সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছবি:সংগৃহীত
‘চুক্তি করতে চায় ইরান, তবে সঠিক চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়’, কঠোর অর্থনৈতিক চাপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও তার ভাষায়, ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য তেহরান এখনো প্রস্তুত নয়।   শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত শর্তে সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো প্রস্তুতি এখনো তাদের নেই।   এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন এর আগে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড আইসোলেশন’—অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল সার্বভৌমত্ব’—সীমান্তের বাইরে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি করার মতো।   ইরানের অভিযোগ, এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’—পরোক্ষ বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি রাখে না।অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে থাকতেই যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে।   এদিকে যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।   তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে—চারটি উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং তিনটি বের হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৪।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। কিন্তু চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান টেরিটরি’—আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।   এদিকে ইসরায়েলেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফার-রাইট—চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কারাগারে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসির মঞ্চ তৈরির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এর আগে ইসরায়েলের সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাস করা হয়েছিল। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।   সংঘাত আরও বাড়লে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি মার্কিন-ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
উদ্ধারের ছবি:সংগৃহীত।
জীবন বাজি রেখে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১৬ বছরের কিশোর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করে জাতীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছেন ১৬ বছর বয়সী কিশোর লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামস। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরাসরি প্রশংসা করেছেন।   সোমবার, ১৭ আগস্ট, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে রাইডার উইলিয়ামস, উদ্ধার হওয়া শিশু নাথানিয়েল রাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। সেখানে প্রেসিডেন্ট রাইডারকে বলেন, “তুমি যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য—এবং সবাই তা দেখেছে।” ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। ওই সময় ১০ বছর বয়সী নাথানিয়েল রাই পরিবারের সঙ্গে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎ শক্তিশালী ঢেউয়ের ধাক্কায় অগভীর পানিতে থাকা নাথানিয়েল পা হারিয়ে সাগরের দিকে ভেসে যায়। প্রবল স্রোত তাকে তীর থেকে আরও দূরে নিয়ে যেতে থাকে।   সে সময় দায়িত্বে থাকা ১৬ বছর বয়সী রাইডার পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে দ্রুত সহায়তার জন্য রেডিওতে বার্তা দেন। এরপর তিনি নিজের রেডিও ও সানগ্লাস ফেলে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতে উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তিনি উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছান।   উদ্ধারের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউ বারবার রাইডার ও নাথানিয়েলকে আছড়ে ফেলছিল। ঢেউয়ের প্রচণ্ডতার কারণে রাইডার শিশুটির শরীরে উদ্ধার-নল পরাতেও পারছিলেন না। একপর্যায়ে নাথানিয়েল নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবুও রাইডার তাকে শক্ত করে ধরে পানিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। পরে আরেক লাইফগার্ড অ্যারন বোনেন পানিতে গিয়ে দুজনকে নিরাপদে তীরে আনতে সহায়তা করেন।   ঘটনার ভিডিও এক প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে রাইডার শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন এবং বারবার ঢেউয়ের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার দৃশ্যমান হচ্ছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে।   নাথানিয়েলের বাবা সুমিত রাই পরে জানান, তাঁর ছেলে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তিনি রাইডারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে বাঁচানোর এই ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।   ঘটনার পর রাইডার নিজেও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তিনি জানান, বিপদের মুহূর্তে লাইফগার্ডরা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করেন। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর দায়িত্ব এবং তিনি নিজের কাজকে ভালোবাসেন। উদ্ধার শেষে তিনি আবার দায়িত্বে ফিরে যান। রাইডারের সাহসিকতার ভিডিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও নজরে আসে।   এরপর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁকে সম্মানিত করার ঘোষণা দেন। ১৭ আগস্টের সাক্ষাতে ট্রাম্প রাইডারকে একজন প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং লাইফগার্ডদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।   ওভাল অফিসে রাইডারের সঙ্গে ছিলেন নাথানিয়েল ও তাঁর পরিবার। সেখানে নাথানিয়েলের বাবা আবারও রাইডারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাইডার জানান, এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণই তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই ঘটনা শুধু এক কিশোরের সাহসিকতার গল্প নয়; বরং প্রশিক্ষিত লাইফগার্ডদের গুরুত্ব এবং সমুদ্রের প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হয়ে উঠেছে।

Unknown আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক। ছবি:সংগৃহীত
হরমুজে বাধা দিলে ওমানে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের আলাদা আলোচনার বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন। জবাবে তিনি বলেন, ওমান যদি যুক্তরাষ্ট্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুমকি দেন।   এটি ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের প্রথম এমন হুঁশিয়ারি নয়। গত মে মাসেও তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে ওমানকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। সে সময়ও তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো একটি দেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না।   নতুন হুমকিটি এসেছে এমন সময়ে, যখন ইরান জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষ একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে এবং যৌথ ঘোষণার বিস্তারিত চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা রুট তৈরির কথা রয়েছে। এর একটি ইরানের উপকূলের কাছাকাছি এবং অন্যটি ওমানের দিক দিয়ে পরিচালিত হতে পারে। সাময়িক ব্যবস্থার অধীনে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধ্যতামূলক টোল না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।   এর আগে ওমান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে এমন একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছিল, যাতে হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় অর্থ দিতে পারে এবং সেই অর্থ নৌপথের নিরাপত্তা ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই হরমুজে বাধ্যতামূলক টোল বা কোনো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রণালীটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ইরান বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক নয়।   হরমুজ ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একাধিকবার নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে।   ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যাকচ্যানেল রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে নেই এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করছেন না বলেও জানান।   তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় এই বিষয়টি এখনও অন্যতম প্রধান বিরোধ হিসেবে রয়ে গেছে।   দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে মাস্কাট। এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ একাধিক সংকটে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে দেশটি।   তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের নতুন সমঝোতার উদ্যোগ এখন মাস্কাটকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর ওয়াশিংটন ও মাস্কাটের সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং ইরান ও ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ চুক্তি বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Unknown আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সীমান্ত সংকট। ছবি:সংগৃহীত
সেউতায় অভিবাসীদের ঢলের ভিডিও শেয়ার হোয়াইট হাউসের, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির নতুন বার্তা

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় অভিবাসীদের বড় ঢলের একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিবাসন ইস্যুতে নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াং সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দেন।   স্টিফেন মিলার ভিডিওটি শেয়ার করে ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন। তার দাবি, শিথিল অভিবাসন নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে স্টিভেন চিয়াং বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিই কার্যকর সমাধান।   এদিকে সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ভিভাস জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এটি ২০২১ সালের পর ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা।   সেউতা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত হিসেবে বিবেচিত। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট এটি। অতীতেও একাধিকবার এই সীমান্তে বড় ধরনের অভিবাসী ঢলের ঘটনা ঘটেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নটি দেশটির রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেv

Unknown জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০