যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা। আর সেই চাহিদা পূরণে এবার দেশটির বিভিন্ন আদিবাসী ভূমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি। এতে কিছু উপজাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেখলেও, অন্যরা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যাডো নেশন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ডেটা সেন্টার প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। ২০১৭ সালে উপজাতিটির ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের নতুন পথ খুঁজছে সম্প্রদায়টি।
ক্যাডো নেশনের চেয়ারম্যান ববি গঞ্জালেজ বলেন, তাদের সম্প্রদায় দরিদ্র নয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে রয়েছে। তার মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উপজাতির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে একই সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। ওকলাহোমার বিঙ্গার শহরে ক্যাডো সম্প্রদায়ের সাবেক কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি নিউকুমেট বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও জীবনযাপন করা সম্ভব, কিন্তু পানির বিকল্প নেই। তার আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলসম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ডেটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে উচ্চক্ষমতার সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
আদিবাসী ভূমিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহুবার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল কংগ্রেস অব আমেরিকান ইন্ডিয়ানস (এনসিএআই) এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এক মতামতে বলেছে, উপজাতীয় ভূমি বিস্তৃত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে আদিবাসী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাখো করদাতা ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) থেকে অর্থ ফেরত বা রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তবে এই অর্থ দাবি করার জন্য তাদের হাতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় রয়েছে। করদাতাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা ন্যাশনাল ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেট-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে করদাতারা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অধিকার হারাবেন। এই রিফান্ডের বিষয়টি মূলত গত নভেম্বরে এক ফেডারেল বিচারকের দেওয়া রুলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ মে পর্যন্ত চলা কোভিড-১৯ দুর্যোগকালীন সময়ে আইআরএস-এর উচিত ছিল ট্যাক্স ফাইলিং এবং পেমেন্টের সময়সীমা স্থগিত রাখা। আইআরএস-এর নিয়ম অনুযায়ী, দুর্যোগকালীন ঘোষণা শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল বা পেমেন্ট করার জন্য করদাতারা অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় পেয়ে থাকেন, যা ওই নির্দেশনার কারণে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছিল। সাধারণত রিটার্ন দাখিলের পর তিন বছর বা কর, জরিমানা বা সুদ পরিশোধের পর দুই বছর পর্যন্ত রিফান্ড দাবি করার সুযোগ থাকে। যেহেতু আদালত ফাইলিংয়ের সময়সীমা ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছেন, তাই ক্ষতিগ্রস্ত করদাতারা এখন ২০২৬ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত রিফান্ড বা 'প্রোটেকটিভ ক্লেইম' দায়ের করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে ন্যাশনাল ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেট এরিন কলিন্স একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় করদাতাদের অবশ্যই ২০২৬ সালের ১০ জুলাইয়ের আগে বা ওই দিনের মধ্যে রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। যারা দুর্যোগকালীন সময়ে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করে জরিমানা বা সুদের সম্মুখীন হয়েছেন, দেরিতে রিটার্ন বা পেমেন্ট করার কারণে যাদের এখনও জরিমানা বা সুদ বকেয়া আছে, অথবা যারা আন্তর্জাতিক তথ্য রিটার্ন দেরিতে দাখিল করেছেন, তারা এই রিফান্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। এছাড়া যারা মনে করেন যে তারা ওই সময়ে কোনো রিফান্ড, রিফান্ডেবল ক্রেডিট, উইথহোল্ডিং ক্রেডিট, প্রাক্কলিত ট্যাক্স পেমেন্ট ক্রেডিট বা অন্য কোনো ট্যাক্স বেনিফিট দাবি করতে ভুলে গেছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন। কলিন্স পরামর্শ দিয়েছেন, করদাতাদের এখনই নিজেদের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা উচিত যে তাদের রিফান্ড ক্লেইম, সংশোধিত রিটার্ন, মূল রিটার্ন, অ্যাবেটমেন্ট রিকোয়েস্ট বা প্রোটেকটিভ ক্লেইম দাখিল করার প্রয়োজন আছে কি না। যেসব করদাতা দুর্যোগকালীন সময়ে পরিশোধিত জরিমানা বা সুদের রিফান্ড চাইছেন, তাদের 'ফর্ম ৮৪৩' (Claim for Refund and Request for Abatement) পূরণ করে জমা দিতে হবে। তবে নভেম্বরের ওই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যেহেতু আপিল হতে পারে, তাই আবেদনকারীদের ফর্মের ওপর "Protective Refund Claim Pursuant to Kwong Case" (কোয়াং বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলার কথা উল্লেখ করে) লিখে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনি বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের রিফান্ড পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, আয়, কর্তন বা ট্যাক্সের ওপর প্রভাব ফেলে এমন কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে 'ফর্ম ১০৪০-এক্স' ব্যবহার করে সংশোধিত বা মূল রিটার্ন দাখিল করতে হবে। কলিন্স মনে