- প্রচ্ছদ
- Topic
দাবানল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে চলতি বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দাবানল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ লাখের বেশি একর জমি আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুড়ে যাওয়া এই বিপুল এলাকা মূলত অঙ্গরাজ্যের সুরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত। দাবানলের বিস্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলমান আগুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, শুষ্ক উদ্ভিদ এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ওয়াশিংটন ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল মোকাবিলায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, বনাঞ্চলের ঝুঁকি কমানো এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালানো হয়। অঙ্গরাজ্যটির জন্য দাবানল নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনে বড় আকারের একাধিক দাবানল হয়েছে। ২০২৪ সালেও অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ একর এলাকায় দাবানলের প্রভাব পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ২০০ একর ছিল বনাঞ্চল। তবে ২০২৬ সালের মাত্র আগস্টেই ৩ লাখ একরের বেশি জমি পুড়ে যাওয়ার তথ্য চলতি দাবানল মৌসুমের তীব্রতা তুলে ধরছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগুনের ধোঁয়া, বাতাসের মান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। দাবানলের ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন ব্যবস্থাপনা, আগুনের ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আগুনের সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন কাউন্টিতে শুরু হওয়া তিনটি বিশাল দাবানল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। 'অটাম লেন ফায়ার', 'ফেয়ারভিউ ফায়ার' এবং 'ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার' নামের এই দাবানলগুলো ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর এলাকা গ্রাস করেছে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত এগুলো কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে ৭ শতাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে ওই এলাকার প্রায় ৬৫ হাজার অধিবাসীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ স্পোকেন কাউন্টির এই পরিস্থিতিকে একটি চরম 'মহাবিপর্যয়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রেড ক্রসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ব্র্যাড কিসারম্যান জানান, শত শত পরিবার তাদের মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছে এবং পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং ছাই হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কেবল চিমনিগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্পোকেন শহরের মূল কনভেনশন সেন্টারে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যেই প্রায় চারশত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে সমগ্র ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যজুড়ে ছোট-বড় প্রায় ১৫টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার একর এলাকা জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। আবহাওয়ার সাময়িক অনুকূল পরিস্থিতির কারণে দমকল কর্মীরা কিছুটা সুবিধা পেলেও, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা আবার বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই চরম উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আইডাহো, ওরেগন এবং ইউটাতেও দাবানল তীব্র রূপ নিয়েছে।
বাহ্যিক রূপ আর শারীরিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো যখন সামান্য প্রতিকূলতায় ভেঙে পড়ে, তখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক দম্পতির ভালোবাসা। আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যাওয়া ও দুই হাতের সাতটি আঙুল হারানোর পরও প্রেমিকার পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন এক যুবক। শুধু পাশে থাকা নয়, প্রেমিকার পরিচর্যা করার জন্য নিজের স্বপ্নের চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। অনন্য এই দম্পতি হলেন অস্ট্রেলিয়ার তুরিয়া পিট ও মাইকেল হসকিন। ঘটনার সূচনা ২০১১ সালে। পেশায় খনি প্রকৌশলী ও অ্যাথলেট তুরিয়া পিট অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলে ১০০ কিলোমিটারের একটি কঠিন আল্ট্রা-ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ানোর মাঝপথে হঠাৎ পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তীব্র শিখা ঘিরে ধরে তুরিয়াকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপে ঝলসে যায় তার শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার এতটাই অবক্ষয় ঘটেছিল যে, চিকিৎসকেরা তাকে প্রায় এক মাস কৃত্রিম কোমা বা চিকিৎসাজনিত অচেতন অবস্থায় রাখতে বাধ্য হন। কোমা থেকে ফেরার পর শুরু হয় বেঁচে থাকার আরেক কঠিন সংগ্রাম। শরীরের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাকে দুই শতাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার দুই হাত মিলিয়ে মোট সাতটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছিল। তবে তুরিয়ার এই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে পাশে ছিলেন তার জীবনসঙ্গী মাইকেল হসকিন। ২০০৯ সাল থেকেই গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে ছিলেন এই যুগল। মাইকেল পেশায় ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তুরিয়ার দুর্ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই মুহূর্তে তুরিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাকে। প্রেমিকার পাশে থাকার তাগিদে মাইকেল নিজের পুলিশের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন এবং নিজেকে তুরিয়ার সার্বক্ষণিক সেবক হিসেবে নিয়োজিত করেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর তুরিয়ার প্রতিদিনের ক্ষতের ড্রেসিং বদলে দেওয়া, ওষুধ খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন মাইকেল। সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়টি এসেছিল তুরিয়ার চিকিৎসার শুরুর দিকেই। তুরিয়া যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ঝুলছিলেন, ঠিক