মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরীগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক জরুরি সতর্কবার্তায় দুবাইয়ের জেবেল আলী, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরা বন্দরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, এসব বাণিজ্যিক ও বেসামরিক স্থাপনার ভেতরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন অবস্থানের কারণে এলাকাগুলো এখন তেহরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। সম্প্রতি ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে লুকিয়ে থাকা মার্কিন শত্রু এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ইরানের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ফলে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া প্রতিটি বন্দর ও ডক এখন ইরানি মিসাইলের নিশানায়। ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি দাবি করেছেন, বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের বেশ কিছু মার্কিন ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে: আল-ধাফরা ঘাঁটি (ইউএই): ধ্বংস করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম ও কন্ট্রোল টাওয়ার। আল-আদিরি ঘাঁটি (কুয়েত): গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড ও সমরাস্ত্রের গুদাম। শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি (বাহরাইন): একাধিক ড্রোন ও মিসাইল আঘাত হেনেছে। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় অংশে শুক্রবার (১৩ মার্চ) একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের সময় কিছু ভবন কেঁপে ওঠে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, যার প্রভাবে আশেপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবনের বাইরের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই। প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ জায়েদ রোডের দিক থেকে সাইরেনের শব্দও শোনা গেছে। ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে ফেলে দুবাই পুলিশ। জানা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) এলাকায়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশপথে প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দুবাইয়ের আল বারশা এলাকায় শনিবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুবাই মিডিয়া অফিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে একটি উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করা হয়। সেটির ধ্বংসাবশেষ সরাসরি একটি যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়লে ওই পাকিস্তানি চালক প্রাণ হারান। চলমান এই সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এটি দ্বিতীয় কোনো পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত পাকিস্তানি দূতাবাস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, "দুবাইয়ের আল বারশা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আমাদের একজন নাগরিকের মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আমাদের কনস্যুলেট জেনারেল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাজ করছেন।" এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবুধাবিতে একই ধরনের ঘটনায় মুরিদ জামান নামে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং গত আট বছর ধরে আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, বিদেশের মাটিতে নিজেদের নাগরিকদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি আমিরাতে অবস্থিত পাকিস্তানি মিশনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার এবং সব ধরনের সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোতেও সাধারণ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক এবং স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আমিরাত সরকার নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai–এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছোড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা যায়, দুবাইয়ের বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনার আগে Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছিল, দুবাইয়ের মারিনা এলাকায় অবস্থিত United States Central Command–এর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সাম্প্রতিক নজিরবিহীন হামলার পর চিরচেনা দুবাই এখন এক অচেনা নিস্তব্ধ নগরী। পর্যটনের ভরা মৌসুমে যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, সেখানে এখন শপিংমল থেকে সমুদ্রসৈকত সবই খাঁ খাঁ করছে। আকাশপথে বিমানের গর্জন নেই, ব্যস্ত মহাসড়কে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। দুবাই ম্যারিনার জমজমাট ইয়ট পার্টিগুলো থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা ৬ বছর আগের কোভিড-১৯ লকডাউনের সেই স্থবিরতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে স্কুলগুলো পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোদেলা আকাশ আর পাখির ডাক ছাড়া শহরজুড়ে এখন কেবলই অস্বাভাবিক নীরবতা। সুপারমার্কেটগুলোতে পণ্য মজুতের হিড়িক পড়েছে, আর ডেলিভারি অ্যাপগুলো বাড়তি চাহিদার চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক ও বাসিন্দা গাড়িতে করে ওমান সীমান্তের দিকে ছুটছেন। এমনকি ওমান সীমান্তের একটি হোটেল আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য তাদের কনফারেন্স রুমকে অস্থায়ী আশ্রমে রূপান্তর করেছে। দুবাইয়ের মতো সুরক্ষিত শহরে সুনির্দিষ্ট কোনো বোম্ব শেল্টার না থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা শনিবার রাত কাটিয়েছেন ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে শিশুদের শান্ত রাখার চেষ্টায়। আকাশ কাঁপানো বিস্ফোরণের শব্দকে অভিভাবকরা শিশুদের কাছে 'রমজানের আতশবাজি' বা 'ইফতারের কামান' হিসেবে বর্ণনা করছেন, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে ভীতি ছড়াতে না পারে। স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত এই শহরটি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে শনিবার ইরান আরব উপসাগরজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার শহরগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগকেন্দ্র শহরটি আকাশ থেকে নেমে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে আগুন ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দুবাই করোনার পরবর্তী সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি, রিমোট ওয়ার্ক এবং সুবিধাজনক কর ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে শনিবারের হামলা প্রমাণ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত রাজনীতি থেকে দুবাই বিচ্ছিন্ন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা পুনরায় বিনিয়োগের আগে সতর্ক হবেন। হামলার সময় ফেয়ারমন্ট হোটেল প্রাঙ্গণে আগুন লাগার ভিডিও ফুটেজে ইরানি ড্রোনের সরাসরি আঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া ‘পাম জুমেইরাহ’ এলাকায়ও ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। হামলার ফলে বুর্জ খলিফা থেকে মানুষকে সরানো হয়েছে, এবং আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে টেনে আনতে এই হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। একই সময়ে উপসাগরীয় রাজারা সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা দুবাইয়ের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের আকর্ষণ দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে রয়টার্স কানেক্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রোববার (১ মার্চ) সকালে দুবাইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশ ছেয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো প্রতিশোধমূলক হামলার একটি অংশ হিসেবে জেবেল আলী বন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর আগে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জেবেল আলী বন্দরের একটি বার্থে একটি মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভূপাতিত সেই সব গোলার ধ্বংসাবশেষ বন্দরে আছড়ে পড়ায় এই অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। জেবেল আলী বন্দরটি শুধু আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রই নয়, এটি মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম 'পোর্ট অফ কল' হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে হামলার প্রভাব বৈশ্বিক সামরিক ও অর্থনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শুধু দুবাই নয়, একই দিনে দোহা এবং মানামাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। দুবাই সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। হামলার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচলও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার খবরের পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরান ঘোষণা করেছে, তারা তাদের ভূখণ্ডে চালানো হামলার ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দিতে সব ধরনের মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববাজার এবং তেলের দামেও এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্বে প্রথম স্বর্ণ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। রাস্তাটির নাম হবে ‘গোল্ড স্ট্রিট’। আর এটি নির্মাণ করা হবে আমিরাতের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে। তবে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের উদ্বোধনের সময় এই ঘোষণা দেয় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইথরা দুবাই। খবর খালিজ টাইমসের ‘হোম অব গোল্ড’ নামে পরিচিত গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে স্বর্ণ ও গয়নাশিল্প-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এক ছাদের নিচে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য, বুলিয়ন ট্রেড, বিনিয়োগ, স্বর্ণ ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানে এই ডিস্ট্রিক্টে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। যেখানে স্বর্ণালংকার ছাড়াও পারফিউম, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান ও তানিশক জুয়েলারির মতো বড় ব্র্যান্ড এখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর স্থাপন করেছে। জুয়েলারি ব্র্যান্ড জয়ালুক্কাস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড়- ২৪ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ইথরা দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসাম গালাদারি বলেন, গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট দুবাইয়ের ঐতিহ্য, বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে একত্রিত করবে। দুবাই ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজমের অধীন দুবাই ফেস্টিভ্যালস অ্যান্ড রিটেইল এস্টাবলিশমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আল খাজা বলেন, ‘স্বর্ণ দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ঐতিহ্যকে সম্মান জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে সৃজনশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস