সেউতায় অভিবাসীদের ঢলের ভিডিও শেয়ার হোয়াইট হাউসের, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির নতুন বার্তা
মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় অভিবাসীদের বড় ঢলের একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিবাসন ইস্যুতে নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াং সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দেন।
স্টিফেন মিলার ভিডিওটি শেয়ার করে ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন। তার দাবি, শিথিল অভিবাসন নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে স্টিভেন চিয়াং বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিই কার্যকর সমাধান।
এদিকে সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ভিভাস জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এটি ২০২১ সালের পর ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা।
সেউতা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত হিসেবে বিবেচিত। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট এটি। অতীতেও একাধিকবার এই সীমান্তে বড় ধরনের অভিবাসী ঢলের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নটি দেশটির রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেv
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreলাস ভেগাসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দামী পণ্য ও গিফট কার্ড কেনার পর সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লেনদেন বাতিলের আবেদন করতেন। অভিযোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার ঘটনাও রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আন্তোনিও শ্যাভেজ, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী ক্লদিয়া গুজম্যান-মারকেজের বয়স ৩০ বছর। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা শ্যাভেজ ২০২০ সাল থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কথিত অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি নিজেদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দামি পণ্য ও গিফট কার্ড কিনতেন। পরে কার্ড বা ওয়ালেট হারিয়ে বা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে ওই লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতেন। এতে পণ্য নিজেদের কাছে রেখেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে সাউথ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের টাউন স্কয়ার কনসিয়ার্জ থেকে দম্পতি ১৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গিফট কার্ড কেনেন। পরে তাঁরা ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের কাছে ওই লেনদেন নিয়ে অভিযোগ করেন। শ্যাভেজ একটি অ্যাপল স্টোরে ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি মূল্যের কেনাকাটা নিয়েও আপত্তি জানান এবং তাঁর ওয়ালেট হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। একই সময়ে গুজম্যান-মারকেজের বিরুদ্ধেও একাধিক দামী কেনাকাটার পর লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি লুই ভুইটন থেকে করা কেনাকাটার মূল্যই ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি। কথিত অনিয়মের ঘটনা নেভাদা ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পৌঁছায়। নিউপোর্ট বিচের ফ্যাশন আইল্যান্ডে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ওই গিফট কার্ড ব্যবহার করে লাস ভেগাসের একটি গাড়ির দোকান ও আরিতজিয়া স্টোর থেকে কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শ্যাভেজ নিজের কার্ড চুরি যাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হেন্ডারসন পুলিশ ডিপার্টমেন্টে একটি ভুল তথ্যসম্বলিত রিপোর্টও করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তকারীদের কাছে শ্যাভেজ তাঁর স্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর আইনজীবী শ্যাভেজের নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার এবং তাঁর আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের আদালতে শ্যাভেজ হাজির হলে প্রসিকিউশন তাঁর জন্য ১ লাখ ডলার নগদ জামিন এবং গৃহবন্দিত্বের আবেদন করে। তবে বিচারক রেবেকা স্যাক্স সেই আবেদন নাকচ করেন। শ্যাভেজের আগের কোনো অপরাধের ইতিহাস না থাকা, স্থানীয়ভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং অভিযোগগুলো সহিংস ধরনের না হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে নগদ জামিন ছাড়াই মুক্তির নির্দেশ দেন। শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ১ লাখ ডলারের কম মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ, সম্পদ আত্মসাৎ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের বিষয়ে যোগসাজশ এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
নিউইয়র্কে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, ৪০ ঘণ্টা পেরোলেই ৪৫!
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বয়স্ক বাসিন্দাকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে সোনার প্রতা রণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রে প্তার করেছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তদন্তকারীরা আগস্টে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। এক বয়স্ক বাসিন্দা সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে পুলিশকে জানান। ফোন করা ব্যক্তিরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বাসিন্দাকে তাঁর অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে বলা হয়। তদন্তকারীরা ওই বাসিন্দার সঙ্গে সমন্বয় করে ২৫ আগস্ট একটি পরিকল্পিত সোনা লেনদেনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় ক্যালিফোর্নিয়ার লাথ্রপের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করে পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালমার্টের ভেতরে থাকা ফেডএক্সের একটি শাখায় পৌঁছায়। সেখানে সোনা রাখা প্যাকেটগুলো পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় সুখবিন্দর সিংকে গ্রে প্তার করা হয়। গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চু রি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের একটি আটকাদেশও রয়েছে। সুখবিন্দর সিং গ্রে প্তার হওয়ার পরও কথিত প্রতা রণা চক্রের সদস্যরা ওই বয়স্ক বাসিন্দাকে ফোন করা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানায়, তারা কলার আইডি স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলো এমনভাবে দেখাত, যেন সেগুলো সরাসরি ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতা রকরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি ওই বাসিন্দার মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দার পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে আরও অর্থ ও সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আরও দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তাদের বিরুদ্ধে চক্রটির নেতৃত্ব দেওয়া, অর্থের জোগান দেওয়া এবং প্রতা রণা থেকে পাওয়া অর্থ পাচারে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা গ্যালভেস্টন কাউন্টি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের বাসিন্দা ডামান প্রীত সিং এবং লস এঞ্জেলেসের বাসিন্দা মানদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রে প্তারি পরোয়ানা নেন। ডামান প্রীত সিংয়ের জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ডলার এবং মানদীপ সিংয়ের জা মিন ৫০ লাখ ডলার। ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্তকারীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের অফিসের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের সহায়তায় ডামান প্রীত সিংকে তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গ্রে প্তার করেন। একই সময়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই প্রতা রণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। পরদিন লস এঞ্জেলেসে মানদীপ সিংয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফুটহিল ডিভিশনের সহায়তায় তাঁকে তাঁর বাসা থেকে গ্রে প্তার করা হয়। দুইজনই বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাদের তদন্ত করা সাম্প্রতিক বড় সোনা প্রতা রণার ঘটনাগুলোর একটি। এর আগে মার্চে একই ধরনের সংঘবদ্ধ সোনা প্রতা রণার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রে প্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় টেক্সাসজুড়ে বয়স্ক ভুক্তভোগীদের প্রায় ২৮ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই তদন্ত শুরু হয়েছিল ফ্রেন্ডসউডের ৮১ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে কেন্দ্র করে। তাঁকে প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার ডলার অর্থ ১৭৭টি এক আউন্সের কানাডিয়ান গোল্ড ম্যাপল লিফ কয়েনে রূপান্তর করতে রাজি করানো হয়েছিল। পরে ফ্রেন্ডসউডের গোয়েন্দারা সব ১৭৭টি কয়েন উদ্ধার করেন। একই তদন্তে হাম্বল, সাইপ্রেস, ক্লেবার্ন ও নিউ ব্রাউনফেলসের আরও কয়েকজন বয়স্ক বাসিন্দা একই ধরনের প্রতা রণার শিকার হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ প্রতা রণা চক্রগুলো একই ধরনের কৌশলে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করে আসছে। কখনো তারা ফেডারেল এজেন্ট, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংকের তদন্তকারী কিংবা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে জানায়, তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থ নিরাপদ রাখা কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর কথা বলে তাঁকে সঞ্চিত অর্থ সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদে রূপান্তর করতে বলা হয়। পরে সেই সম্পদ সংগ্রহের জন্য একজন কুরিয়ার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফ্রেন্ডসউড পুলিশের প্রধান জশ রজার্স বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত ও গ্রে প্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি ওই ভুক্তভোগীর দ্রুত পুলিশের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রশংসা করেন। রজার্স বলেন, ভুক্তভোগী দ্রুত প্রতা রণার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় এবার সফলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পরিণতি এতটা ভালো হয় না বলেও সতর্ক করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের উচিত বয়স্ক স্বজনদের এ ধরনের প্রতা রণা সম্পর্কে সচেতন করা। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তা অর্থ নিরাপদ রাখার কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর জন্য কাউকে সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদ কিনতে বলবেন না। কেউ এমন প্রতা রণার শিকার হচ্ছেন বলে সন্দেহ হলে প্রতা রকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দ্রুত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন
৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং সেন্টারে শালিনীকে ধাওয়া করে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হাইওয়ে ৫০-এ পুলিশের সঙ্গে অবস্থানের সময় রোহিতকে গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল শালিনীর কর্মস্থলের সূত্রে। রোহিত DoorDash-এর খাবার সরবরাহের কাজ করতেন এবং শালিনীর কর্মস্থলে অর্ডার নিতে যেতেন। আদালতে দেওয়া শালিনীর আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে রোহিত তার পিছু নেওয়া ও বিরক্ত করা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই আচরণ আরও বাড়তে থাকে। শালিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিত প্রায়ই তার বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। ২৩ এপ্রিলের একটি ঘটনায় তিনি কয়েক ঘণ্টা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। শালিনী আরও অভিযোগ করেন, রোহিত তার গাড়ির টায়ারের বাতাস ছেড়ে দিতেন এবং পরে সাহায্য করার অজুহাতে তার কাছে আসতেন। এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার অভিযোগ ওঠে। জানুয়ারি মাসে শালিনীর গাড়ির হুডের নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। তার অভিযোগ ছিল, এই যন্ত্রের মাধ্যমে তার চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানান, রোহিত তার অ্যাপার্টমেন্টের চাবির একটি কপি সংগ্রহ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাসায় ঢুকেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শালিনী আদালতে আরও অভিযোগ করেছিলেন, রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন। এমনকি তিনি বিয়ে না করলে নিজেকে বা অন্যদের গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শালিনী। এসব তথ্য শালিনীর আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মে মাসে শালিনী আদালতের কাছে সুরক্ষা আদেশ নেন। এই আদেশে রোহিতকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে কর্মকর্তারা শালিনীকে আদালতের এই সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু জুলাইয়ে আবারও ওই আদালতের নির্দেশ ভঙ্গের অভিযোগ করেন শালিনী। তিনি পুলিশকে জানান, রোহিত তার বাড়ির দরজার সামনে বাজারসামগ্রী রেখে গেছেন। শেরিফের কার্যালয় বলেছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য কারণ ছিল। কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও কয়েকবার তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ঘটে প্রাণঘাতী ঘটনা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শালিনীকে তার গাড়ির কাছে দেখতে পেয়ে রোহিত তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। শালিনী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাকে ধাওয়া করেন এবং গুলি করেন। পরে তিনি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০-এ। সেখানে কিছু সময়ের পুলিশি অবস্থানের পর রোহিতকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর সামনে এসেছে প্রায় এক বছরের ধারাবাহিক অভিযোগ—শালিনীর পিছু নেওয়া, তার গাড়িতে নজরদারি, গাড়ির টায়ারে হস্তক্ষেপ, বাসায় প্রবেশ এবং আদালতের সুরক্ষা আদেশ ভঙ্গের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি, কারণ শালিনী হত্যার পর রোহিতও মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আদালতের নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পুরোনো কোনো শত্রুতা বা পারস্পরিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। বরং শালিনীর আদালতে দেওয়া অভিযোগে রোহিতের পক্ষ থেকে বিয়ের চাপ, পিছু নেওয়া ও হয়রানির ধারাবাহিকতার কথাই উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