সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

টরন্টো

কানাডার টরন্টোতে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত নারীর কাছে সরকারি খুঁটি ভাঙার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েও বিপদে নারী, উল্টো ২৯ হাজার ডলারের বিল পাঠাল সিটি কর্তৃপক্ষ

কানাডার টরন্টোতে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় ২৯ হাজার ডলারের বিল পেয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এক নারী। দুর্ঘটনায় তাঁর গাড়ি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। অথচ সেই দুর্ঘটনায় একটি সরকারি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায়ে তাঁর কাছে ২৮ হাজার ৮৪৮ ডলার ৩১ সেন্ট দাবি করে টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ন্যান্সি বাকম্যান।   শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টরন্টোর ফেয়ারভিউ মলের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন ন্যান্সি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া অন্য গাড়িটির আরোহীরা কাছের একটি জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির পর পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   দুর্ঘটনার সময় ন্যান্সি একজন নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত নমুনা জমা দিতে একটি ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছিলেন। একটি মোড়ে বাঁ দিকে গাড়ি ঘোরানোর সময় হঠাৎ অন্য একটি গাড়ি তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেয় বলে জানান তিনি।   ন্যান্সির ভাষ্য অনুযায়ী, মোড়ে অন্য গাড়িগুলো থেমে ছিল এবং তিনি বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। তখন সামনে কোনো গাড়ি দেখতে পাননি। হঠাৎ সংঘর্ষের শব্দ ও নিজের গাড়ির ব্রেকের আওয়াজ শুনতে পান। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।   জ্ঞান ফেরার পর ন্যান্সি দেখতে পান, এক নারী তাঁর গাড়ির জানালায় ধাক্কা দিয়ে সতর্ক করছেন। গাড়ির নিচের অংশে আগুন ধরে গিয়েছিল। ওই নারী তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে কাছের একটি পরিবারের ভ্যানে নিয়ে যান। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি।   দুর্ঘটনায় ন্যান্সির বুকে আঘাত লাগে এবং ঘাড় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ঘাড়ের আঘাতের কারণে এখনো ফিজিক্যাল থেরাপি নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর ২০২১ সালের সুবারু ফরেস্টার গাড়িটিও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।   কিন্তু ঘটনার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে, টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি অপ্রত্যাশিত বিল পান ন্যান্সি। প্রায় ১০ পৃষ্ঠার ওই নথিতে তাঁর কাছে ২৮ হাজার ৮৪৮ ডলার ৩১ সেন্ট দাবি করা হয়।   সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার সময় ন্যান্সির গাড়ির ধাক্কায় একটি সরকারি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষতির মেরামত খরচ হিসেবে তাঁকে বিল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪ নথিটি পর্যালোচনা করেছে বলে জানিয়েছে পিপল।   বিলে ন্যান্সিকে ২২ আগস্টের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা ড্রাইভার লাইসেন্স স্থগিত করার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।   বিল পাওয়ার পর ন্যান্সি জানান, তিনি পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এত বড় অঙ্কের অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি জানাতে তিনি সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   কর্তৃপক্ষ অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বাড়াতে রাজি হলেও বিলের দায় তাঁর ওপরই বহাল রাখে বলে জানান ন্যান্সি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং দুর্ঘটনার জন্য তাঁকে দায়ী করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।   সিপি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশি দুর্ঘটনা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিটি কর্তৃপক্ষ ন্যান্সিকে দায়ী করে। কারণ দুর্ঘটনার সময় তিনি বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। ট্রাফিক নিয়ম অনুযায়ী, এ অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িকে আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ছিল।   ন্যান্সি এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেন। এমনকি দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তবে ওই কর্মকর্তা দুর্ঘটনার বিষয়টি মনে করতে পারছেন না বলে তাঁকে জানান।   পরে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেন ন্যান্সি। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি করা পুরো অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হয়। ফলে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ওই বিল পরিশোধ করতে হয়নি।   তবু ডাকাতির পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁকে কেন দায়ী করা হলো, তা বুঝতে পারছেন না ন্যান্সি। পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।   এ বিষয়ে পিপলকে দেওয়া বিবৃতিতে টরন্টো সিটির মুখপাত্র কায়লা লুইস বলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় সিটির কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচ আদায়ের জন্য নিয়মিতভাবে গাড়ির মালিকদের কাছে বিল পাঠানো হয়।   তিনি জানান, এ ধরনের বিল সাধারণত গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ন্যান্সির ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণের দাবিটি তাঁর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নিষ্পত্তি করেছে।   অন্যদিকে টরন্টো পুলিশ পিপলকে নিশ্চিত করতে পারেনি যে দুর্ঘটনায় জড়িত অন্য গাড়িটির আরোহীরা সত্যিই কোনো অপরাধ সংঘটনের পর পালিয়ে যাচ্ছিলেন কি না।   টরন্টো পুলিশের গণমাধ্যম সম্পর্ক কর্মকর্তা শ্যানন ইমস বলেন, দুর্ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, গাড়ির ক্ষতি, চালক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভিডিও বা ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয়।   তিনি আরও জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রাদেশিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। সেখানে দুর্ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়ী চালককে চিহ্নিত করা হয়। দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী করেছিলেন, তা গাড়ির সংঘর্ষের কারণ নির্ধারণে সব সময় প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।   দুর্ঘটনার প্রভাব ন্যান্সির কর্মজীবনেও পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ৪০ বছর কাজ করার পর পরিকল্পনার আগেই অবসর নিতে হয়েছে তাঁকে। ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।   ন্যান্সি জানান, অফিসে কাজের পরিবেশ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ঘাড়ের সমস্যা কমেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ মার্চ তিনি অবসর নেন। দুর্ঘটনার পর আবার গাড়ি চালানোর সাহস ফিরে পাওয়াও তাঁর জন্য কঠিন ছিল।   তবে এখন পুরো অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান ন্যান্সি। তাঁর মতে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ অতীতের ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকলে তা জীবনের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: পিপল

