নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরাকে ইরানি প্রেসিডেন্ট
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরাকে ইরানি প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরাকে অবস্থান করছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান। এর আগে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা।   বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ ও পবিত্র নগরী কারবালায় খামেনির জানাজার মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে লাখ লাখ শিয়া মুসলমানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।   তবে এই সফর কেবল শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরানের রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি খামেনির জানাজা ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।   পেজেশকিয়ান বলেন, এই আয়োজন দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ইসলামী সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।   সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ইরান নিজস্ব প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ করা ইরাকি জনগণের জন্য একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি প্রয়াত এই ইরানি নেতাকে ইসলামী বিশ্বের এক প্রভাবশালী ও রূপান্তরমূলক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।   উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইরান ও ইরাকজুড়ে যে শোকানুষ্ঠান ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির মরদেহ নাজাফে, আজ বৃহৎ শোকমিছিল
খামেনির মরদেহ নাজাফে, আজ বৃহৎ শোকমিছিল

ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সেখানে বড় পরিসরে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খামেনির মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়।   শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অত্যন্ত পবিত্র একটি নগরী। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.) সমাহিত আছেন। এ কারণে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর থেকে ইরানজুড়ে কয়েক দফায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে শোকানুষ্ঠান পালিত হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মরদেহ ইরাকের নাজাফে আনা হয়েছে।   এদিকে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতোমধ্যে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরে খামেনির মরদেহবাহী কফিন শহরজুড়ে শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদক্ষিণ করানো হবে বলে জানা গেছে।   গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র‌্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্বে থাকা এই নেতার মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোকে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নাজাফে এই শোকমিছিল আঞ্চলিক রাজনীতি ও শিয়া সম্প্রদায়ের আবেগের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে ইরান-ইরাক সম্পর্কের ধর্মীয় ও কূটনৈতিক মাত্রাও নতুন করে আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
মৃত্যুর গুঞ্জন ভেঙে খামেনির জানাজায় হাজির আহমাদিনেজাদ
মৃত্যুর গুঞ্জন ভেঙে খামেনির জানাজায় হাজির আহমাদিনেজাদ

চলতি যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হয়েছেন—এমন গুঞ্জনকে মিথ্যা প্রমাণ করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হঠাৎই উপস্থিত হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তেহরানের রাজপথে লাখো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে তাকে সশরীরে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।   সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত বলে প্রচার করেছিল দেশটির কয়েকটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম।   ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে আহমাদিনেজাদের বাসভবনের কাছেও একটি রকেট আঘাত হানায় তার মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।   এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস তিনি সম্পূর্ণ জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, এমনকি সরকারি পর্যায় থেকেও তার জীবিত বা মৃত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি যুদ্ধের শুরুর সময়ের অন্যতম রহস্য হিসেবেই রয়ে যায়।   অবশেষে গত সোমবার তেহরানে খামেনির কফিনযাত্রার মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড়ে প্রথমবারের মতো দেখা যায় আহমাদিনেজাদকে। সাদামাটা জ্যাকেট পরা এবং থুতনিতে মাস্ক নামানো অবস্থায় তাকে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।   এদিকে, খামেনির শেষকৃত্যের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ইরানের অপর দুই জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্ট—মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির অনুপস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। সমালোচকদের দাবি, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।   বিশাল এই শোকসমাবেশে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রবল ভিড়ের কারণে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধকালীন বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে ইরানে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আহমাদিনেজাদের হঠাৎ উপস্থিতি সেই গুঞ্জনের একটি বড় অংশের অবসান ঘটালেও, যুদ্ধের শুরুর সময়কার তথ্য অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
বাবার জানাজায় নেই মোজতবা
বাবার জানাজায় নেই মোজতবা, প্রশ্নের মুখে ইরানের নেতৃত্ব

