যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন করে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি এবং নতুন প্রস্তাবিত ফি—উভয়ই যদি একসঙ্গে কার্যকর হয়, তবে একজন বিদেশি কর্মীকে স্পন্সর করতে মার্কিন নিয়োগদাতাদের ২ লাখ ডলারেরও বেশি গুনতে হবে।
উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনসহ বার্ষিক কোটার আওতাধীন সকল এইচ-১বি পিটিশনের ক্ষেত্রেই এই নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান ফাইলিং ফি এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে সম্পূর্ণ অতিরিক্ত হিসেবে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হবে নিয়োগদাতাদের।
এই প্রস্তাব মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর, বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ অনুমোদন যেহেতু ভারতীয় নাগরিকরাই পেয়ে থাকেন, তাই এই নিয়মের ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় পেশাজীবীরা আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ডিএইচএস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ফি-এর মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার রাজস্ব হিসেবে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহার করা হবে।
বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর এবং শ্রম বিভাগের অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কাজের খরচও এই খাত থেকে নির্বাহ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি কর্মসূচি ঢেলে সাজানো এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ বাড়ানোর ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপেরই অংশ এই নতুন প্রস্তাব।
তবে নতুন এই ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ডিএইচএস প্রস্তাবটিকে একটি খসড়া নিয়ম হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নিয়ম জারির পরই কেবল এটি বাস্তবায়িত হতে পারে। এদিকে, আগের ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে আইনি লড়াই চলছে।
আইনি এই জটিলতা এবং নতুন ফি-এর প্রস্তাব মিলে মার্কিন নিয়োগদাতা ও বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে। দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।
‘বদলে গেছে অবসরের বয়স!’ ২০২৬ সালে মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটিতে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার
‘বিশুদ্ধ পানি কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়!’ ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন। মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি। এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া। আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান। তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: ইউএসএ টুডে
‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে সুখবর, বাংলাদেশিদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি
২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানার আয়োজক মিশিগানের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শীতলতার মধ্যে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে, যেখানে দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে টাম্পা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদহার, বাড়ির বাড়তি সরবরাহ এবং করোনাভাইরাস মহামারির পর বাজারের পুনর্বিন্যাসের কারণে এসব এলাকায় দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের আগস্টের আবাসন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দাম টানা ১০ম মাসের মতো বার্ষিক হিসাবে কমেছে। জাতীয়ভাবে এই দাম গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণাঞ্চলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাম অপরিবর্তিত ছিল। শীর্ষ ৫০টি মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অস্টিন-রাউন্ড রক-সান মারকোস এলাকায়। সেখানে প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টাম্পা-সেন্ট পিটার্সবার্গ-ক্লিয়ারওয়াটারে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ ডলার। মেমফিসে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলার। এ তালিকায় এরপর রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো-অকল্যান্ড-ফ্রেমন্ট, যেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এলাকার মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার। সান অ্যান্টোনিও-নিউ ব্রাউনফেলসে দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ ডলার। ডেনভার-অরোরা-সেন্টেনিয়ালে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ ডলারে। বাল্টিমোর-কলাম্বিয়া-টাওসনে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। সান ডিয়েগো-চুলা ভিস্তা-কার্লসবাডে কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। অরল্যান্ডো-কিসিমি-স্যানফোর্ডে কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৪ লাখ ১৭ হাজার ডলার। পোর্টল্যান্ড-ভ্যাঙ্কুভার-হিলসবোরো এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো বাজারে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আবাসন বাজারের দ্রুত উত্থানের পর এখন মহামারির সময়ের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে আসছে। এসব এলাকায় মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ির মজুতও বেশি রয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত করতে হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকোতে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রতি বর্গফুটের তালিকাভুক্ত দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও জুলাইয়ে সক্রিয় বাড়ির তালিকা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। শহরটির মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দামও গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ক্রিমেলের মতে, সেখানে দামের পরিবর্তনের পেছনে বাজারে আসা বাড়ির ধরনও ভূমিকা রাখছে। ফ্রেমন্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিকা পিটার বলেন, প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনও সান ফ্রান্সিসকো এলাকার আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলছে। ওই এলাকার অনেক কর্মী প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কিছু ক্রেতা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনও বাড়ি কেনার জন্য রাখা অর্থের ওপর চাপ তৈরি করেছে। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বাজারে বাড়ির দামের নিম্নমুখী সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সমস্যায় থাকা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করছে। দেশজুড়ে সক্রিয় বাড়ির মজুতও বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের শেষের পর দেখা যায়নি এমন মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। ফলে বিক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি বেছে নেওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের দাম নির্ধারণের কৌশল নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তবে এসব বাজারে বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সাময়িক নাকি আরও বড় আঞ্চলিক পরিবর্তনের সূচনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে বন্ধকি ঋণের সুদহারে সম্ভাব্য পরিবর্তন শরৎকালীন বাড়ি কেনাবেচার মৌসুমে বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রিয়েলটর ডটকম
সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল সংকটে ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে রিপাবলিকানরা
আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূত