ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভিআইপি মুভমেন্ট এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে ডাইভারশন দেওয়া হবে। আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কখন এবং কোথায় এই নির্দেশনা? আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মূলত উড়োজাহাজ মোড়, খেজুর বাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর এলাকাগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ডাইভারশন ও বিকল্প পথসমূহ: ইন্দিরা রোড থেকে বেগম রোকেয়া সরণি: ইন্দিরা রোড দিয়ে এসে উড়োজাহাজ মোড় হয়ে বেগম রোকেয়া সরণির দিকে ডানে মোড় নেওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে হবে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রোকেয়া সরণি: খেজুর বাগান ক্রসিং দিয়ে বামে মোড় নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ফার্মগেট হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একমুখী চলাচল: উড়োজাহাজ মোড় থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে দক্ষিণমুখী একমুখী (One-way) যান চলাচল বলবৎ থাকবে। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নগরবাসীকে এই ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ফুল দিতে যাওয়ার সময় তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে ডিএমপির কলাবাগান থানাধীন স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রুনা বেগম (৫০), জনতা বেগম (৬৫), আকছারী খানম উর্মি (১৮) এবং সোহেল মিজি (৪৮)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কয়ার হাসপাতালের সামনে কলাবাগান থানা পুলিশের কিলো-২৬ নিয়মিত ডিউটির সময় দায়িত্বরত সদস্যরা দেখতে পান তিনজন নারী ও একজন পুরুষ ফুলের তোড়া হাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদস্যরা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে শালীনতা বজায় রেখে তাদের কলাবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, ফুলসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার পথে হাতেনাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের পেশা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাদের আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবি নেই।
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর (ডিএমপি) কমিশনার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ উল্লেখ করে শেখ মো. সাজ্জাত আলী পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ২০ নভেম্বর জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে তাকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এ পদে মো. মাইনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। তৎকালীন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কারাগারে নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট রাতে মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির নেতৃত্বেও একাধিক পরিবর্তন আসে এবং শেষ পর্যন্ত শেখ মো. সাজ্জাত আলী কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা এবং খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার তদারকিতে অভিযান পরিচালনা করলে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন। বৈঠকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের বরণ করে নিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের চারপাশের সড়কগুলো নতুন রঙে ও নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। রাস্তার ডিভাইডারে বসানো হয়েছে নতুন ফুলের গাছ। দুপুরের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ভিড় জমে ওঠে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে এলাকাটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খালি করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা জোরদারে দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ হল ও শিববাড়ি মন্দির মোড়সহ আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম স্থাপনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি আরও কঠোর করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র নির্ধারিত পাসধারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ সকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে জানান, শহীদ মিনারের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার সকালে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এক সংবাদ সম্মেলনে যাতায়াতের রুট ম্যাপ ও কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে আগতদের পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং এবং শহীদ মিনার রোড ব্যবহার করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার জন্য দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে শহীদ মিনার এলাকায় কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শঙ্কা না থাকলেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। এছাড়া সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বুধবার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সমন্বয় সভায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে ডিএমপি এই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সভা আয়োজন করে। সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শহীদ দিবসে কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার গোয়েন্দা বিভাগকে আগাম তথ্য সরবরাহ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে দিবসটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা ও মতামত উপস্থাপন করেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বিশেষ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদকে ঘিরে প্রশাসনিক অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্ব বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা–কল্পনা। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আইজিপি পদে কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। পেশাগত দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আস্থার প্রশ্ন—এই তিন সূচকে তাদের নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে এ কে এম শহিদুর রহমানকে নিয়ে প্রশাসনে আলাদা আলোচনা চলছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার নেতৃত্বে র্যাবের কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকায় তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অবসরপ্রাপ্ত হলেও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান। অতীতে তাদের দায়িত্ব পালন ও তদন্ত–অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের জন্য কাজে লাগতে পারে—এমন ধারণা থেকেই তাদের নাম সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখনো বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাকে সরিয়ে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হবে, নাকি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে—এ নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে। ডিএমপি কমিশনার পদ নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কূটনৈতিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে এ পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য নতুন কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাদের এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ২১ নভেম্বর। সরকার চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিবর্তন আনতে পারে, আবার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও নতুন নিয়োগ দিতে পারে—এমন ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ে। তবে হঠাৎ বড় ধরনের রদবদল বাহিনীর ভেতরে মানসিক চাপও তৈরি করতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে পুলিশের শীর্ষ পদে সম্ভাব্য রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রশাসনের অন্দরমহলে হিসাব–নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের অগ্রাধিকার, পেশাগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে পুলিশের নতুন নেতৃত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews