সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নিকোলাস মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।   মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন।   অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন।   ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে।   মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে।   এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।   নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হৃদরোগের অবনতি হওয়ায় বিচারকের কাছে নিউইয়র্কের একটি বাসায় গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন মাদুরোপত্নী সিলিয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, উন্নত চিকিৎসার দাবি

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় তার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ কারাগারে নেই দাবি করে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।   বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তর করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে, ইলেকট্রনিক নজরদারি করা হবে, তার চলাচল সীমিত থাকবে এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।   ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ওষুধের ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না।   তবে কারাবন্দির পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে তার প্রতিরক্ষা দল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা হয়েছিল, যা হালকা মাত্রার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্‌স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে।   তার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মূল যুক্তি হলো, সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না। এ কারণে তারা ব্যক্তিগত বাসভবনে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন।   প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। আইনজীবীরা নিজেরাই কঠোর নজরদারির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভ্রমণ নথি আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরেস ও মাদুরো দুজনকেই ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।   মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলেরও চেষ্টা করছেন। তাদের অন্যতম যুক্তি হলো মাদুরো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ফ্লোরেসের আইনজীবীরাও তার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তাদের আটক ও দেশ থেকে নিয়ে আসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা দল।   ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন।   মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিল। একই সময়ে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের অংশ।   নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন এখনো ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৭ নভেম্বর তাদের আইনজীবীদের মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীদের আবেদনের মূল বিষয় এখন তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না। আদালত তার চিকিৎসা পরিস্থিতি, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ব্রুকলিনের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে নিকোলাস মাদুরোকে হাতে ক্যাসিও ঘড়ি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি।   ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে।   তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।   মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।   মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।   মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে।   তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো
যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজত থেকে ছবি প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় নিজের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।   চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের পরিবার এবং রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিতেই তিনি এই ছবিগুলো শেয়ার করেছেন।   প্রকাশিত এসব ছবিকে মাদুরো তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের জন্য 'ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মার্কিন হেফাজতে যাওয়ার পর তার এই ছবি ও বার্তা প্রকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।   কারাবন্দী অবস্থাতেও নিজের সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখতে এবং তাদের সাথে মানসিক সংযোগ বজায় রাখতেই তিনি এমন আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো
আদালতে হাসিমুখে মাদুরো, অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন ‘আমি নির্দোষ’

ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাসিমুখে হাজির নিকোলাস মাদুরো, বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি; বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা।   যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার সময় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে হাসিমুখে ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ছিলেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাও জানান।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আদালতে আনার আগে মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্র থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, “আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” ও “আমি একজন যুদ্ধবন্দি বলে মনে করি।”   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ (Not Guilty) দাবি করেন। বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন এবং তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।   গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় মাদুরো শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং বিচারকের প্রশ্নের জবাব দেন। আদালতের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সংবাদকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।   দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।   অন্য দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০