তাবাস্সুম নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৩:০ 0
ব্যবসায়ী ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়ে
কানাডায় বাড়িতে ঢুকে সিইও ও দুই মেয়েকে গুলি, স্ত্রীকে হাতুড়িপেটা

কানাডার টরন্টোতে একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ী ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়েকে গুলি করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর স্ত্রীকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে টরন্টোর অভিজাত ব্রাইডল পাথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   নিউইয়র্ক পোস্ট ও কানাডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার ডেভিড মর্টন টরন্টোভিত্তিক ম্যাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানা জোহিল মর্টন এবং দুই মেয়ে ম্যাগি ও ক্রিস্টিনা জোহিল মর্টনকে নিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করেন। ম্যাক গ্রুপ মূলত রিয়েল এস্টেট, হসপিটালিটি ও করপোরেট হাউজিং খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে। টরন্টোর অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকায় তাঁদের বাড়িটি অবস্থিত। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে হাইড পার্ক সার্কেলের একটি বাড়িতে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি হাতুড়ি ছিল। বাড়িতে ঢোকার পর তারা পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে।   পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথ জানান, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় হামলাকারীরা একাধিকবার গুলি চালায়। এতে ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় পরিবারের চার সদস্যই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড মর্টন ও তাঁর এক মেয়ের পায়ে গুলি লাগে। অপর মেয়ে বাহুর নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হন। হামলায় আহত চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ প্রথমে দুজনের আঘাত প্রাণঘাতী বলে জানালেও পরবর্তী আপডেটে তাঁদের আঘাত দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কোন দুজনের অবস্থা বেশি গুরুতর, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।   হামলার পর তিন দুর্বৃত্ত একটি এসইউভি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। হামলাকারীদের শারীরিক বর্ণনাও প্রকাশ করা হয়নি। বাড়ি থেকে কোনো অর্থ, গয়না কিংবা অন্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ডেভিড মর্টন কিংবা তাঁর পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে বাড়ির আশপাশের সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দাদের কাছেও তথ্য চেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরা, ডোরবেল ক্যামেরা কিংবা গাড়ির ড্যাশক্যামে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা গাড়ির ছবি ধরা পড়ে থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। ব্রাইডল পাথ কানাডার অন্যতম ধনী ও অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বড় বড় বাড়ির অনেকগুলোই উঁচু দেয়াল, নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ব্যক্তিগত সিকিউরিটি ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থিত। এমন একটি এলাকায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   টরন্টো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শহরটিতে অন্তত ১১৯টি বাড়িতে অনুপ্রবেশ ও ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে দামি গাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের সন্ধানে আবাসিক বাড়িতে অপরাধীদের প্রবেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন সহিংসতা শুধু আক্রান্ত পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষের নিরাপত্তাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।   পুলিশের ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথও বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তে সহায়তা করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, দুর্বৃত্তদের পরিচয় এবং পরিবারের কোনো সদস্যকে আগে থেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আহত পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।      