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রথম জানাজা রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।   ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত এই নেতার জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি, যা নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।   জানাজায় খামেনির অন্য তিন ছেলে—মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান আহমদ ভাহিদি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।   ইরানি সূত্রগুলো বলছে, বাবার জানাজায় না থাকায় মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও গুঞ্জন আরও বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হন, সেই হামলায় তিনিও আহত হয়ে থাকতে পারেন। মার্চের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।   আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আনুষ্ঠানিক শেষ বিদায় অনুষ্ঠান গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে, যা এক সপ্তাহব্যাপী চলবে। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অনুষ্ঠানে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। তারা এই বিদায়কে ‘শতাব্দীর শেষ বিদায়’ হিসেবে উল্লেখ করছে। বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে ৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম জাফর সোবহানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।   রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিন তেহরানে শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয় এবং সোমবারের শোভাযাত্রার আগে মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে, জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অতিরিক্ত ভিড় ও গরমের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।   খামেনির কফিনের পাশে তেহরানে হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও রয়েছেন।   সোমবার তেহরানে শোভাযাত্রা শেষে মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা।   এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও স্থায়ী শান্তি নিয়ে আলোচনা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, শোকানুষ্ঠান চলাকালে শান্তি আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে খামেনির জানাজা শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই
চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ এবং দাফনে বিলম্ব—এই দুই বিষয়কে ঘিরে দেশটির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তার মরদেহ জনসমক্ষে আনা হয়নি। অবশেষে চার মাস পর তার কফিন জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে। সাত দিনব্যাপী জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল—এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেই প্রায় নিশ্চিত। বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই তা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামে সাধারণত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া শরিয়াহ অনুযায়ী দাফনে বিলম্ব এবং হিমঘরে সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। তার মতে, যদি মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় থাকত, তাহলে দাফনের সময় নিয়ে এত অনিশ্চয়তা, স্থান পরিবর্তনের আলোচনা বা দীর্ঘ বিলম্বের প্রয়োজন হতো না। এতে বোঝা যায়, মরদেহ সংরক্ষণ সম্ভব হলেও তা দীর্ঘদিন প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় রাখা কঠিন ছিল।   ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। সেই বিবেচনায় খামেনির দাফনে চার মাসের বিলম্ব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশ্য দাফন অনুষ্ঠান আয়োজন বিলম্বিত করতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার।   এই সময়ের মধ্যে মরদেহ সাময়িকভাবে কোথাও দাফন করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পুরো সময়জুড়ে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনেই মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে।   এদিকে জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, শোকানুষ্ঠানের সময় ইসরায়েল যেন কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ না করে।   জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা মুজতবা খামেনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   সবশেষে জানা গেছে, খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে। এই স্থানটি শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   চার মাস ধরে হিমঘরে সংরক্ষিত থাকার পর অবশেষে খামেনির মরদেহের চূড়ান্ত ঠিকানা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে—এমন এক প্রেক্ষাপটে পুরো আয়োজন ঘিরে ইরানে শোক, রাজনীতি ও নিরাপত্তা—তিনটি বাস্তবতাই সমানভাবে প্রভাব ফেলছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আবেগঘন উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।   অনুষ্ঠানে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে প্রকাশ্যে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠান ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরান প্রশাসনের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে এর আগেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।   খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি। এছাড়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে—এমন ইউরোপের কয়েকটি দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিপুল জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা
আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা, খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে তারা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।   খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন জনসমাগমের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই সময়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ তেহরানে উপস্থিত হতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের প্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে তেহরানে অবস্থান করছেন।   শুধু রাজধানী নয়, তেহরানসহ আরও পাঁচটি শহরে আয়োজন করা হয়েছে বিদায় অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। ফলে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান সরকার।   এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইমাম খোমেনি হুসেইনিয়ায় প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হয় খামেনির কফিন। ওই সময় একই সঙ্গে প্রকাশ্যে আনা হয় তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহ—যাদের মধ্যে রয়েছেন তার পুত্রবধূ, ১৪ মাস বয়সী নাতনি, কন্যা এবং জামাতা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।   শুক্রবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল, কূটনীতিক এবং ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   খামেনির জানাজা ঘিরে আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় তেহরান ছাড়াও কোম শহরে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এছাড়া ইরাকের কারবালা ও নাজাফেও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা শিয়া মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্বের বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐক্যের একটি বড় প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা
খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা। বহুজাতিক অংশগ্রহণে আয়োজিত এই দীর্ঘ কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে দেশটির স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সীমান্তজুড়ে সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।   ইরানি সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁর স্মরণে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।   ছয় দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আয়োজন ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের মোট পাঁচটি প্রধান শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম শহরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কর্মসূচি ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় গড়াবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন সম্পন্ন করা হবে।   ইরানি প্রশাসনের ধারণা, এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতায় দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   সরকারি সূত্র জানায়, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রায় ৯০টি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির সংসদে দেওয়া ভাষণে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশেও রূপ নিতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি, ৪ জুলাই শুরু তেহরানে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের ধারণা, এ শোকযাত্রায় অংশ নিতে পারেন দুই কোটিরও বেশি মানুষ। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।   বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির শেষযাত্রা শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন ধাপ শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।   সরকারি সূত্র বলছে, পুরো আয়োজনটি নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালাতেও খামেনির স্মরণে একটি শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ আয়োজন এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সরকারি প্রাসাদে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। ঘটনার পরপরই তার শেষযাত্রার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিত রাখা হয় বলে সে সময় ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।   খামেনির মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তাই তার শেষযাত্রা ঘিরে এমন বড় পরিসরের জনসমাগম এবং আয়োজন স্বাভাবিকভাবেই ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন
আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্মরণসভা কমিটি। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর দিয়েছে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আয়োজিত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আগত শোকাহতদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।   কমিটি জানায়, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠানের প্রতি খামেনির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আশুরার পরই এই আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ মহররমের প্রথম দশ দিনের ধর্মীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সময়সূচি ও আয়োজনসংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে কমিটি। তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য যাচাইবিহীন এবং বিভ্রান্তিকর, যার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।   স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানসংক্রান্ত চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যু এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও দাবি-প্রতিদাবি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া অন্য কোনো খবরের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির চল্লিশা ঘিরে ইরানে লাখো মানুষের সমাবেশের প্রস্তুতি
খামেনির চল্লিশা ঘিরে ইরানে লাখো মানুষের সমাবেশের প্রস্তুতি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর মৃত্যুর ৪০তম দিন আজ বুধবার পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তার সমর্থকদের ব্যাপকভাবে রাজপথে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একই দিন থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এই দুই দেশ।   ইরানের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে মৃত্যুর ৪০তম দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা ‘চেহলাম’ বা ‘চল্লিশা’ নামে পরিচিত। এই দিনে সাধারণত নিহত ব্যক্তিকে স্মরণ করে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।   খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।   এদিকে, খামেনির চল্লিশার দিনেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। ইরান আগে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছিল, এবং সেই প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার ভিত্তি ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০