সদ্য সমাপ্ত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রতিবেদন বা ডকুমেন্টেশনে পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি, মতামত এবং নির্বাচনের দিনের নানা ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসির আমন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। ইসি সূত্র জানায়, পর্যবেক্ষকদের অভ্যর্থনা, হোটেল ব্যবস্থাপনা, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রের অভিজ্ঞতার ‘রাইট আপ’ ও ছবি প্রকাশনায় স্থান পাবে। এছাড়া কমিটি সংগ্রহকৃত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বই আকারে সংরক্ষণ করবে, যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গঠিত কমিটি প্রতিটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করবে এবং প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও রাখে। ইসি এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান শেষে সকাল সাড়ে এগারোটায় সংসদ ভবনেই এই সভা হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংসদীয় দলের এই সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন ইনশাল্লাহ।” শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল দশটায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিকালে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, কালো টাকার সরবরাহ প্রতিহত করা হবে। তারা বাংলাদেশটাকে আবার বিক্রি করে দিতে চায়। তাদের ভুলের কারণে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বছরের পর বছর খেসারত দিতে হয়েছে। রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছে। তারা টাকা নিয়ে বের হলে বেঁধে রাখতে হবে। তাদের কোনোভাবে স্পেস দেওয়া যাবে না। অর্থসহ যেখানে দেখা যাবে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রশাসনকে খবর দিতে হবে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত বলেন, যারা কালো টাকা নিয়ে ঢুকেছেন তাদের প্রত্যেকের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে নেওয়া হবে। এটা আমার শেষ ওয়ার্নিং। প্রত্যেকটা মোড়ে মোড়ে প্রত্যেকটা কেন্দ্রে, প্রত্যেকটা গলিতে গলিতে, প্রত্যেকটা পাড়ায়-পাড়ায় আপনারা অবস্থান নেন। ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান নেন। তিনি বলেন, কালোটাকা দেখলে আপনারা এনসিপির কন্ট্রোল রুমে ইনফর্ম করবেন। আর আমি এখন থেকে মাঠে থাকছি। যেখান থেকে খবর আসবে আমি সেখানে যাব। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চাই। কালোটাকা প্রতিরোধ করতে হবে। ভোট আমাদের পবিত্র আমানত। অর্থ দিয়ে ভোট বিক্রি করা যাবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। আমরা নিজেরা মাঠে থেকে এটা প্রতিরোধ করব। এখন থেকে এই মুহূর্ত থেকে একদম ভোট না দেওয়া পর্যন্ত আমরা পাহারা দেব। ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে কয়েকটা এলাকায় এখন অর্থ ঢুকছে। জাফরগঞ্জ ও বরকামতায় অর্থ নিয়ে ঢুকেছে। এটা প্রতিরোধ করা হবে। সুলতানপুর এবং রাজামেহার এলাকায় অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। ফাতেহাবাদ ইউনিয়নেও অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। যেখানে অর্থসহ কাউকে দেখা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, আপনারা যারা অর্থ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের কারোর অস্তিত্ব থাকবে না দেবিদ্বারে। আমি আবারও বলছি যেভাবে টাকা নিয়ে আসছেন ঠিক সেভাবেই আবার চলে যান। যদি কেউ একজন ধরা পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের অস্তিত্ব রাখবে না। প্রশাসন পুলিশ যথেষ্ট পরিমাণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এতদিন আমরা একটা উৎসবমুখর ভোটের জন্য অপেক্ষা করেছি। নির্বিঘ্নে মানুষ ভোট দেবেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানুষ ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে। আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিচ্ছেন আপনার বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবেন। কাউকে থাকতে দেবেন না। সবাইকে ধ্বংস করে দেবেন। এ ধরনের পরিবেশ দেবিদ্বারে হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যারা অর্থ নিয়ে নেমেছেন প্রমাণসহ প্রত্যেকের নাম জাতির সামনে প্রকাশ করব। রাজনীতিতে বাংলাদেশের মানুষ চিরতরে আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দেবিদ্বারের মানুষ আপনারা সবাই সচেতন থাকেন। আপনাদের বাড়ির সামনে যারা টাকা নিয়ে আসবে তাদের বেঁধে রাখবেন। আপনারা সবাই বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হতে যাচ্ছে। সেখানে যারা বাধা দিবে তাদের প্রতিহত করুন। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে আপনারা পাহারা বসান। স্থানীয় মসজিদে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, যারা কালোটাকা দিতে আসে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাবেন। তারা পাঁচ বছরের জন্য জনগণকে গোলাম বানাতে আসে। আপনার অধিকার হরণ করার জন্য আসে। বাংলাদেশটাকে পিছিয়ে দিতে আসে। ভোট যাকে ইচ্ছা তাকেই দেবে; কিন্তু টাকা দিয়ে পেশিশক্তি দেখিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যারা ভোট কিনতে আসছে তাদের প্রতিহত করতেই হবে।
