- প্রচ্ছদ
- Topic
দাবদাহ
ফ্রান্সে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে অন্তত ১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) না থাকা নিয়ে মার্কিন পর্যটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সমালোচনার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শহরটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি মেয়র অড্রে পুলভার। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে সৃষ্ট তাপপ্রবাহের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অড্রে পুলভার লেখেন, ‘প্রিয় মার্কিন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা, কয়েক দিন ধরে আপনারা প্যারিসের সমালোচনা করছেন, কারণ এই শহরের প্রতিটি ঘরে এসি নেই। এটি নিয়ে উপহাস করার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে ফ্রান্সে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দায় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আপনাদের শহরগুলোর ৯০ শতাংশ জায়গায় এসির ব্যবহারও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’ প্যারিসের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমাদের উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন। আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে এসির ব্যবহার অনেক কম। দেশটিতে মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিবারের ঘরে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনেক ফরাসিই এসিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। চলতি মাসে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ফরাসি নাগরিকের মতে, এসির ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তারা দাবদাহের কষ্টও সহ্য করতে প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক তীব্র গরমে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দেশজুড়ে বহনযোগ্য এসির চাহিদা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের প্রভাব বিলম্বিতভাবে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও তরুণদের ক্ষেত্রে। অনেক সময় দাবদাহ শেষ হওয়ার পাঁচ থেকে ১০ দিন পরও রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন।’ তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। প্যারিসের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩ হাজার ৪০০টি কল পেয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি। একই সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের পশ্চিমে ইভলিন অঞ্চলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ১৫ বছর বয়সী ভাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন চিকিৎসাকর্মীরা। এছাড়া তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে এ পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিসের কানাল সেন্ট-মার্টিনে সাঁতার নিষিদ্ধ এলাকায় ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক প্যারিসবাসী নিজেদের উত্তপ্ত অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বাট-শমঁ পার্কের মতো খোলা সবুজ এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এসিযুক্ত হোটেলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। রোববার রাতে বজ্রঝড়ের কারণে প্যারিসে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রপাতে আইসিন, ইভলিন ও ইন্দ্র-এ-লোয়ার অঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্যারিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার থেকে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ১ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে লিফট, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সবাইকে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি আপনার কোনো প্রতিবেশী একা থাকেন, তাহলে এখনই তার দরজায় কড়া নাড়ুন। আমাদের প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে চলমান তীব্র দাবদাহকে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিস্তৃত বলে আখ্যায়িত করেছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণেই এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, ইউরোপের প্রায় অর্ধেক বড় শহরের মানুষ বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা গরম ও আর্দ্রতার যৌথ যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছেন। আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম শুকোচ্ছে না, যা এই দাবদাহকে মানুষের শরীরের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন' (ডাব্লিউডাব্লিউএ) তাদের নতুন বিশ্লেষণে দেখিয়েছে যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন দূষণ বৃদ্ধির ফলে চরম তাপমাত্রা কতটা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত ৫০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা মাত্র ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও জুনের এই দাবদাহ জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এমনকি ২০০৩ সালের তুলনায় বর্তমানের রাতের বেলার তাপমাত্রা মানুষের ঘুমের যে ক্ষতি করছে, তার ঝুঁকি প্রায় ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ গ্রীষ্মগুলো আরও বেশি চরম আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করেছেন লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক ড. থিওডোর কিপিং। এই তীব্র দাবদাহের কারণে ইতিমধ্যে পুরো ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বহু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, হাসপাতালগুলো রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং মহাদেশজুড়ে ট্রেন ও বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে জুনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে পশ্চিমা ইউরোপজুড়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর আগে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তীব্র গরমে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিল এই পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, কয়লা, তেল এবং গ্যাসের প্রতি বিশ্বের অতিরিক্ত আসক্তির কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন এখন আমাদের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ধাবিত হওয়া এবং বনাঞ্চল রক্ষা করা। লন্ডনে গত বুধবার একদিনেই জীবনঝুঁকিতে থাকা রেকর্ড ৬৪১টি জরুরি কল এসেছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা মানব সভ্যতার জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।
ইউরোপের দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ দিন দিন মারাত্মক রূপ ধারণ করায় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার রেকর্ড হিড়িক পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয়রা এসি-কে একটি অপ্রয়োজনীয়, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিলাসিতা মনে করলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই দীর্ঘদিনের ধারণা দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তীব্র গরমে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে ইউরোপজুড়ে এখন ঘরে ঘরে এসি সংগ্রহের ধুম লেগেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশে প্রতি বছর অতিরিক্ত গরমের কারণে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মারা যান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে এসি এখন বিলাসিতা থেকে অন্যতম এক জরুরি পণ্যে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে সঠিক উপায়ে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার গরমজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। এত বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের মাত্র ২০ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। ইউরোপে এতদিন এসির ব্যবহার কম থাকার পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের ঐতিহ্যগত সহনশীলতা এবং প্রাচীন ঘরবাড়ির বিশেষ স্থাপত্যশৈলী। মহাদেশের দক্ষিণের দেশগুলোতে মোটা সাদা দেয়াল ও ছোট জানালার মাধ্যমে ঘর ঠান্ডা রাখা হতো, আর উত্তরের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে কখনোই এমন তীব্র গরম অনুভূত হতো না। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং কম গড় বেতনের কারণে বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত খরচও এসি কেনার পেছনে একটি বড় সামাজিক বাধা হিসেবে কাজ করত। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গরমে অতিষ্ঠ মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে নদী বা বিভিন্ন জলাশয়ে নামায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে প্যারিস ও এর আশপাশের দোকানগুলোতে সাধারণ এসি পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাস পার করছে। সেখানে গত ৩ বছরের তুলনায় এসি ব্যবহারের হার দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে। লন্ডনের স্থানীয় এসি সরবরাহকারী ও টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর পর থেকে এসির চাহিদা প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবারের গরমের মতো এত ব্যস্ত সময় তারা গত ২৫ বছরে আর কখনো দেখেননি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে ২০০৩ সালের এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবদাহের পর এসির ব্যবহার প্রথম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ওই সময়ে দেশটির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িতে এসি থাকলেও ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা বেড়ে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট এসি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশই একা ব্যবহার করে ইতালি। আন্তর্জাতিক রেফ্রিজারেশন ইনস্টিটিউটের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সামগ্রিকভাবে পুরো ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এমনকি জার্মানি এবং উত্তরের অন্যান্য তুলনামূলক ঠান্ডা দেশগুলোতেও এখন ধীরে ধীরে এসির ব্যবহার এবং বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করেছেন যে কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এসি চালালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৪ শতাংশ আসে কেবল এসি থেকে, যা বৈশ্বিক বিমান শিল্পের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সাধারণ এসি বাদ দিয়ে আধুনিক এবং কম বিদ্যুৎসাশ্রয়ী 'হিট পাম্প' প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে এসির বিদ্যুৎ সরবরাহ সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করায় স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই সরকারি ভবনগুলোতে গ্রীষ্মকালে এসি ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।