- প্রচ্ছদ
- Topic
দক্ষ কর্মী
জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়। ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না। অপরচুনিটি কার্ড কী জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে। জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন করে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি এবং নতুন প্রস্তাবিত ফি—উভয়ই যদি একসঙ্গে কার্যকর হয়, তবে একজন বিদেশি কর্মীকে স্পন্সর করতে মার্কিন নিয়োগদাতাদের ২ লাখ ডলারেরও বেশি গুনতে হবে। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনসহ বার্ষিক কোটার আওতাধীন সকল এইচ-১বি পিটিশনের ক্ষেত্রেই এই নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান ফাইলিং ফি এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে সম্পূর্ণ অতিরিক্ত হিসেবে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হবে নিয়োগদাতাদের। এই প্রস্তাব মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর, বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ অনুমোদন যেহেতু ভারতীয় নাগরিকরাই পেয়ে থাকেন, তাই এই নিয়মের ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় পেশাজীবীরা আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ডিএইচএস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ফি-এর মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার রাজস্ব হিসেবে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর এবং শ্রম বিভাগের অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কাজের খরচও এই খাত থেকে নির্বাহ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি কর্মসূচি ঢেলে সাজানো এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ বাড়ানোর ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপেরই অংশ এই নতুন প্রস্তাব। তবে নতুন এই ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ডিএইচএস প্রস্তাবটিকে একটি খসড়া নিয়ম হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নিয়ম জারির পরই কেবল এটি বাস্তবায়িত হতে পারে। এদিকে, আগের ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। আইনি এই জটিলতা এবং নতুন ফি-এর প্রস্তাব মিলে মার্কিন নিয়োগদাতা ও বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে একসময় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। উচ্চ বেতন, দ্রুত পদোন্নতি এবং চাকরির নিরাপত্তার কারণে এই খাতকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক ছাঁটাই, নিয়োগের গতি কমে যাওয়া এবং একটি পদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় অনেক অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী মাসের পর মাস নতুন চাকরি খুঁজেও সফল হচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু নতুন গ্র্যাজুয়েটরাই নন, ৮ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেটা পেশাজীবীরাও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। লিঙ্কডইন সহ বিভিন্ন পেশাদার নেটওয়ার্কে প্রতিদিনই শত শত আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের মধ্যেও একই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন পেশাজীবী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নতুন সুযোগ খুঁজে পাওয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ভার্জিনিয়ার একজন বাংলাদেশি কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার, যিনি এখানে ছদ্মনামে “কাকন” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট বছর কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের সময় তিনি চাকরি হারান। এরপর থেকে কয়েকশ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চাকরি পাননি। পরিবারের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি সাময়িকভাবে রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি চালানোর কাজ করছেন। জর্জিয়ার আরেক বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী, যিনি এখানে “রহমান” ছদ্মনামে পরিচিত, একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চার বছর কাজ করেছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি নতুন সুযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ এপ্লিকেশন করেছি কিন্তু গুটিকয়েক রেসপন্স পেয়েছি যদিও কোন জব হয়নি শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি প্রযুক্তি খাতের বাইরে তুলনামূলক কম বেতনের একটি প্রশাসনিক পদে কাজ করছেন। তার ভাষায়, পরিবারের দায়িত্বের কারণে অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। আটলান্টার আরেক বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী “আলম” (ছদ্মনাম) একটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিভাগে কয়েক বছর কাজ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে চাকরি হারানোর পর তিনি নিয়মিত আবেদন করলেও এখনো আইটি খাতে ফিরতে পারেননি। পরিবারের খরচ চালানোর জন্য আপাতত ওয়াল গ্রীন এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, তবে সুযোগ পেলেই আবার প্রযুক্তি খাতে ফিরতে চান। এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীরা। অনেকেই মাসের পর মাস চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা, আত্মসম্মান কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়োগদাতার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চান না। ফলে কমিউনিটির ভেতরে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম মানুষই এই সংকট সম্পর্কে জানেন। পেশাজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ২০২৫ এর শুরু থেকে প্রযুক্তি খাতে বড় আকারের ছাঁটাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সংকোচন, নিয়োগে সতর্কতা এবং একটি পদের বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যক আবেদন প্রতিযোগিতাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন আবেদনপত্র প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআই-নির্ভর অ্যাপলিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই বাদ পড়ছেন। ক্যারিয়ার স্পেশালিস্টদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু শত শত আবেদন পাঠানোই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিজ্যুমে প্রস্তুত করা, লিঙ্কডইন প্রোফাইল নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, রেফারেলের মাধ্যমে আবেদন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, অভিজ্ঞতা থাকলেই চাকরি নিশ্চিত এমন ধারণা আর আগের মতো সত্য নয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাজারে সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগের জন্য এখন আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘ অপেক্ষা, বেশি প্রতিযোগিতা এবং আরও বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।