সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডালাস

ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাসের উত্তরে লেক লুইসভিলকে ঘিরে গ্রীষ্মকালজুড়ে চালানো এক অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (ICE)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবারই কোনো না কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইসিই।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, গত ২৭ জুন থেকে লেবার ডে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ডালাসের আইসিই কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সহায়তা করে।   লেক লুইসভিল ডালাসের উত্তরে অবস্থিত একটি বড় জলাধার। গ্রীষ্মকালে এলাকাটি নৌবিহার ও বিনোদনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা, হ্রদসংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তে সহায়তা করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নৌযান নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।   আইসিইর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ডে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা, চুরি, বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণজনিত অপরাধ, গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানো এবং বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল না।   আইসিই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের লেক লুইসভিলে অনুমোদনহীন নৌযানভিত্তিক পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হন্ডুরাস ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। কয়েকজনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রেকর্ডও ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযান সম্পর্কে আইসিই ডালাস ফিল্ড অফিসের পরিচালক মিগুয়েল ভারগারা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত সরকারি সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, অভিযানের ফলে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আটক করা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।   লেক লুইসভিলকে ঘিরে এই অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল বলে আইসিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গ্রীষ্মের ব্যস্ত নৌবিহার মৌসুমে পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থলভাগে অপরাধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চালিয়ে যেতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আইসিইর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ভাড়া কমার তথ্যও তুলে ধরে দাবি করেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ার সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাড়ার বাজারে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি সান অ্যান্টোনিও, অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ কয়েকটি শহরের ভাড়া কমার হার উল্লেখ করেছে। তবে ভাড়া কমার কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে সরাসরি দায়ী করার এই ব্যাখ্যাটি স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিজস্ব দাবি এবং এর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   টেক্সাসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্টিনে একটি পৃথক ঘটনায় এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি লেক লুইসভিল অভিযানের অংশ নয় এবং পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।   লেক লুইসভিলের গ্রীষ্মকালীন অভিযানের বিষয়ে আইসিই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শেষ হয়েছে লেবার ডে সপ্তাহান্তে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে।   সূত্র: ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছে ডালাস ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার। ছবি: সংগৃহীত
ডালাসে চার মাসের শিশুর জীবনরক্ষা, ৭৫ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মীর চেষ্টায় বাড়ি ফিরল কেনজি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসের এক ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অন্ত্রের একটি জন্মগত জটিলতা, যা দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কেনজিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ডালাসের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেডিকেল সিটি চিলড্রেনস হাসপাতালে জড়ো হন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে।   কেনজির বাবা ইয়ান কামারার ডালাসের একজন ফায়ারকর্মী। মা লিন্ডসে কামারারের সঙ্গে গত কয়েক মাস তাঁদের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালেই। চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচ সপ্তাহ বয়সে শিশুটির অন্ত্রে ‘ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন’ বা অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। জন্মের পর এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও পরিবার জানিয়েছে।   এই সমস্যার কারণে কেনজি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে চারবার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের ৭৫ জনের বেশি কর্মী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন।   কেনজির মা লিন্ডসে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময় তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের নিয়ে তাঁদের একটি বড় সহায়তার পরিসর তৈরি হয়েছে।   কেনজির বাবা ইয়ান জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর সন্তান হাসপাতালের বাইরে নয়, বরং হাসপাতালেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।   শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ক্রিস বিসানি। কেনজি হাসপাতালে আসার সময় তার অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল, সে কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির অবস্থা দেখে তার মা জানতে চেয়েছিলেন, ছেলে বাঁচবে কি না। চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করা হবে এবং সবাই মিলে কাজ করবেন।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত আরেক চিকিৎসক শ্বেতা মুর্থি অন্ত্রের এই সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিকভাবে তৈরি না হলে তা পাক খেয়ে যেতে পারে। এতে অন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষণ বমি হতে পারে। তবে সব শিশুর বমির পেছনে এমন গুরুতর সমস্যা থাকে না।   জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন একটি জন্মগত সমস্যা। ভ্রূণের বিকাশের সময় অন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থানে না বসলে এই জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে অন্ত্র আটকে যেতে বা পেঁচিয়ে যেতে পারে। অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।   বিশেষ করে অন্ত্র পেঁচিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা রক্তমিশ্রিত পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। জনস হপকিন্স মেডিসিন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্ত্রের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   তবে কেনজির ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি আরও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে পরিবার ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়।   বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কেনজিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ডালাসের ফায়ারকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কয়েক মাসের উদ্বেগ ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটির বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি হাসপাতালকর্মীদের কাছেও আবেগঘন হয়ে ওঠে।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকেরা জানান, এত জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিশুটির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারা তাঁদের জন্যও বিশেষ তৃপ্তির বিষয়। পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘ হাসপাতালজীবনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফেরার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।   সূত্র: ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও জনস হপকিন্স মেডিসিন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ডালাস-নিউয়ার্কগামী বিমানে যাত্রীর মাতলামি, সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপে বেঁধে জরুরি অবতরণ
ডালাস-নিউয়ার্কগামী বিমানে যাত্রীর মাতলামি, সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপে বেঁধে জরুরি অবতরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস থেকে নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে বেঁধে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাল্টিমোরে বিমানটির অপ্রত্যাশিত ও জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলট। শুক্রবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই যাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং হঠাৎ করেই তার পাশের সিটের যাত্রীর ওপর চিৎকার করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এগিয়ে এলে ওই যাত্রী তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও সমকামিতাবিদ্বেষী কটূক্তি করেন।   একপর্যায়ে তিনি সহিংস হয়ে উঠলে বিমানের ক্রু এবং অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ফার্স্ট ক্লাসের সিটে বসা ওই ব্যক্তির কবজি, শরীর ও মাথা ডাক্ট টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে।   বাল্টিমোরে বিমানটি অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর ফ্লাইটটি পুনরায় নিউয়ার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।   এক বিবৃতিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, গ্রাহক ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো ধরনের সহিংসতা তারা বরদাস্ত করবে না। পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মীদের ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত যাত্রী বর্তমানে স্টেট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।   তার বিরুদ্ধে ফেডারেল চার্জ গঠন করা হবে কি না, তা নির্ধারণে ম্যারিল্যান্ড জেলার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ডালাসের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাবাহীন ছেলেদের পাশে দাঁড়াতে একটি স্কুলে ছুটে এলেন ৬০০ এর বেশি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই।   সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে।   স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি।   শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে।   স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০