হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণাধীন নতুন হেলিপ্যাডের একটি বড় অংশ খুলে আবার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও হেলিপ্যাডের ঢালু অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করার পর ঠিকাদারদের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হেলিপ্যাডের কেন্দ্রে বসানো প্রায় ১০০ ফুট চওড়া গ্রানাইটের প্রেসিডেন্সিয়াল সিল ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন কাজের কিছু অংশ ভাঙতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন এবং সাউথ লনের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন আনা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ লনের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঢালু। কিন্তু ট্রাম্প চান হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সঙ্গে সমতল দেখায়। সেই লক্ষ্য পূরণে হেলিপ্যাডের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের জমির উচ্চতাও বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্মাতারা বিবেচনা করছেন।
নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মেরিন ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট হেলিকপ্টারের কারণে হোয়াইট হাউসের লনের ক্ষতি ঠেকানো। আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেলিকপ্টারটি বড় ও বেশি শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন থেকে নিচের দিকে বের হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও তাপে ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করছে এবং কাজ শেষ হলে এটি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করার কথা।
নির্মাণকাজ চলায় মেরিন ওয়ান সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের পরিবর্তে কাছাকাছি এলিপস এলাকা ব্যবহার করছে। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সংশোধিত কাজ শেষ করতে প্রশাসন আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেলিপ্যাডের কাজ নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন সম্পন্ন হওয়া অংশ ভেঙে ফেলা হলো এবং পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কত অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
নতুন হেলিপ্যাডটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নেওয়া একাধিক পরিবর্তনের অংশ। সাউথ লনের এই প্রকল্প ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন অংশ ও আঙিনায় বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের ব্যয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থাপত্য মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর এক গ্রিন কার্ডধারীকে গ্রে প্তার করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের এল পাসোতে লুডভিগ উরিয়েল এসপেহো-ক্যারিলোকে গ্রে প্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এসপেহো-ক্যারিলোর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বর্তমানে তাকে আইসিইর হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। মার্কিন আইন অনুযায়ী, অ-মার্কিন নাগরিকরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। একইভাবে কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়া ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ভোট ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে দেশজুড়ে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়া, নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে সাতজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধেও ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ গ্রিন কার্ডধারী। তবে এসব মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগও তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কোনো অ-মার্কিন নাগরিক ফেডারেল বা রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্মন্ট, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির অন্তত ১৬টি স্থানীয় এলাকায় স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল বা মেয়র নির্বাচনের মতো কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুমতি রয়েছে। এসপেহো-ক্যারিলোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনী নিবন্ধন নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা ঘোষণা করেছে। তবে এসব পৃথক মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ আদালতে বিচারাধীন।
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর
ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা ২৫০ ফুট উঁচু ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’কে সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্থাপনায় ড্রোন, স্নাইপার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা হবে। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধে তিনি আর্চটিকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটির ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ড্রোন রাখা হবে। স্নাইপারদের জন্য বড় পরিমাণ গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। আর্চটি ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের পাশে, লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে আর্চটিকে ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেটির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার কথা জানালেন তিনি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠন, ভেটেরানদের একটি অংশ এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এর বিরোধিতা করছেন। আর্চটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আর্চটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলছেন, স্থাপনাটি ওয়াশিংটনের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স বাড়লে বছরে ৩ হাজার ডলার হারাতে পারেন কর্মীরা
ইউক্রেনকে ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে যুক্তরাষ্ট্র
"ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চাই", হোয়াইট হাউসের ফুটপাথে তুলে দিলেন গাড়ি
