সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai–এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছোড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা যায়, দুবাইয়ের বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন।
এ ঘটনার আগে Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছিল, দুবাইয়ের মারিনা এলাকায় অবস্থিত United States Central Command–এর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
পাকিস্তানে ২০২৩ সালের ৯ মে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক আমজাদ আলী শাহ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দণ্ডিত নেতারা ওই সহিংসতার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতা ওমর আইয়ুব, জারতাজ গুল, মুরাদ সাইদ, শিবলি ফারাজ, শাহবাজ গিল এবং হাম্মাদ আজহারসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এছাড়া কানওয়াল শোজাব, জুলফি বুখারি ও উসমান সাইদ বাসরাসহ অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতার নামও দণ্ডিতদের তালিকায় রয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিরা জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের গেট, হামজা ক্যাম্প এবং আর্মি মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৩ সালের ৯ মে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুরুতে ইমরান খান ও শাহ মাহমুদ কোরেশিসহ মোট ১১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকা ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পৃথকভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি বিশেষ কমান্ডো অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, নবী শিট (Nabi Sheet) এলাকায় অবতরণ করা ইসরায়েলি প্যারাট্রুপারদের তারা অ্যাম্বুশ বা অতর্কিত হামলার মাধ্যমে ঘিরে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ওই এলাকায় প্রচণ্ড লড়াইয়ের চিত্র দেখা গেলেও, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন নবী শিট এলাকায় চারটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে এসে বিশেষ বাহিনী নামানোর চেষ্টা করে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং সেনারা অবতরণ করা মাত্রই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। কিছু অসমর্থিত সূত্র দাবি করছে, হিজবুল্লাহর হামলায় একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন প্যারাট্রুপারকে আটক বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানকে একটি "গোপন মিশন" হিসেবে বর্ণনা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ ইসরায়েলি নেভিগেটর রন আরাদ-এর দেহাবশেষ বা তথ্য সন্ধানে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছিল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই অভিযানের সময় এবং পরবর্তী বিমান হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পুরো বেকা উপত্যকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার ইরাকের মসুল শহরের দক্ষিণে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF)-এর একটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আজ শনিবার সংস্থাটির দুইজন নির্ভরযোগ্য সূত্র ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে (AFP) এই হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পিএমএফ-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মসুল শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত সাবেক এই আধাসামরিক জোটের ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক আলামত এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনি একে 'সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও হামলার বিষয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস মূলত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল (ISIS) বিরোধী লড়াইয়ের জন্য গঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি শক্তিশালী জোট। পরবর্তীকালে একে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই জোটের মধ্যে বেশ কিছু শক্তিশালী উপদল রয়েছে, যাদেরকে ইরান সরাসরি সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় এই হামলা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।