে পড়বে। তাই বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।