তখনই মাইকেল তার জন্য একটি বিয়ের এনগেজমেন্ট রিং কিনে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মাইকেলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তুরিয়ার এমন বিপর্যস্ত চেহারার পর কখনো কি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় এসেছিল? জবাবে মাইকেল ভালোবাসার এমন এক সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাইকেল বলেছিলেন, "আমি তো তার রূপকে নয়, ভালোবেসেছিলাম তার আত্মা আর চরিত্রকে।" দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর মানসিক লড়াই শেষে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তুরিয়া ও মাইকেল। আগুনে তুরিয়ার শারীরিক গঠনের অনেক কিছু বদলে গেলেও মাইকেলের ভালোবাসা আর বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। আগুনের নির্মম শিখা তুরিয়ার শরীর পুড়িয়ে দিলেও, তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ছাই করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা পুড়ে গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্পোকেন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর বব ফার্গুসন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং প্রবল দমকা হাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। শুধু স্পোকেন ও আশপাশেই প্রায় ২১ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও একাধিক দাবানল সক্রিয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্পোকেনের ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার, ফেয়ারভিউ ফায়ার এবং মেডোভিউ ফায়ার—এই তিনটি বড় দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের ঝুঁকিতে স্পোকেন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকাজুড়ে বিশাল অগ্নিশিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। বহু বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং দমকল বাহিনী আগুনের বিস্তার ঠেকাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। মার্কিন সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু ওয়াশিংটনেই নয়, পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনেও টানা দশম দিনের মতো দাবানল নিয়ন্ত্রণে বুলডোজার, হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বর্গকিলোমিটার তৃণভূমি পুড়ে গেছে এবং ৬০০টির বেশি বাড়িসহ প্রায় ৮০০ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ পূর্ব ওয়াশিংটন, পূর্ব ওরেগন, পশ্চিম ও মধ্য আইডাহো এবং পশ্চিম মন্টানায় বায়ুদূষণ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি উটাহ, মন্টানা ও পশ্চিম নেব্রাস্কার কিছু এলাকায় দাবানলের উচ্চ ঝুঁকি এবং অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ নেভাডা ও উত্তর মন্টানার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতাও বহাল রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভিস্তা করপোরেশন জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। দাবানলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী কয়েক দিন নতুন করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহ, কম আর্দ্রতা ও প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
রেকর্ড তাপমাত্রা ও দীর্ঘ খরার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা ইউরোপ। গ্রীষ্মের এই চরম বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো। এর মধ্যে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে এবং আতিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় আগুন নেভানোর সময় আকাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় একটি হেলিকপ্টারে থাকা গ্রিক ও ডেনিশ নাগরিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একজন গ্রিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। ঠিক কী কারণে আকাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল, তা উদঘাটনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বোয়োটিয়া অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া আগুন বাতাসের তীব্রতায় দ্রুত আতিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ এই দাবানলে ইতোমধ্যে ওই এলাকার প্রায় ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি পবন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মূল গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বেসরকারি লাইনে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় দুই গ্রিক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দাবানল পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় মেগারা শহরের দিকে আগুন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এই শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় চরম সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার বেশ কয়েকটি এলাকাও ইতোমধ্যে খালি করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার দাবানল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২ হাজার একরের বেশি এলাকা গ্রাস করেছে। প্রবল বাতাস, অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ফলে শতাধিক দমকলকর্মীকে আগুন নেভানোর কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের কারণে একাধিক আবাসিক এলাকায় লেভেল–৩ (তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ত্যাগ করুন) এবং লেভেল–২ (প্রস্তুত থাকুন) সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দাবানলটি স্পোকেন নদী অতিক্রম করে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আগুন যাতে বসতবাড়ি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং বনাঞ্চলে আরও ক্ষয়ক্ষতি না ঘটায়, সেজন্য স্থল বাহিনীর পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রবল দমকা বাতাসের কারণে আকাশপথে অভিযান বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন দাবানল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভিস্তা অগ্নিঝুঁকি কমাতে কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যাতে বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত না হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো তথ্য নিশ্চিত হয়নি। তবে কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। আগুনের উৎপত্তির কারণও তদন্ত করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। এতে দাবানল আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় সামরিক বিমানটিকে এবার ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হয়েছে। এয়ারবাসের তৈরি 'এ৪০০এম অ্যাটলাস' (A400M Atlas) নামের এই বিমানটি সাধারণত সেনা ও সামরিক যান বহনে ব্যবহৃত হলেও, প্রকৌশলীদের জরুরি পরিবর্তনের পর এটি এখন ২২ টন ধারণক্ষমতার বিশালাকার 'ওয়াটার বোমারু' হিসেবে কাজ করছে। কার্গো হোল্ডে বসানো এই বিশেষ পানির ট্যাংক ব্যবহার করে বিমানটি মাটি থেকে মাত্র ১০০ ফুট ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে উন্মুক্ত র্যাম্পে বসানো পাইপের মাধ্যমে পানি বা রাসায়নিক ফায়ার রিটার্ডেন্ট (অগ্নিনির্বাপক পদার্থ) ফেলতে সক্ষম। ২০২২ সাল থেকে এই অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলছিল। তবে ফ্রান্সে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ফরাসি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে গত সপ্তাহে এর চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম এয়ারবাস বিমানটি বোর্দোর কাছাকাছি অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এই দাবানলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের 'সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যার কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গিয়ম ফোরি জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা না হলেও, সামরিক বাহিনীতে সহজলভ্য হওয়ায় এই বিমানগুলোকে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজে লাগানো হচ্ছে। সচরাচর ব্যবহৃত হলুদ রঙের ক্যানাডায়ার (Canadair) ওয়াটার বোমারুর চেয়ে এটি তিনগুণ বেশি তরল বহন করতে পারে। মাত্র এক আঘাতেই এটি ৪,৪০০ গ্যালন তরল ফেলতে পারে, যা ১,৩০০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এলাকা ভিজিয়ে দিতে সক্ষম। ক্যানাডায়ারের মতো এটি হ্রদ বা সমুদ্র থেকে সরাসরি পানি তুলতে না পারলেও, মাটি থেকে ফায়ার রিটার্ডেন্ট লোড করার ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকর। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে কার্গো বিমানের পেছনের র্যাম্প দিয়ে সহজেই এই পানির ট্যাংক প্রবেশ করানো যায় এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই একটি সাধারণ সামরিক বিমানকে অগ্নিনির্বাপক বিমানে রূপান্তর করা সম্ভব। ঘণ্টায় ৫৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম এই বিমানটি সাধারণ ক্যানাডায়ার বিমানের চেয়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি হওয়ায় দুর্গম বা অস্থায়ী রানওয়েতেও এটি সহজেই ওঠানামা করতে পারে। এয়ারবাস জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে কীভাবে বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে তারা আরও পাইলটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চলতি বছরেই এই ফায়ারফাইটিং কিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্পেনও তাদের সামরিক বহরে থাকা এ৪০০এম বিমানগুলোকে একইভাবে রূপান্তর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রচণ্ড খরা, শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফ্রান্সের দাবানল পরিস্থিতি। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এর মধ্যেই আবহাওয়া বিভাগ নতুন তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ বড় তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক গাছপালা ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ ধরনের অসম লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চারজন অগ্নিনির্বাপক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু জিরোন্দ এলাকাতেই বর্তমানে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার একদিনেই ওই এলাকায় ১৪টি নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলের প্রভাব দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চল। আগুন শহরের কাছাকাছি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছালেও এখনো সরাসরি নগর এলাকায় প্রবেশ করেনি। তবে পুরো অঞ্চল ঘন ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দূষিত বাতাসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। দাবানলের প্রভাবে পর্যটন কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ওয়াইন শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে এমন অভিযোগে ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বাতাসের গতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান নজিরবিহীন দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার জরুরি সংকট বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। কয়েকদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আগুনে এখন পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে সোমবার সকালে আগুনের বিস্তার কিছুটা ধীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের গিরন্দ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় দাবানলটি ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ আয়তনের এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, উদ্ধারকারী দল এবং অগ্নিনির্বাপণ বিমান দিন-রাত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংকট বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম, পুনর্বাসন, অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন করে তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, পুনর্গঠন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। দাবানলের কারণে বহু শহর ও গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশুদের গ্রীষ্মকালীন শিবিরসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে কয়েকটি এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মকভাবে খারাপ হওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী স্পেনেও ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশে মিলিয়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া বা ঘরে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, চলতি বছরের দাবানল মৌসুম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল