- প্রচ্ছদ
- Topic
নর্থ ক্যারোলাইনা
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় পথচারী নারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এক অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর এবার খোদ তার পরিবারই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডি-কুয়ান শাফার হান্ট (৩২) নামের ওই যুবক রাস্তায় অপরিচিত নারীদের ধাওয়া করা ও মারধরের ঘটনা নিজে ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। সম্প্রতি তার ধারণ করা এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে শার্লট শহরের পুলিশ। তবে তার অতীত অপরাধের রেকর্ড ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনে তার পুনরায় মুক্তির সম্ভাবনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা একাধিকবার পুলিশকে অনুরোধ করেছেন তাকে যেন রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হান্টের বোন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসওসি-কে (WSOC) জানান, তার ভাই সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে পরিবারকেও পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বোন আরও জানান, হান্ট এর আগেও পরিবারের সদস্যদের ওপর সহিংস আচরণ করেছে। পরিবার তাকে একাধিকবার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ওষুধ খেতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবারের ধারণা, হান্ট পিটিএসডি (PTSD) এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া তাকে পুনরায় মুক্তি দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একইসাথে আক্রান্ত নারীরা যেন তার ভাইয়ের এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার পান, সেই দাবিও জানিয়েছে হান্টের পরিবার। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হান্ট রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা এক অপ্রস্তুত নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় তাকে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বের কোনো ঘটনা নিয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে ধাক্কা দিচ্ছেন এবং ম্যাকডোনাল্ডস নিয়ে অসংলগ্ন বকাবকি করতে করতে একটি গাড়ির চারপাশে তাকে ধাওয়া করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শার্লট শহরের ডিলওয়ার্থ এলাকায় সম্প্রতি প্রতিবেশীদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালাতেন হান্ট। তার নামে পূর্বে অন্তত নয়বার গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। জানা গেছে, হান্টের বোন নিজেই গত সোমবার হামলার ভিডিওগুলো প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দেন এবং বৃহস্পতিবার ভাইয়ের অবস্থান পুলিশকে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের শার্লট শহরের স্টিল ক্রিক এলাকার বাসিন্দারা একটি নবনির্মিত গোলচত্বর (রাউন্ডঅবাউট) নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, গত বছরের শেষের দিকে তৈরি হওয়া এই গোলচত্বরটি ইতিমধ্যেই প্রায় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে সাউথ ট্রায়ন এবং স্টিল ক্রিক রোডের সংযোগস্থলে এই গোলচত্বরে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্যালি পিঙ্কনি নামের এক বাসিন্দার বাড়ির পেছনের সীমানাপ্রাচীরের ইটের কলামে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে দেয়ালটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্যালি পিঙ্কনি জানান, "ইটের দেয়ালটি না থাকলে গাড়িটি সরাসরি শোবার ঘরে ঢুকে আমার ওপর আছড়ে পড়ত। চালক আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি খেয়ালই করেননি এখানে কোনো গোলচত্বর আছে, আর যখন বুঝতে পেরেছেন তখন গাড়ি ঘোরানোর মতো যথেষ্ট সময় ছিল না।" স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তায় চালকেরা ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ মাইল বেগে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এর আগে একটি ট্রাক এই গোলচত্বরের মাঝখানের আইল্যান্ড ভেঙে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। দুর্ঘটনার কারণে বারবার এখানকার দিকনির্দেশক সাইন ও সাইনবোর্ডগুলো ভেঙে যায় এবং তা পুনরায় স্থাপন করতে হয়। নিকটবর্তী বাসিন্দা ড্যারেন প্যাটারসন বলেন, "পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। আগে শিশুরা এখানে সাইকেল চালাত, কিন্তু এখন আর তাদের বাবা-মা তাদের এই রাস্তায় আসতেই দেন না।" রাতের বেলা গাড়িচালকদের সতর্ক করার জন্য ল্যাম্পপোস্ট এবং একাধিক সতর্কবার্তা সংবলিত সাইনবোর্ড বসানো হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। স্যালি পিঙ্কনি আক্ষেপ করে বলেন, "এই গোলচত্বরটি আমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারি না, যা আমার কাজের ওপরেও প্রভাব ফেলছে।" শার্লট সিটি প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই এলাকার একটি আবাসন প্রকল্পের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এই গোলচত্বরটি নির্মাণ করেছে। শার্লটের পরিবহন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই সাইনেজ আপডেট করার জন্য ডেভেলপারদের সাথে এবং নতুন লাইটিং ব্যবস্থার জন্য ডিউক এনার্জির সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবে বাসিন্দাদের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই গতিসীমা কমানোর জন্য স্পিড ব্রেকার বা ফ্ল্যাশিং লাইটের মতো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরোর অরেঞ্জ হাইস্কুলের এক সাবেক নারী কাউন্সিলরকে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের আপত্তিকর ছবি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা লেসলি ল্যামবেথ ব্রায়ান্ট পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাগুলো মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ অব অরেঞ্জ কাউন্টির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, লেসলি ব্রায়ান্ট স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং সেখানেই তিনি নিজের যৌন উত্তেজক ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন। গত ৪ জুন অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর এই যৌন অসদাচরণের খবর পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বেতনে স্থগিতাদেশ (পেইড সাসপেনশন) দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শেরিফ অফিস স্কুলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে। এরপর ১২ জুন স্কুল কাউন্সিলরের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনার পর অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। যেহেতু বিষয়টি এখন একটি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে চলে গেছে, তাই তদন্ত সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় শেরিফ অফিস তদারকি করছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত লেসলি ব্রায়ান্টকে বর্তমানে অরেঞ্জ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং বিচারক তাঁর জন্য ৫০ হাজার ডলারের জামিন বন্ড নির্ধারণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের উইলকস কাউন্টিতে চিঠি বিলি করার সময় ব্র্যান্ডি রেনল্ডস (৩৫) নামের এক নারী ডাককর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের (ইউএসপিএস) এই কর্মী গত শুক্রবার বিকেলে তার নির্ধারিত গ্রামীণ রুটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যা এবং ফার্স্ট-ডিগ্রি অপহরণের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ডারহাম ওই নারীকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখে অপহরণ করেন এবং আক্রোশের বশবর্তী হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেন। তবে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল কি না বা ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। গত সোমবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক ডারহামের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। শুনানিতে বিচারক উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ডারহামের অতীত অপরাধের রেকর্ড বেশ দীর্ঘ। এর আগে তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি অপহরণ এবং দাগী আসামি হিসেবে অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো সাজাপ্রাপ্ত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং উইলকস কাউন্টি শেরিফ অফিস যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান তদন্তের স্বার্থে ইউএসপিএস নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও নিহত কর্মীর পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি এক বিবৃতিতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস একজন অত্যন্ত অমায়িক, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুলিয়া স্মিথ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ব্র্যান্ডি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন এবং তাকে নির্দ্বিধায় ভরসা করা যেত। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ গভীরভাবে শোকাহত। ব্র্যান্ডির এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারের ওপর যেন শোকের পাহাড় ভেঙে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত বছরের (২০২৫ সালের) ডিসেম্বরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী ব্রেন্ট অ্যান্ড্রু রেনল্ডসও প্রাণ হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই কন্যাসন্তানই ছিল ব্র্যান্ডির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে ওই অবুঝ দুই শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী ডাককর্মীকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কন্যাসন্তান কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তাদের বাবা। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) কর্মী ও দুই সন্তানের মা ব্র্যান্ডি রেনল্ডস শুক্রবার হেইস এলাকায় ডাক বিতরণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ৫৬ বছর বয়সী উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম তাকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ১৬ মিনিটে এক প্রত্যক্ষদর্শী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করে জানান, ধূসর রঙের একটি নিসান অলটিমা গাড়ির পাশে এক সশস্ত্র ব্যক্তি রেনল্ডসকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রেনল্ডসকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। শার্লট অবজারভারের প্রকাশিত আদালতের পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, ডারহামের বিরুদ্ধে রেনল্ডসকে তার সম্মতি ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হত্যার আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ডারহামের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা এবং প্রথম-ডিগ্রি অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে উইলকস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার আদালতে হাজির করা হলে রেনল্ডসের এক স্বজন বিচারককে জানান, অতীতেও ডারহাম রেনল্ডসকে হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেনল্ডসের দুই কন্যার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডারহামের জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। রেনল্ডসের পরিবারের জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ট্র্যাজেডি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর, বড়দিনের মাত্র দুই দিন আগে, তার স্বামী ব্রেন্ট রেনল্ডস উইলকস কাউন্টিতে একক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন। তদন্তকারীরা জানান, ৩৫ বছর বয়সী ব্রেন্ট রেনল্ডস সেদিন একটি পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তিনি সিটবেল্ট পরেননি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই মেয়ের ছবি প্রকাশ করে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস লিখেছিলেন, তার সন্তানরাই তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। রেনল্ডসের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ডাক বিতরণ এলাকার বাসিন্দা জুলি স্মিথ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেনল্ডস ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, বন্ধুসুলভ ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি ডাক পৌঁছে দিতেন এবং এলাকার মানুষ তার ডাকবাহী গাড়ির অপেক্ষায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন যৌথভাবে তদন্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।