জিআরই বা গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনে সর্বোচ্চ ৩৪০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৩৪০ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেটস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর তাহমিদ। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ১৭০ এবং ভার্বাল রিজনিংয়েও ১৭০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। এমন ফলের পর তার কাছে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন এসেছে, তা হলো কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তানভীরের উত্তর, প্রস্তুতির মূলনীতি ছিল ‘ভলিউম’ - প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা এবং নিজের ভুল বারবার বিশ্লেষণ করা। তার মতে, জিআরই প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নয়। বরং এত বেশি প্রশ্ন অনুশীলন করা দরকার, যাতে পরীক্ষার হলে নতুন কোনো প্রশ্ন দেখলেও তার ধরন অপরিচিত মনে না হয়। প্রশ্নটি আগে দেখা না থাকলেও একই ধরনের সমস্যা বহুবার অনুশীলন করা থাকলে সেটি সমাধানের পথ দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জিআরই অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগের ক্ষেত্রে ভালো স্কোর আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। তানভীরের অভিজ্ঞতায়, জিআরইকে শুধু গণিত ও ইংরেজির পরীক্ষা হিসেবে দেখলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সময়ের চাপের মধ্যে প্রশ্ন বোঝা, তথ্য বিশ্লেষণ করা, ভুল বিকল্প বাদ দেওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি করাকে তাই তিনি প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন। শুরুতে একটি প্রশ্ন হাতে নিয়ে কোন পদ্ধতিতে সমাধান করবেন, কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় ফাঁদ থাকতে পারে, এসব নিয়ে ভাবতে সময় লাগত। কিন্তু একই ধরনের শত শত প্রশ্ন সমাধানের পর এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট প্রশ্নটি নতুন হলেও তার ধরন পরিচিত থাকার কারণে দ্রুত সমাধানের দিকে যাওয়া সম্ভব হয়। তবে শুধু বেশি প্রশ্ন সমাধান করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তানভীর। কোনো প্রশ্ন ভুল হলে সঠিক উত্তর দেখে এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন কেন ভুল হয়েছে। কোথায় ভুল চিন্তা করেছেন, প্রশ্নের কোন অংশ ভুল বুঝেছেন কিংবা কোন কৌশল প্রয়োগ করা উচিত ছিল, সেসব বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, অনুশীলনের সঙ্গে ভুল বিশ্লেষণ না করলে একই ধরনের ভুল আবারও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে প্রথমে মৌলিক ধারণাগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, অনুপাত, শতকরা, সম্ভাবনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলোর ভিত্তি শক্ত থাকা জরুরি। এরপর তার বড় মনোযোগ ছিল সময় ধরে অনুশীলনে। প্রস্তুতির একটি পর্যায়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত প্রশ্ন সময় ধরে সমাধান করেছেন তিনি। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও আলাদাভাবে নোট করতেন তানভীর। জ্যামিতি, ওয়েটেড অ্যাভারেজ এবং নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধানের ধরন তার তুলনামূলক দুর্বল জায়গা ছিল। তাই সব ধরনের প্রশ্ন একসঙ্গে অনুশীলনের পরিবর্তে এসব বিষয় আলাদা করে চর্চা করেছেন। তার মতে, কোয়ান্টে ভালো করার জন্য গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। দ্রুত সমাধান করতে গিয়ে ভুল করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাও পরীক্ষায় সমস্যার কারণ হতে পারে। ভার্বাল রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে শুধু কঠিন শব্দ মুখস্থ করার ওপর নির্ভর করেননি তিনি। প্রায় ২ হাজার শব্দের ভোকাবুলারি প্রস্তুত করলেও শব্দের অর্থের পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যের মধ্যে তার ভূমিকা কী, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্যাসেজে লেখক কী বলতে চেয়েছেন, যুক্তির কাঠামো কী এবং প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন। তানভীরের মতে, ভার্বালের ক্ষেত্রে প্রশ্নের ফাঁদগুলো চিনতে পারার দক্ষতা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তৈরি হয়। একই ধরনের প্রশ্ন বারবার সমাধান করতে থাকলে ভুলের ধরন যেমন বোঝা যায়, তেমনি সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার যুক্তিও পরিষ্কার হয়। তাই শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, সেই জ্ঞান দ্রুত প্রয়োগ করার অভ্যাস তৈরি করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে মক টেস্ট ছিল তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মক টেস্ট দেওয়ার পর তিনি শুধু মোট স্কোর দেখতেন না। কোন প্রশ্ন ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে, কোন প্রশ্নে বেশি সময় চলে গেছে এবং কোথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করতেন। শুরুতে তার মক স্কোর ৩২৮ থেকে ৩৩০-এর আশপাশে ছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই স্কোর বাড়তে থাকে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অফিশিয়াল উপকরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তানভীর। তার মতে, পরীক্ষার প্রশ্নের ভাষা, কাঠামো ও প্রশ্নের ধরন বোঝার জন্য মূল পরীক্ষার সংস্থার উপকরণ সবচেয়ে কার্যকর। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্সও ব্যবহার করেছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা হলো, কতগুলো রিসোর্স ব্যবহার করা হচ্ছে তার চেয়ে একটি রিসোর্স কতটা গভীরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জিআরইর আগে আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা ও স্যাটের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাও তানভীরের কাজে এসেছে। সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা, প্রশ্নের ভাষা বিশ্লেষণ করা এবং ভুল বিকল্প বাদ দেওয়ার মতো দক্ষতাগুলো আগের প্রস্তুতি থেকেই তৈরি হয়েছিল। পরে জিআরইর জন্য সেই দক্ষতাগুলোকে আরও বেশি অনুশীলনের মাধ্যমে শানিত করেছেন তিনি। ৩৪০-এ ৩৪০ পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তানভীরের মূল বার্তা হলো, জিআরই প্রস্তুতিতে কোনো একটি গোপন কৌশলের চেয়ে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, পরীক্ষার হলে প্রশ্ন নতুন হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নের ধরন যেন নতুন না লাগে। সেই পরিচিতি তৈরি করতে প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, ভুল বিশ্লেষণ এবং সময় ধরে নিয়মিত অনুশীলনই ছিল তার প্রস্তুতির মূল ভিত্তি।
ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প, ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়া’র হুঁশিয়ারি
কলোরাডোয় রোগীদের ১৩৯ প্রেসক্রিপশন চুরির দায়ে হাসপাতালে কর্মীর ১৮ মাসের কারাদণ্ড