আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১৯:১
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই অভিযানে বিভিন্ন দেশে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়।


মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়াটে হামলা পরিচালনা এবং আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।


এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতভিত্তিক একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল।


মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের কারাগারে বন্দি গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামও রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।


তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধচক্রটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করত।


অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের কয়েকটি আলোচিত অপরাধের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে।


মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধচক্রগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল এবং অতিরিক্ত অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘অপারেশন হার্ড বল’: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই অভিযানে বিভিন্ন দেশে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়াটে হামলা পরিচালনা এবং আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতভিত্তিক একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের কারাগারে বন্দি গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামও রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধচক্রটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করত। অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের কয়েকটি আলোচিত অপরাধের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধচক্রগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল এবং অতিরিক্ত অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১৯:১
ভবনের কিনারা থেকে নারীকে উদ্ধার

নিউইয়র্কে ভবনের কিনারা থেকে নারীকে উদ্ধারে পুলিশের নাটকীয় অভিযান, প্রকাশ পেল বডি ক্যামেরার ভিডিও

অবৈধ অভিবাসী ফুটবল কোচ I ছবি: সংগৃহীত

মাদক খাইয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের দায়ে অবৈধ অভিবাসী ফুটবল কোচের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে চার শিশুর সামনে মাকে যৌন হয়রানি, গ্রেপ্তারের পরই মুক্ত ১৮ বছর বয়সী অভিযুক্ত

এনওয়াইপিডির এক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনওয়াইপিডির এক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ এবং যৌন অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১৬:৪৮
ধর্ষণ মামলার পলাতক সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের একাধিক ধর্ষণ মামলার পলাতক সন্দেহভাজনের মাগশট প্রকাশ, জনসাধারণের সহায়তা চাইল এনওয়াইপিডি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ, বিক্রি কমলেও কমছে না দাম

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

আয়ারল্যান্ডে খুন ৪৩ বছর বয়সী মার্কিন নারী, সন্দেহভাজন তুরস্কে পলাতক

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
চার্লি কার্ককে খুনের পর প্রেমিকের সঙ্গে বন্দুক নিয়ে আলোচনা, আদালতে প্রকাশ চাঞ্চল্যকর মেসেজ

চার্লি কার্ককে হত্যার পর অভিযুক্ত টাইলার রবিনসন তার প্রেমিক ল্যান্স টুইগসকে একটি রোমহর্ষক খুদে বার্তা বা টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি রীতিমতো গর্ব করে বলেন যে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বন্দুকটি ‘একেবারেই ঠিকঠাক’ কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার আদালতে বিচারকার্য চলাকালে সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্তের পাঠানো এই চাঞ্চল্যকর টেক্সট মেসেজগুলো উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত সবাইকে শিউরে তোলে।   প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সি রবিনসন তার প্রেমিককে জানিয়েছিলেন যে ওই রাইফেলটি মূলত তার দাদার ছিল। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের গোলাগুলির ঘটনার পরপরই পাঠানো এক বার্তায় রবিনসন প্রথমে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মাত্র চার ডিজিটের সিরিয়াল নম্বর ধরে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি। তবে একই বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বন্দুকটি অনেক পুরোনো হলেও সেদিনের পারফরম্যান্স অনুযায়ী তার দাদার বন্দুকটি ‘দারুণ কাজ’ করেছে।   বৃহস্পতিবার রবিনসনের বিচার চলাকালীন প্রসিকিউটররা রবিনসন ও টুইগসের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া আরও কিছু মেসেজ স্ক্রিনে প্রদর্শন করেন, যেখানে তারা ব্যবহৃত বন্দুকটি ফেলে আসার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন। এসব বার্তা থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর রবিনসন ঘটনাস্থলের আশপাশে ফিরে এসে প্রায় এক ঘণ্টা নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করেছিলেন, যেন সুযোগ বুঝে তিনি রাইফেলটি উদ্ধার করতে পারেন। ১০ সেপ্টেম্বর টুইগসকে পাঠানো এক বার্তায় রবিনসন লিখেছিলেন যে, পোশাক বদলানোর সময় বাধ্য হয়ে তাকে বন্দুকটি একটি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রেখে আসতে হয়েছিল, কারণ সেটি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তার হাতে ছিল না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:৫৪
গাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগার ঝুঁকিতে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ‘টেলুরাইড’ এসইউভি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিল কিয়া আমেরিকা। ছবি: সংগৃহীত

গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার এসইউভি ফিরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা কিয়া

টিজে ম্যাক্স ও মার্শালস শপে গালিচা জালিয়াতি করে ৩ লাখ ডলার আত্মসাতের দায়ে ফ্লোরিডার আদালতে দোষী সাব্যস্ত চক্রের প্রধান সান্তিনা গ্রিন। ছবি: গেটি ইমেজেস

ফ্লোরিডায় নকল পণ্য ফেরত দিয়ে ৩ লাখ ডলার আত্মসাৎ, মার্কিন নারী দোষী সাব্যস্ত

গ্রিন কার্ডের আবেদন করার ঠিক এক দিন পরই টেক্সাসে ২০ বছর বয়সী মেক্সিকান সংগীতশিল্পী হার্বার্ট ইবারাকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: এপি

গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরদিনই মার্কিন নাগরিকের স্বামীকে আটক করল আইসিই

0 Comments