আরও বিস্তৃত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর বা ১৮ লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। বর্তমানে প্রদেশটিতে প্রায় ১৯০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে উত্তর-পশ্চিম অন্টারিও থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পৌঁছেছে। উইসকনসিন, আইওয়া, মিসৌরি, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও এবং মিশিগানের কিছু এলাকায় বায়ুর মান কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কানাডাকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড। তিনি বলেন, কানাডা দাবানল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। তার ভাষ্য, সংকটের সময়ে একে অপরকে দোষারোপ না করে সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ডাগ ফোর্ড আরও জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে অন্টারিওতে হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করছেন। আগুন মোকাবিলায় বিমান, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কানাডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৫ হাজার ৩০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন। তবে শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের কারণে অনেক এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। দীর্ঘ সময়ের খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ‘ইটন অগ্নিকাণ্ডে’ ক্ষতিগ্রস্তদের নিজেদের বিশেষ ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির আওতায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে ইউটিলিটি কোম্পানি ‘সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন’। এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ৯ হাজার ৪০০টিরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং প্রায় ১ হাজার ১০০টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯ মাস পর কোম্পানিটি এই দাবানল পুনরুদ্ধার ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করেছিল। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক সম্পত্তির মালিক এমন এক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং অগ্নিকাণ্ডে সরাসরি আগুনে না পুড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এক ভাড়াটেকে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির মূল প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও সিইও পেড্রো পিজারো বলেন, "প্রতিটি দাবির পেছনে একজন ব্যক্তি, পরিবার বা ব্যবসা রয়েছে যা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" কোম্পানিটি মোট ৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ২ হাজার ১০০টিরও বেশি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং অর্থ পাওয়া গ্রাহকদের ওপর চালানো এক জরিপে ৮২ শতাংশ মানুষ এই কর্মসূচির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনি সংস্থা ‘এলএ ফায়ার জাস্টিস’-এর অ্যাটর্নি ডগ বক্সার দাবি করেছেন, আবেদনকারীরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের মাত্র অর্ধেক পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের পর মানুষ মামলা করার চেয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। কোম্পানিটি মূলত এমন অসহায় মানুষদের সুযোগ নিচ্ছে যাদের মাথা গোঁজার জন্য এখনই কিছু অর্থের জরুরি প্রয়োজন।" এই ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির আওতায় আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে অর্থ গ্রহণ করলে আবেদনকারীরা ইউটিলিটি কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করেনি এবং জানিয়েছে যে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনো অপরাধ স্বীকার করা নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনের যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে লেগেছে দাবি করে ভুক্তভোগী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং মার্কিন বিচার বিভাগ বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। জবাবে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিসহ অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে দাবি করেছে যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো যেত।
দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। এ সময় শহরটি ভারতের নয়াদিল্লি ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাকেও ছাড়িয়ে যায়। কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর আকাশ হলুদ-ধূসর রঙ ধারণ করেছে এবং অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। শহরের বায়ুমান স্বাস্থ্য সূচক (AQHI) কিছু সময়ের জন্য ১০+, অর্থাৎ ‘অত্যন্ত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওতে চলমান শতাধিক বড় দাবানল। কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে শতাধিক এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। দাবানলের ধোঁয়া শুধু কানাডায় সীমাবদ্ধ নেই। শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা পিএম ২.৫ নামে অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ‘ভলকানো ফায়ার’ নামে পরিচিত এই দাবানল মঙ্গলবার বিকেলে মুরিয়েটা এলাকার লা ক্রেস্তা কমিউনিটির কাছে শুরু হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ (ক্যাল ফায়ার) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫২ মিনিটের দিকে ভিয়া ভলকানো ও তেনাহা রোডের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৭৫ একর এলাকা পুড়ে গেছে এবং তখনও আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণ এখনও তদন্তাধীন। