ভারত প্রথমবারের মতো তার পারমাণবিক অস্ত্রকে সরাসরি মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসআইপিআরআই বলছে, এটি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতদিন ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থাকে আলাদা করে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এখন সেই নীতি থেকে সরে এসে অস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে মোতায়েনযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১২টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো বহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা—পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এসআইপিআরআইয়ের তথ্য বলছে, গত বছর ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করে এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা করে। একই সঙ্গে দেশটির মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিনভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো’র অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল জোরদার করার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, শান্তিকালেও কিছু পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হতে পারে। এটি দেশটির পূর্বের সতর্ক ও বিচ্ছিন্ন সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ভারতের সরকারি অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আগে ব্যবহার নয়’ (নো ফার্স্ট ইউজ) নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেবলমাত্র নিজ ভূখণ্ডে বা বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা মূলত প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়া নয়। তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির তোয়াক্কা না করেই চীন তাদের পরমাণু অস্ত্রাগার অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর গোপন মিশন শুরু করেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া নতুন ছবিতে সিচুয়ান প্রদেশে বেইজিংয়ের বিশাল এক গোপন পারমাণবিক প্রকল্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে সিচুয়ানের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে বিশাল সব পারমাণবিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিটেমাটি হারানোর কারণ জানতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সিচুয়ান প্রদেশের একটি বিশেষ স্থাপনায় তেরোটি টেনিস কোর্টের সমান বড় একটি বিশাল গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে যা মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ মজুত রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই পুরো এলাকার মানচিত্র বদলে দিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক সুরক্ষিত দুর্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করেছে যে, বেইজিং গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচাইতে বড় পারমাণবিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাতিল হওয়ার পর চীনের এই গোপন তৎপরতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পারমাণবিক এই গোপন ঘাঁটির চারপাশ তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা রয়েছে এবং এর ভেতরে যাওয়ার জন্য পাহাড়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ টানেল তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের মতো বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার জন্যই এই বিশালাকার গম্বুজ এবং বিশেষ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ফলে সিচুয়ানের বাইতু ও দাশান নামের দুটি গ্রাম মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে গেছে। নতুন তৈরি হওয়া রাস্তাগুলো এই গোপন ঘাঁটিটিকে দেশের অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করেছে যা যুদ্ধের সময় দ্রুত অস্ত্র সরবরাহে সাহায্য করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী মাসে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে যেখানে তিনি শি জিনপিংয়ের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংকে একটি নতুন ও কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও চীনের এই গোপন পরিকাঠামো বিস্তার আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সিচুয়ানের এই গোপন স্থাপনাটি চীনের পারমাণবিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে যা দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই গোপন দুর্গটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক বড় দুঃস্বপ্নের মতো দেখা দিচ্ছে যা ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের এই পারমাণবিক বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যা শীতল যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। বেইজিংয়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে তারা কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজেদের সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের মাঝে চীনের এই গোপন পরমাণু তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিচুয়ানের এই পাহাড়ঘেরা গোপন দুর্গ থেকে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করতে পারে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পাম বিচ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার উদ্যোগ ইরানের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। তিনি বলেন, “এই আলোচনায় অগ্রগতি নিশ্চিত হলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের বড় সমাধান সম্ভব।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি পরিচয় স্পষ্ট না হলেও ট্রাম্প তাকে একজন ‘সম্মানিত নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্প পাঁচ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সোমবার আরও কয়েকটি টেলিফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে এবং শিগগিরই সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।