সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফুড স্ট্যাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নবিত্ত ও অভাবী পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ‘ফুড স্ট্যাম্প’ বা স্ন্যাপ (SNAP) প্রকল্প থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিশেষ জালিয়াতি-দমন টাস্কফোর্স। গত বুধবার সিনসিনাটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচ জানান, এই বিশাল অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   অভাবী মানুষের পেটের খাবার কেড়ে নিয়ে এই চক্রটি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল জীবনযাপনে সেই অর্থ ব্যয় করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যানচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চুরি যাওয়া অর্থ দিয়ে পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে ২ লাখ ২০ হাজার আমেরিকান নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা যেত।   এই জালিয়াতির অন্যতম হোতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন আটলান্টার জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও র‍্যাপার মার্সিডিজ নিউ, যিনি অনলাইনে ‘শটি ড্রেড’ (Shawty Dred) নামে পরিচিত। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নিজের কোম্পানিকে ভুয়া স্ন্যাপ (SNAP) রিটেইলার হিসেবে দেখিয়ে এবং শত শত ভুয়া ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে তিনি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইভেট জেট ও বিলাসবহুল রোলস-রয়েস গাড়ির প্রদর্শনী করার পাশাপাশি একটি ভিডিওতে তাকে নগদ ডলার পুড়িয়ে উল্লাস করতেও দেখা যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে ওই র‍্যাপারের ভিডিওটি প্রদর্শন করে বলেন, স্ন্যাপ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধার্ত শিশুদের খাবার দেওয়া, শটি ড্রেডের মতো কাউকে প্রাইভেট জেটে ঘোরানো নয়।   শটি ড্রেড ছাড়াও ওহাইওতে জোরাগ ইয়াসিন ও রামি কানান নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ডলার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা শিকাগোভিত্তিক নিজেদের মুদি দোকানের মাধ্যমে হাজার হাজার স্ন্যাপ গ্রাহকের ইবিটি (EBT) অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করে এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।   এছাড়াও এই মেগা-জালিয়াতির আওতায় চুরি করা অর্থে বেবি ফর্মুলা কিনে কালোবাজারে বিক্রি, ভুয়া শস্য বিমা দাবি এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্বারা সাধারণ আমেরিকানদের পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন সরকারি ভাতা আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে টাস্কফোর্স। এই ঘটনাগুলো সাধারণ করদাতাদের অর্থের চরম অপচয় এবং প্রকৃত অভাবীদের অধিকার হরণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইন কার্যকর হওয়ার পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইনের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এই পতনের হিসাব পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১৫ লাখের বেশি শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই আগামী ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে। ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ বা ১২ শতাংশ কমেছে। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ও বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা এত দ্রুত কমার নজির খুবই বিরল।   শিশুদের ক্ষেত্রেও পতনটি উল্লেখযোগ্য। যেসব ২৫টি রাজ্যের শিশুদের তথ্য পাওয়া গেছে বা রাজ্যগুলো তথ্য দিয়েছে, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ লাখ শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা নয়, বরং বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা একটি হিসাব।   সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমার পেছনে নতুন আইনের বিভিন্ন পরিবর্তন ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংক্রান্ত শর্ত কঠোর করা, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক বাধার বিষয় রয়েছে। তবে ফুড স্ট্যাম্পে অংশগ্রহণ কমার সবটুকু যে শুধু নতুন আইনের কারণে, এমন সিদ্ধান্তও টানা হয়নি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু রাজ্যে পতনের প্রবণতা আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল।   নতুন নিয়মে নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্মসংক্রান্ত শর্তের আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যে বয়সসীমার মধ্যে এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল, সেটি বাড়িয়ে ৬৪ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। বাবা-মা ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষের জন্যও আগের ছাড়ের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষকে ফুড স্ট্যাম্প ধরে রাখতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।   এর পাশাপাশি রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয়ের অর্ধেক কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ২৫ শতাংশে নেমে যাবে এবং রাজ্যগুলোকে ৭৫ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে কর্মসূচিটির অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুধু প্রশাসনিক ব্যয় নয়, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা প্রদানের ব্যয়েরও একটি অংশ রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। রাজ্যগুলোর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ রাজ্যকে মোট সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। এই পরিবর্তন রাজ্যগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে।   সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাবে, ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ রাজ্যকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতে পারে। অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ বছরে কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। রাজ্যগুলোর ভুলের হার যত বেশি হবে, তাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপও তত বাড়বে।   ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা বড় মাত্রায় কমেছে। অ্যারিজোনায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৪ শতাংশ কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য জানিয়েছে। লুইজিয়ানা ও নেভাদায় কমেছে ২১ শতাংশ করে। ফ্লোরিডায় কমেছে ২০ শতাংশ এবং ওকলাহোমায় ১৯ শতাংশ।   এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারানো মানুষের একটি অংশ খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। তবে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকের পক্ষে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির মাধ্যমে যে পরিমাণ সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার পুরো ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে পূরণ করা সম্ভব নয়।   ফুড স্ট্যাম্পের ব্যয় রাজ্যগুলোর ওপর স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন কংগ্রেসের প্রতি পরিবর্তনগুলো পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে রাজ্যগুলো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনতে পারে। এতে যোগ্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সুবিধা কমে যাওয়ার পর সামনে রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ চাপছে। এর সঙ্গে কঠোর কর্মশর্ত এবং ২০২৭ সাল থেকে সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের অংশ রাজ্যগুলোর ওপর যাওয়ার বিধান যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সহায়তা থেকে আরও মানুষ বাদ পড়বেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে নতুন বিল উত্থাপন। ছবি: সংগৃহীত
ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প (এসএনএপি) সুবিধাভোগী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ফল ও সবজি কেনার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যগুলো যোগ্য পরিবারকে এই অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে।   ফ্রেশ বাকস ফর ফ্রেশ প্রোডিউস অ্যাক্ট নামে প্রস্তাবিত এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীনে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। এতে যেসব পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৮০ শতাংশ বা তার কম, তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতোমধ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের আলাদা করে আয়ের প্রমাণ দিতে হবে না।   বিল অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৬০ ডলার ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার (ইবিটি) কার্ড বা অঙ্গরাজ্যের বিদ্যমান অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে। অর্থ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা ব্যবহার করতে হবে। এই অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত তাজা, হিমায়িত বা শুকনো ফল ও সবজি কেনা যাবে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বিযুক্ত পণ্য এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। ফল ও সবজি উৎপাদনের উপযোগী কিছু ভেষজ ও চারা গাছও কেনা যাবে।   এই অতিরিক্ত সুবিধা বর্তমান ফুড স্ট্যাম্প বা অন্যান্য সরকারি খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নয়, বরং অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে। কৃষক বাজার, স্বাধীন মুদি দোকান, খামারের বিক্রয়কেন্দ্র, সুপারমার্কেট এবং কৃষি বিভাগের অনুমোদিত অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।   বিলটি ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রমিলা জয়াপাল এবং আরও কয়েকজন প্রতিনিধি গত ২ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলে পরিচালিত একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে এবং তারা ফল ও সবজি বেশি খেতে সক্ষম হয়েছে।   বর্তমানে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের কৃষি বিষয়ক কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালু করবে এবং পরে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের সাগিনো এলাকার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চলছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে ফুড স্ট্যাম্পের টাকায় কেনা উপকরণ দিয়ে খাবার বিক্রির অভিযোগ, ১০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি (SNAP) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে কেনা উপকরণ দিয়ে বেকড খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত টালিয়া সি. টেনেইউকে (৩২) মিশিগানের সাগিনো এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মিশিগানের ব্রিজ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে ময়দা, ডিম, চিনি ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণ কিনতেন। পরে সেগুলো দিয়ে কেক, কুকি ও অন্যান্য বেকড খাবার তৈরি করে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করতেন।    প্রসিকিউটরদের দাবি, এসএনএপি কর্মসূচির সুবিধা কেবল উপকারভোগী পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এসব সুবিধা দিয়ে কেনা খাদ্যপণ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পুনরায় বিক্রি করা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নারী এভাবে কয়েক হাজার ডলার আয় করেছেন।    তার বিরুদ্ধে এক হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রাথমিক শুনানিতে প্রসিকিউশন একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তিনি একটি লঘু অপরাধে দোষ স্বীকার করলে গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করা হতে পারত। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবদের খাদ্য সহায়তায় ট্রাম্পের শর্ত আরোপ স্থগিত করলেন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ ‘ফুড স্ট্যাম্প’ কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত শুক্রবার ২০টি ডেমোক্রেটিক শাসিত অঙ্গরাজ্যের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। সোমবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক মিয়ং জৌন ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির শত শত কোটি ডলারের তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ‘লিঙ্গাদর্শন’, ‘অভিবাসন’ এবং ‘নারীদের খেলাধুলায় ন্যায্য সুযোগ’ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিতে চেয়েছিল।   মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতে যুক্তি দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় কংগ্রেসের তৈরি করা মূল কর্মসূচির মাঝে অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পুষ্টি সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা এবং জাতীয় খাদ্য শৃঙ্খলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।   অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জানান, নতুন শর্তগুলো করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি তহবিলের ওপর তদারকি বাড়াতে সাহায্য করত। তবে বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে আপাতত তাদের এই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেন।   ফুড স্ট্যাম্প হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ মুদি কেনাকাটার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত বছর রিপাবলিকানদের পাস করা একটি ব্যয় সংকোচন বিলের নতুন শর্তের কারণে এরই মধ্যে ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০