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাই ভ্যালি নিউজ জানিয়েছে, ১২৫ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক সদস্য ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে ১৯টি ফায়ার ইঞ্জিন, তিনটি হেলিকপ্টার, দুটি বুলডোজার, চারটি বিশেষ অগ্নিনির্বাপক দল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা একাধিক বিমান, যেগুলো সুযোগ পেলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নি প্রতিরোধক রাসায়নিক ছিটিয়ে দিচ্ছে। আগুনের কারণে ঘন ধোঁয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। দাবানল যাতে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেনাহা রোডের অ্যাভোকাডো মেসা থেকে অ্যাভেনিদা লা ক্রেস্তা পর্যন্ত এবং লস গ্যাটোস রোডের কারানচো রোড অংশ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে দমকলকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সহজ হচ্ছে। যেসব বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছে, তাদের জন্য টেমেকুলার চ্যাপারাল হাই স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে গৃহপালিত প্রাণীও নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ঘোড়াসহ বড় আকারের প্রাণীগুলোকে মুরিয়েটা ইকুয়েস্ট্রিয়ান সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আগুনের এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে জরুরি সেবাকর্মীদের চলাচল সহজ হবে এবং নির্ধারিত সরিয়ে নেওয়ার পথগুলো খোলা রাখা সম্ভব হবে। গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের দাবানলের ঘটনা ঘটে। এসব আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে বসতবাড়ি, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই ভলকানো দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি বড় দাবানলের কারণে স্পেন সীমান্তসংলগ্ন অন্তত দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফ্রান্সের পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে শুরু হওয়া এ দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শত শত দমকলকর্মী, অগ্নিনির্বাপণ যান এবং আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তাই নতুন করে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিযোগিতার নির্ধারিত ফিনিশিং এলাকায় দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবাকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। তবে প্রতিযোগিতা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ফ্রান্সে চলতি গ্রীষ্মের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, আর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, অনুকূল আবহাওয়া না ফিরলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র ও প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কলোরাডোর দুটি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবারের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অ্যাস্পেন একরস নামের এই ভয়াবহ দাবানলটি বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে জ্বলতে থাকা প্রায় ৪০টি বড় অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের একটি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং গত শীতকালে রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণেই এই অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলো এতটা অগ্নিঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই আগুন প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুয়েবলো জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুয়েবলো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার বসতি কলোরাডো সিটিসহ বিউলাহ, রাই এবং সান ইছাবেল শহরের সমস্ত মানুষকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাস্টার ও পুয়েবলো কাউন্টির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বা চেকপয়েন্ট তদারকি করতে শুক্রবার ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ নৌকাগুলোকে দূরে রাখার কাজে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা স্টেট পার্ক রেঞ্জারদের সহায়তা করছেন। রকি পর্বতের পশ্চিম দিকে কলোরাডো ও ইউটা সীমান্তের স্নাইডার ফায়ার নামের আরেকটি দাবানলের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করার সময় অগ্নিশিখার কবলে পড়ে একটি হেলিকপ্টার দলের তিন সদস্য নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইউটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কটনউড আগুন এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ব্যাবিলন আগুনও দ্রুত বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লেডভিল শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। 'উইলো ফায়ার' নামের এই দাবানলটি দ্রুত লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসায় আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক, ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পর্যটন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেক কাউন্টির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, রোববার বিকেলে মাউন্ট ম্যাসিভ এলাকার টুইন মাউন্ডসের কাছে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ইতিমধ্যে তা ১ হাজার ৬৬ একরেরও বেশি বনভূমি গ্রাস করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জননিরাপত্তার স্বার্থে রোববার বিকেল ৫টা থেকে কাউন্টি রোড ৪, ৯, ৯ডি, ৫এ, ৪৮ এবং ৯৯ সহ আশেপাশের সব সড়ক ও ট্রেইল থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র টারকোয়েজ লেকের চারপাশের সব ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং বনের ভেতরের পায়ে হাঁটার পথগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে হেগারম্যান পাস এবং কলোরাডো ট্রেইল এলাকাতেও অতিরিক্ত সতর্কতা ও উচ্ছেদ এলাকা ঘোষণা করা হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য কলোরাডো মাউন্টেন কলেজ জিমনেশিয়ামে একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গৃহহীন বাসিন্দারা যাতে পরবর্তীতে নিজেদের এলাকায় নিরাপদে ফিরতে পারেন, সেজন্য তাদের পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের নিজেদের ঠিকানার প্রমাণপত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া খামারের বড় পশুদের সুরক্ষার জন্য বুয়েনা ভিস্তার রোডিও গ্রাউন্ডে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট ছোট গৃহপালিত প্রাণীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করছে স্থানীয় লেডভিল অ্যানিমেল শেল্টার। এদিকে গ্র্যান্ড ওয়েস্ট এলাকা, মাউন্টেন ভিউ ইস্ট ও ওয়েস্ট এবং সিলভার হিলস সাবডিভিশনের বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এলাকা ছাড়ার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি দল কাজ করলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।