‘৫০ লক্ষ নয়, পাঁচ কোটে টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’- এমন বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন তিনি। কত টাকা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিতে পারবেন বা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার তার নেই বলেও দাবি করেন আখতার আহমেদ। তিনি দাবি করেন, ‘এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই এবং আমি এটা বলিনি।’ ‘কোনো একটা অর্থের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছে তারা এ ব্যাপারে অর্থের সোর্স, অ্যামাউন্ট এবং পারপাস অব দি ফান্ড এটার ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন,’ বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে আইনি ব্যাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছেন তারা দেবেন আইনি ব্যাখ্যা, আমার কাছে তো না।’ বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দ করে পুলিশ। এই ঘটনার পর, নির্বাচনি আইনে টাকা বহনের বিষয়ে কী বলা আছে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়, টাকার উৎস এবং ব্যবহারের খাত যদি বৈধ হয়, তবে ৫০ লক্ষ নয়, এমনকি পাঁচ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো আইনি বাধা নেই।
জাতীয় নির্বাচনের আর এক দিনও বাকি নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন অবশ্য একটা নতুন ইতিহাসের দুয়ারে এনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশকে। সংস্কারের জন্য গণভোটও হবে এদিনই। এই গণভোট ও নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে শায়খ আহমাদুল্লাহ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আজ বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে।’ তিনি দাবি জানিয়েছেন, সংস্কার যেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখেই কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, ‘একইসাথে সেই সংস্কার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে কার্যকর করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার ব্যত্যয় যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সংস্কার কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট মানে শুধু পরিবর্তন নয়-হোক মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রেখে পরিবর্তনের অঙ্গীকার।’ আগামীকাল দেশের ২৯৯টি আসনে এক যোগে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ভোটের কার্যক্রম। এই ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। সাদা ব্যালট ও গোলাপি ব্যালট। তার মধ্যে সাদা ব্যালট পেপারটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। গোলাপি ব্যালট পেপারটিতে গণভোট হবে। সেখানেই হ্যাঁ বা না ভোট দেবেন ভোটাররা।
মোড়ে মোড়ে, স্টেশনে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ, কোনো গাড়ি আসলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। কোনো মতে ঝুলে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে কর্ণফুলী ব্রিজের উভয় প্রান্ত, মইজ্জারটেক, চাতরী চৌমুহনী এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়। দেখা যায়, গাড়ি না পেয়ে কর্ণফুলী শাহ্ আমানত ব্রীজ হেঁটেই পার হচ্ছেন অনেকেই। কারও হাতে, কারও কাঁধে রয়েছে ব্যাগ। অতিরিক্ত যাত্রীর সুযোগে কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। রেহেনা আক্তার নামের এক যাত্রী জানান, ব্রীজ থেকে বাঁশখালী গুনাগুরি সিএনজি ভাড়া স্বাভাবিকভাবে ৮০-১০০ হলেও এখন ২০০-৩০০ টাকা দাবি করছেন সিএনজি চালকেরা। এদিকে অতিরিক্ত যানজট এবং গাড়ি স্বল্পতার কথা জানিয়েছেন চালকেরা। অপরদিকে বাড়ি ফিরতে শত কষ্ট এবং ভোগান্তি পোহাতে হলেও যাত্রীদের মুখে এক অন্যরকম হাসি। রাফ্সান নামের এক কলেজ ছাত্র জানান, আমরা নতুন ভোটার, এবারের মতো ভোটের আমেজ আর কখনো দেখা যায়নি। এবার তরুণ-যুবকদের ভোটের মাধ্যমেই জনগণের সরকার নির্ধারণ করব। আব্দুল কাদের নামের এক ব্যক্তি বলেন, নবম সংসদ নির্বাচনের পর এই নির্বাচনেই মানুষের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এরপর থেকে কোনো নির্বাচনে বাড়ি যায়নি। এবার বিভিন্ন প্রার্থীর লোকও যোগাযোগ করেছেন ভোটের বিষয়ে। তাই ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনকে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়েছে উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হোটেলে এ ঘোষণা দেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারুয়ার তপন। তার নেতৃত্বে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমর্থন জানিয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এর আগে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপন ও সদস্যসচিব মুফিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির ডা. লিটনকে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলামের নির্বাচন বর্জন করেছেন তারা। উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপন জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিবার্চনি কোনো কার্যক্রমে এবং নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় তার পক্ষের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি । এ সময় উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন কামাল, শরিফ উদ্দিন শরীফ, সেলিম সারোয়ার সরকার, পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ফজলুল হক, সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফাসহ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিনসহ উপজেলা জাতীয় পার্টি পৌর জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার। এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বিএনপির নির্বাচনি কর্মসূচিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনি প্রোগ্রামগুলোতে নারী জাগরণ শুরু হয়েছে। সোমবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ পারপুগী বিটবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। আমাদের মা–বোনেরা এখন অনেক বেশি সজাগ ও সচেতন হয়েছেন। বর্তমান