করেন, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে, কারণ স্থগিতাদেশ আইনের বিষয়ে সরকারের ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে রায় শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলেও করদাতারা রিফান্ড থেকে বঞ্চিত হবেন। রিফান্ডের গ্যারান্টি না থাকলেও শেষ মুহূর্তে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে করদাতারা চিরতরে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহল ও মাদক খাইয়ে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের দায়ে এক ফুটবল কোচকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কোচের নাম ক্যামিলো ক্যাম্পোস-হুর্তাদো। তিনি মেক্সিকোর নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ফ্র্যাঙ্কলিনে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। গত জুন মাসে তিনি শিশুদের যৌন শোষণের চারটি অভিযোগ, শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী গ্রহণের একটি অভিযোগ এবং জাল অভিবাসন নথিপত্র ব্যবহার ও চুরির পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগ আদালতে স্বীকার করে নেন। গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত শুনানিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই ভয়ংকর অপরাধীর জন্য ৫০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব লরেন বিস জানান, ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করার সময় এই অবৈধ অভিবাসী বারবার শিশুদের মাদক প্রয়োগ করে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন এবং শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগও স্বীকার করেছেন। তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কখনো এই ব্যক্তি কারাগার থেকে মুক্তি পান, তবে আইসিই (ICE) তাৎক্ষণিকভাবে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবে, যাতে তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে না পারেন। ২০২৩ সালে ক্যাম্পোস-হুর্তাদোর বিরুদ্ধে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। ফ্র্যাঙ্কলিনের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভুলবশত তিনি নিজের মোবাইল ফোন ফেলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এক ব্যক্তি সেই ফোনে থাকা আপত্তিকর ভিডিওগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর পরপরই পুলিশ তার বাড়ি ও গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের অসংখ্য সামগ্রীসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং জাল অভিবাসন নথিপত্র উদ্ধার করে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে এই সাজা দেওয়া হলেও ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, এই অপরাধী অন্তত ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকেই শিশু যৌন নির্যাতনের এমন জঘন্য ভিডিও বা সামগ্রী তৈরি করে আসছিলেন।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো বা আগে ব্যবহৃত বাড়ির বিক্রি কমে গেলেও দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (এনএআর) জানিয়েছে, গত মে মাসের তুলনায় জুনে বাড়ির বিক্রি ২.৪ শতাংশ কমে বার্ষিক ৪০ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ৪২ লাখ ১০ হাজার ইউনিটের চেয়ে অনেকটাই কম। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ২.৮ শতাংশ বেড়েছে। দামের এই অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ও নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণের সুদের হার ক্রমাগত বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গৃহঋণের ওপর। বিক্রি ধীরগতির হলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই বাজারে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম সারির বাড়ির দাম বার্ষিক ১.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এনএআর-এর তথ্যমতে, টানা ৩৬ মাস ধরে দেশটিতে বাড়ির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসে মোট বিক্রিত বাড়ির ৩৩ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবারের মতো বাড়ি ক্রেতারা। এনএআর-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইয়ুন জানান, সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বাড়ি পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ কারণেই বাজারে বাড়ির সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। মূলত ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাড়ির বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ। বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণ ঘাটতি এবং বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির তীব্র সংকটের কারণেই মূলত বিক্রি কমার পরও দাম এতটা চড়া রয়েছে। বাজারে অঞ্চলভেদে দামের ব্যাপক তারতম্য দেখা যাচ্ছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সর্বোচ্চ দামের পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৩ শতাংশ এবং দক্ষিণাঞ্চলে ৩.৫ শতাংশ দাম কমলেও, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১২.৬ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত জুনের শেষে বাজারে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬০ হাজার, যা প্রাক-কোভিড মহামারির স্বাভাবিক মাত্রার (প্রায় ২০ লাখ) চেয়ে অনেকটাই কম। বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ বাড়ি রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ৪.৬ মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব, যেখানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজারের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাসের সরবরাহ প্রয়োজন হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।