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
গত চার মাসের মধ্যে এই কূটনৈতিক মিশনে দ্বিতীয়বার হামলার ঘটনা ঘটায় তদন্তে নেমেছে টরন্টো পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গুলি বর্ষণ, তদন্তে কানাডীয় পুলিশ

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে ভোরে গুলি বর্ষণের একটি ঘটনা ঘটেছে। গত চার মাসের মধ্যে কূটনৈতিক এই মিশনে এ ধরনের হামলার দ্বিতীয় ঘটনা এটি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে কানাডার পুলিশ।   টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে কনস্যুলেটের কাছাকাছি এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিকট শব্দ শুনতে পান দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই একটি সাদা রঙের সেডান গাড়িকে দ্রুত ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং আলামত সংগ্রহের জন্য কনস্যুলেটের আশেপাশের পুরো এলাকাটি সাময়িকভাবে ঘিরে রেখেছে। এর আগে গত ১০ মার্চ একই কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল যে আগের সেই গুলির ঘটনাটি মূলত টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা কোনো বন্দুকধারীর কাজ ছিল, যেখানে কম বয়সী তরুণদের সুনির্দিষ্ট ওই লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই নতুন ঘটনার পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
দূষিত বড় শহর টরন্টো
দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর কানাডার টরন্টো, পেছনে পড়ল নয়াদিল্লিও

 দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। এ সময় শহরটি ভারতের নয়াদিল্লি ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাকেও ছাড়িয়ে যায়।   কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।   দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর আকাশ হলুদ-ধূসর রঙ ধারণ করেছে এবং অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। শহরের বায়ুমান স্বাস্থ্য সূচক (AQHI) কিছু সময়ের জন্য ১০+, অর্থাৎ ‘অত্যন্ত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওতে চলমান শতাধিক বড় দাবানল। কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে শতাধিক এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।   দাবানলের ধোঁয়া শুধু কানাডায় সীমাবদ্ধ নেই। শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   চিকিৎসকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা পিএম ২.৫ নামে অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
টরন্টোর আনন্দমুখর ‘সালসা’ উৎসবে গোলাগুলির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
দুই ব্যক্তির গুলিতে কানাডার উৎসবের আমেজ বদলে গেল আতঙ্কে, নিহত ২, আহত ৪

কানাডার টরন্টো শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উৎসবের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো একক হামলাকারীর আক্রমণ নয়; বরং দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন।   টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানান, শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে লাতিন আমেরিকান সংস্কৃতির বার্ষিক ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসব চলছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে রাতের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত দুজনই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   ঘটনার পরপরই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ।   ডেপুটি চিফ বারেডো বলেন, প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হামলাকারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির ঘটনা। তবে এ ধরনের ঘটনা উৎসবে থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দের পর উৎসবে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কাছের একটি রেস্টুরেন্টে থাকা ভ্যালেরি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষ একে অপরকে মাটিতে শুয়ে পড়ার জন্য বলছিলেন, কারণ কেউ বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে।   উৎসবের এক বিক্রেতা প্যাটসি গুতিয়েরেজ জানান, মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পরে আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।   ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ লাইভ সংগীত, নাচ, খাবার ও লাতিন সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হন।   ঘটনার পর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এমন জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
টরন্টোর ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রক্তাক্ত, টরন্টোতে গুলিতে নিহত ২

কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।    টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।  এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।    টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। 

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী ডিজে সঞ্জয় | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। আগামী ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাকে। শনিবার (৯ মে) ফিফার পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিত। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় ছাড়াও মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, টরন্টোর এই অনুষ্ঠানটি কানাডার স্বকীয়তা ও বিশ্বকাপের উন্মাদনার এক অনন্য প্রতিফলন হবে। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ফুটবল ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফিকেও এক নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।   আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও ১২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে কানাডা। টরন্টোতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি শুরুর আগেই এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।50920266105

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০