আবদুল এল-সায়েদের সিনেটর বেতন কত, বাংলাদেশি টাকায় কত এবং কী কী সুবিধা পাবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁর বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ মার্কিন সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। সেই হিসাবে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এল-সায়েদও একই বেতন কাঠামোর আওতায় পড়বেন।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে তাঁর বার্ষিক বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মাসিক হিসাবে বেতন দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে টাকার অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। এই হিসাব কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের আগের বেতনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
আবদুল এল-সায়েদ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বেতন কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিনেটরের বেতন পাবেন।
বেতনের বাইরে সিনেটরদের জন্য রয়েছে স্বাস্থ্যবিমা ও অবসরকালীন সুবিধা। তবে এসব সুবিধা মানেই বিনা খরচে সব চিকিৎসা বা অবসরের পর আজীবন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়া নয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটররা ডিসি হেলথ লিংকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেল সরকার বিমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বহন করে। কোন স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রিমিয়াম কত, তার ওপর ব্যক্তির নিজের পরিশোধযোগ্য অংশ নির্ভর করে।
সিনেটররা ফেডারেল কর্মীদের জন্য নির্ধারিত জীবনবিমা কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মীদের অবসর পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তবে কত টাকা পেনশন বা অবসর সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, বয়স, চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। সাধারণভাবে অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরির শর্ত রয়েছে।
সিনেটরদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা সরকারি বরাদ্দ। এই অর্থ ব্যক্তিগত বেতন বা অতিরিক্ত আয় নয়। সিনেটরদের অফিস পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ, স্টাফদের বেতন, দাপ্তরিক সরঞ্জাম, চিঠিপত্র এবং নিজ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সরকারি কাজে যাতায়াতের মতো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে একজন সিনেটরের জন্য এই দাপ্তরিক বরাদ্দের পরিমাণ অঙ্গরাজ্যভেদে প্রায় ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ডলার থেকে ৬৬ লাখ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে। গড় বরাদ্দ প্রায় ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ডলার।
এই দাপ্তরিক বরাদ্দ দিয়ে সিনেটর নিজের ব্যক্তিগত খরচ, রাজনৈতিক প্রচার বা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ব্যয় মেটাতে পারেন না। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিনেটের নির্ধারিত নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একইভাবে সিনেটের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার জন্য সাধারণ সিনেটররা মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত বেতন পান না।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের বেতন ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো একই থাকলেও তাঁদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অবসরকালীন সুবিধার জন্য আলাদা নিয়ম ও বরাদ্দ রয়েছে। ফলে একজন সিনেটরের বার্ষিক বেতন এবং তাঁর অফিস পরিচালনার জন্য সরকারের দেওয়া অর্থকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের যে পরিকল্পনা করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হলেও এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে তারা একমত হয়েছেন। সদ্য নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট নেতা জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে এমন ঐকমত্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সহায়তা চুক্তি বহাল থাকার কথা থাকলেও কীভাবে প্রশাসন ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বন্ধ করবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মর্নিং জো অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, এই নির্দিষ্ট নীতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং তাদের একসঙ্গে কাজ করতে তার কোনো আপত্তি নেই। এল-সায়েদের মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিদেশি কোনো সামরিক বাহিনীকে এমন কোনো কাজের জন্য সহায়তা করা উচিত নয় যা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার পক্ষেও মত দেন তিনি। এর আগে এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প এই নীতিতে সঠিক অবস্থানে রয়েছেন। এল-সায়েদ ইসরায়েলের কার্যক্রমকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জোর দাবি জানান, যদিও ইসরায়েল বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের শেষের দিক থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক চার বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করে দেবে। প্রেসিডেন্ট জানান, কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এই বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েল এখন যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী একটি দেশ এবং সরাসরি মার্কিন সহায়তা ছাড়াই তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য সহায়তা নিতে পারবে। তবে এই সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল বার্ষিক ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়ে থাকে, যা ট্রাম্প প্রায় চার বিলিয়ন বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত দশ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সামরিক অর্থায়ন এবং ৫ বিলিয়ন ডলার যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ। তবে এই সমঝোতা স্মারকটি আইনত বাধ্যতামূলক কোনো চুক্তি নয় এবং এর জন্য সিনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। তা সত্ত্বেও এই সহায়তার অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ট্রাম্প কংগ্রেসকে এই তহবিল আটকে দেওয়ার অনুরোধ করবেন নাকি নতুন কোনো চুক্তি করবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প এবং এল-সায়েদের এই ঐকমত্য রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মিশিগান সিনেট প্রচারণায় ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় ও ইসরায়েল নীতির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। মাইক রজার্সকে হারিয়ে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ মিশিগানের ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং তাদের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইহুদি সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি বেড়ে উঠেছেন এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অবদানের প্রতি তার গভীর সম্মান রয়েছে। সার্বিক এই খবরটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক তাদের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে। খবরের উৎস: নিউজউইক
আবদুল এল-সায়েদের সিনেটর বেতন কত, বাংলাদেশি টাকায় কত এবং কী কী সুবিধা পাবেন?
ফ্লোরিডায় দুই মুসলিম সংগঠনসহ তিন সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর
ফ্লোরিডায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি সড়ক হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত, প্রতিবাদে হাজারো বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভাবনীয় জয়ের পর দলের নেতাদের দ্রুত কাজে নেমে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচনে কেবল ক্ষমতা অর্জন করাই শেষ কথা নয়, বরং সেই প্রাপ্ত ক্ষমতাকে অবশ্যই জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী জয়ের পর দলটির সামনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, "এখন আমাদের কাজ করে দেখানোর সময়। বন্ধুরা, আমেরিকায় আবারও নতুন সকাল এসেছে।" এই বিজয়কে শুধু ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে না দেখে, বরং তা দিয়ে জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, মাত্র ৩৫ বছর বয়সী তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানি গত ২০২৫ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। তিনিই এই শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং একইসঙ্গে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র।
মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের জয়ে ভারতের কর্ণাটকে উৎসব, ‘জামাইবাবু’র সাফল্যে উচ্ছ্বাস
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসন বদলানোর চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারাই
ধর্ষণ ও তিন যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ে দুটি আলাদা বসতবাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত এবং একাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। প্রথম ঘটনাটি ঘটে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের সানসেট পার্কে। রাত দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিস (এফডিএনওয়াই) আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং দুটি বাড়ি সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও একটি বাড়ি। এই ঘটনায় মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে; যাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া আগুন নেভাতে ও উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্মী ও দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও, ঘটনাস্থল থেকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উপস্থিতি শনাক্ত করেছে হ্যাজমাট (Hazmat) দল। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভোরে শিকাগোর নর্থ সাইডের রজার্স পার্কে অপর একটি অগ্নিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। চার ইউনিটের একটি ভবনের একটি টাউনহোমে এই আগুন লাগে। এই ঘটনায় পাশের ইউনিটের অন্তত তিনজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি পোষা প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। ওই এলাকার এক নতুন বাসিন্দা জানান, হঠাৎ মানুষের বাঁচার আকুতি এবং কাঁচ ভাঙার বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় তার। শিকাগোর এই অগ্নিকাণ্ডের কারণও এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশসহ চারজন নিহত, লাইফ সাপোর্টে আরো এক কর্মকর্তা
ইরান যুদ্ধের বিতর্কেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের