সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

 

মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন।

 

অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন।

 

২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে।

 

এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।

 

নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে ৫ লাখ ডলারের বাড়ি হারালেন এক ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে ৫ লাখ ডলারের বাড়ি হারালেন এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি হারানোর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মেসা শহরের বাসিন্দা টোবি নিউটন ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার খরচ করে চার বেডরুমের ওই বাড়িটি কিনেছিলেন।   কিন্তু দুই বছর পর চাকরি হারানো এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এর ফলে তিনি ‘সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ত্রৈমাসিক ১৭০ ডলারের ‘এইচওএ’ (HOA) বা হাউজিং ফি পরিশোধে ব্যর্থ হন। ধীরে ধীরে তার বকেয়া ফি ও সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলারে। বকেয়া মেটাতে নিউটন মাসে ২০০ ডলার করে কিস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, তা প্রত্যাখ্যান করে হাউজিং সমিতি।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বাড়িটি ফোরক্লোজার বা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে সামান্য ওই বকেয়ার অঙ্কও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বকেয়া ফি, বাদীর খরচ এবং আইনজীবীর ফিসহ নিউটনের মোট দেনা গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৫৭৯ ডলারে।   শেষমেশ ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সরকারি নিলামে বাড়িটি মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলারে কিনে নেয় খোদ সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন!   আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এমন ঘটনা ঠেকাতেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'সিনেট বিল ১৪৯৪' নামের একটি নতুন আইন পাস করেছিলেন। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো বাড়ির মালিকের বকেয়া অন্তত ১৮ মাসের পুরোনো হতে হবে অথবা তাকে ন্যূনতম ১০ হাজার ডলারের বেশি ফি বকেয়া রাখতে হবে, তবেই কেবল এইচওএ তার বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।   এছাড়া বাজেয়াপ্ত করার আগে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিসঙ্গত কিস্তির প্রস্তাব দেওয়ারও নিয়ম করা হয়েছিল ওই আইনে। কিন্তু নিউটনের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই কাজে আসেনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়া নিউটনের জন্য তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেন বর্তমানে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe)-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৬:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নীতি আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নীতি আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম, সতর্ক করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম, সতর্ক করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান, হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব ম্যাসির
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান, হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব ম্যাসির

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ইরানে যুদ্ধ পরিচালনার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই বিস্ময়কর ঘোষণা দেন তিনি।   ম্যাসির অভিযোগ, হেগসেথ ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধক্ষমতা আইনটি লঙ্ঘন করেছেন। ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে—৯০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। প্রস্তাব উত্থাপনকালে ম্যাসি দাবি করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পিট হেগসেথ বেআইনি নির্দেশ দিয়েছেন, যা সংবিধান ও আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং তাকে এই পদে বহাল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্য হুমকিস্বরূপ।   চলতি সপ্তাহের শেষদিকে এই প্রস্তাবের ওপর হাউজে ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছেন ম্যাসি, যদিও রিপাবলিকানরা চাইলে ভোটের মাধ্যমে এটি বাতিল করে দিতে পারে।   গত মে মাসে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর কাছে প্রাইমারি নির্বাচনে হেরে যান ৫৫ বছর বয়সী ম্যাসি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র সাত সপ্তাহ আগে বিদায়ী এই কংগ্রেসম্যান নতুন করে যুদ্ধক্ষমতা বিতর্কের জন্ম দিলেন। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এর আগে হাউজ ও সিনেট উভয় কক্ষই একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। তবে হোয়াইট হাউজের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ের লড়াইয়ের পরই সংঘাতের অবসান হয়েছে, যার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমা নতুন করে গণনা শুরু হয়েছে।   এর মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।   স্বাধীনচেতা রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত থমাস ম্যাসি এর আগেও হোয়াইট হাউজের সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছেন; বিশেষ করে আলোচিত জেফরি এপস্টেইনের সরকারি নথি প্রকাশে বাধ্য করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল। এদিকে, যুদ্ধের বৈধতা সংক্রান্ত ম্যাসির অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পিট হেগসেথের কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পেন্টাগন।   পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এক বিবৃতিতে জানান, হেগসেথের নেতৃত্বে বাহিনীতে মেধা ও মান ফিরে এসেছে, অস্ত্রাগার আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখায় নিয়োগ ও সদস্যদের মনোবল বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হেগসেথের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেছে পেন্টাগন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:২১
নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর

নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বন্ধুকে বাঁচাতে গু লিবিদ্ধ তরুণ, সাহায্য না করে ভিডিও করল জনতা

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বন্ধুকে বাঁচাতে গু লিবিদ্ধ তরুণ, সাহায্য না করে ভিডিও করল জনতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে এক প্রবীণ নারীর সাথে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ২৫ কোটি ডলার লুট, বৃদ্ধার বুদ্ধিতে ধরা প্রতারক

পেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়া থেকে আইএসআইএসের পক্ষে সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য ও বিস্ফোরক তৈরির ঘটনায় পেনসিলভানিয়ায় তরুণ গ্রেপ্তার

পেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়ার ২১ বছর বয়সী জোনাথন হান্টার ক্রেমারকে আইএসআইএসের পক্ষে একটি সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।   ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ক্রেমারের অনলাইন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের কথিত পরিকল্পনাকে একটি ‘মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ক্রেমার বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে উবারে করে পেনসিলভানিয়ার গিবসোনিয়ায় যান। সেখানে একটি ওয়ালমার্ট থেকে রাইফেল সংগ্রহের পর তিনি একটি ডিসপোজেবল ফোন কেনেন এবং নগদ অর্থে ক্র্যানবেরি এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি একটি গান স্টোরেও যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর হোটেল ও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ১৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ, রাইফেল স্কোপ ও বাইপড উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি এনট্রেঞ্চমেন্ট টুল, পেপার স্প্রে এবং প্রায় ৩০টি ছুরিও পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল থেকে একটি হাতে লেখা নোটও উদ্ধার করা হয়।   ক্রেমারের বিষয়ে এফবিআইয়ের নজর অবশ্য নতুন নয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। পরে পেনসিলভানিয়ায় কিশোর আদালতের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে একটি টিপ পাওয়ার পর তার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে এফবিআই।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইনে ‘হামজা আল রশিদ’ নামে পরিচিত ক্রেমার আইএসআইএস-সমর্থক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তবে কথিত হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, অনলাইন কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থী বক্তব্য এবং অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনাগুলো মিলিয়ে কর্মকর্তারা তাকে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন।   ক্রেমারের বিরুদ্ধে এমন একটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে তিনি এমন অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ফেডারেল অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সমাজের জন্য চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।   তবে ক্রেমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা বাস্তবায়নের আগেই এফবিআইয়ের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুলের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে এই ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের জন্য লটারি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, যেভাবে আবেদন করবেন

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে শপিং প্লাজার বাইরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত

সুরক্ষার আদেশের পরও থামেনি হয়রানি পিছু নেয়া, স্যাক্রামেন্টোতে গুলিতে প্রাণ গেল শালিনীর

0 Comments