দেশের জনসংখ্যার হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, নারীর সংখ্যা এখন পুরুষদের তুলনায় বেশি। আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলাতেও পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অতএব ভাইয়েরা সাবধান, ভালোভাবে কাজ করতে হবে। নারীদের এই জাগরণ ও অংশগ্রহণকে সম্মান জানিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের এখানে আমি পরিচিত। আগেও নির্বাচন করেছি, ১৯৯১ সাল থেকে আমি নির্বাচন করছি। এখন পর্যন্ত আমি কিন্তু আপনাদের ছেড়ে কখনো যাইনি। হারি জিতি আমি কিন্তু নির্বাচন করেছি। এবার আবার আসছি; এবার একটু নতুন পরিস্থিতি। এবার আমাদের সামনে আওয়ামী লীগ নাই। নৌকাটা আছে’—এ কথা বলতেই উপস্থিত জনতা না-সূচক মন্তব্য করেন। তখন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওই নৌকা না থাকাতে এখন আসছে একটা দাঁড়িপাল্লা। জামায়াতে ইসলাম তাই না?’ উপস্থিত সবাই আবারও হ্যাঁ-সূচক মন্তব্য করলে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামকে কখনো আপনারা আগে দেখেছেন?’ তখন আবারও না-সূচক মন্তব্য এলে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন আসছে তাই না? নতুন আসছে এখন একটু শিখুক, মানুষের কাছে যাক। মানুষ তাকে দেখুক। আমরা তো বহুকাল ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতেছি।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ধানের শীষের পার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে জিততে নানা ধরনের অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছে বলে গুঞ্জন পাচ্ছি। তবে আমরা কেন্দ্র দখল বা বোরকা পরে জাল ভোট দিয়ে এমপি হতে চাই না। মানুষের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে আপনাদের সেবা করতে চাই। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনে ধানের শীষের গণমিছিল ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। কমলনগর উপজেলার পৃথক ৫টি স্থানে নির্বাচনি পথসভা ও গণমিছিল কর্মসূচিতে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, আমরা একটি ইনসাফ কায়েমের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাবেন। আমরা জনগণের আস্থার ওপর বিশ্বাস করি। আমরা কোনো জাল ভোট, প্রবাসী ভোট বা মৃত ব্যক্তির ভোট দিতে দেব না এবং নিজেরাও দেব না। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা কাউকে হুমকি দেওয়া যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে হবে। এর আগে একইদিন বেলা ৩টায় উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজার থেকে বিশাল এক গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ৯টি ইউনিয়ন থেকে আসা হাজার হাজার সমর্থক ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। তোরাবগঞ্জ ছাড়াও করইতলা বাজার, চরলরেন্স বাজার, হাজিরহাট বাজার ও করুনানগর বাজারে পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রামগতি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, সাবেক সহ-সভাপতি মীর আক্তার হোসেন বাচ্চু, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল আলম নাহিদ এবং রামগতি উপজেলা বিএনপির সদস্য আনম মঞ্জুর মোর্শেদসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে। তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সেই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জোট না হলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক বলেও জানান দলটির আমির। ‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজা প্রশ্ন করেন, প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে কাটানো বছরগুলো থেকে জামায়াত কী শিক্ষা নিয়েছে? জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে অংশ নিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি। এই বছরগুলো শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করেছি, দলের শৃঙ্খলা আরও কঠোর করেছি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করেছি। সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে রাজনৈতিক কৌশলগুলোও নতুন করে সাজিয়েছি। ডা. শফিকুর রহমান জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থার মধ্যে থাকলেও জামায়াত কখনোই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন সাফল্য দেখিয়েছে। জামায়াত এখন শুধু একটি আদর্শিক দল নয়, বরং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের অংশীদার করে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে। জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেছেন, তারা শুধু নির্দিষ্ট আদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না হলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ ও ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো– জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি। সংখ্যালঘু ও নারীদের বিষয়ে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া যায়নি। জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত সব ধরনের সমর্থন দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নারী জনপ্রতিনিধি হওয়ার নজির তিনি তুলে ধরেন। অতীতের বিতর্ক নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
হাতে প্রচারপত্র, সঙ্গে কয়েকজন কর্মী। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে হাট-বাজার, গ্রাম আর চা-বাগান ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। রাজনীতির চিরচেনা ছবির বাইরে দাঁড়িয়ে তার এই পথচলা হয়ে উঠেছে সাহস ও দৃঢ়তার এক আলাদা গল্প। মৌলভীবাজারের রাজনীতির মাঠে সাদিয়া নোশিনের উপস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনি প্রচারে বড় শোডাউন বা ব্যয়বহুল আয়োজনের বদলে সাধারণ মানুষের কাছেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন সাদিয়া নোশিন। চায়ের দোকান, হাটের আড্ডা কিংবা চা-বাগানের শ্রমিক লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছেন মানুষের দৈনন্দিন সংকট, ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাদিয়া নোশিনই একমাত্র নারী প্রার্থী। মৌলভীবাজার-২ আসনে তিনি ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান, ফজলুল হক খান, জাতীয় পার্টির আবদুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী। সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী জানান, এমসি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলার শুরু। সে সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পড়াশোনা শেষ হলে ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি মূল রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নারী সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাদিয়া নোশিন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই তাকে সাহস জোগান। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, মেয়ে হয়ে সাহস করে দাঁড়ানোই বড় কথা। এসব কথা থেকেই আমি শক্তি ও সাহস পাই। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এই প্রার্থী বলেন, চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী দেশের নাগরিক হয়েও এখনও ভূমির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন থাকলেও চিকিৎসক ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে, আর রেলযোগাযোগেও অব্যবস্থাপনায় স্টেশন ও লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নারী উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাদিয়া নোশিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারীর অধিকার ও উন্নয়ন। এই দাবিগুলোকে সামনে রেখেই তারা রাজনীতির মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের দাবি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটারের কাছে সাদিয়া নোশিন হয়ে উঠছেন ভিন্ন ধারার রাজনীতির এক প্রতীক। যেখানে ক্ষমতার নয়, অগ্রাধিকার পায় মানুষের কথা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। আমরা একটা ইসলামি দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, শীর্ষ পদে নারীরা ক্ষমতায় আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার তেমন একটা পরিবর্তন ঘটেনি। এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নানা অভিযোগ সিইসির কাছে উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে। যারা এ কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা। তারা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুটো নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। জামায়াত নেত্রীরা বলেন, এই প্রথম জামাতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশ ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের একদিন পর দুগ্রুপের মধ্যে কয়েক দফার সংঘর্ষে নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার চুমরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামে কয়েক দফা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে মতিউর রহমানের বাড়িতে বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে আশপাশের কয়েকশ গ্রামবাসী আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেন। তারা সবাই ইতোপূর্বে নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত নেতাকর্মী ছিলেন। উঠান বৈঠকে বাবনাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা বক্তব্য দেন। বক্তব্য দীর্ঘায়িত হলে ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন একই গ্রামের প্রতিপক্ষ আনোয়ার মোল্লার দলের শহিদুল মোল্লা। বৈঠক চলাকালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটলে পরে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এর জের ধরে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দুপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ইটপাটকেল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুপক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। আহতরা হলেন- লাবনী আক্তার (৪৫), ফাতেমা আক্তার (৩৬), অ্যাডভোকেট জাকারিয়া (৪০), লাভলু মোল্লা (৪৫), জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদালী আলী মোল্লা (৪০), ইসরাফিল মোল্লা (৪৫), আব্দুর রহমান (২০),আনোয়ার মোল্লা (৫০), শাহাবুদ্দিন মোল্লা (৫৫), শহিদুল মোল্লা (৩০), সুমন (২৮) ও রাজনসহ (৩০) ১৫ জান। ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে আমরাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে এসে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আহত বিএনপি নেতা জাকারিয়া মোল্লা জানান, আমার ভাই ইসরাফিল মোল্লার যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষের শহীদুল মোল্লা তীব্র সমালোচনা করেন। এ নিয়ে আজ সকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে প্রতিপক্ষ শাহাবুদ্দিনের লোকজন। আমার পকেটে থাকা ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমাদের প্রায় ৮-১০ জন লোক আহত করে। প্রতিপক্ষের আনোয়ার মোল্লা জানান, তার পক্ষের শহীদুল মোল্লার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় শাহাবুদ্দিন মোল্লার লোকজন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমাদের বেশ কয়েকজন লোক আহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস